Facebook Pixel

রাসেল এবং শাহেদ দুই বন্ধু। রাসেল মানবিক বিভাগ থেকে এবং শাহেদ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে A+ পেয়ে এইচএসসি পাস করেছে। একদিন রাসেল ও শাহেদ আলোচনা করছিল যে, এখন তারা কোন বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করবে? রাসেল শাহেদকে মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দিল। কারণ হিসেবে বলল, চিকিৎসাবিজ্ঞানের যিনি দিশারি ছিলেন তিনি একজন মুসলিম। রাসেল নিজে দর্শন নিয়ে পড়া এবং দর্শনশাস্ত্রে মুসলিম মনীষীদের মতো অবদান রাখার আগ্রহ প্রকাশ করল। ক. রসায়নশাস্ত্রের জনক কে? খ. মুসলিম মনীষীদের মধ্যে সাহিত্যে কারা কারা অবদান রেখেছেন? গ. রাসেল শাহেদকে কোন বিষয় নিয়ে পড়ার পরামর্শ দিল তার কারণ ব্যাখ্যা কর। ঘ. দর্শনশাস্ত্রে যেসব মনীষীদের অবদান রয়েছে তা আলোচনা কর।

বিষয়: ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতি

উৎস: Test Exam Question DIC 2026

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. রসায়ন শাস্ত্রের জনক হলেন জাবির ইবনে হাইয়ান। খ. শিক্ষার অন্যান্য শাখার মতো সাহিত্যেও মুসলিম মনীষীগণ অনন্য অবদান রেখে গেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) স্বয়ং কবি-সাহিত্যিকদের পৃষ্ঠপোষকতা ও পুরুষ্কৃত করে উৎসাহিত করতেন। প্রতিভাবলে কবি হাসসান ইবনে সাবিত (রা.) তারই পৃষ্ঠপোষকতায় ধন্য হয়েছিলেন। চতুর্থ খলিফা হয়রত আলি (রা.) একজন সুপণ্ডিত, সুবক্তা, সুলেখক ও সুকবি ছিলেন। তার রচিত 'নাহজুল বালাগা' ও 'দিওয়ান-ই-আলি' খুবই প্রসিদ্ধ। খলিফা আল-মানসুর যেমন জ্ঞান-বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন তেমনি তিনি একজন কাব্যরসিকও ছিলেন। তারই পৃষ্ঠপোষকতায় ও প্রচেষ্টায় প্রাচীন আরবি কবিতাগুলো গ্রন্থ আকারে লিপিবদ্ধ করা হয়। উমাইয়া খলিফাগণও কাব্যসাহিত্যের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। উমাইয়া যুগের চারণ কবিদের মধ্যে জাবির, ফারাযদাক ও আখতাল ছিলেন বিখ্যাত। সানাই, সাত্তার, রুমি, জামি, ইবনুল আরবি প্রমুখ কবি-সাহিত্যিকগণ কাব্য-সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছিলেন। গ. উদ্দীপকে রাসেল শাহেদকে চিকিৎসাবিজ্ঞান নিয়ে পড়ার পরামর্শ দিয়েছে। কারণ চিকিৎসাবিজ্ঞানে মুসলিম মনীষীদের অবদান উল্লেখযোগ্য।চিকিৎসাশাস্ত্রে মুসলমানদের অবদান বিস্ময়কর। চিকিৎসা শাস্ত্রে যেসব মুসলিম মনীষী অবদান রেখেছেন তাদের মধ্যে ইবনে সিনা অন্যতম। ইবনে সিনা আল-শায়খ, আল-রাইস অর্থাৎ জ্ঞানীকুলের শিরোমণি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। চিকিৎসা শাস্ত্রে তার বিস্ময়কর অবদানের জন্য তাকে আধুনিক চিকিৎসা শাস্ত্র ও চিকিৎসা পদ্ধতির দিশারি এবং 'Master of Medicine' বলা হয়। ভেষজ ও শল্যচিকিৎসায় তার অসামান্য অবদান ছিল। তার রচিত 