Facebook Pixel

উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী মিলন ইসলাম শিক্ষা বিষয়ের আল-কিয়াস অধ্যায়টি অধ্যয়নের পর কিয়াসের যৌক্তিকতা শিরোনামে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। সে তার প্রতিবেদনে দেখিয়েছে যে, ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা এবং কুরআন ও হাদিসেই সকল সমস্যার সমাধান রয়েছে। সুতরাং কিয়াসের প্রয়োজন নেই। মিলনেরই সহপাঠী তুহিনও একই শিরোনামে একটি প্রতিবেদন করেছে। তবে সে কিয়াসের ধারণা সঠিক বলে মন্তব্য করেছে। ক. মদ্যপায়ীর শাস্তি কী? খ. কিয়াসকে ইসলামের পূর্ণতার প্রমাণ বলা হয় কেন? গ. মিলন ও তুহিনের মধ্যে কার ধারণাটি সঠিক? ব্যাখ্যা কর। ঘ. মিলন ও তুহিনের মন্তব্য ভিন্ন ভিন্ন হওয়ার কারণ পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৪ঃ আল-কিয়াস

উৎস: Others

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. মদ্যপায়ীর শাস্তি হলো ৮০ বেত্রাঘাত। খ. কিয়াস ছাড়া ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা প্রমাণ করা সম্ভব হয় না। কেননা, কিয়াস ব্যতীত ইসলাম একটি গতিহীন ও সংকীর্ণ জীবনাদর্শে পরিণত হয় । যার ফলে সব দেশের ও সব কালের দাবি মেটানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। তখনই ইসলাম পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হিসেবে প্রশ্নের সম্মুখীন হয়। কিয়াসই ইসলামকে এ প্রশ্নের হাত হতে রক্ষা করে ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা তথা সর্বকালীন ও সর্বজনীন জীবনাদর্শে পরিণত করে। সব কালের মানুষের যেকোনো রকমের সমস্যার কুরআন- হাদিসসম্মত সমাধান দেওয়া কেবল কিয়াসের মাধ্যমেই সম্ভব হয়ে ওঠে। তাই কিয়াসকে ইসলামের পূর্ণতার প্রমাণ বলা হয়। গ. মিলন ও তুহিনের মধ্যে তুহিনের ধারণা সঠিক। কুরআন মাজিদে কিয়াসের স্বীকৃতি রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে কিয়াস করার জন্য সাহাবি (রা.) দের বিশেষ উৎসাহ দিয়েছেন। তাঁর ইন্তেকালের পর সাহাবি (রা.) গণ কিয়াসের স্বাধীন প্রয়োগের মাধ্যমে একে ইসলামি আইনের চতুর্থ উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তা সত্ত্বেও আহলে যাওয়াহির, শিয়া ও খারিজি সম্প্রদায় কিয়াসকে শরিয়তের উৎস হিসেবে মেনে নেননি। তারা বলেছেন, কিয়াস ইসলামি আইনের উৎস নয়। সত্যপন্থি মুজতাহিদগণ আহলি জাওয়াহির, শিয়া ও খারিজিদের মতের প্রতিবাদ করেছেন। তাঁরা কিয়াসের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে একে ইসলামি আইনের উৎস প্রমাণের প্রয়াস পেয়েছেন। পাশাপাশি তাঁদের আপত্তির জবাবও দিয়েছেন। বলেছেন, কুরআনে সবকিছুর বর্ণনা আছে ঠিকই কিন্তু তা সংক্ষিপ্ত। কিয়াস একে বিস্তারিতভাবে বাস্তবায়ন করে। আর বনি ইসরাইলরা কিয়াস করে ধ্বংস হয়েছিল তাদের অন্যায় কিয়াসের কারণে। মুসলিম উম্মাহর কিয়াস হয় কুরআন-হাদিসের মূলনীতি অনুসারে। সে জন্য তারা ধ্বংস হবে না বরং সুপথ পাবে। তুহিন তার প্রতিবেদনে কিয়াসের ধারণাকে সঠিক বলে মন্তব্য করেছে। পক্ষান্তরে মিলন তার প্রতিবেদনে কিয়াসের কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই বলে উল্লেখ করেছে। সুতরাং তাদের দুজনের মধ্যে তুহিনের ধারণা সঠিক। ঘ. মিলন ও তুহিনের মন্তব্য ভিন্ন ভিন্ন হওয়ার কারণ হলো তারা দুজনে কিয়াস বিষয়ে পূর্ববর্তী দুটি পক্ষ বিপক্ষের অনুসরণ করেছে। আহলে জাওয়াহির, শিয়া ও খারিজিদের মতে, কিয়াস ইসলামি আইনের উৎস নয়। কারণ আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে সবকিছু বলে দিয়েছে । এ মর্মে তিনি বলেছেন— مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَبِ مِنْ شَيْءٍ অর্থ : “এ কিতাবে আমি কোনোকিছু লিপিবদ্ধ করা বাকি রাখি নি।” (সূরা আল-আনআম : ৩৮) তিনি আরও বলেছেন- وَنَزَلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَانَا لِكُلِ شَيْ وَهُدًى وَرَحْمَةً وَبُشْرَى لِلْمُسْلِمِينَ. অর্থ : “আর আমি আপনার ওপর কিতাব নাযিল করেছি, তা প্রত্যেক বস্তুর সুস্পষ্ট বর্ণনা, সুপথের নির্দেশনা, রহমত এবং মুসলিমদের জন্য সুসংবাদ।” (সূরা নাহল : ৮৯) আয়াত দুটির মাধ্যমে এটা বলা যায়, কুরআন মাজিদে সবকিছুর বিবরণ থাকার পরও কিয়াসের কোনো প্রয়োজন পড়ে না। কিয়াস বরং মানুষের বিভ্রান্তি ও ভ্রষ্টতার কারণ হয়ে ওঠে। যেমন— রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, বনি ইসরাইল একযুগ পর্যন্ত সঠিক পথের ওপর ছিল। এরপর তাদের মধ্যে দাসীদের সন্তানদের আধিক্য হলো। তারা বিগত বিষয়ের ওপর আগত বিষয়াবলিকে কিয়াস করতে শুরু করল। ফলে তারা নিজেরা গোমরাহ হলো এবং অন্যদেরও গোমরাহ করল। তা ছাড়া কিয়াসের মূলভিত্তি হলো অনুমান। সে জন্য কিয়াসকে ইসলামি আইনের উৎস বলা যায় না। অন্যদিকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মতে, কিয়াস ইসলামি শরিয়তের অন্যতম উৎস। তারা পবিত্র কুরআন, হাদিস, ইজমা ও যুক্তি দ্বারা এর বাস্তবতার প্রমাণ দিয়েছেন। কিয়াস একে বিস্তারিতভাবে বাস্তবায়ন করে। আর বনি ইসরাইলরা কিয়াস করে ধ্বংস হয়েছিল তাদের অন্যায় কিয়াসের কারণে। মুসলিম উম্মাহর কিয়াস হয় কুরআন-হাদিসের মূলনীতি অনুসারে। সে জন্য তারা ধ্বংস হবে না বরং সুপথ পাবে। উদ্দীপকের মিলন কিয়াসকে অস্বীকার করে। কারণ সে আহলে জাওয়াহির, শিয়া ও খারিজিদের ভ্রান্ত মতামত গ্রহণ করেছে। অন্যদিকে তুহিন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের অনুসারী হওয়ায় কিয়াসকে ইসলামি শরিয়তের উৎস হিসেবে গ্রহণ করেছে। সুতরাং বলা যায়, মিলন ও তুহিন কিয়াস বিষয়ে উক্ত দুটি দলের পরস্পর বিরোধী মতামতকে গ্রহণ করায় তাদের মন্তব্য ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenঅন্যান্য

উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী মিলন ইসলাম শিক্ষা বিষয়ের আল-কিয়াস অধ্যায়টি অধ্যয়নের পর কিয়াসের যৌক্তিকতা শিরোনামে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। সে তার প্রতিবেদনে দেখিয়েছে যে, ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা এবং কুরআন ও হাদিসেই সকল সমস্যার সমাধান রয়েছে। সুতরাং কিয়াসের প্রয়োজন নেই। মিলনেরই সহপাঠী তুহিনও একই শিরোনামে একটি প্রতিবেদন করেছে। তবে সে কিয়াসের ধারণা সঠিক বলে মন্তব্য করেছে।

ক. মদ্যপায়ীর শাস্তি কী?

খ. কিয়াসকে ইসলামের পূর্ণতার প্রমাণ বলা হয় কেন?

গ. মিলন ও তুহিনের মধ্যে কার ধারণাটি সঠিক? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. মিলন ও তুহিনের মন্তব্য ভিন্ন ভিন্ন হওয়ার কারণ পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

অধ্যাপক আবদুশ শাকুর পাঠদানকালে কিয়াসের শর্তাবলি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কিয়াস শুদ্ধ হওয়ার জন্য চারটি শর্ত পাওয়া আবশ্...

অধ্যাপক সামির শাকের ইসলাম শিক্ষার ক্লাসে বলেন, বর্তমান বিশ্বের মানুষের জীবনব্যবস্থা হিসেবে ৩টি মতবাদ সুপরিচিত- ১. গণতন্ত...

অধ্যাপক সিরাজুম মুনির শ্রেণিকক্ষে কিয়াস সম্পর্কে পাঠদান করছিলেন। তারান্নুম কিয়াসের রুকন সম্পর্কে তার নিকট জানতে চাইল। ...

অধ্যাপিকা রুমানা ইসলাম কিয়াস বিষয়ে পাঠদানকালে কিয়াসের প্রকারভেদগুলো উল্লেখ করলেন। তিনি বললেন, কিয়াসের প্রকারভেদ জানা...

আব্দুল মজিদ ১নং বালিযুগ ইউপি চেয়ারম্যান। একদা তার এক মেম্বার আব্দুল মালেক মিয়াকে একটি সামাজিক সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব...

আলালপুর গ্রামে প্রতিবছর বিশাল ওয়াজ মাহফিল হয়। স্থানীয় আলেমগণ সর্বসম্মতিক্রমে লক্ষাধিক মানুষের ওয়াজ শোনার সুবিধার্থে আজান...

আহমদ ও আসলাম দুই বন্ধু। আসলাম ইয়াবার নেশায় আসক্ত। আহমদ, আসলামকে এ নেশা ছেড়ে দিতে বলে। কিন্তু আসলাম তাতে রাজি হয় না বরং আ...

ইসলাম শিক্ষা পাঠদানকালে রফিক অধ্যাপক জাহাঙ্গির কবিরকে প্রশ্ন করল- স্যার, পবিত্র কুরআনে তো একথা ঘোষণা করা হয়েছে যে, "আমি ...

ইয়াবার বৈধতা নিয়ে তিন বন্ধু S, T ও U এর মধ্যে আলোচনা চলছিল। S বলল কুরআন ও হাদিসে ইয়াবা নিয়ে কোনো আলোচনা নেই। ইয়াবা নিষিদ...

ক. 'কিয়াস' কী? খ. ইজমার রুকনগুলো কী কী? গ. উদ্দীপকে ৪ নম্বর উৎসটি '?' তোমার পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা করো। ঘ. "উদ্দীপ...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।