Facebook Pixel

রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী করিমশাহ তার দেশের জন্য একটি নতুন শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করেন। সকল শ্রেণি, পেশা, দল ও সম্প্রদায়ের সমান অধিকার উক্ত শাসনতন্ত্রে নিশ্চিত করা হয়। সকলের ভালোবাসা, সহযোগিতা ও আন্তরিকতায় ‘ক' রাষ্ট্রটিকে একটি আদর্শ, শক্তিশালী ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে পরিণত করার প্রত্যয় উক্ত শাসনতন্ত্রে ফুটিয়ে তোলা হয়। ওই শাসনতন্ত্রের চেতনায় কালক্রমে 'ক' একটি কার্যকর ও পরাক্রমশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়। পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রগুলো উক্ত পাঠ-৩ শাসনতন্ত্রটিকে তাদের জন্য আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে এবং একে অনুসরণ করে । ক. কত খ্রিষ্টাব্দে মহানবি (সা.) মদিনায় হিজরত করেন? খ. নাখলার খণ্ডযুদ্ধকে বদরের যুদ্ধের প্রত্যক্ষ কারণ বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের শাসনতন্ত্রটি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কোন কর্মের আদর্শিক প্রতিফলন? ব্যাখ্যা কর । ঘ. ‘ক’ রাষ্ট্রের মতো মহানবির (সা.) উক্ত পদক্ষেপটিই ছিল শক্তিশালী মদিনা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি—বিশ্লেষণ কর ।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.)

উৎস: Board Exam Question SB 2018, Board Exam Question DiB 2018, Board Exam Question DB 2018, Board Exam Question JB 2018, Board Exam Question Combined 2018

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মহানবি (সা.) মদিনায় হিজরত করেন। (খ) মক্কার কুরাইশরা মদিনার সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যাপক লুটতরাজ করত। মদিনার রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে নাগরিকদের ধন-মাল রক্ষার পবিত্র নীতিতে উদ্বুদ্ধ হয়ে হযরত মুহাম্মদ (সা.) ১২ সদস্যের একটি দলকে কুরাইশদের গতিবিধি নজরদারির জন্য পাঠান। উক্ত দলটি মক্কার নিকটবর্তী নাখলাতে অতর্কিতভাবে কুরাইশদের লুণ্ঠনকারী একটি দলকে আক্রমণ করে এবং সে খণ্ডযুদ্ধে কুরাইশদের নেতা আমর বিন হাজরামি নিহত ও আরও দুই জন আহত হয়। ফলে মুসলমানদের সাথে কুরাইশদের শত্রুতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায় এবং খুনের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য তারা আবু জাহেলের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ হয়ে বদরের যুদ্ধে উপনীত হয়। এ কারণে নাখলার খণ্ডযুদ্ধকে বদরের যুদ্ধের প্রত্যক্ষ কারণ বলা হয়ে থাকে। (গ) উদ্দীপকের শাসনতন্ত্রটি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর 'মদিনার সনদ' নামক সংবিধান রচনার আদর্শিক প্রতিফলন। মদিনায় ইসলাম ধর্ম প্রচারের এবং সুষ্ঠু সমাজব্যবস্থা কায়েম করার পর মহানবি (সা.) সেখানে প্রথম ইসলামিক রাষ্ট্র স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। মদিনায় তখন তাঁর অনুসারী মুসলমান মোহাজের ও আনসার সম্প্রদায় ছাড়াও মূর্তি উপাসক, খ্রিষ্টান এবং ইহুদি সম্প্রদায়ের লোক বাস করত। ইসলামি রাষ্ট্রের বুনিয়াদ সুদৃঢ় করার জন্য হযরত মুহাম্মদ (সা.) ওইসব সম্প্রদায়ের সহযোগিতা এবং সমঝোতার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন। তিনি অন্য ধর্মের প্রতি সহিষ্ণুতার নীতিও অবলম্বন করেন। মদিনার বিভিন্ন সম্প্রদায়ের পরস্পরের মধ্যে সম্ভাব ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে তিনি একটি লিখিত সনদ তৈরি করেন। এটিই ইসলামের ইতিহাসে 'মদিনার সনদ' বা 'Charter of Medina' নামে পরিচিত। এ সনদে মোট ৪৭টি শর্ত ছিল। উদ্দীপকে 'ক' রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী করিমশাহ যেমন তার দেশের জন্য নতুন সংবিধান প্রণয়ন করেন, তেমনি হযরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনাবাসীর সার্বিক কল্যাণে মদিনার সনদ নামে একটি সংবিধান প্রণয়ন করেন। ফলে মদিনায় সকল শ্রেণি, পেশা, দল ও সম্প্রদায়ের সমান অধিকার উক্ত সংবিধানের আলোকে নিশ্চিত করা হয়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ইঙ্গিতকৃত আদর্শিক কর্মটির সাথে মদিনার সনদের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে। (ঘ) 'ক' রাষ্ট্রের মতো মহানবি (সা.)-এর গৃহীত পদক্ষেপ অর্থাৎ মদিনার সনদটি ছিল শক্তিশালী মদিনা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি। মদিনা সনদ মুসলমান ও অমুসলিম সম্প্রদায়কে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করে হিংসা, বিদ্বেষ ও কলহের অবসান ঘটায়। অসাম্প্রদায়িক চেতনার এ সুমহান শিক্ষা উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' রাষ্ট্রের শাসনতন্ত্রেও দেখা যায়। এই শাসনতন্ত্রে বর্ণিত পারস্পরিক ভালোবাসা ও সহযোগিতার নীতি কালক্রমে 'ক' রাষ্ট্রকে একটি কার্যকর ও শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত করে। মদিনা সনদও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতির বন্ধন সৃষ্টি করে অনন্য রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখে। এ সনদ পারস্পরিক দ্বন্দ্ব-সংঘাতে লিপ্ত মদিনাবাসীর মধ্যে শান্তি বয়ে আনে। মদিনার বিবদমান আউস ও খাজরাজ গোত্রদ্বয়ের মিলন এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। এ সনদের মাধ্যমে মদিনায় দীর্ঘসময় ধরে চলা বুয়াসের যুদ্ধের অবসান হয় এবং রক্তপাতের পরিবর্তে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় মদিনাবাসী একটি সুশৃঙ্খল জাতিতে পরিণত হয়। মদিনাবাসীর সহায়তায় মহানবি (সা.) বিভিন্ন যুদ্ধে জয়লাভ করে আরবের বুকে মদিনাকে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত করতে সক্ষম হন। পরবর্তীকালে খুলাফায়ে রাশেদিনের সময় এটি একটি বিশাল সাম্রাজ্যে পরিণত হয়। পরিশেষে বলা যায়, 'ক' রাষ্ট্রের মতো মহানবি (সা.)-এর মদিনার সনদ রচনার পদক্ষেপটিই ছিল শক্তিশালী মদিনা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি, যাকে কেন্দ্র করে মদিনা পরবর্তীতে ইসলামি সাম্রাজ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenSylhet Board (2018)Dinajpur Board (2018)Dhaka Board (2018)Jessore Board (2018)Combined Board (2018)

রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী করিমশাহ তার দেশের জন্য একটি নতুন শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করেন। সকল শ্রেণি, পেশা, দল ও সম্প্রদায়ের সমান অধিকার উক্ত শাসনতন্ত্রে নিশ্চিত করা হয়। সকলের ভালোবাসা, সহযোগিতা ও আন্তরিকতায় ‘ক' রাষ্ট্রটিকে একটি আদর্শ, শক্তিশালী ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে পরিণত করার প্রত্যয় উক্ত শাসনতন্ত্রে ফুটিয়ে তোলা হয়। ওই শাসনতন্ত্রের চেতনায় কালক্রমে 'ক' একটি কার্যকর ও পরাক্রমশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়। পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রগুলো উক্ত পাঠ-৩ শাসনতন্ত্রটিকে তাদের জন্য আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে এবং একে অনুসরণ করে ।

ক. কত খ্রিষ্টাব্দে মহানবি (সা.) মদিনায় হিজরত করেন?

খ. নাখলার খণ্ডযুদ্ধকে বদরের যুদ্ধের প্রত্যক্ষ কারণ বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকের শাসনতন্ত্রটি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কোন কর্মের আদর্শিক প্রতিফলন? ব্যাখ্যা কর ।

ঘ. ‘ক’ রাষ্ট্রের মতো মহানবির (সা.) উক্ত পদক্ষেপটিই ছিল শক্তিশালী মদিনা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি—বিশ্লেষণ কর ।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

United Nations General Assembly ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার সনদ ঘোষণা করে। এ সনদে উল্লিখিত ধারাসমূহে বিশ্বের প্রতি...

অটোমান সুলতান বায়েজিদ অঙ্গোরার প্রান্তরে তৈমুর লঙ্গের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মোকাবিলা করেন। যুদ্ধে বায়েজিদ অনেক সৈন্য বিশ্বাস...

আক্কাশ আলী তার এলাকার পথভ্রষ্টকারী মানুষের অত্যাচারের কারণে আপন লোকজন নিয়ে অন্যত্র চলে যায়। বেশ কিছুদিন পরে প্রতিষ্ঠিত...

আধুনিক সিংগাপুর রাষ্ট্র এক সময় মালয়েশিয়ার সাথে সংযুক্ত ছিল 1 পরবর্তীতে তারা মালয়েশিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এসম...

আব্দুল সামাদ নামক ব্যক্তিটি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের নিকট শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন। তিনি এলাকার মসজিদের ইমাম নিযুক্ত হওয়ার...

আব্রাহাম লিংকন পৃথিবীর বিখ্যাত ব্যক্তিদের একজন। আমেরিকা যখন দাস-ব্যবস্থা নিয়ে মারাত্মক গৃহযুদ্ধে লিপ্ত তখন তিনি। দাস মুক...

আয়াতুল্লাহ আলী খোমিনী ইরানের ইসলামি আদর্শ প্রচার শুরু করলে শাসকগোষ্ঠী তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়। তাদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন ...

আশরাফ সাহেবের বাসায় সবসময় দুই ধরনের রান্না হয়। ভালো মানের রান্না হয় তার পরিবারের জন্য, আর নিম্নমানের খাবার তৈরি হয় ...

ইসরাইলের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আইজাক রবিন ও জর্ডানের প্রধানমন্ত্রী আবদেল সালাম আল মাজলির মধ্যে ১৯৯৪ সালে ২৬ অক্টোবর এক চ...

এভারগ্রিন কলেজের শিক্ষার্থীরা সুন্দরবনে বেড়াতে যায়। অধ্যক্ষ তাদেরকে শ্রেণিশিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে থাকতে বলেন এবং কোনো অ...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।