Facebook Pixel

মির্জাপুর নগরের শামিম খারাপ লোকের পাল্লায় পড়ে হেরোইন ও ইয়াবায় আসক্ত হয়ে পড়লে তার বন্ধু শাহীন তাকে এসব ছেড়ে দিতে বলে। তখন শামিম বলল- আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (স) কোথাও ইয়াবা ও হেরোইন নিষেধের কথা বলেননি। এ বিষয় ইমামদের মতৈক্যও হয়নি। তাই এর বাইরে কোনো বিষয়ে আমল করা আবশ্যক নয়। একথা শুনে স্থানীয় আলিম জনাব। আবরার বলেন, 'হেরোইন ও ইয়াবা মাদকদ্রব্য। তাই এসব হারাম।' ক. কিয়াস কত প্রকার ও কী কী? খ. 'কিয়াসে জলি অধিকতর গ্রহণযোগ্য'-ব্যাখ্যা করো। গ. শামিম ইসলামি শরিয়তের কোন উৎস অস্বীকার করেছে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. 'প্রত্যেক নেশা জাতীয় দ্রব্য হারাম।'- উক্তিটির আলোকে জনাব আবরারের বক্তব্যের যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৪ঃ আল-কিয়াস

উৎস: Board Exam Question DB 2018, Board Exam Question Combined 2018

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. কিয়াস দুই প্রকার। যথা- ১. কিয়াসে জলি। ২. কিয়াসে খফি। খ. সহজে বোধগম্য হওয়ায় কিয়াসে জলি বেশি গ্রহণযোগ্য। যে কিয়াসের ইল্লত বা কার্যকারণ সুস্পষ্ট এবং সবার কাছে বোধগম্য। তাকে কিয়াসে জলি বলে। কিয়াসে জলি সহজেই অনুধাবন করা যায়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়- মদ পান করা হারাম। এর উপর কিয়াস হয়েছে যে গাঁজা, হেরোইন সেবন হারাম। এগুলোর মধ্যে যে নেশার উপাদান রয়েছে তা সবাই জানে। নেশা সৃষ্টিকারী উপাদান থাকার কারণে মদ যেমন হারাম, তেমনি গাজা হেরোইনের মত পদার্থ একই কারণে হারাম। এভাবে কিয়াসে খফির তুলনায় সহজে অনুধাবনযোগ্য হওয়ায় কিয়াসে জলি বেশি গ্রহণযোগ্য। গ. শামিম শরিয়তের চতুর্থ উৎস কিয়াস অস্বীকার করেছে। কিয়াস হলো ইসলামি আইন প্রবর্তনের একটি পদ্ধতি। মানুষের গতিশীল জীবনে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন সমস্যার উদ্ভব ঘটে। এ ধরনের সমস্যার সমাধান সরাসরি কুরআন-সুন্নাতে পাওয়া যায় না। পাওয়া যায় শুধু মূলনীতি এবং সাদৃশ্যপূর্ণ কোনো বিধান। সে মূলনীতি বা বিধানের কারণ ও ধরন বিবেচনা করে নতুন উদ্ভূত সমস্যার ইসলামি সমাধান উদ্ভাবনের পদ্ধতি হচ্ছে কিয়াস। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়- মদ হারাম। কেননা মদ হারাম হওয়া বিষয়ে আল্লাহ তায়ালার বিধান সরাসরি বর্ণিত আছে। মদের মধ্যে নেশা সৃষ্টির উপাদান রয়েছে। একই উপাদান ইয়াবা ও হেরোইনে থাকায় এগুলোও হারাম। অথচ শামিম এগুলোকে হারাম মনে করে না। উদ্দীপকের শামিম হেরোইন ও ইয়াবায় আসক্ত হয়ে পড়েছে। তার বন্ধু শাহীন তাকে এসব ছেড়ে দিতে বললে সে বলে- আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (স) কোথাও ইয়াবা ও হেরোইন নিষেধের কথা বলেননি। কুরআন, হাদিস ও ইজমার বাইরে কোনো বিধান সে মানে না। আর এর মাধ্যমে শামিম কিয়াসের বিধানকে অস্বীকার করল। অথচ কিয়াসের বিধানের ওপর আমল করা ওয়াজিব। শরিয়তের পরিপূর্ণতার জন্য কিয়াসের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। উপরের আলোচনার আলোকে বলা যায়, শামীম শরিয়তের মূল উৎসগুলোর একটি তথা কিয়াসকে অস্বীকার করেছে। ঘ. মদের ওপর ভিত্তি করে প্রত্যেক নেশাজাতীয় দ্রব্য হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। ইসলাম একটি বিজ্ঞানময় ধর্ম। এর প্রতিটি বিধানের পেছনে বৈজ্ঞানিক যুক্তি রয়েছে। যার বাস্তবতা নেশা হারাম হওয়ার মধ্যে লক্ষ করা যায়। বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে নেশা শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। ইসলামও এ ধরনের দ্রব্য হারাম করেছে। কুরআন-হাদিসের স্পষ্ট বাণীর মাধ্যমে মদ হারাম ঘোষিত হয়েছে। শুধু তাই নয় বরং মদ ও মাদকজাত দ্রব্য প্রস্তুত, ক্রয়- বিক্রয়, পান ইত্যাদি সবকিছুই হারাম। অন্যদিকে কুরআন ও হাদিসে গাঁজা, ইয়াবা, হেরোইন কিংবা কোকেনের বিধান উল্লেখ নেই। কারণ রাসুল (স) এর জীবদ্দশায় এগুলো ছিল না। পরবর্তী সময়ে মানুষ বৈজ্ঞানিক উৎকর্ষের অপব্যবহার করে হেরোইন বা ইয়াবার মতো বহু ক্ষতিকর মাদকদ্রব্য তৈরি করেছে। আর সাধারণ মানুষ তা গ্রহণ করে নেশাগ্রস্ত হচ্ছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এগুলোর বিষয়ে বিধান জরুরি হয়েছে। এক্ষেত্রে কিয়াসের মাধ্যমে বিধান বের করা হয়েছে। মদের সাথে তুলনা করে কিয়াস করে বিধান দেওয়া হয়েছে যে, গাঁজা, হেরোইন ও কোকেন হারাম। কারণ মদ, গাঁজা, হেরোইন ও কোকেনের মধ্যে একই বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান, আর তা হচ্ছে নেশার উপস্থিতি। এখানে মদপান করা হারাম- এটা হচ্ছে আছল বা মূল আর গাঁজা কোকেন ও হেরোইন হচ্ছে ফরয়া বা শাখা। উদ্দীপকে আবরার সাহেবের বক্তব্যে একই বিষয় ফুটে উঠেছে। মাদকদ্রব্য হওয়ার কারণেই মূলত ইয়াবা, হেরোইন প্রভৃতি হারাম। যা যুক্তিসঙ্গত।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenDhaka Board (2018)Combined Board (2018)

