Facebook Pixel

এভারগ্রিন কলেজের শিক্ষার্থীরা সুন্দরবনে বেড়াতে যায়। অধ্যক্ষ তাদেরকে শ্রেণিশিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে থাকতে বলেন এবং কোনো অবস্থাতেই তাদের অনুমতি ব্যতীত শিক্ষার্থীদের বনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে নিষেধ করেন। ব্যাপক আনন্দ ও উচ্ছ্বাসের মধ্যে অল্প সংখ্যক শিক্ষার্থী শ্রেণিশিক্ষকদের না জানিয়ে বনে প্রবেশ করে এবং বাঘের শিকারে পরিণত হয়। এ দুঃখজনক ঘটনাটি ভ্রমণের আনন্দ কেড়ে নেয় এবং শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি করে। সবাই আপনজন হারানোর বেদনা নিয়ে বাড়িতে প্রত্যাবর্তন করে। শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারে বড়দের নির্দেশ সর্বদা পালনীয়। এ শিক্ষা তাদেরকে জীবনে প্রতিষ্ঠিত করে । ক. বদরের যুদ্ধে কুরাইশদের সেনাপতি কে ছিলেন? খ. হুদাইবিয়ার সন্ধি সন্ধিকে ‘প্রকাশ্য বিজয়' বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর । গ. উদ্দীপকটি ইসলামের ইতিহাসের কোন যুদ্ধের প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করছে? ব্যাখ্যা কর । ঘ. উদ্দীপকের শিক্ষার্থীদের মতো উক্ত যুদ্ধ থেকে প্রাপ্ত শিক্ষাই কি মুসলমানদের অপরাজেয় শক্তিতে পরিণত করেছিল? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও ।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.)

উৎস: Board Exam Question JB 2018, Board Exam Question DB 2018, Board Exam Question SB 2018, Board Exam Question DiB 2018, Board Exam Question Combined 2018

