Facebook Pixel

চান মস্তানের মেলায় প্রতিবছর দূর-দূরান্ত হতে লোকের সমাগম হয়। ফাহাদের বন্ধু আহাদ দেখতে পায় একদল জটাধারী লোক একস্থানে জড়ো হয়ে আছে। ফাহাদ বলে, ওরা হলো সুফি বা আধ্যাত্মিক পুরুষ। আহাদ বলে, এদের যা অবস্থা তাতে বোঝা যায় এরা ভণ্ড। এরা না মানে শরিয়ত না মানে তরিকত। সুফি হতে হলে আগে শরিয়ত মানতে হবে। পাশাপাশি ইলমে তাসাউফ জানতে হবে। ক. হযরত বায়েজিদ বোস্তামি (র.)-এর মতে, 'তাসাউফ' কাকে বলে? খ. ইলমে তাসাউফের মাধ্যমে কী ধরনের উপকারিতা লাভ করা যায়? গ. ফাহাদ ও আহাদের দেখা লোকগুলোর প্রকৃত রূপ উন্মোচন কর। ঘ. ফাহাদ জটাধারীদের যে নামে সম্বোধন করেছে, তার শব্দগত উৎপত্তি বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৭ঃ তাসাউফ

উৎস: Others

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. হযরত বায়েজিদ বোস্তামি (র.)-এর মতে, “আল্লাহর ইবাদতে সম্পূর্ণরূপে নিয়োজিত হওয়া এবং আল্লাহকে পাওয়ার উদ্দেশ্যে পার্থিব দুঃখ-কষ্ট বরণ করাকে তাসাউফ বলে।” খ. ইলমে তাসাউফের মাধ্যমে যে উপকারিতা লাভ হয় তাহলো- এটি মানুষকে পবিত্র আত্মার অধিকারী করে তাকে আল্লাহর প্রতিনিধি বা খলিফাতুল্লাহর মর্যাদায় পৌঁছে দেয়। আর এমতাবস্থায় তাঁর মাঝে আল্লাহর গুণাবলি প্রকাশ পায়। ইলমে তাসাউফের সাহায্যে মানুষ স্রষ্টা ও সৃষ্টি সম্পর্কিত মহাজাগতিক সব বিষয় অবহিত হয়ে এভাবেই সে আল্লাহর বিশেষ প্রতিনিধির মর্যাদা লাভ করে। গ. ফাহাদ ও আহাদের দেখা লোকগুলো সুফির বেশধারী ভণ্ডলোক। একশ্রেণির ভণ্ডলোক সুফি তথা আধ্যাত্মিক রূপ ধারণ করে দুই পয়সা কামাইয়ের ধান্দা করে। এরা অধিকাংশই গাঁজা ও অন্যান্য নেশাকর মাদকে মাদকাসক্ত। এরা মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি করে তাদেরকে ধোঁকা দেয়। এরা লালসালু অথবা গেরুয়া কাপড় পরিধান করে। কেউবা পাটের বস্তা গায়ে জড়ায়। কোনো পরিশ্রম ও যোগ্যতা ছাড়াই অর্থ উপার্জনের এ সহজ পথ অনেকে বেছে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় মাজার গড়ে তোলে, আবার কখনো কখনো প্রতিষ্ঠিত মাজারে গিয়ে অর্থ কামাই করে। এদের থেকে প্রত্যেকেরই সতর্ক থাকা দরকার। ফাহাদ ও আহাদ চান মস্তানের মেলায় একদল জটাধারী লোক দেখতে পায়। সাধারণত এরা ছিন্নভিন্ন পোশাক পরে, আলুথালু অবস্থায় থাকে, রক্তিম বর্ণ চোখ বিশিষ্ট হয়। এদের হাত পায়ের নখ লম্বা লম্বা থাকে। সাধারণ মানুষ এদেরকে আধ্যাত্মিক পুরুষ মনে করে। তারা এও মনে করে এসব লোকেরা অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী। এরা মানুষের দুঃখ- কষ্ট, বেদনা-যাতনা দূর করতে পারে, মনের আশা পূরণ করতে পারে। তাই অনেকেই এদেরকে সম্মান করে প্রণতি জানায় এবং দান-দক্ষিণা দিয়ে দয়া ভিক্ষা চায়। প্রকৃতপক্ষে এরা একদল অসাধু ব্যক্তি। ঘ. ফাহাদ জটাধারীদেরকে সুফি বা আধ্যাত্মিক পুরুষ বলে সম্বোধন করেছে। সুফির শব্দগত উৎপত্তি সম্পর্কে বিভিন্ন অভিমত পাওয়া যায়। সুফি শব্দের উৎপত্তিগত অভিমতগুলো হলো- ১. অধ্যাপক এ. ই. আফিফি বলেন– আরবি (صرف) সুফুন শব্দ হতে তাসাউফ বা সুফি শব্দের উৎপত্তি। 'সুফ' অর্থ পশম। সুফিগণ সাদাসিধে জীবনযাপনের জন্য সাদা পশমি পোশাক পরতেন। এ থেকেই 'সুফি' ও 'তাসাউফ' শব্দের উৎপত্তি। আর এ মতটি বেশি গ্রহণযোগ্য। ২. মোল্লা জামির মতে, 'সাফা' (صفی) শব্দ হতে সুফি ও তাসাউফ শব্দের উৎপত্তি। সাফা শব্দের অর্থ পবিত্রতা। সুফিগণ পূতপবিত্র জীবনযাপন করার কারণে তাদেরকে এ নামে আখ্যায়িত করা হয়। ৩. আবার কারও কারও মতে, 'আহলুস্ সুফ্ফা' হতে সুফি শব্দের উৎপত্তি। কারণ দুনিয়ার ঝামেলা বাদ দিয়ে ‘আহলুস সুফফার' সাহাবিগণ মদিনার মসজিদে আল্লাহর ধ্যানে মশগুল থাকতেন। এ থেকেই যারা আল্লাহর ধ্যানে মশগুল থাকেন তাঁদেরকে সুফি বলা হয়। ৪. পশ্চিমা পণ্ডিতগণের মতে, সুফি শব্দটি গ্রিক শব্দ ‘সাফিয়া' থেকে এসেছে। ‘সাফিয়া' অর্থ জ্ঞান। সুফিরা আধ্যাত্মিক জ্ঞানের অধিকারী বলে তাঁদেরকে 'সুফি' বলা হয়। আর তাঁদের শাস্ত্রকে ‘তাসাউফ' বলা হয়। ৫. আবার অনেকের মতে, তাসাউফ ও সুফি এ দুটি শব্দ সাফা (صفی) হতে উৎপন্ন হয়েছে, যার অর্থ নির্মল, নিষ্কলুষ, পবিত্র। যাঁরা যাবতীয় পাপ- পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত হয়ে কায়মনোচিত্তে পবিত্রতা অর্জন করেছেন, তাঁরাই সুফি। সুফি সাধনার অভীষ্ট লক্ষ্যই হলো আত্মার পরিশুদ্ধি লাভ করে আদর্শ চরিত্রবান হওয়া। সুতরাং এ অভিমতটিই যুক্তিসংগত। উদ্দীপকে ফাহাদ ও আহাদ দুই বন্ধু মেলায় গিয়ে একদল জটাধারী লোক দেখতে পায়। ফাহাদ ওদেরকে সুফি বলে আখ্যায়িত করে। যদিও আহাদ এদেরকে সুফির বেশধারী ভণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করে। আর সুফি শব্দটির বেশকিছু উৎপত্তিগত মতামত রয়েছে। পরিশেষে বলা যায়, সুফির শব্দগত উৎপত্তি সম্পর্কে উল্লিখিত মতামতগুলো পাওয়া যায়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenঅন্যান্য

