Facebook Pixel

ইসরাইলের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আইজাক রবিন ও জর্ডানের প্রধানমন্ত্রী আবদেল সালাম আল মাজলির মধ্যে ১৯৯৪ সালে ২৬ অক্টোবর এক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ চুক্তিতে উভয় দেশ পরবর্তীতে কোনো সংঘর্ষে লিপ্ত হবে না— এ শর্তে একমত হয় । আর এ চুক্তি দ্বারা উভয় দেশের জনসাধারণের পূর্ণ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা এবং এক দেশ হতে অন্য দেশের উপর কোনো আঘাত আসবে না বা এক দেশ দ্বারা অন্য দেশের কোনো ক্ষতি হবে না বলে একমত হয়। তাছাড়া এ চুক্তি দ্বারা এক দেশ অন্য দেশকে আক্রমণের ভীতি প্রদর্শন থেকে বিরত থাকবে বলে ঐকমত্য পোষণ করে। তবে আলজাজিরা নিউজ চ্যানেলের এক নিউজ বিশ্লেষণে বলা হয় যে, এ চুক্তি ছিল জর্ডানের পরোক্ষ বিজয় । ক. কত সালে ওহুদের যুদ্ধ সংঘটিত হয়? খ. খন্দকের যুদ্ধে মহানবি (সা.) পরিখা খনন করেছিলেন কেন? ব্যাখ্যা কর । গ. উদ্দীপকে বর্ণিত চুক্তির সাথে মহানবি (সা.) এর গৃহীত কোন সন্ধি বা চুক্তির সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর । ঘ. উক্ত সন্ধিকে পবিত্র কুরআনে মহাবিজয় বলে আখ্যায়িত করা - হয়েছে কেন? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি প্রদর্শন কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.)

উৎস: Board Exam Question MSB 2021, Board Exam Question DB 2021, Board Exam Question RB 2021, Board Exam Question JB 2021, Board Exam Question ChB 2021, Board Exam Question DiB 2021, Board Exam Question Combined 2021

