Facebook Pixel

আয়াতুল্লাহ আলী খোমিনী ইরানের ইসলামি আদর্শ প্রচার শুরু করলে শাসকগোষ্ঠী তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়। তাদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন শুরু হয়। অতঃপর খোমিনী মাতৃভূমি ইরান ত্যাগ করে পার্শ্ববর্তী দেশে গমন করেন। সেখান থেকেই তিনি তার প্রচারকার্য চালাতে থাকেন। অবশেষে ১৯৭৯ সালে তিনি দেশে ফিরে স্বৈরাচারী শাসক রেজা শাহর পতন ঘটিয়ে ইসলামি শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেন এবং তিনি কোনো প্রতিশোধ না নিয়ে সকলকে ক্ষমা করে দেন । ক. কত খ্রিষ্টাব্দে মহানবি (সা.) মৃত্যুবরণ করেন? খ. বায়তুর-রিজওয়ান কী? ব্যাখ্যা কর। গ. মহানবি (সা.)-এর জীবনের কোন ঘটনার সাথে খোমিনীর মাতৃভূমি ত্যাগের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর । ঘ. উক্ত ঘটনার গুরুত্ব নিরূপণ কর ।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.)

উৎস: Board Exam Question BB 2021, Board Exam Question SB 2021, Board Exam Question Combined 2021

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.) ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন। (খ) ৬২৮ খ্রিষ্টাব্দে হুদাইবিয়ার সন্ধির পূর্ব মুহূর্তে হযরত মুহাম্মদ (সা.) সমবেত সকল সাহাবিদের নিয়ে একটি বাবলা গাছের নিচে যে শপথ গ্রহণ করেন, তাকে বাইতুর রিজওয়ান বলে। হিজরতের ৬ বছর পর ৬২৮ খ্রিষ্টাব্দে ওমরাহ পালনের জন্য রাসুল (সা.) মক্কাভিমুখে রওয়ানা হন। মক্কার কুরাইশরা মুসলমানদের বাধা প্রদান করলে তারা মক্কার ৯ মাইল দূরে হুদাইবিয়া নামক স্থানে শিবির স্থাপন করেন। এ সময় সমঝোতার জন্য হযরত উসমান (রা.)-কে মক্কায় প্রেরণ করা হলে তাঁর হত্যার সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় হযরত উসমান (রা.)-এর হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণ এবং ইসলামের জন্য জীবন উৎসর্গের লক্ষ্যে সকল মুসলমান রাসুল (সা.)-এর নেতৃত্বে যে শপথ নেন, তা ইতিহাসে বাইতুর রিজওয়ান বা বাইতুশ শাজারা নামে পরিচিত। (গ) মহানবি (সা.)-এর জীবনের মদিনায় হিজরতের ঘটনার সাথে আয়াতুল্লাহ খোমিনীর মাতৃভূমি ত্যাগের সাদৃশ্য রয়েছে। উদ্দীপকে বর্ণিত আয়াতুল্লাহ আলী খোমিনী ইরানে ইসলামি আদর্শ প্রচার শুরু করলে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী তাঁর ওপর অত্যাচার-নির্যাতন শুরু করে। এমতাবস্থায় তিনি আদর্শ প্রচারের স্বার্থে এবং নিরাপত্তার জন্য মাতৃভূমি ইরান ত্যাগ করে পার্শ্ববর্তী দেশে গমন করেন। একইভাবে, হযরত মুহাম্মদ (সা.) ৬১০ খ্রিষ্টাব্দে নবুয়ত লাভের পর মক্কায় ইসলাম প্রচার শুরু করলে কুরাইশ নেতারা তাঁর ওপর চরম অত্যাচার শুরু করেন। এমনকি তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র করলে আল্লাহর আদেশে ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি মাতৃভূমি মক্কা নগরী ত্যাগ করে মদিনায় গমন করেন। এই ঘটনা ইতিহাসে 'হিজরত' নামে পরিচিত। সুতরাং, আদর্শ প্রচারের পথে বাধা, শাসকগোষ্ঠীর নির্যাতন এবং শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তার জন্য দেশত্যাগ, এই বিষয়গুলোর মাধ্যমে খোমিনীর মাতৃভূমি ত্যাগের সাথে মহানবি (সা.)-এর মদিনায় হিজরতের ঘটনার স্পষ্ট সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। (ঘ) উক্ত ঘটনা অর্থাৎ হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর হিজরত ইসলামের ইতিহাসে একটি মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা এবং এর গুরুত্ব অপরিসীম। হিজরতের গুরুত্ব নিম্নোক্তভাবে নিরূপণ করা যায়: ১. ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা: হিজরতের ফলে রাসুল (সা.) মদিনায় রাষ্ট্রপ্রধানের মর্যাদা লাভ করেন এবং পৃথিবীর প্রথম লিখিত সংবিধান 'মদিনা সনদ' প্রণয়ন করেন। এর মাধ্যমে একটি সুশৃঙ্খল ইসলামি শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। ২. নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা: মক্কায় সাহাবিদের ওপর যে অমানুষিক নির্যাতন চলত, হিজরতের ফলে তার অবসান ঘটে এবং মুসলমানরা একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল লাভ করে। ৩. ইসলামের ব্যাপক প্রসার: মদিনায় অনুকূল পরিবেশ পাওয়ায় ইসলাম দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ে। মদিনার আউস ও খাজরাজ গোত্রের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় এবং মদিনাতুন্নবি হিসেবে শহরটি ইসলামের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। ৪. হিজরি সনের সূচনা: এই গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার স্মরণে পরবর্তীতে ইসলামি বর্ষপঞ্জি বা হিজরি সাল গণনা শুরু হয়, যা মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি স্বতন্ত্র পরিচয় দান করে। ৫. মক্কা বিজয়ের পথ প্রশস্ত হওয়া: মদিনায় শক্ত অবস্থান তৈরির মাধ্যমেই পরবর্তীতে রাসুল (সা.) মক্কা বিজয় করে আরবে ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। পরিশেষে বলা যায়, হিজরত কেবল একটি স্থান পরিবর্তন ছিল না, বরং এটি ছিল ইসলামের দুর্বল পর্যায় থেকে শক্তিশালী পর্যায়ে উত্তরণের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। তাই ইসলামের প্রচার, প্রসার এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বিকাশে হিজরতের গুরুত্ব অনস্বীকার্য।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenBarisal Board (2021)Sylhet Board (2021)Combined Board (2021)

