Facebook Pixel

হালিম মিয়া একজন শ্রমিক। সারাদিন খাটাখাটি করে যা উপার্জন করেন তা দিয়ে সংসার, ছেলেমেয়ের ভরণপোষণ করে থাকেন। কিছুদিন হলো তিনি মনের মধ্যে স্বস্তি পাচ্ছিলেন না। সমস্যা সমাধানে তিনি এলাকার ইমাম সাহেবের শরণাপন্ন হলেন। ইমাম সাহেব নামাজ আদায় ও কুরআন তিলাওয়াতের পরামর্শ দিলেন এবং সুফি সাধকদের জীবনী অনুসরণ করতে বললেন। ক. তাসাউফের পরিচয় দাও। খ. শরিয়ত ও তাসাউফ সম্পর্কিত একথা দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে? গ. উদ্দীপকে হালিম মিয়ার স্বস্তি ফিরে পাওয়ার কারণ নিরূপণ করে তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর। ঘ. উদ্দীপকের ইমাম সাহেবের বক্তব্যের সাথে তুমি কি একমত? যুক্তি দাও।

বিষয়: ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৭ঃ তাসাউফ

উৎস: Test Exam Question DC 2026

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. তাসাউফ শব্দের অর্থ পরিচ্ছন্ন হওয়া, পবিত্র হওয়া। পরিভাষায় ইলমে তাসাউফ বলতে এমন জ্ঞান ও আচরণ পদ্ধতিকে বোঝায়, যা মানুষকে পবিত্র আত্মার অধিকারী করে তাকে আল্লাহর যথার্থ প্রতিনিধির মর্যাদায় পৌঁছে দেয়। খ. শরিয়ত ও তাসাউফ পরস্পর সম্পর্কিত। যে তাসাউফ শরিয়ত বিরোধী তা অবশ্যই কুফরি। কেননা, শরিয়ত ছাড়া তাসাউফ হতে পারে না। শরিয়তের সাথে তাসাউফের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। তাসাউফ শরিয়তেরই একটি অংশ। শরিয়তের বিধিবিধানের সাথে সম্পর্ক থাকবে না ইসলামে এমন তাসাউফের স্থান নেই। দেহ ও আত্মার সাথে যেমন সম্পর্ক, শরিয়তের সাথে তাসাউফেরও তেমন সম্পর্ক। যিনি যত উচ্চপর্যায়ের ও মর্যাদার সুফি তিনি তত বেশি শরিয়তের অনুসারী। গ. উদ্দীপকে হালিম মিয়ার মধ্যে স্বস্তি ফিরে পাওয়ার কারণ হলো তাসাউফ চর্চার মাধ্যমে আত্মার পরিশুদ্ধতা।আল্লাহর খাঁটি বান্দাহ হতে হলে সর্বদা আত্মাকে পূতপবিত্র রাখতে হবে। এজন্য ইসলামি জীবনদর্শনে ব্যক্তিমানুষের আত্মশুদ্ধি বা ইলমে তাসাউফের ওপর জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। ইসলাম ব্যক্তিমানুষের জ্ঞান-বৃদ্ধি, নৈতিকতা, বিবেক, মানসিকতা ও আত্মার পরিশুদ্ধতার কথা বলে। ব্যক্তিমানুষের পরিশুদ্ধির ওপরই ব্যক্তিমানুষের জীবনের সফলতা এবং সমাজ সভ্যতার সুস্থতা নির্ভর করে। মূলত আত্মাকে পবিত্র, কলুষমুক্ত ও পরিশুদ্ধ রাখার মধ্যেই সত্যিকারের কল্যাণ ও সাফল্য নিহিত। আল্লাহ তায়ালা বলেন- يَوْمَ لَا يَنْفَعُ مَالٌ وَلَا بَنُونَ إِلَّا مَنْ أَتَى اللَّهَ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ অর্থাৎ, “যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো কাজে আসবে না। (সেদিন উপকৃত হবে সে) যে আল্লাহর কাছে বিশুদ্ধ অন্তকরণ নিয়ে আসবে।” (সূরা আশ-শুআরা ৮৮-৮৯) সুতরাং আত্মাকে কলুষমুক্ত রাখতে পাপচিন্তা, পাপকর্ম, হারাম জীবিকা অর্জন, পরনিন্দা, পরচর্চা ইত্যাদি থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। কেননা আত্মা কলুষিত হলে গোটা মানবদেহ কলুষিত হয়, নষ্ট হয়ে যায়। পক্ষান্তরে সৎ চিন্তা, সৎকর্ম, আল্লাহর যিকর ও আল্লাহর ইবাদতে আত্মা পরিশুদ্ধ হয়, সুস্থ থাকে।