Facebook Pixel

অধ্যাপক ইয়াসির আরাফাত বিশিষ্ট সুফি হযরত হাসান বসরি (র.)- এর পরিচয় প্রদান করতে গিয়ে বলেন- ইলমে ফিকহ ও ইলমে তাসাউফের ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কিরামের পর যারা অসামান্য অবদান রাখেন তাঁদের মধ্যে হযরত হাসান বসরি (র.) অন্যতম। কুরআনুল কারিম ও হাদিস শরিফের নির্যাস থেকে ইলমে তাসাউফে তিনি অভূতপূর্ব অবদান রাখেন। হযরত হাসান বসরি (র.) সর্বপ্রথম সুফি সাধনায় কৃচ্ছ্রতা অবলম্বন পদ্ধতি প্রবর্তন করেন এবং একে স্বকীয় স্বাতন্ত্র্যে সমুজ্জ্বল আধ্যাত্মিক সাধনার ধারা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। ক. হযরত হাসান বসরি (র.)-এর মাতা-পিতার নাম কী? খ. “তাসাউফ শিক্ষ করা ফরজে আইন, কখনো ফরজে কিফায়া এবং কখনো মুস্তাহাব”- উক্তিটি ব্যখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের সুফি সাহেব কীভাবে শিক্ষালাভ করেছেন, তার একটি বাস্তব চিত্র অঙ্কন কর। ঘ. অধ্যাপক ইয়াসির আরাফাত যার কথা বলেছেন তার জ্ঞানের পরিধি বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৭ঃ তাসাউফ

