Facebook Pixel

আনোয়ার ও সারোয়ার দুই বন্ধু। তারা ইসলামের প্রখ্যাত মনীষীদের নিয়ে আলোচনা করছিল। আনোয়ার বলল, বাংলাদেশে ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশে একজন মনীষীর কার্যক্রম আমার মনে বেশ রেখাপাত করে। যিনি রাজশাহী অঞ্চলে জীবনের সিংহভাগ দাওয়াতি কাজে অতিবাহিত করেন। তিনি বাগদাদ থেকে প্রথমে নোয়াখালী অঞ্চলে এসে দাওয়াতি কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে নদীপথে রাজশাহী অঞ্চলে চলে আসেন এবং জীবনের শেষ অবধি সেখানে সত্যের বাণী প্রচারে আত্মনিয়োগ করেন। তখন সারওয়ার বলল, প্রখ্যাত মুসলিম মনীষীদের মধ্যে একজন মনীষী আমার খুবই প্রিয়। তিনি ৯৮০ খ্রি. বুখারা অঞ্চলের আফসানা নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মাত্র দশ বছর বয়সে পবিত্র কুরআন মাজিদ হিজ করেন এবং ১৭ বছর বয়সে চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি চিকিৎসা বিজ্ঞানের ওপর এমন একটি গ্রন্থ রচনা করেন যা এ বিষয়ের বিশ্বকোষ হিসেবে পরিচিত। ক. 'তুহফাতুল ফালাসিফাহ' গ্রন্থের রচয়িতা কে? খ. রাতের বেলা এক ঘণ্টা জ্ঞানচর্চা করা সারা রাত নফল ইবাদতের চেয়ে উত্তম— এর মর্মার্থ লেখো। গ. আনোয়ারের বক্তব্যে কোন মনীষীর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. সারওয়ারের বক্তব্যে যে মনীষীর চিত্র যে মনীষীর চিত্র অঙ্কিত হয়েছে চিকিৎসাবিজ্ঞানে তাঁর অবদান মূল্যায়ন করো।

