Facebook Pixel

সালমান মসজিদের ইমাম সাহেবকে বললেন, পবিত্র কুরআন ও হাদিসে সুস্পষ্টভাবে মদ্যপান হারাম করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান যুগের কোকেন, হেরোইন, গাঁজা, ফেনসিডিল ইত্যাদিকেও ইসলামে হারাম করা হয়েছে। অথচ পবিত্র কুরআন, হাদিস এবং ইজমার কোথাও এ বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। উত্তরে ইমাম সাহেব বললেন, এগুলোও এমন এক নীতির মাধ্যমে হারাম করা হয়েছে যা ছিল রাসুল (সা.)-এর নিকট অত্যন্ত পছন্দনীয়। আর উক্ত নীতি। বাস্তবায়িত হবে কুরআন ও হাদিসের ভিত্তিতেই। ক. কিয়াসের মূলনীতি কয়টি? খ. فَاعْتَبِرُوا يَا وَلِي الْأَبْصَارِ আয়াতটি কোন বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করছে? ব্যাখ্যা দাও। গ. রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট অত্যন্ত পছন্দনীয় নীতি বলতে ইমাম। সাহেব কোন নীতির প্রতি ইঙ্গিত করেছেন? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উক্ত নীতি কিসের ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হবে? বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৪ঃ আল-কিয়াস

উৎস: Others

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. কিয়াসের মূলনীতি চারটি। খ. উদ্ধৃত আয়াতটি ইসলামি শরিয়তের চতুর্থ উৎস কিয়াসের প্রতি ইঙ্গিত করেছে। উদ্ধৃত আয়াতটির অর্থ হলো- "অতএব, হে দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন মানুষেরা, তোমরা চিন্তা-গবেষণা কর।" (সূরা আল-হাশর: ২) মূলত ইসলামি শরিয়তে আইনের উৎস হিসেবে কিয়াস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয়। এ কারণে মহান আল্লাহ তায়ালা আলোচ্য আয়াতের মাধ্যমে মুসলিম জাতিকে কিয়াস করার নির্দেশ দিয়েছেন। উদ্ভূত নতুন সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে কিয়াস করা আবশ্যক। গ. রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট অত্যন্ত পছন্দনীয় নীতি বলতে ইমাম সাহেব কিয়াসের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। ইসলামি আইনের চতুর্থ উৎস ও গতিশীল পদ্ধতি হলো আল-কিয়াস। নিজস্ব বুদ্ধিমত্তা খাটিয়ে কুরআন ও হাদিসে দেওয়া সমাধানের আলোকে নতুন সমস্যার সমাধান করাই হলো কিয়াস। আর ইসলামি আইনের এ পদ্ধতিটি রাসুল (সা.) পছন্দ করতেন। যার প্রমাণ পাওয়া যায় একটি ঘটনা থেকে। ঘটনাটি হলো- রাসুল (সা.) মুয়ায ইবনে জাবাল (রা.)-কে ইয়েমেনের শাসক হিসেবে প্রেরণের পূর্বে জিজ্ঞেস করেন, তুমি লোকের মধ্যে কীভাবে বিচার ফায়সালা করবে। মুয়ায (রা.) বলেন, প্রথমে আল্লাহর কিতাব দ্বারা। সেখানে না পেলে রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ দ্বারা। সেখানেও যদি না পাই তাহলে আমি কুরআন-সুন্নাহর আলোকে আমার নিজস্ব বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে বিচার ফায়সালা করব। তার এ জবাবে রাসুল (সা.) অত্যন্ত খুশি হন। এতে প্রমাণিত হয়, কুরআন হাদিসের আলোকে গবেষণার মাধ্যমে গৃহীত সিদ্ধান্ত রাসুল (সা.) পছন্দ করতেন। ইমাম সাহেবের কথায় এ বিষয়টিই সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। কুরআন ও হাদিসে সুস্পষ্টভাবে মদ্যপান হারাম করা হয়ছে। কিন্তু বর্তমান যুগের ইয়াবা, কোকেন, হেরোইন, গাঁজা, ফেনসিডিল ইত্যাদিকেও ইসলামে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অথচ পবিত্র কুরআন হাদিসে এবং ইজমার কোথাও এ বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। প্রকৃতপক্ষে এক্ষেত্রে কিয়াসের নীতি অবলম্বন করে এগুলোকে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে, যা রাসুল (সা.) পছন্দ করতেন। ইমাম সাহেবের কথায় এ বিষয়টিরই ইঙ্গিত রয়েছে। ঘ. ইমাম সাহেবের উক্ত নীতি তথা কিয়াসের বিধান বাস্তবায়িত হবে কুরআন ও হাদিসের ভিত্তিতে। আল্লাহ তায়ালা আল-কুরআনে কিয়াস করার অনুমোদন দিয়েছেন। এ অনুমোদনের ভিত্তিতে রাসুল (সা.)-এর যুগেই কিয়াসের যাত্রা শুরু হয়। কিয়াস আল্লাহর নির্দেশে রাসুল (সা.) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এটি কুরআন-সুন্নাহর আলোকে করতে হবে এটাই স্বাভাবিক। মহানবি (সা.)-এর ইন্তেকালের পর থেকে আজ পর্যন্ত পৃথিবীতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনেক পরিবর্তন এসেছে। মানুষের জীবনযাত্রা ও চিন্তা-চেতনা এবং উদ্ভূত সমস্যার ক্ষেত্রেও ভিন্নতা ও বৈচিত্র্য দেখা যাচ্ছে। আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে কুরআন ও হাদিসে এসব নতুন সমস্যার সমাধান নেই। প্রকৃতপক্ষে এসব সমস্যার সমাধানের উপায় হলো কিয়াস করা। আর বুদ্ধিমত্তা খাটিয়ে কুরআন ও হাদিসে দেওয়া সমাধানের আলোকে কিয়াস করতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ কুরআন হাদিসে যে সমাধান দেওয়া হয়েছে তা হলো আছল বা মূলনীতি। আর এ মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে সমাধান করাই হলো কিয়াস। মদ বাতীত অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্য ইসলামের হারাম করা হয়েছে এমন একটি নীতির মাধ্যমে যা মহানবি (সা.) পছন্দ করতেন। আর তাঁর পছন্দনীয় এ নীতিটি হলো কিয়াস। এটি ইসলামি শরিয়তের চতুর্থ উৎস।। ভাই কিয়াস কুরআন-হাদিসের মূলনীতি অনুযায়ীই করতে হয়। আর ইমাম। সাহেবের উক্তিতে এ কথার সমর্থন বর্তমান থাকায় তার বক্তব্যটি যথার্থ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenঅন্যান্য

