Facebook Pixel

হাসান ও জাহিদ দুইজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। হাসান ইদানীং গাঁজা খাওয়ায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। মাঝে মাঝে ইয়াবাও সেবন করে। জাহিদ এ কথা জানতে পেরে হাসানকে নিষেধ করে এবং নেশাদ্রব্য ছেড়ে দিতে বলে। কিন্তু হাসান জাহিদের কথা মানতে নারাজ। সে যুক্তি দিয়ে বলে, বন্ধু তুমি যদি কুরআন-হাদিসের কোথাও গাঁজা কিংবা ইয়াবা নিষেধ, একথা দেখাতে পার তাহলে আমি এগুলো ছেড়ে দিব। এ বিষয়টি নিয়ে তারা একজন আলিমের শরণাপন্ন হলে তিনি বলেন, "সকল নেশাদ্রব্যই হারাম।" ক. কিয়াস কত প্রকার? খ. কিয়াসের রুকন কয়টি ও কী কী? গ. হাসান শরিয়তের কোন উৎসটি অস্বীকার করেছে? এর পরিণতি সম্পর্কে তোমার মতামত বিশ্লেষণ কর। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত আলিম সাহেবের উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন কর।

বিষয়: ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৪ঃ আল-কিয়াস

উৎস: Others

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. কিয়াস চার প্রকার। খ. যেসব স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে কিয়াস প্রতিষ্ঠিত হয় তাকে কিয়াসের বুকন বলে। কিয়াসের বুকন মূলত চারটি। যথা- ১. আসল )أَضل( বা মূল তথা مُقَيْسٌ عَلَيْهِ অর্থাৎ যার ওপর কিয়াস করা হয়েছে, ২. ফরা (১) বা শাখা-প্রশাখা, ৩. ইল্লাত (বড়) বা কারণ ও ৪. হুকুম (২) বা বিধান। গ. হাসান ইসলামি শরিয়তের চতুর্থ উৎস কিয়াস অস্বীকার করেছে। এজন্য তাকে ভয়াবহ পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে। কিয়াসের মাধ্যমে মাদক জাতীয় যাবতীয় দ্রব্যকে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে যুক্তির মাধ্যমে মীমাংসা করাই হলো কিয়াস। অন্যভাবে বলা যায়, যে বিষয় সম্পর্কে কুরআন ও হাদিসে কোনো সুস্পষ্ট বিধান নেই, সেক্ষেত্রে কুরআন ও হাদিসে প্রদত্ত অনুরূপ প্রশ্নের মীমাংসাকে ভিত্তি করে যুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে নতুন বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, এ ধরনের যুক্তি প্রয়োগকে কিয়াস বলা হয়। যাবতীয় হারাম পানীয়কে খামরুন বা মদ বলা হয়। এখানে অংশীদারিত্বমূলক কার্যকারণ, হচ্ছে জ্ঞানের বিলুপ্তি বা সাধারণ জ্ঞানবুদ্ধি লোপ পাওয়া। তাই যাবতীয় নেশাই হারাম। আর হারামকে অস্বীকার করলে ইমান হারা হতে হয়। কারণ মুমিনের জন্য আবশ্যকীয় হলো হালালকে হালাল হিসেবে মেনে নেওয়া এবং হারামকে হারাম হিসেবে বর্জন করা। কিয়াসের মাধ্যমে সব ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্য বা মাদক দ্রব্য হারাম সাব্যস্ত করা হয়েছে। কাজেই গাঁজা ও ইয়াবা উক্ত বিধানের আওতাভুক্ত। সুতরাং হাসান শরিয়তের উক্ত তৃতীয় উৎসটি অস্বীকার করেছে। এজন্য তাকে শাাস্তি পেতে হবে। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত আলিম সাহেবের উক্তিটি যথার্থ। পবিত্র কুরআনে মদকে হারাম করা হয়েছে। মদকে হারাম বলার কারণ হলো মদের মাধ্যমে মানুষের চেতনা বিলুপ্ত হয় বা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। ফলে সে আবোল তাবোল কথা বলে। এ একই কারণ গাঁজা ও ইয়াবায় বিদ্যমান থাকায় কিয়াসের বিধানমতে গাঁজা ও ইয়াবা হারাম হবে। আর মদ হারাম হওয়া সম্পর্কে পবিত্র কুরআনের বক্তব্য হয়েছে- "হে মুমিনগণ! নিশ্চয় মদ, জুয়া, মূর্তি ও ভাগ্য নির্ধারক তীর শয়তানের অপবিত্র কাজ। কাজেই তোমরা এগুলো থেকে বিরত থাক।" পাঠ্যপুস্তকে মাদক সম্পর্কে যে হাদিস রয়েছে তাহলো- "হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন মদকে, এর পানকারীকে, যে ব্যক্তি পান করান তাকে, এর বিক্রেতাকে, এর ক্রেতাকে, যিনি এটি তৈরি করেন তাকে, এটি যে অর্ডার করে তাকে, এর বহনকারীকে, যার কাছে এটি বহন করা হয় তাকে।" (আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ)। উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে, জাহিদ তার বন্ধু হাসানকে নেশাদ্রব্য গ্রহণ করা ছেড়ে দিতে বলে। হাসান যুক্তি দেয়, কুরআন হাদিসের কোথাও গাঁজা কিংবা ইয়াবা নিষেধের কথা নেই। এ বিষয়ে তারা একজন আলিমের নিকট গেলে তিনি বলেন, "সকল নেশাদ্রব্যই হারাম।" হাদিসে মদকে হারাম করার কারণ হলো মানুষের জ্ঞান বিলুপ্তি হওয়া। আর মদের অনুরূপ হলো- হেরোইন, কোকেন, ইয়াবা, ফেনিসিডিল, গাঁজা, তাড়ি প্রভৃতি। এজন্য আলিম সাহেব বলেছেন, সকল নেশাদ্রব্যই হারাম। সুতরাং আলিম সাহেবের উক্তিটি যথার্থ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenঅন্যান্য

