Facebook Pixel

স্কুল মাঠে একদল শিশু আপন মনে খেলায় ব্যস্ত। মাঠের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন পাড়ার সকলের বেলুমামা। তিনি শিশুদের ডেকে বললেন, "তোমরা এমন দৌড়-ঝাঁপ করতে গিয়ে হাত-পা ভাঙবে, ব্যথা পাবে। তার চেয়ে এসো সবাই বসে পড়ালেখা করি- জ্ঞান বাড়বে, দিব্যাবুদ্ধি বাড়বে।" একটি শিশু বলল, "মজাটা কমবে।" সাথে সাথে সব শিশু হেসে উঠল। একে একে সবাই ছুটে পালাল খেলার মাঠে- মনের আনন্দে শুরু করল খেলা। ক. প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম কী? খ. "সাহিত্যের উদ্দেশ্য আনন্দদান করা, শিক্ষা দান করা নয়।"-ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকের বেলুমামা 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের কোন চরিত্রের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো। ঘ. ""সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে বর্ণিত সাহিত্যের উদ্দেশ্য এবং উদ্দীপকের শিশুদের খেলার উদ্দেশ্য অভিন্ন।"- এই বিষয়ে যুক্তিসহ তোমার মতামত দাও।

বিষয়: বাংলা ১ম পত্র | অধ্যায়: গদ্য - সাহিত্যে খেলা

উৎস: Test Exam Question ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ 2026

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম বীরবল। খ. "সাহিত্যের উদ্দেশ্য আনন্দদান করা, শিক্ষা দান করা নয়।" উক্তিটি দ্বারা লেখক সাহিত্যের মূল উদ্দেশ্য নির্দেশ করেছেন।'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে লেখক দেখিয়েছেন যে, ভারতীয় সাহিত্যের আদি কবি বাল্মীকি রামায়ণ রচনা করেছিলেন, আদিতে মুনি-ঋষিদের জন্য অথচ জনসাধারণ আজও তার শ্রবণে-পঠনে আনন্দ উপভোগ করে। তার একমাত্র কারণ সেই 'রামায়ণ' কাব্য হিসেবে অমর এবং আনন্দের ধর্মই তাই যে তা সংক্রামক। একথা বলা বাহুল্য যে, বড়ো বড়ো মুনি-ঋষিদের কিঞ্চিৎ শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্য বাল্মীকির ছিল না। তার প্রমাণও 'রামায়ণ' শ্রবণকারী মুনি-ঋষিদের আনন্দে আত্মহারা হওয়ার মাধ্যমে পাওয়া যায়। লেখক এজন্যই বলেছেন, সাহিত্যের উদ্দেশ্য আনন্দদান করা, শিক্ষাদান করা নয়। গ. মানসিকতার দিক থেকে উদ্দীপকের বেলুমামা 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের স্কুলমাস্টার চরিত্রের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে লেখক সাহিত্যের প্রতি আমাদের বিরাগ সৃষ্টির কারণ হিসেবে 'স্কুল শিক্ষকদের দায়ী করেছেন। কেননা তারা জোর করে সাহিত্যের গূঢ় তত্ত্ব বা গুণের কথা শেখালেও এতে করে সাহিত্যের সঙ্গে আমাদের প্রাণের মিলন ঘটে না। সাহিত্য কী তা আমরা বুঝতে পারি না।স্কুলমাস্টাররা যেমন সব বিষয়ই শিক্ষার্থীদের জোর করে বোঝাতে চান, তেমনই উদ্দীপকেও বেলুমামা জোর করে শিশুদের শেখাতে চান। বেলুমামা শিশুদের খেলাধুলা বাদ দিয়ে পড়ালেখা করার কথা বলেন। শিশুরা তখন শিক্ষালাভের বিপরীতে মনের আনন্দে খেলা করার বিষয়টি গ্রহণ করে। 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধেও লেখক স্কুলমাস্টারদের সম্বন্ধে এই কথাগুলোই বলেছেন। তারাও শিক্ষার্থীদের মনের আনন্দকে প্রাধান্য না দিয়ে জোরপূর্বক পড়ালেখায় ব্যস্ত রাখতে চান। এ দিক থেকে উদ্দীপকের বেলুমামা ও 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের স্কুলমাস্টারদের একই কাতারে ফেলা যায়। ঘ. সাহিত্যের অন্যতম উদ্দেশ্য মানুষকে নিছক আনন্দদানের দিক বিবেচনায় "সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে বর্ণিত সাহিত্যের উদ্দেশ্য এবং উদ্দীপকের শিশুদের খেলার উদ্দেশ্য অভিন্ন" মন্তব্যটি যথার্থ।'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের লেখকর মতে, সাহিত্যর উদ্দেশ্য হলো মানুষকে আনন্দ দান করা। মানুষকে নির্মল আনন্দ দান ও সৌন্দর্য সৃষ্টির লক্ষ্যেই সাহিত্যের সূচনা। এটা অনেকটা খেলার মতো। কেননা সাহিত্যের মতো খেলারও উদ্দেশ্য মানুষকে নিছক আনন্দ দান।'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে লেখক সাহিত্যের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে মনের আনন্দের বিষয়টি উল্লেখ করেন। তার মতে আনন্দই সাহিত্যের একমাত্র উদ্দেশ্য। সাহিত্যিকরা মনের আনন্দে সাহিত্য রচনা করবেন এবং পাঠক তা পড়ে আনন্দলাভকরবে। উদ্দীপকের শিশুদের খেলায়ও একই উদ্দেশ্য দেখা যায়। শিশুরা মনের আনন্দে খেলা করছে।'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে সাহিত্যের উদ্দেশ্য বর্ণনা করতে গিয়ে লেখক নিছক আনন্দলাভের কথা বলেছেন। উদ্দীপকে শিশুদের খেলায়ও একই উদ্দেশ্য লক্ষ করি। শুধু আনন্দলাভের উদ্দেশ্যেই তারা খেলাধুলায় মগ্ন হয়। 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধ ও উদ্দীপকের শিশুদের খেলা থেকে সাহিত্য ও খেলার একটাই উদ্দেশ্য পাই, তা হলো আনন্দলাভ করা। তাই বলা যায়, 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে বর্ণিত সাহিত্যের উদ্দেশ্য এবং উদ্দীপকের শিশুদের খেলার উদ্দেশ্য অভিন্ন। সুতরাং উক্তিটি যুক্তিসংগত ও সঠিক।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenনির্বাচনী পরীক্ষা - ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ (2026)