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) ৬২৫ খ্রিষ্টাব্দের ২১ মার্চ ওহুদের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। (খ) খন্দকের যুদ্ধে মহানবি (সা.) মদিনার নিরাপত্তার জন্য পরিখা খনন করেছিলেন। ফারসি শব্দ 'কান্দ' থেকে খন্দক শব্দটি এসেছে, যার অর্থ পরিখা। ৬২৭ খ্রিষ্টাব্দে কুরাইশরা মদিনা আক্রমণ করলে মদিনার উন্মুক্ত দিকে পরিখা খনন করে তাদের মোকাবিলা করা হয়, বিধায় এর নাম খন্দকের যুদ্ধ। মদিনার তিনদিকে ঘরবাড়ি ও খেজুর বাগান এবং উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিক উন্মুক্ত ছিল। তাই মুসলিম সমর বিশেষজ্ঞ সালমান ফারসির পরামর্শে উন্মুক্ত দিকে ১০ হাত প্রশস্ত ও ১০ হাত গভীর পরিখা খনন করে মদিনা রক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। (গ) উদ্দীপকে বর্ণিত চুক্তির সাথে মহানবি (সা.)-এর গৃহীত হুদাইবিয়ার চুক্তির সাদৃশ্য রয়েছে। মহানবি (সা.) ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মদিনায় হিজরত করে ইসলাম সুপ্রতিষ্ঠিত করার ৬ বছর পর উমরাহ পালন ও মাতৃভূমি মক্কা পরিদর্শনের জন্য ৬২৮ খ্রিষ্টাব্দে ১৪০০ সাহাবি নিয়ে মক্কার দিকে রওয়ানা হন। কুরাইশ নেতারা এ সংবাদে ইকরামার নেতৃত্বে মুসলমানদের বার্তা প্রদান করলে মহানবি (সা.) হুদাইবিয়া নামক স্থানে শিবির স্থাপন করেন। অতঃপর বহু ঘটনা পরিক্রমা ও আলাপ আলোচনার পর মহানবি (সা.) কুরাইশদের সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন, যা ইতিহাসে হুদাইবিয়ার চুক্তি নামে পরিচিত। এ চুক্তির মাধ্যমে মদিনা ও মক্কার মধ্যে শান্তি স্থাপিত হয় এবং একে অপরের আক্রমণের হুমকি থেকে মুক্ত হয়। এ সন্ধির মাধ্যমে কুরাইশরা পরোক্ষভাবে মহানবি (সা.)-কে রাষ্ট্রপ্রধান ও ইসলামকে ধর্ম হিসেবে মেনে নেয়। তাছাড়া এ চুক্তির মাধ্যমে মদিনা নিরাপত্তা লাভ করলে ইসলাম প্রচার ও প্রসারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। উদ্দীপকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী আইজাক রবিন ও জর্ডানের প্রধানমন্ত্রী আবদেল সালামের মধ্যে সম্পাদিত শান্তি চুক্তির সাথে মহানবি (সা.)-এর হুদাইবিয়ার সন্ধির সাদৃশ্য লক্ষণীয়। কেননা, এ চুক্তির মাধ্যমে যেমন উভয় দেশের মধ্যে শান্তি স্থাপিত হয় এবং পরস্পর পরস্পরের আক্রমণের হুমকি থেকে নিরাপত্তা লাভ করে, তেমনি হুদাইবিয়ার সন্ধির মাধ্যমে মক্কা ও মদিনার মধ্যে শত্রুতার অবসান হয়ে শান্তি স্থাপিত হয়। সুতরাং, উদ্দীপকের ১৯৯৪ সালের সম্পাদিত ইসরাইল-জর্ডানের শান্তি চুক্তির সাথে ৬২৮ খ্রিষ্টাব্দে মক্কা ও মদিনার মধ্যে সম্পাদিত শান্তি চুক্তির সাদৃশ্য রয়েছে। (ঘ) উদ্দীপকের শান্তি চুক্তির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হুদাইবিয়ার চুক্তিকে পবিত্র কুরআনে মহাবিজয় বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে, যা যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত। ৬২৮ খ্রিষ্টাব্দে সম্পাদিত হুদাইবিয়ার সন্ধির গুরুত্ব সুদূরপ্রসারী। এ সন্ধির মাধ্যমেই মক্কার কুরাইশরা ইসলামকে ধর্ম এবং মহানবি (সা.)-কে মুসলমানদের অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। হুদাইবিয়ার সন্ধির ফলে সমগ্র আরবের মানুষ মুসলমানদের সাথে মেলামেশার সুযোগ পেলে ইসলাম দ্রুত প্রসার লাভ করে। এ সন্ধির পরই দুজন বীরশ্রেষ্ঠ সেনাপতি আমর আল আস ও খালিদ বিন ওয়ালিদ ইসলাম গ্রহণ করেন। ঐতিহাসিক ইবনে হিশাম বলেন, মহানবি (সা.) যেখানে ১৪০০ সাহাবি নিয়ে হুদাইবিয়া গিয়েছিলেন, সেখানে দুই বছর পর ১০ হাজার সাহাবি নিয়ে মক্কা বিজয় করেন। হুদাইবিয়া থেকে ফিরে এসে মহানবি (সা.) পারস্য, মিশর, আবিসিনিয়া, ইয়ামেন, ওমানসহ বিভিন্ন দেশের রাজাদের নিকট ইসলামের দাওয়াতপত্র প্রেরণ করেন। ফলে ইসলামের পরিচিতি বিশ্বময়তা লাভ করে। হযরত আবু বকর (রা.) বলেন, "হুদাইবিয়া সন্ধির ফলে আমরা যেরূপ জয়ী হয়েছিলাম, সেরূপ কখনই হয়নি।" সৈয়দ আমীর আলী বলেন, বিশ্বাসীদের গভীর আত্মসংযম ও সন্ধির প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শন ইসলামের শত্রুদের মনে গভীর রেখাপাত করে। তাই আল্লাহ তায়ালা এ সন্ধির গুরুত্ব ও তাৎপর্য এবং সুদূরপ্রসারী ফলাফল বর্ণনা করে পবিত্র কুরআনে একে 'ফাতহুম মুবিন' বা মহাবিজয় বলে আখ্যায়িত করেছেন। উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, ইসলাম প্রচার ও প্রসারে হুদাইবিয়ার সন্ধির কার্যকারিতায় একে মহাবিজয় বলে অভিহিত করা হয়েছে, যা যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত হয়েছে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenMymensingh Board (2021)Dhaka Board (2021)Rajshahi Board (2021)Jessore Board (2021)Chattogram Board (2021)Dinajpur Board (2021)Combined Board (2021)

