Facebook Pixel

জনপ্রিয় লেখক হওয়ার তাগিদে মিরাজ মিয়া দিন-রাত লিখে যান। তিনি তাই লেখেন যা পাত্র পছন্দ করবে। তার ধারণা, নিজের ইচ্ছেমতো লিখলে কখনো তিনি জনপ্রিয় হতে পারবেন না। উদ্দেশ্যপ্রবণ লেখালেখির কারণে তিনি নিজের ভিতরে ক্লান্তি অনুভব করেন। কোথায় না চড়লে আমাদের অভিনয় কেউ দেখে না? খ. "সাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দেওয়া, কারও মনোরঞ্জন করা নয়।”- ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকে 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? আলোচনা করো। ঘ. উদ্দীপকটি 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের সমগ্র ভাব ধারণ করেনি- তোমার মতামতসহ আলোচনা করো।

বিষয়: বাংলা ১ম পত্র | অধ্যায়: গদ্য - সাহিত্যে খেলা

উৎস: Test Exam Question রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা 2026

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. রঙ্গমঞ্চে না চড়লে আমাদের অভিনয় কেউ দেখে না। খ. "সাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দেওয়া, কারও মনোরঞ্জন করা নয়”- সাহিত্যের স্বরূপ বোঝানোর জন্য প্রাবন্ধিক প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছেন। এ পৃথিবীতে খেলার ময়দানই একমাত্র জায়গা, যেখানে ব্রাহ্মণ-শূদ্রের প্রভেদ নেই। অনুরূপভাবে সাহিত্যও এমন একটি ক্ষেত্র, যা চর্চার ক্ষেত্রে তেমন কোনো বাধা নেই। তবে তা যদি সমাজের নির্দিষ্ট কোনো শ্রেণির মনোরঞ্জনের উদ্দেশ্যে লিখিত হয়, তখন সাহিত্য হয়ে পড়ে স্বধর্মচ্যুত। কেননা একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির কাছে একই রকম সাহিত্যের কদর দীর্ঘদিনব্যাপী থাকে না। তাছাড়া সাহিত্যের মুখ্য উদ্দেশ্যই হচ্ছে মানুষের মনকে জাগানো। মূলত প্রাবন্ধিক সাহিত্যের স্বরূপ বোঝানোর জন্য প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটির অবতারণা করেছেন। গ. উদ্দীপকে 'সাহিত্যের খেলা' প্রবন্ধের পাঠকের মনোরঞ্জনকারী সাহিত্যিকের আচরণের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে লেখক প্রকৃত সাহিত্যিকের কর্মকাণ্ড তুলে ধরেছেন। প্রকৃত সাহিত্যিক খেলাচ্ছলে সাহিত্য সৃষ্টি করেন। পক্ষান্তরে ইতর শিল্পীরা পাঠকের চাহিদা মাফিক লেখালেখি করেন। উদ্দীপকের মিরাজ মিয়া জনপ্রিয়তার লোভে তাই লিখেন যা পাঠক পছন্দ করবে। তার ধারণা, নিজের স্বকীয়তা বজায় রেখে লিখলে পাঠকপ্রিয় হওয়া যায় না। এ জাতীয় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত লেখা তিনি লিখে সে ক্লান্তি অনুভব করেন। 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধেও লেখক বাজারি সাহিত্যিকদের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। পাঠকদের মনোরঞ্জন করার জন্য এরা লেখনি ধারণ করে বলে এদেরকে ইতর শিল্পী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের এ দিকটির সাথে উদ্দীপকের সাদৃশ্য রয়েছে। ঘ. উদ্দীপকে 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের একাধিক দিক অনুপস্থিত থাকায়, "উদ্দীপকটি 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের সমগ্র ভাব ধারণ করেনি”- এ মন্তব্যটি যথার্থ। 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে লেখক সাহিত্যচর্চার আদর্শ ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে তাঁর মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর মতে সাহিত্যের উদ্দেশ্য হলো সকলকে আনন্দ দান করা, কারও মনোরঞ্জন করা নয়। তাই সাহিত্যের সঙ্গে তুলনা চলে খেলাধুলার। উদ্দীপকের মিরাজ মিয়ার মাঝে পাঠকের মনোরঞ্জনের বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়েছে। তিনি মনে করেন, পাঠকের চাহিদা অনুযায়ী লিখলে জনপ্রিয়তা পাওয়া যায়। 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধেও লেখক পাঠক মনোরঞ্জনকারী লেখকদের কথা উল্লেখ করেছেন। এরা ইতর লেখক বলে সাহিত্যের উচ্চাসনে এদের জায়গা নেই। উদ্দীপকের মিরাজ মিয়ার কর্মকাণ্ডে লেখা হয়ে পড়ে স্বধর্মচ্যুত, যা 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের একটি বিষয়। এ প্রবন্ধে লেখক আরও বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। সাহিত্যের উদ্দেশ্য মহৎ শিল্পীদের বৈশিষ্ট্য, সাহিত্যের সাথে খেলার সাদৃশ্য রয়েছে। সাহিত্যিক ও শিক্ষকদের বিষয় ও নীতিগত পার্থক্য প্রভৃতি বিষয়ের প্রতি লেখক এ প্রবন্ধে গুরুত্বারোপ করেছেন, যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে "উদ্দীপকটি 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের সমগ্র ভাব ধারণ করেনি।"- আলোচ্য এ মন্তব্যটি যথার্থ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenনির্বাচনী পরীক্ষা - রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা (2026)