চান মস্তানের মেলায় প্রতিবছর দূর-দূরান্ত হতে লোকের সমাগম হয়। ফাহাদের বন্ধু আহাদ দেখতে পায় একদল জটাধারী লোক একস্থানে জড়ো হয়ে আছে। ফাহাদ বলে, ওরা হলো সুফি বা আধ্যাত্মিক পুরুষ। আহাদ বলে, এদের যা অবস্থা তাতে বোঝা যায় এরা ভণ্ড। এরা না মানে শরিয়ত না মানে তরিকত। সুফি হতে হলে আগে শরিয়ত মানতে হবে। পাশাপাশি ইলমে তাসাউফ জানতে হবে। 

ক. হযরত বায়েজিদ বোস্তামি (র.)-এর মতে, 'তাসাউফ' কাকে বলে?

খ. ইলমে তাসাউফের মাধ্যমে কী ধরনের উপকারিতা লাভ করা যায়?

গ. ফাহাদ ও আহাদের দেখা লোকগুলোর প্রকৃত রূপ উন্মোচন কর।

ঘ. ফাহাদ জটাধারীদের যে নামে সম্বোধন করেছে, তার শব্দগত উৎপত্তি বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

Y একজন মধ্যবয়সী সচ্ছল মানুষ। কিন্তু তিনি কখনো অপব্যয় করেন না এবং মৌলিক ইবাদত বাদ দেন না। বর্তমানে তিনি অধিক রাত জেগে সাল...

অধ্যাপক আব্দুল গফুর ইসলাম শিক্ষার ক্লাসে ইলমে তাসাউফ বিষয়ে পাঠদান করেছিলেন। তার ছাত্র হুমায়ুন এর উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ স...

অধ্যাপক ইয়াসির আরাফাত বিশিষ্ট সুফি হযরত হাসান বসরি (র.)- এর পরিচয় প্রদান করতে গিয়ে বলেন- ইলমে ফিকহ ও ইলমে তাসাউফের ক্...

অধ্যাপক তানভির সিদ্দিকি ইসলাম শিক্ষার ক্লাসে পাঠদানকালে বললেন, মুসলিম ইতিহাসে বোখারা এক ঐতিহাসিক নাম। এখানে জন্মগ্রহণ কর...

আব্দুল আহাদ শ্রমিক হিসেবে ইরাকে যায়। এক ছুটির দিনে মুসল হতে সে রাজধানী বাগদাদে যায়। সেখানে সে দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে ...

আসাদ সাহেব একজন ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ের কাজের ব্যস্ততার জন্য তার ইবাদত-বন্দেগির সময় হয় না। সবসময় কাজের ব্যস্ততায় সময় চলে যায়...

একজন আলেমে দ্বীন উমর (রা.)-এর খেলাফতের সময় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস, ফকিহ ও মুজাহিদ ছিলেন। তিনি ইলম...

জনাব জাফর দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত থাকে । একদা বন্ধুর সাথে ইসলামি জলসায় গিয়ে বক্তার বক্তৃতা শুনে তার অনুশোচ...

জনাব মিজান ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীতে সব প্রকার হিংসা-বিদ্বেষ, কাম-ক্রোধ, লোভ-লালসা ও পাশবিকতা পরিহার করে নিষ্কলুষ জীবনযাপন কর...

জনাব মিজান ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীতে সব প্রকার হিংসা-বিদ্বেষ, কাম-ক্রোধ, লোভ-লালসা ও পাশবিকতা পরিহার করে নিষ্কলুষ জীবনযাপন কর...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।