Facebook Pixel

মিজান একজন পরহেজগার যুবক। আদনান তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু। দুজন একসাথে চলতে গিয়ে আদনান লটারি বিক্রয়রত গাড়ি থেকে ১০ টাকা মূল্যের দুটি টিকিট ক্রয় করে একটি নিজে এবং অপরটি মিজানকে দিল। লটারি ড্র হলে মিজান একটি মোটর সাইকেল পুরস্কার পেল। আদনান মিজানকে ৫০,০০০ টাকা দিয়ে মোটর সাইকেলটি নিজেই নিয়ে নিল। মিজান লটারিতে মোটর সাইকেল পাওয়ার খবর জানাজানি হলে মিজানের মক্তব শিক্ষক তাকে ডেকে লটারিকে নিষিদ্ধ কাজ বলে আখ্যায়িত করেন এবং নিম্নোক্ত আয়াতটি তিলাওয়াত করেন- إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنْصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ . অতঃপর মিজান টাকাগুলো আদনানের নিকট ফেরত দিল এবং তাকেও মোটর সাইকেলটি ফেরত বা দান করে দিতে বলল। তখন আদনান বলল, "তুমি অতিরিক্ত ধার্মিকতা দেখাচ্ছ"। ক. কিয়াস কী? খ. কোনো বিষয়ে কুরআন ও হাদিসের স্পষ্ট বিধান না থাকলে সমাধানের উপায় কী? গ. মিজানের শিক্ষক লটারিকে কেন নিষিদ্ধ বলে আখ্যায়িত করলেন? বুঝিয়ে লেখ। ঘ. 'অতিরিক্ত ধার্মিকতা'- বিষয়টি তোমার দৃষ্টিতে মূল্যায়ন কর।