উৎস: Others

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. হযরত হাসান বসরি (র.)-এ মাতার নাম সায়রাহ এবং পিতার নাম ইয়াসার। খ. দুররুল মুখতার' গ্রন্থে বর্ণিত আছে, অবস্থাভেদে তাসাউফ শিক্ষা করা ফরজে আইন, কখনো ফরজে কিফায়া এবং কখনো মুস্তাহাব। যে পরিমাণ তাসাউফ শিক্ষার ফলে মানুষের চরিত্র বিশুদ্ধ ও মার্জিত হতে পারে, ততটুকু তাসাউফ শিক্ষা করা ফরজে আইন। আর যে পরিমাণ তাসাউফ শিক্ষার ফলে অন্যকে তা শিক্ষা দেওয়া যায়, এ পরিমাণ শিক্ষা করা ফরজে কিফায়া। আর যে পরিমাণ শিক্ষার ফলে ইলমে তাসাউফের বিশেষ জ্ঞানের অধিকারী হওয়া যায় সে পরিমাণ শিক্ষা করা মুস্তাহাব। গ. উদ্দীপকের সুফি হলেন হযরত হাসান বসরি (র.)। হাসান বসরি (র.) খুব ছোট বয়স থেকেই কুরআন, হাদিস, ফিকহ, তাফসির ইত্যাদি বিষয়ে বিখ্যাত সাহাবি ও তাবেয়িদের কাছে শিক্ষা লাভ করেন । হাসান বসরি (র.) শৈশব থেকেই মসজিদে যাতায়াত করতেন এবং কুরআন ও নবুয়তি জ্ঞান অল্প সময়েই অর্জন করেন। মাত্র ১২ বছর বয়সে তিনি কুরআনের হাফিজ হন এবং তাফসিরের জ্ঞান অর্জন করেন। তিনি রাসুল (সা.)-এর অসংখ্য সাহাবায়ে কিরামের সাহচর্য পেয়ে অল্প সময়েই কুরআন, হাদিস, ফিক্হ বিষয়ে উচ্চতর তালিম লাভ করেন এবং এসব বিষয়ে বিশেষ দক্ষ হয়ে উঠেন। মদিনার বাইরে, বসরাতেও সমকালীন শ্রেষ্ঠ সাহাবা ও তাবেয়িদের কাছ থেকে তিনি জ্ঞানার্জন করেন। তিনি ১২০ জন সাহাবার সাক্ষাৎ পান তন্মধ্যে ৮০ জন বদরি সাহাবা। তিনি জীবনের অধিকাংশ সময় ইরাকের বসরাতে অতিবাহিত করেন বিধায় তাকে হাসান বসরি উপাধি দেওয়া হয়। হযরত আলি (রা.)-এর নিকট তিনি নিয়মিত আসা-যাওয়া করতেন। তাঁর থেকে তিনি ইলমে তাসাউফের দীক্ষা লাভ করেন। তিনি ইমাম হাসান (রা.) ও কামিল ইবনে যিয়াদের নিকট দীক্ষা নেন। হযরত হাসান বসরি (র.)-কে সুফি তরিকার তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করা হয়। হযরত হাসান বসরি (র.) নিজেকে খুবই ছোট মনে করতেন এবং বিনয়ী জীবনযাপন করতেন। পরিশেষে বলা যায়, হযরত হাসান বসরি (র.) ছিলেন বহুমুখী জ্ঞান ও প্রতিভার অধিকারী। তিনি তৎকালীন প্রসিদ্ধ সাহাবি ও তাবেয়িদের কাছ থেকে প্রায় সব ধরনের দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করেন। ঘ. অধ্যাপক ইয়াসির আরাফাত হযরত হাসান বসরি (র.) সম্বন্ধে আলোচনা করেছেন। হাসান বসরি (র.)-এর জ্ঞানের পরিধি ছিল ব্যাপক। ইমাম সাদ বলেন, “হাসান বসরি (র.) ছিলেন বহু পূর্ণতার সমাবেশ, উঁচু স্তরের 'আলিম, সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী ব্যক্তি, ভুলভ্রান্তি থেকে মুক্ত ফকিহ, পার্থিব ভোগবিলাসের প্রতি নির্মোহ আবিদ, অগাধ জ্ঞানের অধিকারী, স্পষ্ট ও প্রাঞ্জলভাষী সুদর্শন এক পুরুষ।” মোটকথা, বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ যোগ্যতা ও উৎকর্ষের পূর্ণরূপ ছিলেন তিনি। ইমাম আয-যাহাবি লিখেছেন, “তিনি ছিলেন হাদিসের হাফিজ, জ্ঞানের সাগর, ফকিহ, বিশাল কর্মকাণ্ডের অধিকারী, অতুলনীয়, চমৎকার উপদেশদানকারী, বাগ্মী-বক্তা এবং বহু রকম কল্যাণকর কাজের নেতা।” আল্লামা নববি লিখেছেন, তিনি ছিলেন একজন বিখ্যাত 'আলিম। তাঁর সুউচ্চ মর্যাদার ব্যাপারে সবাই একমত। ইমাম আয- যাহারি হাদিস গ্রন্থাবদ্ধকারীদের তৃতীয় স্তর (তারকা), যাকে তিনি তাবি’ইনের মধ্যম স্তর বলেছেন, হাসান আল- বসরিকে (র.) তার প্রধান পুরুষ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। গালিব আল-কাত্তান বলতেন, তাঁর যুগের আলিমদের ওপর হাসানের এ শ্রেষ্ঠত্ব ছিল পাখিদের মধ্যে চড়ুইপাখির ওপর বাজপাখির শ্রেষ্ঠত্বের মতো। কেউ যদি সে যুগের সবচেয়ে বড় আলিমকে দেখতে চায় সে যেন হাসানকে দেখে। আমর ইবনে মুররা বলতেন, হাসান ও মুহাম্মদ এই দুই শায়খের কারণে আমার বসরাবাসীর প্রতি ঈর্ষা হয়। ইউনুস ইবন উবায়দুল্লাহ ও হুমায়দ আত-তাবিল বলতেন, আমি বহু ফকিহকে দেখেছি, কিন্তু হাসানের চেয়ে পূর্ণ ব্যক্তিত্বের আর কাউকে পাইনি। 'আতা' ইবনে আবি রাবাহ মানুষকে উপদেশ দিতেন, তোমরা তোমাদের মাসআলা-মাসায়িলের ব্যাপারে হাসানের কাছে যাও। তিনি একজন অনেক বড় 'আলিম, ইমাম ও নেতা। ইমাম মালিক (র.) বলতেন, তোমরা হাসানের নিকট মাসআলা-মাসায়িল জিজ্ঞেস করবে। কারণ তিনি জ্ঞান সংরক্ষণ করেছেন, আর আমরা ভুলে গেছি। অনেকে তো এমন কথাও বলতেন, হাসান যদি পূর্ণ বয়সের সময় সাহাবিদের যুগ লাভ করতেন তাহলে সিদ্ধান্তের ব্যাপারে উঁচু স্তরের সাহাবিরা তাঁর মুখাপেক্ষী হতেন। উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে, হাসান বসরি (র.) কুরআন ও হাদিসের নিযাস থেকে ইলমে তাসাউফে অভূতপূর্ব অবদান রাখেন। তিনিই সর্বপ্রথম সুফি সাধনায় কৃচ্ছতা সাধন করেন। এতে স্বতন্ত্র আধ্যাত্মিক সাধনার ধারা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। মোটকথা, হযরত হাসান বসরি (র.)-এর মধ্যে বহু গুণের পূর্ণতার সমাবেশ ছিল। তিনি ছিলেন উঁচু স্তরের আলেম, সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী ব্যক্তিত্ব, ভুলভ্রান্তি থেকে মুক্ত বিজ্ঞ ফকিহ এবং অগাধ জ্ঞানের অধিকারী, স্পষ্ট ও প্রাঞ্জলভাষী এক সুদর্শন পুরুষ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenঅন্যান্য

