Facebook Pixel

আশরাফ সাহেবের বাসায় সবসময় দুই ধরনের রান্না হয়। ভালো মানের রান্না হয় তার পরিবারের জন্য, আর নিম্নমানের খাবার তৈরি হয় ড্রাইভার, বাবুর্চি আর পরিচারিকাদের জন্য। তাদের চিকিৎসা, বাসস্থান ও ভালো পোশাকেরও সুব্যবস্থা নেই। তার স্ত্রীর সাথেও সবসময় দুর্ব্যবহার করেন। পারিবারিক কোনো সিদ্ধান্তে তিনি স্ত্রীর মতামত গ্রহণ করেন না। এসব নিয়ে সংসারে অশান্তি লেগেই থাকে । ক. মহানবি (সা.) কত খ্রিষ্টাব্দে ইন্তেকাল করেন ? খ. মুহাম্মদ (সা.)-কে 'আল-আমিন' বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের আশরাফ সাহেব মহানবি (সা.)-এর কোন উপদেশ মেনে চললে অধীনস্থদের সাথে বিরূপ আচরণ করতে পারতেন না? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকে নারীর প্রতি যে অবহেলা প্রকাশ পেয়েছে তা মহানবি (সা.)-এর বিদায় হজের ভাষণে এ সংক্রান্ত নির্দেশাবলির পরিপন্থি। উক্তিটি বিশ্লেষণ কর ।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.)

উৎস: Board Exam Question DB 2017, Board Exam Question Combined 2017

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) মহানবি (সা.) ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে ইন্তেকাল করেন। (খ) আল-আমিন অর্থ বিশ্বাসী। হযরত মুহাম্মদ (সা.) বাল্যকাল থেকে ছিলেন চিন্তাশীল ও গুরুগম্ভীর। তিনি ছিলেন সত্যবাদী ও ন্যায়পরায়ণ। কোমল ও অমায়িক আচরণের জন্য সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা করত ও ভালোবাসত। সত্যের প্রতি গভীর অনুরাগ, কর্তব্যনিষ্ঠা ও অমায়িক ব্যবহারের জন্য মহানবি (সা.)-কে 'আল-আমিন' বা বিশ্বাসী বলা হয়। (গ) উদ্দীপকের আশরাফ সাহেব মহানবি (সা.)-এর বিদায় হজের ভাষণে দেওয়া উপদেশ মেনে চললে অধীনস্থদের সাথে বিরূপ আচরণ করতে পারতেন না। রাসুল (সা.) বিদায় হজের ভাষণে বলেছেন, “তোমরা দাসদাসীদের সাথে সদ্ব্যবহার করবে। তাদের ওপর কোনোরূপ অত্যাচার করবে না। তোমরা যা খাবে, তাদেরকে তা খাওয়াবে। তোমরা যা পরবে, তাদের তাই পরাবে; ভুলে যেও না তারাও তোমাদের মতো মানুষ।” ইসলামের দৃষ্টিতে কেউ কারও চেয়ে ছোট বা বড় নয়; আল্লাহর চোখে সবাই সমান। আর সকল মুসলমানদেরকে নিয়ে গড়ে ওঠে একটি ভ্রাতৃসমাজ। উদ্দীপকে দেখা যায়, আশরাফ সাহেব নিজেদের জন্য ভালো খাবার এবং ড্রাইভার, বাবুর্চি ও পরিচারিকাদের জন্য নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করেন। তাদের চিকিৎসা, বাসস্থান ও ভালো পোশাকেরও কোনো ব্যবস্থা নেই। আশরাফ সাহেব যদি রাসুল (সা.)-এর উক্ত নির্দেশ পালন করতেন, তবে তিনি অধীনস্থদের সাথে এমন আচরণ করতে পারতেন না। সুতরাং আশরাফ সাহেবের উচিত রাসুল (সা.)-এর উক্ত উপদেশ মেনে চলা। (ঘ) উদ্দীপকে নারীর প্রতি যে অবহেলা প্রকাশ পেয়েছে তা মহানবি (সা.)-এর বিদায় হজের ভাষণে এ সংক্রান্ত নির্দেশাবলির পরিপন্থি। আশরাফ সাহেব তার স্ত্রীর সাথে সব সময় দুর্ব্যবহার করেন এবং পারিবারিক কোনো সিদ্ধান্তে তার মতামত গ্রহণ করেন না। তার এ ধরনের আচরণ নারীর প্রতি চরম অবহেলা ও অবমাননাকর, যা রাসুল (সা.)-এর বিদায় হজের ভাষণে প্রদত্ত নারী অধিকারের পরিপন্থি। বিদায় হজের ভাষণে রাসুল (সা.) স্ত্রীর অধিকার সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, “নারীদের প্রতি (স্ত্রীদের প্রতি) পুরুষের (স্বামীর) যেরূপ অধিকার আছে, পুরুষের ওপর (স্বামীর) নারীর (স্ত্রীর) সেরূপ অধিকার আছে, তাদের প্রতি অত্যাচার করবে না। মনে রেখ, আল্লাহকে সাক্ষী রেখে তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের গ্রহণ করেছ!” এছাড়াও রাসুল (সা.) অন্যত্র বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম, যে তার স্ত্রীর কাছে সর্বোত্তম।” উদ্দীপকের আশরাফ সাহেব তার স্ত্রীর সাথে দুর্ব্যবহার করে এবং তার মতামত উপেক্ষা করে রাসুল (সা.)-এর এই মহান আদর্শ ও নির্দেশনার সম্পূর্ণ বিপরীত কাজ করছেন। রাসুল (সা.)-এর শিক্ষা অনুযায়ী স্বামী ও স্ত্রীর সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার হওয়া উচিত, যা আশরাফ সাহেবের আচরণে অনুপস্থিত। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে নারীর প্রতি যে অবহেলা প্রকাশ পেয়েছে তা মহানবি (সা.)-এর বিদায় হজের ভাষণের নির্দেশাবলির সম্পূর্ণ পরিপন্থি।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenDhaka Board (2017)Combined Board (2017)