উপর্যুক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায়, উদ্দীপকে হালিম মিয়া ইমাম সাহেবের পরামর্শে তাসাউফ চর্চার মাধ্যমে নিজের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করতে পেরেছেন তাই তিনি স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন। ঘ. উদ্দীপকের ইমাম সাহেবের বক্তব্যে আত্মশুদ্ধি অর্জনের উপায় ও তাসাউফ চর্চার গুরুত্ব ফুটে উঠেছে। ইসলামি শরিয়তের আলোকে ইমাম সাহেবের বক্তব্যটি যথার্থ হওয়ায় আমি তার বক্তব্যের সাথে একমত পোষণ করি।সদাসর্বদা সৎকর্ম, সৎচিন্তা, নৈতিক ও মানবিক আদর্শে নিজ চরিত্র গড়ে তোলার দ্বারা আত্মশুদ্ধি অর্জন করা যায়। মহানবি (সা.) বলেছেন, "প্রত্যেক বস্তুরই পরিবর্ধনের পরিশোধক যন্ত্র রয়েছে। আর অন্তর পরিষ্কারের যন্ত্র হলো আল্লাহর যিকির।" (বায়হাকি) বেশি বেশি আল্লাহ তায়ালার স্মরণ ও যিকিরের মাধ্যমে অন্তরের কালো দাগ ও মরিচা দূর করা যায়। যিকিরের মাধ্যমে আত্মা প্রশান্ত ও পরিশুদ্ধ হয়। এছাড়াও তওবা, ইস্তিগফার, তাওয়াক্কুল, যুহদ, ইখলাস, সবর, শোকর, কুরআন তিলাওয়াত, সালাত ইত্যাদির মাধ্যমেও আত্মশুদ্ধি অর্জন করা যায়।আমাদের পূর্বপুরুষগণ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শের ধারক ও বাহক আওলিয়ায়ে কিরামের সাহচর্যে গিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে আদর্শ চরিত্রবান হয়েছিলেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ইসলামের মৌলিক শিক্ষা ও তাসাউফ চর্চার মাধ্যমে মুসলিম জাতি আল্লাহর শক্তিতে বলীয়ান হয়ে যে ঐতিহ্য ধারণ করেছিল, পরবর্তীকালে তারা সে শিক্ষা ছেড়ে দেওয়ার ফলে নিজেদের গৌরবময় ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলে।বর্তমান মুসলিম সমাজে চিন্তাচেতনায়, আকিদা-বিশ্বাসে ও কর্মকাণ্ডে অনেক কুসংস্কার ও শরিয়তবিরোধী কর্মকাণ্ড অনুপ্রবেশ করে মুসলিম ঐক্য আর আত্মিক শক্তিতে ভীষণভাবে আঘাত হানছে। এর মূল কারণ হলো- ইসলামের অন্যতম মৌলিক শিক্ষা ইলমে তাসাউফের চর্চা না করা। এর অনুশীলন ছেড়ে দেওয়ার ফলে আমরা দিনে দিনে নৈতিক ও মানবিক চারিত্রিক গুণাবলি হারিয়ে ফেলেছি।উদ্দীপকে ইমাম সাহেব হালিম মিয়াকে কুরআন তিলাওয়াতের পরামর্শ দিলেন এবং সুফি সাধকদের জীবনী অনুসরণ করতে বললেন- উপর্যুক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায়, ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী ইমাম 'সাহেবের বক্তব্যটি যথার্থ। তাই আমি তার বক্তব্যের সাথে একমত।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenনির্বাচনী পরীক্ষা - Dhaka College (2026)