সালমান মসজিদের ইমাম সাহেবকে বললেন, পবিত্র কুরআন ও হাদিসে সুস্পষ্টভাবে মদ্যপান হারাম করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান যুগের কোকেন, হেরোইন, গাঁজা, ফেনসিডিল ইত্যাদিকেও ইসলামে হারাম করা হয়েছে। অথচ পবিত্র কুরআন, হাদিস এবং ইজমার কোথাও এ বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। উত্তরে ইমাম সাহেব বললেন, এগুলোও এমন এক নীতির মাধ্যমে হারাম করা হয়েছে যা ছিল রাসুল (সা.)-এর নিকট অত্যন্ত পছন্দনীয়। আর উক্ত নীতি। বাস্তবায়িত হবে কুরআন ও হাদিসের ভিত্তিতেই।

ক. কিয়াসের মূলনীতি কয়টি?

খ. فَاعْتَبِرُوا يَا وَلِي الْأَبْصَارِ  আয়াতটি কোন বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করছে? ব্যাখ্যা দাও।

গ. রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট অত্যন্ত পছন্দনীয় নীতি বলতে ইমাম। সাহেব কোন নীতির প্রতি ইঙ্গিত করেছেন? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উক্ত নীতি কিসের ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হবে? বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

অধ্যাপক আবদুশ শাকুর পাঠদানকালে কিয়াসের শর্তাবলি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কিয়াস শুদ্ধ হওয়ার জন্য চারটি শর্ত পাওয়া আবশ্...

অধ্যাপক সামির শাকের ইসলাম শিক্ষার ক্লাসে বলেন, বর্তমান বিশ্বের মানুষের জীবনব্যবস্থা হিসেবে ৩টি মতবাদ সুপরিচিত- ১. গণতন্ত...

অধ্যাপক সিরাজুম মুনির শ্রেণিকক্ষে কিয়াস সম্পর্কে পাঠদান করছিলেন। তারান্নুম কিয়াসের রুকন সম্পর্কে তার নিকট জানতে চাইল। ...

অধ্যাপিকা রুমানা ইসলাম কিয়াস বিষয়ে পাঠদানকালে কিয়াসের প্রকারভেদগুলো উল্লেখ করলেন। তিনি বললেন, কিয়াসের প্রকারভেদ জানা...

আব্দুল মজিদ ১নং বালিযুগ ইউপি চেয়ারম্যান। একদা তার এক মেম্বার আব্দুল মালেক মিয়াকে একটি সামাজিক সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব...

আলালপুর গ্রামে প্রতিবছর বিশাল ওয়াজ মাহফিল হয়। স্থানীয় আলেমগণ সর্বসম্মতিক্রমে লক্ষাধিক মানুষের ওয়াজ শোনার সুবিধার্থে আজান...

আহমদ ও আসলাম দুই বন্ধু। আসলাম ইয়াবার নেশায় আসক্ত। আহমদ, আসলামকে এ নেশা ছেড়ে দিতে বলে। কিন্তু আসলাম তাতে রাজি হয় না বরং আ...

ইসলাম শিক্ষা পাঠদানকালে রফিক অধ্যাপক জাহাঙ্গির কবিরকে প্রশ্ন করল- স্যার, পবিত্র কুরআনে তো একথা ঘোষণা করা হয়েছে যে, "আমি ...

ইয়াবার বৈধতা নিয়ে তিন বন্ধু S, T ও U এর মধ্যে আলোচনা চলছিল। S বলল কুরআন ও হাদিসে ইয়াবা নিয়ে কোনো আলোচনা নেই। ইয়াবা নিষিদ...

উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী মিলন ইসলাম শিক্ষা বিষয়ের আল-কিয়াস অধ্যায়টি অধ্যয়নের পর কিয়াসের যৌক্তিকতা শিরোনামে একটি প...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।