আশরাফ সাহেবের বাসায় সবসময় দুই ধরনের রান্না হয়। ভালো মানের রান্না হয় তার পরিবারের জন্য, আর নিম্নমানের খাবার তৈরি হয় ড্রাইভার, বাবুর্চি আর পরিচারিকাদের জন্য। তাদের চিকিৎসা, বাসস্থান ও ভালো পোশাকেরও সুব্যবস্থা নেই। তার স্ত্রীর সাথেও সবসময় দুর্ব্যবহার করেন। পারিবারিক কোনো সিদ্ধান্তে তিনি স্ত্রীর মতামত গ্রহণ করেন না। এসব নিয়ে সংসারে অশান্তি লেগেই থাকে ।

ক. মহানবি (সা.) কত খ্রিষ্টাব্দে ইন্তেকাল করেন ?

খ. মুহাম্মদ (সা.)-কে 'আল-আমিন' বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকের আশরাফ সাহেব মহানবি (সা.)-এর কোন উপদেশ মেনে চললে অধীনস্থদের সাথে বিরূপ আচরণ করতে পারতেন না? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকে নারীর প্রতি যে অবহেলা প্রকাশ পেয়েছে তা মহানবি (সা.)-এর বিদায় হজের ভাষণে এ সংক্রান্ত নির্দেশাবলির পরিপন্থি। উক্তিটি বিশ্লেষণ কর ।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

United Nations General Assembly ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার সনদ ঘোষণা করে। এ সনদে উল্লিখিত ধারাসমূহে বিশ্বের প্রতি...

অটোমান সুলতান বায়েজিদ অঙ্গোরার প্রান্তরে তৈমুর লঙ্গের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মোকাবিলা করেন। যুদ্ধে বায়েজিদ অনেক সৈন্য বিশ্বাস...

আক্কাশ আলী তার এলাকার পথভ্রষ্টকারী মানুষের অত্যাচারের কারণে আপন লোকজন নিয়ে অন্যত্র চলে যায়। বেশ কিছুদিন পরে প্রতিষ্ঠিত...

আধুনিক সিংগাপুর রাষ্ট্র এক সময় মালয়েশিয়ার সাথে সংযুক্ত ছিল 1 পরবর্তীতে তারা মালয়েশিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এসম...

আব্দুল সামাদ নামক ব্যক্তিটি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের নিকট শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন। তিনি এলাকার মসজিদের ইমাম নিযুক্ত হওয়ার...

আব্রাহাম লিংকন পৃথিবীর বিখ্যাত ব্যক্তিদের একজন। আমেরিকা যখন দাস-ব্যবস্থা নিয়ে মারাত্মক গৃহযুদ্ধে লিপ্ত তখন তিনি। দাস মুক...

আয়াতুল্লাহ আলী খোমিনী ইরানের ইসলামি আদর্শ প্রচার শুরু করলে শাসকগোষ্ঠী তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়। তাদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন ...

ইসরাইলের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আইজাক রবিন ও জর্ডানের প্রধানমন্ত্রী আবদেল সালাম আল মাজলির মধ্যে ১৯৯৪ সালে ২৬ অক্টোবর এক চ...

এভারগ্রিন কলেজের শিক্ষার্থীরা সুন্দরবনে বেড়াতে যায়। অধ্যক্ষ তাদেরকে শ্রেণিশিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে থাকতে বলেন এবং কোনো অ...

ওয়ারাকা বিন নওফেল কোন ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।