হালিম মিয়া একজন শ্রমিক। সারাদিন খাটাখাটি করে যা উপার্জন করেন তা দিয়ে সংসার, ছেলেমেয়ের ভরণপোষণ করে থাকেন। কিছুদিন হলো তিনি মনের মধ্যে স্বস্তি পাচ্ছিলেন না। সমস্যা সমাধানে তিনি এলাকার ইমাম সাহেবের শরণাপন্ন হলেন। ইমাম সাহেব নামাজ আদায় ও কুরআন তিলাওয়াতের পরামর্শ দিলেন এবং সুফি সাধকদের জীবনী অনুসরণ করতে বললেন।

ক. তাসাউফের পরিচয় দাও।

খ. শরিয়ত ও তাসাউফ সম্পর্কিত একথা দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?

গ. উদ্দীপকে হালিম মিয়ার স্বস্তি ফিরে পাওয়ার কারণ নিরূপণ করে তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

ঘ. উদ্দীপকের ইমাম সাহেবের বক্তব্যের সাথে তুমি কি একমত? যুক্তি দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

Y একজন মধ্যবয়সী সচ্ছল মানুষ। কিন্তু তিনি কখনো অপব্যয় করেন না এবং মৌলিক ইবাদত বাদ দেন না। বর্তমানে তিনি অধিক রাত জেগে সাল...

অধ্যাপক আব্দুল গফুর ইসলাম শিক্ষার ক্লাসে ইলমে তাসাউফ বিষয়ে পাঠদান করেছিলেন। তার ছাত্র হুমায়ুন এর উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ স...

অধ্যাপক ইয়াসির আরাফাত বিশিষ্ট সুফি হযরত হাসান বসরি (র.)- এর পরিচয় প্রদান করতে গিয়ে বলেন- ইলমে ফিকহ ও ইলমে তাসাউফের ক্...

অধ্যাপক তানভির সিদ্দিকি ইসলাম শিক্ষার ক্লাসে পাঠদানকালে বললেন, মুসলিম ইতিহাসে বোখারা এক ঐতিহাসিক নাম। এখানে জন্মগ্রহণ কর...

আব্দুল আহাদ শ্রমিক হিসেবে ইরাকে যায়। এক ছুটির দিনে মুসল হতে সে রাজধানী বাগদাদে যায়। সেখানে সে দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে ...

আসাদ সাহেব একজন ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ের কাজের ব্যস্ততার জন্য তার ইবাদত-বন্দেগির সময় হয় না। সবসময় কাজের ব্যস্ততায় সময় চলে যায়...

একজন আলেমে দ্বীন উমর (রা.)-এর খেলাফতের সময় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস, ফকিহ ও মুজাহিদ ছিলেন। তিনি ইলম...

চান মস্তানের মেলায় প্রতিবছর দূর-দূরান্ত হতে লোকের সমাগম হয়। ফাহাদের বন্ধু আহাদ দেখতে পায় একদল জটাধারী লোক একস্থানে জড...

জনাব জাফর দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত থাকে । একদা বন্ধুর সাথে ইসলামি জলসায় গিয়ে বক্তার বক্তৃতা শুনে তার অনুশোচ...

জনাব মিজান ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীতে সব প্রকার হিংসা-বিদ্বেষ, কাম-ক্রোধ, লোভ-লালসা ও পাশবিকতা পরিহার করে নিষ্কলুষ জীবনযাপন কর...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।