জনপ্রিয় লেখক হওয়ার তাগিদে মিরাজ মিয়া দিন-রাত লিখে যান। তিনি তাই লেখেন যা পাত্র পছন্দ করবে। তার ধারণা, নিজের ইচ্ছেমতো লিখলে কখনো তিনি জনপ্রিয় হতে পারবেন না। উদ্দেশ্যপ্রবণ লেখালেখির কারণে তিনি নিজের ভিতরে ক্লান্তি অনুভব করেন।

কোথায় না চড়লে আমাদের অভিনয় কেউ দেখে না?

খ. "সাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দেওয়া, কারও মনোরঞ্জন করা নয়।”- ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকে 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? আলোচনা করো।

ঘ. উদ্দীপকটি 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের সমগ্র ভাব ধারণ করেনি- তোমার মতামতসহ আলোচনা করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

আজাদ রহমান বিজ্ঞানভিত্তিক কল্পকাহিনি লেখেন, যা শিশুদের সৃজনশীলতা বিকাশের অন্যতম মাধ্যম হয়ে ওঠে। নিজের সৃষ্টি অন্যের আনন্...

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাসটির মূলে জেলে-জীবনের কথকতাই মুখ্য বিষয়। কিন্তু তিনি জেলে সম্প্রদায়কে তুষ্...

জীবনানন্দ দাশ বাংলার 'রূপসী বাংলা'র কবি নামে খ্যাত। আত্মগত আনন্দ ও ভাবনার নিবিষ্টতায় কবি নির্মাণ করেছেন তাঁর কাব্যভুবন। ...

স্কুল মাঠে একদল শিশু আপন মনে খেলায় ব্যস্ত। মাঠের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন পাড়ার সকলের বেলুমামা। তিনি শিশুদের ডেকে বললেন,...

সাহিত্য হচ্ছে সৃজনশীল মনের তরঙ্গায়িত কথামালার লিখিত গাঁথুনি। মনের উল্লাসে সাহিত্যিকরা সাহিত্য রচনা করে গেছেন। আর সাহিত্য...

নাসির একজন জনপ্রিয় লেখক হতে চান। পাঠকের চাহিদা বুঝে তিনি লেখালেখি চালিয়ে যান। এতে তিনি সাময়িক সফলতাও অর্জন করেন। কিন্তু ...

'কাবুলিওয়ালা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ছোটোগল্প। গল্পটি কেবল কাবুল দেশের কাবুলিওয়ালা রহমতের জীবনকাহিনি নয় বরং এটি একজন প...

জোটে যদি মোটে একটি পয়সা, খাদ্য কিনিও ক্ষুধার লাগি দুটি যদি জোটে অর্ধেক দিয়ে, ফুল কিনো হে অনুরাগী। বাজারে বিকায় ফল তন্ডুল...

ঘটনা-১: নাবিলের লেখাপড়ার পাশাপাশি ক্রিকেট খেলার প্রতি প্রবল আগ্রহ। এই খেলায় সে অতুলনীয় আনন্দ পায়। খেলাধুলা করায় তার মন ও...

বাংলা সাহিত্যে চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক কে?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।