মির্জাপুর নগরের শামিম খারাপ লোকের পাল্লায় পড়ে হেরোইন ও ইয়াবায় আসক্ত হয়ে পড়লে তার বন্ধু শাহীন তাকে এসব ছেড়ে দিতে বলে। তখন শামিম বলল- আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (স) কোথাও ইয়াবা ও হেরোইন নিষেধের কথা বলেননি। এ বিষয় ইমামদের মতৈক্যও হয়নি। তাই এর বাইরে কোনো বিষয়ে আমল করা আবশ্যক নয়। একথা শুনে স্থানীয় আলিম জনাব। আবরার বলেন, 'হেরোইন ও ইয়াবা মাদকদ্রব্য। তাই এসব হারাম।'

ক. কিয়াস কত প্রকার ও কী কী?

খ. 'কিয়াসে জলি অধিকতর গ্রহণযোগ্য'-ব্যাখ্যা করো।

গ. শামিম ইসলামি শরিয়তের কোন উৎস অস্বীকার করেছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. 'প্রত্যেক নেশা জাতীয় দ্রব্য হারাম।'- উক্তিটির আলোকে জনাব আবরারের বক্তব্যের যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

অধ্যাপক আবদুশ শাকুর পাঠদানকালে কিয়াসের শর্তাবলি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কিয়াস শুদ্ধ হওয়ার জন্য চারটি শর্ত পাওয়া আবশ্...

অধ্যাপক সামির শাকের ইসলাম শিক্ষার ক্লাসে বলেন, বর্তমান বিশ্বের মানুষের জীবনব্যবস্থা হিসেবে ৩টি মতবাদ সুপরিচিত- ১. গণতন্ত...

অধ্যাপক সিরাজুম মুনির শ্রেণিকক্ষে কিয়াস সম্পর্কে পাঠদান করছিলেন। তারান্নুম কিয়াসের রুকন সম্পর্কে তার নিকট জানতে চাইল। ...

অধ্যাপিকা রুমানা ইসলাম কিয়াস বিষয়ে পাঠদানকালে কিয়াসের প্রকারভেদগুলো উল্লেখ করলেন। তিনি বললেন, কিয়াসের প্রকারভেদ জানা...

আব্দুল মজিদ ১নং বালিযুগ ইউপি চেয়ারম্যান। একদা তার এক মেম্বার আব্দুল মালেক মিয়াকে একটি সামাজিক সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব...

আলালপুর গ্রামে প্রতিবছর বিশাল ওয়াজ মাহফিল হয়। স্থানীয় আলেমগণ সর্বসম্মতিক্রমে লক্ষাধিক মানুষের ওয়াজ শোনার সুবিধার্থে আজান...

আহমদ ও আসলাম দুই বন্ধু। আসলাম ইয়াবার নেশায় আসক্ত। আহমদ, আসলামকে এ নেশা ছেড়ে দিতে বলে। কিন্তু আসলাম তাতে রাজি হয় না বরং আ...

ইসলাম শিক্ষা পাঠদানকালে রফিক অধ্যাপক জাহাঙ্গির কবিরকে প্রশ্ন করল- স্যার, পবিত্র কুরআনে তো একথা ঘোষণা করা হয়েছে যে, "আমি ...

ইয়াবার বৈধতা নিয়ে তিন বন্ধু S, T ও U এর মধ্যে আলোচনা চলছিল। S বলল কুরআন ও হাদিসে ইয়াবা নিয়ে কোনো আলোচনা নেই। ইয়াবা নিষিদ...

উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী মিলন ইসলাম শিক্ষা বিষয়ের আল-কিয়াস অধ্যায়টি অধ্যয়নের পর কিয়াসের যৌক্তিকতা শিরোনামে একটি প...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।