হাসান ও জাহিদ দুইজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। হাসান ইদানীং গাঁজা খাওয়ায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। মাঝে মাঝে ইয়াবাও সেবন করে। জাহিদ এ কথা জানতে পেরে হাসানকে নিষেধ করে এবং নেশাদ্রব্য ছেড়ে দিতে বলে। কিন্তু হাসান জাহিদের কথা মানতে নারাজ। সে যুক্তি দিয়ে বলে, বন্ধু তুমি যদি কুরআন-হাদিসের কোথাও গাঁজা কিংবা ইয়াবা নিষেধ, একথা দেখাতে পার তাহলে আমি এগুলো ছেড়ে দিব। এ বিষয়টি নিয়ে তারা একজন আলিমের শরণাপন্ন হলে তিনি বলেন, "সকল নেশাদ্রব্যই হারাম।"

ক. কিয়াস কত প্রকার?

খ. কিয়াসের রুকন কয়টি ও কী কী?

গ. হাসান শরিয়তের কোন উৎসটি অস্বীকার করেছে? এর পরিণতি সম্পর্কে তোমার মতামত বিশ্লেষণ কর।

ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত আলিম সাহেবের উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

অধ্যাপক আবদুশ শাকুর পাঠদানকালে কিয়াসের শর্তাবলি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কিয়াস শুদ্ধ হওয়ার জন্য চারটি শর্ত পাওয়া আবশ্...

অধ্যাপক সামির শাকের ইসলাম শিক্ষার ক্লাসে বলেন, বর্তমান বিশ্বের মানুষের জীবনব্যবস্থা হিসেবে ৩টি মতবাদ সুপরিচিত- ১. গণতন্ত...

অধ্যাপক সিরাজুম মুনির শ্রেণিকক্ষে কিয়াস সম্পর্কে পাঠদান করছিলেন। তারান্নুম কিয়াসের রুকন সম্পর্কে তার নিকট জানতে চাইল। ...

অধ্যাপিকা রুমানা ইসলাম কিয়াস বিষয়ে পাঠদানকালে কিয়াসের প্রকারভেদগুলো উল্লেখ করলেন। তিনি বললেন, কিয়াসের প্রকারভেদ জানা...

আব্দুল মজিদ ১নং বালিযুগ ইউপি চেয়ারম্যান। একদা তার এক মেম্বার আব্দুল মালেক মিয়াকে একটি সামাজিক সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব...

আলালপুর গ্রামে প্রতিবছর বিশাল ওয়াজ মাহফিল হয়। স্থানীয় আলেমগণ সর্বসম্মতিক্রমে লক্ষাধিক মানুষের ওয়াজ শোনার সুবিধার্থে আজান...

আহমদ ও আসলাম দুই বন্ধু। আসলাম ইয়াবার নেশায় আসক্ত। আহমদ, আসলামকে এ নেশা ছেড়ে দিতে বলে। কিন্তু আসলাম তাতে রাজি হয় না বরং আ...

ইসলাম শিক্ষা পাঠদানকালে রফিক অধ্যাপক জাহাঙ্গির কবিরকে প্রশ্ন করল- স্যার, পবিত্র কুরআনে তো একথা ঘোষণা করা হয়েছে যে, "আমি ...

ইয়াবার বৈধতা নিয়ে তিন বন্ধু S, T ও U এর মধ্যে আলোচনা চলছিল। S বলল কুরআন ও হাদিসে ইয়াবা নিয়ে কোনো আলোচনা নেই। ইয়াবা নিষিদ...

উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী মিলন ইসলাম শিক্ষা বিষয়ের আল-কিয়াস অধ্যায়টি অধ্যয়নের পর কিয়াসের যৌক্তিকতা শিরোনামে একটি প...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।