স্কুল মাঠে একদল শিশু আপন মনে খেলায় ব্যস্ত। মাঠের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন পাড়ার সকলের বেলুমামা। তিনি শিশুদের ডেকে বললেন, "তোমরা এমন দৌড়-ঝাঁপ করতে গিয়ে হাত-পা ভাঙবে, ব্যথা পাবে। তার চেয়ে এসো সবাই বসে পড়ালেখা করি- জ্ঞান বাড়বে, দিব্যাবুদ্ধি বাড়বে।" একটি শিশু বলল, "মজাটা কমবে।" সাথে সাথে সব শিশু হেসে উঠল। একে একে সবাই ছুটে পালাল খেলার মাঠে- মনের আনন্দে শুরু করল খেলা।

ক. প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম কী?

খ. "সাহিত্যের উদ্দেশ্য আনন্দদান করা, শিক্ষা দান করা নয়।"-ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকের বেলুমামা 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের কোন চরিত্রের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. ""সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে বর্ণিত সাহিত্যের উদ্দেশ্য এবং উদ্দীপকের শিশুদের খেলার উদ্দেশ্য অভিন্ন।"- এই বিষয়ে যুক্তিসহ তোমার মতামত দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

আজাদ রহমান বিজ্ঞানভিত্তিক কল্পকাহিনি লেখেন, যা শিশুদের সৃজনশীলতা বিকাশের অন্যতম মাধ্যম হয়ে ওঠে। নিজের সৃষ্টি অন্যের আনন্...

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাসটির মূলে জেলে-জীবনের কথকতাই মুখ্য বিষয়। কিন্তু তিনি জেলে সম্প্রদায়কে তুষ্...

জীবনানন্দ দাশ বাংলার 'রূপসী বাংলা'র কবি নামে খ্যাত। আত্মগত আনন্দ ও ভাবনার নিবিষ্টতায় কবি নির্মাণ করেছেন তাঁর কাব্যভুবন। ...

সাহিত্য হচ্ছে সৃজনশীল মনের তরঙ্গায়িত কথামালার লিখিত গাঁথুনি। মনের উল্লাসে সাহিত্যিকরা সাহিত্য রচনা করে গেছেন। আর সাহিত্য...

জনপ্রিয় লেখক হওয়ার তাগিদে মিরাজ মিয়া দিন-রাত লিখে যান। তিনি তাই লেখেন যা পাত্র পছন্দ করবে। তার ধারণা, নিজের ইচ্ছেমতো লিখ...

নাসির একজন জনপ্রিয় লেখক হতে চান। পাঠকের চাহিদা বুঝে তিনি লেখালেখি চালিয়ে যান। এতে তিনি সাময়িক সফলতাও অর্জন করেন। কিন্তু ...

'কাবুলিওয়ালা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ছোটোগল্প। গল্পটি কেবল কাবুল দেশের কাবুলিওয়ালা রহমতের জীবনকাহিনি নয় বরং এটি একজন প...

জোটে যদি মোটে একটি পয়সা, খাদ্য কিনিও ক্ষুধার লাগি দুটি যদি জোটে অর্ধেক দিয়ে, ফুল কিনো হে অনুরাগী। বাজারে বিকায় ফল তন্ডুল...

ঘটনা-১: নাবিলের লেখাপড়ার পাশাপাশি ক্রিকেট খেলার প্রতি প্রবল আগ্রহ। এই খেলায় সে অতুলনীয় আনন্দ পায়। খেলাধুলা করায় তার মন ও...

বাংলা সাহিত্যে চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক কে?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।