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) বদরের যুদ্ধে কুরাইশদের সেনাপতি ছিলেন আবু জেহেল। (খ) ৬ষ্ঠ হিজরিতে মক্কার কুরাইশদের সাথে হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সম্পাদিত চুক্তিটি হুদাইবিয়ার সন্ধি নামে পরিচিত। আপাতদৃষ্টিতে এই সন্ধির শর্তাবলি মুসলমানদের প্রতিকূলে মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে এটি ছিল একটি সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক ও কৌশলগত বিজয়। এই সন্ধির ফলে কুরাইশরা প্রথমবারের মতো মুসলমানদের একটি স্বাধীন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের অবসান ঘটে। শান্তির এই পরিবেশের সুযোগ নিয়ে অমুসলমানরা ইসলামের প্রকৃত রূপ দেখতে পায় এবং দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করতে শুরু করে। ফলে ইসলামের প্রচার ও প্রসার বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। এই সুদূরপ্রসারী সাফল্যের কারণেই পবিত্র কুরআনে হুদাইবিয়ার সন্ধিকে ‘প্রকাশ্য বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। (গ) উদ্দীপকটি ইসলামের ইতিহাসের উহুদের যুদ্ধের (৬২৫ খ্রি.) প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, সুন্দরবনে ভ্রমণরত এভারগ্রিন কলেজের শিক্ষার্থীদের তাদের শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে থাকতে এবং অনুমতি ছাড়া বনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে নিষেধ করা হয়েছিল। কিন্তু কিছু শিক্ষার্থী সেই নির্দেশ অমান্য করে বনে প্রবেশ করায় তারা বাঘের শিকারে পরিণত হয় এবং এক শোকাবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ইসলামের ইতিহাসে উহুদ যুদ্ধের ক্ষেত্রেও অনুরূপ ঘটনা ঘটেছিল। ৬২৫ খ্রিষ্টাব্দে মক্কার কুরাইশ ও মদিনার মুসলমানদের মধ্যে উহুদ যুদ্ধের সময় রাসূল (সা.) মদিনার মুসলিম সেনা শিবিরের এক পাশে একটি সংকীর্ণ গিরিপথ পাহারা দেওয়ার জন্য ৫০ জন তীরন্দাজ নিযুক্ত করেন। তিনি কঠোর নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, যুদ্ধের ফলাফল যাই হোক না কেন, কোনো অবস্থাতেই যেন তারা তাদের অবস্থান ত্যাগ না করে। কিন্তু যুদ্ধের এক পর্যায়ে মুসলিম বাহিনী জয়লাভ করছে মনে করে তীরন্দাজরা রাসূল (সা.)-এর আদেশ উপেক্ষা করে গণিমত সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তাদের অবস্থান ত্যাগ করে। এই সুযোগে কুরাইশ সেনাপতি খালিদ বিন ওয়ালিদ পেছন থেকে আক্রমণ করেন, যার ফলে মুসলিম বাহিনী চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয় এবং পরাজিত হয়। সুতরাং, নেতার আদেশ অমান্য করার ফলে যে বিপর্যয় ঘটেছিল, সেই দিক থেকে উদ্দীপকটি উহুদ যুদ্ধের প্রতিই ইঙ্গিত প্রদান করে। (ঘ) হ্যাঁ, উদ্দীপকের শিক্ষার্থীদের মতো উহুদ যুদ্ধ থেকে প্রাপ্ত শিক্ষাই মুসলমানদের অপরাজেয় শক্তিতে পরিণত করেছিল। উদ্দীপকে বর্ণিত শিক্ষার্থীরা তাদের ভুল থেকে শিক্ষা পেয়ে বুঝতে পারে যে, বড়দের নির্দেশ সর্বদা পালনীয় এবং এই শিক্ষাই তাদের জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে সাহায্য করে। একইভাবে, উহুদ যুদ্ধের পরাজয় মুসলমানদের জন্য ছিল একটি কঠোর শিক্ষা। বদরের যুদ্ধে জয়লাভের পর মুসলমানদের মধ্যে কিছুটা আত্মতুষ্টি চলে এসেছিল, কিন্তু উহুদের পরাজয় তাদের ইমান, ধৈর্য এবং আনুগত্যের অগ্নিপরীক্ষায় ফেলেছিল। উহুদ যুদ্ধে তীরন্দাজদের আদেশ অমান্য করার ফলে যে শোচনীয় পরাজয় ঘটেছিল, তা মুসলমানদের বুঝিয়ে দিয়েছিল যে যুদ্ধক্ষেত্রে নেতার আদেশ পালন করা এবং চূড়ান্ত জয়লাভ পর্যন্ত নিজ অবস্থানে অবিচল থাকা কতটা অপরিহার্য। এই পরাজয় তাদের মধ্যে আত্মজিজ্ঞাসা তৈরি করে এবং তারা আরও বেশি সুশৃঙ্খল ও ঐক্যবদ্ধ হতে শেখে। তারা বুঝতে পারে যে কেবল বাহ্যিক শক্তি নয়, বরং কঠোর শৃঙ্খলা এবং নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্যই যুদ্ধের মূল চাবিকাঠি। পরবর্তী যুদ্ধসমূহে মুসলমানরা উহুদের এই তিক্ত অভিজ্ঞতাকে পাথেয় হিসেবে গ্রহণ করে। ফলে তারা রণকৌশলে আরও দক্ষ হয় এবং নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য প্রদর্শন করে। এই শৃঙ্খলা ও সংহতির ফলেই পরবর্তীতে তারা অপরাজেয় শক্তিতে পরিণত হয় এবং মক্কা বিজয়ের মতো ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করে। অতএব, বলা যায় যে, উহুদ যুদ্ধের পরাজয় থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা মুসলমানদের সামরিক ও মানসিক শক্তি বৃদ্ধি করে তাদের অপরাজেয় করে তুলেছিল।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenJessore Board (2018)Dhaka Board (2018)Sylhet Board (2018)Dinajpur Board (2018)Combined Board (2018)