বিষয়: ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতি

উৎস: Board Exam Question DB 2019

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. 'তুহফাতুল ফালাসিফাহ' গ্রন্থের রচয়িতা হলেন ইমাম গাযযালি (র)। খ. জ্ঞানচর্চা করা নফল ইবাদতের চেয়ে উত্তম। একজন সাধারণ ইবাদতকারীর চেয়ে একজন জ্ঞানার্জনকারী উত্তম। কারণ একজন আবেদ বা ইবাদতকারীর আমল শুধু তার নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, কিন্তু একজন আলেম বা জ্ঞানার্জনকারী তার জ্ঞানের মাধ্যমে নিজে আলোকিত হয় এবং অন্যদেরকেও তার জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে সক্ষম হয়। এজন্য রাসুলুল্লাহ (স) বলেন, 'রাতে অল্প সময় জ্ঞানচর্চা করা সারা রাতের নফল ইবাদতের চেয়ে উত্তম (দারিমি)। গ. উদ্দীপকের আনোয়ারের বক্তব্যে মুসলিম মনীষী শাহ মাখদুম রুপোশ (র) এর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিস্তারের জন্য হযরত শাহ মাখদুম রুপোশ (র) স্মরণীয় হয়ে আছেন। তিনি ১৪৭৫ খ্রি. (৬১৪ হিজরি) ইরাকের বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইসলাম প্রচারের জন্য বাংলাদেশে আসেন। শাহ মাখদুম রুপোশ (র) প্রথমে নোয়াখালীতে বসতি স্থাপন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি রাজশাহী চলে গিয়ে সে অঞ্চলের মানুষকে ইসলামের দাওয়াত দেন। তিনি সারা রাত ইবাদত বন্দেগিতে কাটাতেন এবং দিনের বেলায় মানুষকে হেদায়েতের পথে ডাকতেন। শাহ মাখদুম (র) ইসলামের প্রসারের জন্য জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত রাজশাহীতে অবস্থান করেন। এ বিষয়টি আনোয়ারের বক্তব্যেও প্রকাশিত হয়েছে। উদ্দীপকের আনোয়ার বাংলাদেশে ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশে এমন এক মনীষীর কথা বলে যিনি বাগদাদ থেকে প্রথমে নোয়াখালী এবং তারপর রাজশাহী অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করেন। যিনি তার জীবনের শেষ অবধি সত্যের বাণী প্রচারে আত্মনিয়োগ করেন। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে ইসলামি শিক্ষা বিস্তারে শাহ মাখদুম রুপোশ (র) বহু প্রতিকূলতার মোকাবিলা করেছেন এবং জীবনের শেষ পর্যন্ত তিনি রাজশাহীতেই ইসলাম প্রচারে নিবেদিত ছিলেন। তাই বলা যায়, আনোয়ারের বক্তব্যে শাহ মাখদুম রুপোশ (র) এর প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে। ঘ. সারওয়ারের বক্তব্যে মুসলিম চিকিৎসাবিজ্ঞানী ইবনে সিনার চিত্র অঙ্কিত হয়েছে, চিকিৎসাবিজ্ঞানে যার অবদান অপরিসীম। প্রখ্যাত মুসলিম চিকিৎসাবিজ্ঞানী ইবনে সিনা (৯৮০-১০৩৭) আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের জনক। তিনি চিকিৎসাবিজ্ঞানের নতুন নতুন পদ্ধতি আবিষ্কারসহ কয়েকটি গবেষণামূলক গ্রন্থও রচনা করেন। তার রচিত শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ হচ্ছে 'কানুন ফিত তিব'। সারওয়ারের বক্তব্যেও এ বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে। উদ্দীপকের সারওয়ার এমন একজন মুসলিম মনীষীর কথা বলে, যিনি ৯৮০ খ্রি. জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দশ বছর বয়সে পবিত্র কুরআন হিফজ করেন এবং ১৭ বছর বয়সে চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। সারওয়ার উক্ত মনীষীর বিখ্যাত একটি গ্রন্থের কথাও বলেছে যা চিকিৎসাবিজ্ঞানী ইবনে সিনার প্রতিই ইঙ্গিত করে। ইবনে সিনা সেকেলে পদ্ধতির পরিবর্তে আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতি চালু করেন। সেজন্য তাকে আধুনিক চিকিৎসাশাস্ত্র, চিকিৎসা প্রণালি এবং শল্যচিকিৎসার দিশারী মনে করা হয়। তিনি ওষুধ তৈরি, সংরক্ষণ ও তা প্রয়োগের আধুনিক পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। এজন্য তাকে 'Master of Medicine' বলা হয়। ইবনে সিনাই যক্ষ্মা রোগের ওপর প্রথম আধুনিক গবেষণা করেছিলেন। চিকিৎসাশাস্ত্রের ওপর তার শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ 'কানুন ফিত তিব' এ তিনি বিভিন্ন রোগের লক্ষণ, ওষুধের বর্ণনা ও চিকিৎসাপদ্ধতির বিস্তারিত উল্লেখ করেছেন। এতে ৭৬০টি ওষুধের বর্ণনা রয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এটি একটি অমূল্য গ্রন্থ। এছাড়াও ইবনে সিনার উল্লেখযোগ্য আরও কয়েকটি গ্রন্থ হলো- কিতাবুশ শিফা, কিতাবুন নাজাত, কিতাবুল হুলুদ, কিতাবুল কুলনজ ইত্যাদি। উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিকাশে ইবনে সিনার অবদান অনন্য ও অপরিসীম।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenDhaka Board (2019)

