Facebook Pixel

বিশিষ্ট গবেষক ড. বেলাল আনসারী এক সেমিনারে বলেন- ইসলামের দুটি দিক রয়েছে। প্রথমটি হলো ইসলামি বিধিবিধান ও ইবাদত বাহ্যিকভাবে পালন করা, যাতে কর্তব্য পালন হয়। অন্যটি হলো ইবাদত ও কর্তব্য পালনে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা অবলম্বন, যাতে মানবাত্মার সাথে স্রষ্টার সম্পর্ক গভীর হয়। এ দুটি দিক যেন ইসলামের দেহ ও রূহ। শেষোক্ত দিকের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে অনেক মনীষী সাফল্য লাভ করেন। তাঁদের একজন হিজরি পঞ্চম শতাব্দীর শেষের দিকে বাগদাদে পড়ালেখা করেন। তার শৈশবকালীন সত্যবাদিতা সম্পর্কে একটি গল্পও প্রচলিত আছে। ক. মুজাদ্দিদে আলফে সানির প্রকৃত নাম কী? খ. 'ইসলামে বৈরাগ্যবাদের স্থান নেই'- ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকে কোন মনীষীর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. 'এ দুটি দিক যেন ইসলামের দেহ ও রূহ'- ড. বেলালের উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৭ঃ তাসাউফ

উৎস: Test Exam Question DCC 2026

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. মুজাদ্দিদে আলফে সানির প্রকৃত নাম শায়খ আহমদ সিরহিন্দি (র)। খ. পরিবার-পরিজন ছেড়ে একাকীত্বের জীবন ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয়- আলোচ্যাংশে এ বিষয়টিই প্রকাশিত হয়েছে। ইসলামি শরিয়তে তাসাউফ বা আল্লাহর নৈকট্যলাভে উৎসাহিত করা হয়েছে কিন্তু এর নামে বৈরাগ্যবাদকে নিম্নে করা হয়েছে। বৈরাগ্যবাদ বলতে পরিবার-পরিজন ছেড়ে শুধু আল্লাহকে পাওয়ার ধ্যানমগ্ন থাকাকে বোঝায়। মহানবি (স) বৈরাগ্যবাদকে নিরুৎসাহিত করেছেন। এমনকি বৈরাগ্যবাদের ভুল প্রবণতাকে নিরুৎসাহিত করতে নবি (স) অবিবাহিতদের বিবাহিতদের তুলনায় নিকৃষ্ট বলে অভিহিত করেছেন। এছাড়াও বৈবাহিক জীবন ত্যাগকারীদের শয়তানের ভাই বলে ভর্ৎসনা করেছেন। গ. উদ্দীপকে হযরত আব্দুল কাদির জিলানি (র) এর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। হযরত আব্দুল কাদির জিলানি (র) হলেন ইসলাম ধর্মের অন্যতম প্রধান আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব। তিনি ৪৭০ হিজরির রমজান মাসে জিলান নগরে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা ও মাতা উভয়ের দিক দিয়ে তিনি রাসুল (স) এর বংশোদ্ভূত ছিলেন। তিনি ছিলেন সত্যবাদিতার এক মূর্তপ্রতীক। শৈশবকালেই তিনি সত্যবাদিতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, যা উদ্দীপকে বর্ণিত ড. বেলাল আনসারীর বক্তব্যে লক্ষ করা যায়। উদ্দীপকের বিশিষ্ট গবেষক ড. বেলাল আনসারী এক সেমিনারে বক্তব্য দেন। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি বলেন, হিজরি পঞ্চম শতাব্দীর শেষের দিকে এক মনীষী বাগদাদে পড়ালেখা করেন। তার শৈশবকালীন সত্যবাদিতা সম্পর্কে একটি গল্পও প্রচলিত আছে; যা আব্দুল কাদির জিলানি (র) এর শৈশবের একটি ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করে। উচ্চশিক্ষা লাভের আশায় পঞ্চম শতাব্দীতে কোনো একদিন তিনি তৎকালীন সর্বোচ্চ বিদ্যানগরী বাগদাদের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। পথিমধ্যে ডাকাতের কবলে পরেন। এমতাবস্থায়ও তিনি মিথ্যার আশ্রয় গ্রহণ করেননি। তিনি জামার আস্তিনের নিচে লুকিয়ে রাখা স্বর্ণমুদ্রাগুলো দেখিয়ে দেন। তার এ সত্যবাদিতায় মুগ্ধ, হয়ে ডাকাতদল ইসলাম গ্রহণ করে। উদ্দীপকে বর্ণিত শৈশবকালীন সত্যবাদিতার কথা হযরত আব্দুল কাদির জিলানি (র) এর উক্ত ঘটনার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়। ঘ. 'এ দুটি দিক যেন ইসলামের দেহ ও রূহ' ড. বেলালের এ উক্তিটিতে শরিয়ত ও তাসাউফকে বোঝানো হয়েছে যা খুবই যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ। ইসলামের প্রতিটি বিধানের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ দিক রয়েছে। বাহ্যিক দিক হলো শরিয়ত এবং অভ্যন্তরীণ দিক হলো তাসাউফ। ইসলাম মানুষের বাহ্যিক জীবনব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় যে বিধান দিয়েছে তা-ই শরিয়ত। অপরদিকে আত্মাকে সুস্থ রেখে সব অনৈতিক কাজ থেকে মুক্ত থাকার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনকে তাসাউফ বলে। শরিয়ত ও তাসাউফ একটি অপরটির পরিপূরক, যা ড. বেলাল আনসারীর বক্তব্যের মাধ্যমে বোঝা যায়। উদ্দীপকের গবেষক ড. বেলাল আনসারী এক সেমিনারে বলেন, 'ইসলামের দুটি দিক রয়েছে।' প্রথমটি হলো- ইসলামি বিধিবিধান ও ইবাদত বাহ্যিকভাবে পালন করা, যাতে কর্তব্য পালন হয়। অন্যটি হলো ইবাদত ও কর্তব্য পালনে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা অবলম্বন, যাতে মানবাত্মার সাথে স্রষ্টার সম্পর্ক গভীর হয়। এ দুটি দিক যেন ইসলামের দেহ ও রূহ।' ড. বেলাল আনসারীর এ বক্তব্য যথার্থ। কারণ দেহ ও রূহ যেমন একটি অপরটির পরিপূরক, তেমনি শরিয়ত ও তাসাউফ, পরস্পরের সাথে গভীর সম্পর্কযুক্ত। কেবল শরিয়ত মেনে চললে যেমন তা গ্রহণযোগ্য হয় না, তেমনি শুধু তাসাউফের অনুসরণেও সাফল্য লাভ সম্ভব নয়। এজন্য একই সাথে শরিয়ত ও তাসাউফের অনুসরণ অনিবার্য। যেমন- শরিয়ত সালাতের নির্দেশ দেয়। কিন্তু সালাতের গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করে তাসাউফের ওপর। এজন্যই শরিয়ত ছাড়া তাসাউফ এবং তাসাউফ ছাড়া শরিয়ত অর্থহীন।পরিশেষে বলা যায় শরিয়ত ছাড়া ইবাদত অসম্ভব আবার তাসাউফ ছাড়া সেই ইবাদত গ্রহণীয় নয়। সুতরাং শরিয়ত ও তাসাউফ পরস্পর নির্ভরশীল।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenনির্বাচনী পরীক্ষা - Dhaka City College (2026)