ইসরাইলের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আইজাক রবিন ও জর্ডানের প্রধানমন্ত্রী আবদেল সালাম আল মাজলির মধ্যে ১৯৯৪ সালে ২৬ অক্টোবর এক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ চুক্তিতে উভয় দেশ পরবর্তীতে কোনো সংঘর্ষে লিপ্ত হবে না— এ শর্তে একমত হয় । আর এ চুক্তি দ্বারা উভয় দেশের জনসাধারণের পূর্ণ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা এবং এক দেশ হতে অন্য দেশের উপর কোনো আঘাত আসবে না বা এক দেশ দ্বারা অন্য দেশের কোনো ক্ষতি হবে না বলে একমত হয়। তাছাড়া এ চুক্তি দ্বারা এক দেশ অন্য দেশকে আক্রমণের ভীতি প্রদর্শন থেকে বিরত থাকবে বলে ঐকমত্য পোষণ করে। তবে আলজাজিরা নিউজ চ্যানেলের এক নিউজ বিশ্লেষণে বলা হয় যে, এ চুক্তি ছিল জর্ডানের পরোক্ষ বিজয় ।

ক. কত সালে ওহুদের যুদ্ধ সংঘটিত হয়?

খ. খন্দকের যুদ্ধে মহানবি (সা.) পরিখা খনন করেছিলেন কেন? ব্যাখ্যা কর ।

গ. উদ্দীপকে বর্ণিত চুক্তির সাথে মহানবি (সা.) এর গৃহীত কোন সন্ধি বা চুক্তির সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর ।

ঘ. উক্ত সন্ধিকে পবিত্র কুরআনে মহাবিজয় বলে আখ্যায়িত করা - হয়েছে কেন? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি প্রদর্শন কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

United Nations General Assembly ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার সনদ ঘোষণা করে। এ সনদে উল্লিখিত ধারাসমূহে বিশ্বের প্রতি...

অটোমান সুলতান বায়েজিদ অঙ্গোরার প্রান্তরে তৈমুর লঙ্গের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মোকাবিলা করেন। যুদ্ধে বায়েজিদ অনেক সৈন্য বিশ্বাস...

আক্কাশ আলী তার এলাকার পথভ্রষ্টকারী মানুষের অত্যাচারের কারণে আপন লোকজন নিয়ে অন্যত্র চলে যায়। বেশ কিছুদিন পরে প্রতিষ্ঠিত...

আধুনিক সিংগাপুর রাষ্ট্র এক সময় মালয়েশিয়ার সাথে সংযুক্ত ছিল 1 পরবর্তীতে তারা মালয়েশিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এসম...

আব্দুল সামাদ নামক ব্যক্তিটি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের নিকট শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন। তিনি এলাকার মসজিদের ইমাম নিযুক্ত হওয়ার...

আব্রাহাম লিংকন পৃথিবীর বিখ্যাত ব্যক্তিদের একজন। আমেরিকা যখন দাস-ব্যবস্থা নিয়ে মারাত্মক গৃহযুদ্ধে লিপ্ত তখন তিনি। দাস মুক...

আয়াতুল্লাহ আলী খোমিনী ইরানের ইসলামি আদর্শ প্রচার শুরু করলে শাসকগোষ্ঠী তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়। তাদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন ...

আশরাফ সাহেবের বাসায় সবসময় দুই ধরনের রান্না হয়। ভালো মানের রান্না হয় তার পরিবারের জন্য, আর নিম্নমানের খাবার তৈরি হয় ...

এভারগ্রিন কলেজের শিক্ষার্থীরা সুন্দরবনে বেড়াতে যায়। অধ্যক্ষ তাদেরকে শ্রেণিশিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে থাকতে বলেন এবং কোনো অ...

ওয়ারাকা বিন নওফেল কোন ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।