'কানুন-ফিত-তিব্ব' গ্রন্থখানি চিকিৎসাশাস্ত্রে অতুলনীয় সৃষ্টি। চিকিৎসা বিষয়ে এর সমতুল্য গ্রন্থ আজ পর্যন্ত রচিত হয়নি। দশ লাখ শব্দ সংবলিত এ গ্রন্থে চিকিৎসা বিষয়ক যাবতীয় তথ্যের এক বিস্ময়কর ও নজিরহীন সমাবেশ রয়েছে। বারো থেকে সতেরো শতাব্দী পর্যন্ত ইবনে সিনা ছিলেন পাশ্চাত্য চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রধান শিক্ষক এবং তার রচিত গ্রন্থ 'কানুন-ফিত-তিব্ব' ছিল চিকিৎসা শাস্ত্রের প্রধানতম পাঠ্যপুস্তক।উদ্দীপকে রাসেল শাহেদকে উদ্দেশ্য করে, চিকিৎসাবিজ্ঞানের দিশারি বলতে ইবনে সিনার প্রতি ইঙ্গিত করেছে। রাসেল শাহেদকে ইবনে সিনার দৃষ্টান্ত দিয়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রতি উৎসাহিত করেছে। তাই বলা যায় উদ্দীপকে রাসেল শাহেদকে চিকিৎসা বিতান নিয়ে পড়ার পরামর্শ দিল। ঘ. জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার ন্যায় দর্শনশাস্ত্রেও মুসলিম মনীষীদের অবদান অসামান্য।দর্শনশাস্ত্রে যেসব মনীষীদের অবদান রয়েছে তারা হলেন-আল-কিন্দি: আবু ইউসুফ ইয়াকুব বিন ইসহাক আল কিন্দি। তার যুগে তিনি শ্রেষ্ঠ চিন্তাবিদ ও সর্বশ্রেষ্ঠ দার্শনিক ছিলেন। তিনি আব্বাসীয় খলিফাদের অনুবাদক কর্মকর্তা হিসেবে 'অ্যারিস্টটলের ধর্মতত্ত্ব' আরবিতে অনুবাদ করেন। তিনি বিভিন্ন বিষয়ের ওপর কমপক্ষে ৩৬৫টি গ্রন্থ রচনা করেন। মুসলিম চিন্তাধারার বিকাশে বিরাট অবদানের জন্য আল-কিন্দিকে মুসলিম ফালাসাফার জনক বলা হয়।আল-ফারাবি: গ্রিক দর্শনের সামঞ্জস্য বিধানের যে ধারা শুরু করেছিলেন আল-কিন্দি, তাকে সমৃদ্ধ করেন আবু নসর মুহাম্মদ আল-ফারাবি। আল-ফারাবি মুসলিম বিশ্বের একজন শ্রেষ্ঠ মৌলিক চিন্তাবিদ ছিলেন। তিনি একজন শ্রেষ্ঠ দার্শনিক, গণিতবিদ, জ্যোতির্বিদ, পদার্থবিদ ও রসায়নবিদ ছিলেন।ইবনে সিনা: তার শ্রেষ্ঠ অবদান হলো 'আল-শিফা' ও 'কানুন ফিত-তিব'। এ দুটি গ্রন্থের রচয়িতা হিসেবে তিনি অমর হয়ে থাকবেন। ইবনে সিনা ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। তাকে অনতিক্রম্য শেখ বা 'দার্শনিকদের যুবরাজ' বলা হয়ে থাকে।ইমাম গাযালি (র.): মুসলিম বিশ্বের আর একজন শ্রেষ্ঠ দার্শনিক ছিলেন আবু হামিদ মুহাম্মদ ইবনে আলি আল গাযালি (র.)। ইসলামি ভাবধারায় অনুপ্রাণিত হয়ে যে সমস্ত দার্শনিক সঠিকভাবে ইসলামকে বুঝতে ও রূপ দিতে চেষ্টা করেছিলেন ইমাম গাযালি (র.) তাঁদের অন্যতম। উল্লিখিত দার্শনিকগণ ব্যতীত আরও বহু দার্শনিক রয়েছেন। যাঁরা মুসলিম দর্শনের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। উদ্দীপকে রাসেল দর্শনশাস্ত্রে মুসলিম মনীষীদের মতো অবদান রাখার আগ্রহ প্রকাশ করল। উপরোক্ত আলোচনায় উদ্দীপকের আলোকে দর্শনশাস্ত্রে মুসলিম মনীষীদের অবদান আলোকপাত করা হয়েছে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenনির্বাচনী পরীক্ষা - Dhaka Imperial College (2026)