অধ্যাপক ইয়াসির আরাফাত বিশিষ্ট সুফি হযরত হাসান বসরি (র.)- এর পরিচয় প্রদান করতে গিয়ে বলেন- ইলমে ফিকহ ও ইলমে তাসাউফের ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কিরামের পর যারা অসামান্য অবদান রাখেন তাঁদের মধ্যে হযরত হাসান বসরি (র.) অন্যতম। কুরআনুল কারিম ও হাদিস শরিফের নির্যাস থেকে ইলমে তাসাউফে তিনি অভূতপূর্ব অবদান রাখেন। হযরত হাসান বসরি (র.) সর্বপ্রথম সুফি সাধনায় কৃচ্ছ্রতা অবলম্বন পদ্ধতি প্রবর্তন করেন এবং একে স্বকীয় স্বাতন্ত্র্যে সমুজ্জ্বল আধ্যাত্মিক সাধনার ধারা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।

ক. হযরত হাসান বসরি (র.)-এর মাতা-পিতার নাম কী?

খ. “তাসাউফ শিক্ষ করা ফরজে আইন, কখনো ফরজে কিফায়া এবং কখনো মুস্তাহাব”- উক্তিটি ব্যখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকের সুফি সাহেব কীভাবে শিক্ষালাভ করেছেন, তার একটি বাস্তব চিত্র অঙ্কন কর।

ঘ. অধ্যাপক ইয়াসির আরাফাত যার কথা বলেছেন তার জ্ঞানের পরিধি বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

Y একজন মধ্যবয়সী সচ্ছল মানুষ। কিন্তু তিনি কখনো অপব্যয় করেন না এবং মৌলিক ইবাদত বাদ দেন না। বর্তমানে তিনি অধিক রাত জেগে সাল...

অধ্যাপক আব্দুল গফুর ইসলাম শিক্ষার ক্লাসে ইলমে তাসাউফ বিষয়ে পাঠদান করেছিলেন। তার ছাত্র হুমায়ুন এর উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ স...

অধ্যাপক তানভির সিদ্দিকি ইসলাম শিক্ষার ক্লাসে পাঠদানকালে বললেন, মুসলিম ইতিহাসে বোখারা এক ঐতিহাসিক নাম। এখানে জন্মগ্রহণ কর...

আব্দুল আহাদ শ্রমিক হিসেবে ইরাকে যায়। এক ছুটির দিনে মুসল হতে সে রাজধানী বাগদাদে যায়। সেখানে সে দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে ...

আসাদ সাহেব একজন ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ের কাজের ব্যস্ততার জন্য তার ইবাদত-বন্দেগির সময় হয় না। সবসময় কাজের ব্যস্ততায় সময় চলে যায়...

একজন আলেমে দ্বীন উমর (রা.)-এর খেলাফতের সময় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস, ফকিহ ও মুজাহিদ ছিলেন। তিনি ইলম...

চান মস্তানের মেলায় প্রতিবছর দূর-দূরান্ত হতে লোকের সমাগম হয়। ফাহাদের বন্ধু আহাদ দেখতে পায় একদল জটাধারী লোক একস্থানে জড...

জনাব জাফর দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত থাকে । একদা বন্ধুর সাথে ইসলামি জলসায় গিয়ে বক্তার বক্তৃতা শুনে তার অনুশোচ...

জনাব মিজান ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীতে সব প্রকার হিংসা-বিদ্বেষ, কাম-ক্রোধ, লোভ-লালসা ও পাশবিকতা পরিহার করে নিষ্কলুষ জীবনযাপন কর...

জনাব মিজান ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীতে সব প্রকার হিংসা-বিদ্বেষ, কাম-ক্রোধ, লোভ-লালসা ও পাশবিকতা পরিহার করে নিষ্কলুষ জীবনযাপন কর...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।