বিশিষ্ট গবেষক ড. বেলাল আনসারী এক সেমিনারে বলেন- ইসলামের দুটি দিক রয়েছে। প্রথমটি হলো ইসলামি বিধিবিধান ও ইবাদত বাহ্যিকভাবে পালন করা, যাতে কর্তব্য পালন হয়। অন্যটি হলো ইবাদত ও কর্তব্য পালনে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা অবলম্বন, যাতে মানবাত্মার সাথে স্রষ্টার সম্পর্ক গভীর হয়। এ দুটি দিক যেন ইসলামের দেহ ও রূহ। শেষোক্ত দিকের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে অনেক মনীষী সাফল্য লাভ করেন। তাঁদের একজন হিজরি পঞ্চম শতাব্দীর শেষের দিকে বাগদাদে পড়ালেখা করেন। তার শৈশবকালীন সত্যবাদিতা সম্পর্কে একটি গল্পও প্রচলিত আছে।

ক. মুজাদ্দিদে আলফে সানির প্রকৃত নাম কী?

খ. 'ইসলামে বৈরাগ্যবাদের স্থান নেই'- ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকে কোন মনীষীর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. 'এ দুটি দিক যেন ইসলামের দেহ ও রূহ'- ড. বেলালের উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

Y একজন মধ্যবয়সী সচ্ছল মানুষ। কিন্তু তিনি কখনো অপব্যয় করেন না এবং মৌলিক ইবাদত বাদ দেন না। বর্তমানে তিনি অধিক রাত জেগে সাল...

অধ্যাপক আব্দুল গফুর ইসলাম শিক্ষার ক্লাসে ইলমে তাসাউফ বিষয়ে পাঠদান করেছিলেন। তার ছাত্র হুমায়ুন এর উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ স...

অধ্যাপক ইয়াসির আরাফাত বিশিষ্ট সুফি হযরত হাসান বসরি (র.)- এর পরিচয় প্রদান করতে গিয়ে বলেন- ইলমে ফিকহ ও ইলমে তাসাউফের ক্...

অধ্যাপক তানভির সিদ্দিকি ইসলাম শিক্ষার ক্লাসে পাঠদানকালে বললেন, মুসলিম ইতিহাসে বোখারা এক ঐতিহাসিক নাম। এখানে জন্মগ্রহণ কর...

আব্দুল আহাদ শ্রমিক হিসেবে ইরাকে যায়। এক ছুটির দিনে মুসল হতে সে রাজধানী বাগদাদে যায়। সেখানে সে দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে ...

আসাদ সাহেব একজন ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ের কাজের ব্যস্ততার জন্য তার ইবাদত-বন্দেগির সময় হয় না। সবসময় কাজের ব্যস্ততায় সময় চলে যায়...

একজন আলেমে দ্বীন উমর (রা.)-এর খেলাফতের সময় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস, ফকিহ ও মুজাহিদ ছিলেন। তিনি ইলম...

চান মস্তানের মেলায় প্রতিবছর দূর-দূরান্ত হতে লোকের সমাগম হয়। ফাহাদের বন্ধু আহাদ দেখতে পায় একদল জটাধারী লোক একস্থানে জড...

জনাব জাফর দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত থাকে । একদা বন্ধুর সাথে ইসলামি জলসায় গিয়ে বক্তার বক্তৃতা শুনে তার অনুশোচ...

জনাব মিজান ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীতে সব প্রকার হিংসা-বিদ্বেষ, কাম-ক্রোধ, লোভ-লালসা ও পাশবিকতা পরিহার করে নিষ্কলুষ জীবনযাপন কর...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।