রাসেল এবং শাহেদ দুই বন্ধু। রাসেল মানবিক বিভাগ থেকে এবং শাহেদ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে A+ পেয়ে এইচএসসি পাস করেছে। একদিন রাসেল ও শাহেদ আলোচনা করছিল যে, এখন তারা কোন বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করবে? রাসেল শাহেদকে মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দিল। কারণ হিসেবে বলল, চিকিৎসাবিজ্ঞানের যিনি দিশারি ছিলেন তিনি একজন মুসলিম। রাসেল নিজে দর্শন নিয়ে পড়া এবং দর্শনশাস্ত্রে মুসলিম মনীষীদের মতো অবদান রাখার আগ্রহ প্রকাশ করল।

ক. রসায়নশাস্ত্রের জনক কে?

খ. মুসলিম মনীষীদের মধ্যে সাহিত্যে কারা কারা অবদান রেখেছেন?

গ. রাসেল শাহেদকে কোন বিষয় নিয়ে পড়ার পরামর্শ দিল তার কারণ ব্যাখ্যা কর।

ঘ. দর্শনশাস্ত্রে যেসব মনীষীদের অবদান রয়েছে তা আলোচনা কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

আগামীকাল শব-ই মিরাজ। এ রাতে অনেকেই সারা রাত জেগে থেকে নফল ইবাদত করেন। কিন্তু সামনে পরীক্ষা তাই এ বিষয়টি নিয়ে টিফিনের ফাঁ...

আজিজুল হাকিম একাদশ শ্রেণির ছাত্র। সে প্রত্যেক বিষয়ে শিক্ষার আলোচনা নোট করে। সে তার ইসলাম শিক্ষার নোট খাতায় তিনটি পয়েন্ট ...

আনিসা ও নাফিসা টিফিন বিরতিতে শিক্ষাবিষয়ক আলোচনা করছিল। আনিসা বলল, ন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকা ও চারিত্রিক উৎকর্ষতা সাধনে...

আনোয়ার ও সারোয়ার দুই বন্ধু। তারা ইসলামের প্রখ্যাত মনীষীদের নিয়ে আলোচনা করছিল। আনোয়ার বলল, বাংলাদেশে ইসলামি শিক্ষা ও ...

আফনান একাদশ শ্রেণির ছাত্র। সে কলেজে ভর্তির সময় এমন একটি বিষয় পছন্দ করল, যা অধ্যয়ন করলে আল্লাহর নির্দেশিত পথ অনুসরণ করা য...

আব্দুল আলিম গ্রামে বাস করেন। তাঁর ছেলে প্রতিদিন সকালবেলা ছেলেমেয়েদের সাথে একটি প্রতিষ্ঠানে পড়তে যায়। সেখানে কুরআন তিলাওয়...

আব্দুল হান্নান এসএসসি পাস করে অভাবের কারণে আর পড়ালেখা করতে পারেনি। এখন সে তার বাড়ির উঠানে এলাকার ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের বাং...

আব্দুল্লাহ ও জায়েদ এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে ভর্তি এবং বিষয় নির্বাচন ন...

আমরা দৈনন্দিন জীবনে যা কিছু করি তা আমাদের বিশ্বাস ও সংস্কৃতির পরিচয় বহন করে। যেমন- খাওয়ার শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা, বাম হাত...

আমাদের সমাজে- এমন একটি শিক্ষা আছে, যা একটি পরিপূর্ণ জীবন দর্শন। মানুষের জীবনের প্রতিটি দিক ও বিভাগের সামগ্রিক দিক নির্দে...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।