এভারগ্রিন কলেজের শিক্ষার্থীরা সুন্দরবনে বেড়াতে যায়। অধ্যক্ষ তাদেরকে শ্রেণিশিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে থাকতে বলেন এবং কোনো অবস্থাতেই তাদের অনুমতি ব্যতীত শিক্ষার্থীদের বনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে নিষেধ করেন। ব্যাপক আনন্দ ও উচ্ছ্বাসের মধ্যে অল্প সংখ্যক শিক্ষার্থী শ্রেণিশিক্ষকদের না জানিয়ে বনে প্রবেশ করে এবং বাঘের শিকারে পরিণত হয়। এ দুঃখজনক ঘটনাটি ভ্রমণের আনন্দ কেড়ে নেয় এবং শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি করে। সবাই আপনজন হারানোর বেদনা নিয়ে বাড়িতে প্রত্যাবর্তন করে। শিক্ষার্থীরা বুঝতে

পারে বড়দের নির্দেশ সর্বদা পালনীয়। এ শিক্ষা তাদেরকে জীবনে প্রতিষ্ঠিত করে ।

ক. বদরের যুদ্ধে কুরাইশদের সেনাপতি কে ছিলেন?

খ. হুদাইবিয়ার সন্ধি সন্ধিকে ‘প্রকাশ্য বিজয়' বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর ।

গ. উদ্দীপকটি ইসলামের ইতিহাসের কোন যুদ্ধের প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করছে? ব্যাখ্যা কর ।

ঘ. উদ্দীপকের শিক্ষার্থীদের মতো উক্ত যুদ্ধ থেকে প্রাপ্ত শিক্ষাই কি মুসলমানদের অপরাজেয় শক্তিতে পরিণত করেছিল? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও ।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

United Nations General Assembly ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার সনদ ঘোষণা করে। এ সনদে উল্লিখিত ধারাসমূহে বিশ্বের প্রতি...

অটোমান সুলতান বায়েজিদ অঙ্গোরার প্রান্তরে তৈমুর লঙ্গের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মোকাবিলা করেন। যুদ্ধে বায়েজিদ অনেক সৈন্য বিশ্বাস...

আক্কাশ আলী তার এলাকার পথভ্রষ্টকারী মানুষের অত্যাচারের কারণে আপন লোকজন নিয়ে অন্যত্র চলে যায়। বেশ কিছুদিন পরে প্রতিষ্ঠিত...

আধুনিক সিংগাপুর রাষ্ট্র এক সময় মালয়েশিয়ার সাথে সংযুক্ত ছিল 1 পরবর্তীতে তারা মালয়েশিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এসম...

আব্দুল সামাদ নামক ব্যক্তিটি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের নিকট শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন। তিনি এলাকার মসজিদের ইমাম নিযুক্ত হওয়ার...

আব্রাহাম লিংকন পৃথিবীর বিখ্যাত ব্যক্তিদের একজন। আমেরিকা যখন দাস-ব্যবস্থা নিয়ে মারাত্মক গৃহযুদ্ধে লিপ্ত তখন তিনি। দাস মুক...

আয়াতুল্লাহ আলী খোমিনী ইরানের ইসলামি আদর্শ প্রচার শুরু করলে শাসকগোষ্ঠী তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়। তাদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন ...

আশরাফ সাহেবের বাসায় সবসময় দুই ধরনের রান্না হয়। ভালো মানের রান্না হয় তার পরিবারের জন্য, আর নিম্নমানের খাবার তৈরি হয় ...

ইসরাইলের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আইজাক রবিন ও জর্ডানের প্রধানমন্ত্রী আবদেল সালাম আল মাজলির মধ্যে ১৯৯৪ সালে ২৬ অক্টোবর এক চ...

ওয়ারাকা বিন নওফেল কোন ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।