বিষয়: ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৪ঃ আল-কিয়াস

উৎস: Board Exam Question DB 2017

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ককুরআন-সুন্নাহর আইন বা নীতির সাদৃশ্যের ভিত্তিতে বিচার-বুদ্ধি প্রয়োগ করে উদ্ভূত সমস্যার সমাধান দেওয়াই কিয়াস। খ. কোনো বিষয়ে কুরআন-হাদিসে স্পষ্ট সমাধান না থাকলে ইজমা বা কিয়াসের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে।ইজমা অর্থ ঐকমত্য। ধর্মীয় বা পার্থিব কোনো বিষয়ে মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স)-এর যুগ পরবর্তী যে কোনো সময়ে যোগ্যতাসম্পন্ন মুসলিম মুজতাহিদদের কুরআন-সুন্নাহ সমর্থিত এবং সর্বসম্মত ঐকমত্যের নাম ইজমা। এটি ইসলামি শরিয়তের তৃতীয় উৎস। অন্যদিকে কিয়াস হলো পরিমাপ বা তুলনা করা, এটি শরিয়তের চতুর্থ উৎস। অর্থাৎ মূল আইন যে যুক্তি বা ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত সে যুক্তির আলোকে উদ্ভূত নতুন সমস্যা সমাধানের আল্লাহর নির্দেশিত পন্থাই কিয়াস। ইজমা বা কিয়াস কোনোটি কুরআন-সুন্নাহর মূলনীতির সাথে সাংঘর্ষিক হবে না। গ. শরিয়তের চতুর্থ উৎস কিয়াস দ্বারা অসমর্থিত হওয়ায় মিজানের শিক্ষক লটারিকে নিষিদ্ধ বলে আখ্যায়িত করলেন।ইসলামি আইনের বিস্তৃতির উদাহরণ হলো কিয়াস। এর অর্থ পরিমাপ বা তুলনা করা। মূল আইন (কুরআন-হাদিস) যখন সমস্যা সমাধানে যথেষ্ট না হয়, তখন মূল আইনের ভিত্তিতে যুক্তিভিত্তিক এবং বিচার-বুদ্ধিপ্রসূত নতুন সমস্যার সমাধান করাকে কিয়াস বলে। কিয়াসের চারটি রুকুন বা ভিত্তি রয়েছে। এগুলোর আলোকে উদ্ভূত সমস্যার সমাধান করা হয়। এগুলো হলো- আছল (মূল), ফরয়া (শাখা), ইল্লত (যুক্তি, কারণ), এবং হুকুম (বিধান)।উদ্দীপকে বর্ণিত লটারির মাধ্যমে টাকা উপার্জনকে মিজানের শিক্ষক নিষিদ্ধ বলেছেন। এটি কিয়াসপ্রসূত একটি সমাধান। কারণ পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, 'হে ইমানদারগণ! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, মূর্তি ও ভাগ্য নির্ধারক তীর শয়তানের অপবিত্র কাজ। সুতরাং তোমরা এগুলো থেকে দূরে থাকো।' (সুরা মায়িদা-৯০)। এখানে ভাগ্য নির্ধারক তীরকে কুরআনে যেমন নিষিদ্ধ করা হয়েছে তেমনি হাদিসেও এটি হারাম বলে ঘোষিত। কিন্তু লটারি সম্পর্কে কুরআন-হাদিসে স্পষ্ট কোনো বিধান নেই। কারণ রাসুল (স)-এর সময়ে এর প্রচলন ছিল না। কিন্তু ভাগ্য নির্ধারক তীরের প্রচলন ছিল। আবার ভাগ্য নির্ধারক তীরের মতো লটারির মাধ্যমেও মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করা হয়। এ দুটির বৈশিষ্ট্য সমান। এ উদাহরণে 'ভাগ্য নির্ধারক তীর' হচ্ছে- আছল, লটারি হচ্ছে ফরয়া। ভাগ্য নির্ধারণের বিষয়টি হচ্ছে- ইল্লত এবং লটারির বিধান 'হারাম' হচ্ছে হুকুম। সুতরাং বলা যায়, মিজানের শিক্ষক কিয়াসের মাধ্যমে লটারিকে নিষিদ্ধ বলে আখ্যায়িত করেছেন। ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত 'অতিরিক্ত ধার্মিকতা' বিষয়টি শরিয়তের চতুর্থ উৎস কিয়াসের প্রতি অবজ্ঞাসূচক, যা ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয়। কিয়াস ইসলামের আধুনিকতা ও গতিশীলতার প্রমাণ দেয়। ইসলামি শরিয়তে আইনের উৎস হিসেবে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয়। কুরআন মাজিদে মুসলিম জাতিকে আল্লাহ তায়ালা কিয়াস করার নির্দেশ দিয়েছেন। বলা হয়েছে- 'হে দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন মানুষেরা! তোমরা চিন্তা ও গবেষণা করো।' (সূরা হাশর-২)। তাই আল্লাহর নির্দেশিত বিষয় হিসেবে একে উপেক্ষা করা যায় না। যদি কেউ একে অস্বীকার বা অবিশ্বাস করে তবে সে ফাসিক বলে গণ্য হবে।উদ্দীপকে কিয়াসের মাধ্যমে গৃহীত লটারি নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পরও আদনান একে অতিরিক্ত ধার্মিকতা বলে উপহাস করেছে। তার এ ধরনের মনোভাব ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ রাসুল (স) নিজে কিয়াস করার অনুমতি দিয়েছেন। বাস্তব প্রয়োজন ও গুরুত্বের ভিত্তিতে বিচার-বুদ্ধি প্রয়োগ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণকে তিনি অধিক পছন্দ করতেন। তাছাড়া মানবজীবনের পরিবর্তনমুখিতা ও গতিশীলতায় নতুন উদ্ভূত সমস্যার সমাধানে কুরআন-হাদিসের আলোকে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা কোনো ক্রমেই অতিরিক্ত ধর্মপ্রবণতার পরিচয় বহন করে না। বরং এটি অধিক গ্রহণীয়।পরিশেষে বলা যায়, কিয়াস ছাড়া ইসলামকে পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা হিসেবে প্রমাণ করা যায় না। কেননা, কিয়াস ব্যতীত ইসলাম গতিহীন ও সংকীর্ণ জীবনাদর্শে পরিণত হয়। তাছাড়া এটি ছাড়া মানুষের জীবনে উদ্ভূত নিত্য- নতুন সমস্যার ইসলামি সমাধান সম্ভব নয়। ফলে সমাজে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা বিরাজ দেখা দিতে পারে। সুতরাং আমরা বলতে পারি, কিয়াসের মাধ্যমে গৃহীত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আদনানের মনোভাব যথার্থ নয়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenDhaka Board (2017)