আনোয়ার ও সারোয়ার দুই বন্ধু। তারা ইসলামের প্রখ্যাত মনীষীদের নিয়ে আলোচনা করছিল। আনোয়ার বলল, বাংলাদেশে ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশে একজন মনীষীর কার্যক্রম আমার মনে বেশ রেখাপাত করে। যিনি রাজশাহী অঞ্চলে জীবনের সিংহভাগ দাওয়াতি কাজে অতিবাহিত করেন। তিনি বাগদাদ থেকে প্রথমে নোয়াখালী অঞ্চলে এসে দাওয়াতি কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে নদীপথে রাজশাহী অঞ্চলে চলে আসেন এবং জীবনের শেষ অবধি সেখানে সত্যের বাণী প্রচারে আত্মনিয়োগ করেন। তখন সারওয়ার বলল, প্রখ্যাত মুসলিম মনীষীদের মধ্যে একজন মনীষী আমার খুবই প্রিয়। তিনি ৯৮০ খ্রি. বুখারা অঞ্চলের আফসানা নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মাত্র দশ বছর বয়সে পবিত্র কুরআন মাজিদ হিজ করেন এবং ১৭ বছর বয়সে চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি চিকিৎসা বিজ্ঞানের ওপর এমন একটি গ্রন্থ রচনা করেন যা এ বিষয়ের বিশ্বকোষ হিসেবে পরিচিত।

ক. 'তুহফাতুল ফালাসিফাহ' গ্রন্থের রচয়িতা কে?

খ. রাতের বেলা এক ঘণ্টা জ্ঞানচর্চা করা সারা রাত নফল ইবাদতের চেয়ে উত্তম— এর মর্মার্থ লেখো।

গ. আনোয়ারের বক্তব্যে কোন মনীষীর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. সারওয়ারের বক্তব্যে যে মনীষীর চিত্র যে মনীষীর চিত্র অঙ্কিত হয়েছে চিকিৎসাবিজ্ঞানে তাঁর অবদান মূল্যায়ন করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

আগামীকাল শব-ই মিরাজ। এ রাতে অনেকেই সারা রাত জেগে থেকে নফল ইবাদত করেন। কিন্তু সামনে পরীক্ষা তাই এ বিষয়টি নিয়ে টিফিনের ফাঁ...

আজিজুল হাকিম একাদশ শ্রেণির ছাত্র। সে প্রত্যেক বিষয়ে শিক্ষার আলোচনা নোট করে। সে তার ইসলাম শিক্ষার নোট খাতায় তিনটি পয়েন্ট ...

আনিসা ও নাফিসা টিফিন বিরতিতে শিক্ষাবিষয়ক আলোচনা করছিল। আনিসা বলল, ন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকা ও চারিত্রিক উৎকর্ষতা সাধনে...

আফনান একাদশ শ্রেণির ছাত্র। সে কলেজে ভর্তির সময় এমন একটি বিষয় পছন্দ করল, যা অধ্যয়ন করলে আল্লাহর নির্দেশিত পথ অনুসরণ করা য...

আব্দুল আলিম গ্রামে বাস করেন। তাঁর ছেলে প্রতিদিন সকালবেলা ছেলেমেয়েদের সাথে একটি প্রতিষ্ঠানে পড়তে যায়। সেখানে কুরআন তিলাওয়...

আব্দুল হান্নান এসএসসি পাস করে অভাবের কারণে আর পড়ালেখা করতে পারেনি। এখন সে তার বাড়ির উঠানে এলাকার ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের বাং...

আব্দুল্লাহ ও জায়েদ এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে ভর্তি এবং বিষয় নির্বাচন ন...

আমরা দৈনন্দিন জীবনে যা কিছু করি তা আমাদের বিশ্বাস ও সংস্কৃতির পরিচয় বহন করে। যেমন- খাওয়ার শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা, বাম হাত...

আমাদের সমাজে- এমন একটি শিক্ষা আছে, যা একটি পরিপূর্ণ জীবন দর্শন। মানুষের জীবনের প্রতিটি দিক ও বিভাগের সামগ্রিক দিক নির্দে...

আয়েশা একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। সে অন্যান্য বিষয়ের সাথে একটি বিশেষ বিষয়ে পড়ছে, যেটিতে সে স্রষ্টার পরিচয় জানার পাশাপাশি ...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।