আয়াতুল্লাহ আলী খোমিনী ইরানের ইসলামি আদর্শ প্রচার শুরু করলে শাসকগোষ্ঠী তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়। তাদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন শুরু হয়। অতঃপর খোমিনী মাতৃভূমি ইরান ত্যাগ করে পার্শ্ববর্তী দেশে গমন করেন। সেখান থেকেই তিনি তার প্রচারকার্য চালাতে থাকেন। অবশেষে ১৯৭৯ সালে তিনি দেশে ফিরে স্বৈরাচারী শাসক রেজা শাহর পতন ঘটিয়ে ইসলামি শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেন এবং তিনি কোনো প্রতিশোধ না নিয়ে সকলকে ক্ষমা করে দেন ।

ক. কত খ্রিষ্টাব্দে মহানবি (সা.) মৃত্যুবরণ করেন?

খ. বায়তুর-রিজওয়ান কী? ব্যাখ্যা কর।

গ. মহানবি (সা.)-এর জীবনের কোন ঘটনার সাথে খোমিনীর মাতৃভূমি ত্যাগের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর ।

ঘ. উক্ত ঘটনার গুরুত্ব নিরূপণ কর ।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

United Nations General Assembly ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার সনদ ঘোষণা করে। এ সনদে উল্লিখিত ধারাসমূহে বিশ্বের প্রতি...

অটোমান সুলতান বায়েজিদ অঙ্গোরার প্রান্তরে তৈমুর লঙ্গের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মোকাবিলা করেন। যুদ্ধে বায়েজিদ অনেক সৈন্য বিশ্বাস...

আক্কাশ আলী তার এলাকার পথভ্রষ্টকারী মানুষের অত্যাচারের কারণে আপন লোকজন নিয়ে অন্যত্র চলে যায়। বেশ কিছুদিন পরে প্রতিষ্ঠিত...

আধুনিক সিংগাপুর রাষ্ট্র এক সময় মালয়েশিয়ার সাথে সংযুক্ত ছিল 1 পরবর্তীতে তারা মালয়েশিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এসম...

আব্দুল সামাদ নামক ব্যক্তিটি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের নিকট শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন। তিনি এলাকার মসজিদের ইমাম নিযুক্ত হওয়ার...

আব্রাহাম লিংকন পৃথিবীর বিখ্যাত ব্যক্তিদের একজন। আমেরিকা যখন দাস-ব্যবস্থা নিয়ে মারাত্মক গৃহযুদ্ধে লিপ্ত তখন তিনি। দাস মুক...

আশরাফ সাহেবের বাসায় সবসময় দুই ধরনের রান্না হয়। ভালো মানের রান্না হয় তার পরিবারের জন্য, আর নিম্নমানের খাবার তৈরি হয় ...

ইসরাইলের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আইজাক রবিন ও জর্ডানের প্রধানমন্ত্রী আবদেল সালাম আল মাজলির মধ্যে ১৯৯৪ সালে ২৬ অক্টোবর এক চ...

এভারগ্রিন কলেজের শিক্ষার্থীরা সুন্দরবনে বেড়াতে যায়। অধ্যক্ষ তাদেরকে শ্রেণিশিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে থাকতে বলেন এবং কোনো অ...

ওয়ারাকা বিন নওফেল কোন ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।