মিজান একজন পরহেজগার যুবক। আদনান তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু। দুজন একসাথে চলতে গিয়ে আদনান লটারি বিক্রয়রত গাড়ি থেকে ১০ টাকা মূল্যের দুটি টিকিট ক্রয় করে একটি নিজে এবং অপরটি মিজানকে দিল। লটারি ড্র হলে মিজান একটি মোটর সাইকেল পুরস্কার পেল। আদনান মিজানকে ৫০,০০০ টাকা দিয়ে মোটর সাইকেলটি নিজেই নিয়ে নিল। মিজান লটারিতে মোটর সাইকেল পাওয়ার খবর জানাজানি হলে মিজানের মক্তব শিক্ষক তাকে ডেকে লটারিকে নিষিদ্ধ কাজ বলে আখ্যায়িত করেন এবং নিম্নোক্ত আয়াতটি তিলাওয়াত করেন-
إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنْصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ .
অতঃপর মিজান টাকাগুলো আদনানের নিকট ফেরত দিল এবং তাকেও মোটর সাইকেলটি ফেরত বা দান করে দিতে বলল। তখন আদনান বলল, "তুমি অতিরিক্ত ধার্মিকতা দেখাচ্ছ"।

ক. কিয়াস কী?

খ. কোনো বিষয়ে কুরআন ও হাদিসের স্পষ্ট বিধান না থাকলে সমাধানের উপায় কী?

গ. মিজানের শিক্ষক লটারিকে কেন নিষিদ্ধ বলে আখ্যায়িত করলেন? বুঝিয়ে লেখ।

ঘ. 'অতিরিক্ত ধার্মিকতা'- বিষয়টি তোমার দৃষ্টিতে মূল্যায়ন কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

অধ্যাপক আবদুশ শাকুর পাঠদানকালে কিয়াসের শর্তাবলি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কিয়াস শুদ্ধ হওয়ার জন্য চারটি শর্ত পাওয়া আবশ্...

অধ্যাপক সামির শাকের ইসলাম শিক্ষার ক্লাসে বলেন, বর্তমান বিশ্বের মানুষের জীবনব্যবস্থা হিসেবে ৩টি মতবাদ সুপরিচিত- ১. গণতন্ত...

অধ্যাপক সিরাজুম মুনির শ্রেণিকক্ষে কিয়াস সম্পর্কে পাঠদান করছিলেন। তারান্নুম কিয়াসের রুকন সম্পর্কে তার নিকট জানতে চাইল। ...

অধ্যাপিকা রুমানা ইসলাম কিয়াস বিষয়ে পাঠদানকালে কিয়াসের প্রকারভেদগুলো উল্লেখ করলেন। তিনি বললেন, কিয়াসের প্রকারভেদ জানা...

আব্দুল মজিদ ১নং বালিযুগ ইউপি চেয়ারম্যান। একদা তার এক মেম্বার আব্দুল মালেক মিয়াকে একটি সামাজিক সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব...

আলালপুর গ্রামে প্রতিবছর বিশাল ওয়াজ মাহফিল হয়। স্থানীয় আলেমগণ সর্বসম্মতিক্রমে লক্ষাধিক মানুষের ওয়াজ শোনার সুবিধার্থে আজান...

আহমদ ও আসলাম দুই বন্ধু। আসলাম ইয়াবার নেশায় আসক্ত। আহমদ, আসলামকে এ নেশা ছেড়ে দিতে বলে। কিন্তু আসলাম তাতে রাজি হয় না বরং আ...

ইসলাম শিক্ষা পাঠদানকালে রফিক অধ্যাপক জাহাঙ্গির কবিরকে প্রশ্ন করল- স্যার, পবিত্র কুরআনে তো একথা ঘোষণা করা হয়েছে যে, "আমি ...

ইয়াবার বৈধতা নিয়ে তিন বন্ধু S, T ও U এর মধ্যে আলোচনা চলছিল। S বলল কুরআন ও হাদিসে ইয়াবা নিয়ে কোনো আলোচনা নেই। ইয়াবা নিষিদ...

উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী মিলন ইসলাম শিক্ষা বিষয়ের আল-কিয়াস অধ্যায়টি অধ্যয়নের পর কিয়াসের যৌক্তিকতা শিরোনামে একটি প...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।