Facebook Pixel

আজাদ রহমান বিজ্ঞানভিত্তিক কল্পকাহিনি লেখেন, যা শিশুদের সৃজনশীলতা বিকাশের অন্যতম মাধ্যম হয়ে ওঠে। নিজের সৃষ্টি অন্যের আনন্দের কারণ হয়ে ওঠার ব্যাপারটা তিনি উপভোগ করেন। কিন্তু কিছু বন্ধুর প্ররোচনায় সাহিত্যের মর্মবাণীকে অগ্রাহ্য করে তিনি বিশেষ একটা শ্রেণির জন্য লেখালেখি শুরু করেন, যা তাকে আনন্দানুভূতি দেয় না, বরং তার অমূল্য সৃজনীশক্তিকে ক্রমাগত নষ্ট করে নেয়। ক. 'সনেট পঞ্চাশৎ' কী জাতীয় গ্রন্থ? খ. "সাহিত্য ছেলের হাতের খেলনাও নয়, গুরুর হাতের বেতও নয়।"- ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকের বিশেষ শ্রেণির জন্য লেখা বিষয়টি তোমার পঠিত 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের কোন শ্রেণির লেখকদের নির্দেশ করে? আলোচনা করো। ঘ. "সাহিত্য খেলাচ্ছলে শিক্ষা দেয়”- উদ্দীপক ও তোমার পঠিত 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের আলোকে উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: বাংলা ১ম পত্র | অধ্যায়: গদ্য - সাহিত্যে খেলা

উৎস: Test Exam Question আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা 2026

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. 'সনেট পঞ্চাশৎ' একটি কাব্যগ্রন্থ। খ. 'সাহিত্যের খেলা' প্রবন্ধে লেখক সাহিত্যের আসল রূপ তুলে ধরতে গিয়ে উল্লিখিত মন্তব্যটি করেছেন। সাহিত্যের জগৎ নিছক আনন্দের জগৎ। সাহিত্য নিয়ে খেলা করার অধিকার আমাদের সবার আছে। কিন্তু তাই বলে তা ছেলের হাতের খেলনা নয়। আমরা চাইলেই তা নিয়ে জুয়া খেলতে পারি না। অন্যদিকে সাহিত্য গুরুর হাতের বেতের মতো ভীতিকর কিছু নয়। স্কুলে শিক্ষকরা বেতের মাধ্যমে সাহিত্য আত্মস্থ করতে চান বলে শিক্ষার্থীদের কাছে সাহিত্য বেতের মতোই ভীতিপ্রদ। শিক্ষকরা সাহিত্যকে বেছে নিয়েছেন শিক্ষার হাতিয়ার হিসেবে। তাই লেখক প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করেছেন। গ. উদ্দীপকের বিশেষ শ্রেণির জন্য লেখা বিষয়টি আমার পঠিত 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের স্বধর্মচ্যুত লেখকদের নির্দেশ করে। 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে সাহিত্যচর্চার আদর্শ ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে লেখকের মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গির সুস্পষ্ট পরিচয় ফুটে উঠেছে। লেখকের মতে সাহিত্যের উদ্দেশ্য হচ্ছে আনন্দদান। 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের লেখকের মতে, সাহিত্যের উদ্দেশ্য হচ্ছে সকলকে আনন্দ দান করা, কারও মনোরঞ্জন করা নয়। সাহিত্যে সকল শ্রেণির মানুষের প্রবেশাধিকার থাকবে। কোনো বিশেষ শ্রেণি অর্থাৎ সমাজের মনোরঞ্জন করতে গেলে সাহিত্য হয়ে পড়ে স্বধর্মচ্যুত। উদ্দীপকে আজাদ রহমান শিশুসাহিত্যিক ছিলেন। কিছু বন্ধুর প্ররোচনায় তিনি বিশেষ শ্রেণির জন্য সাহিত্য রচনা করেন, যা তাকে আনন্দ দেয় না, বরং সৃজনীক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। বিশেষ শ্রেণির জন্য সাহিত্য রচনা করা সাহিত্যিকদের 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে লেখক স্বধর্মচ্যুত বলে বর্ণনা করেন। ঘ. "সাহিত্য খেলাচ্ছলে শিক্ষা দেয়”- উদ্দীপক ও 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের আলোকে উক্তিটি যথার্থ। 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের লেখকের মতে, সাহিত্যর উদ্দেশ্য হচ্ছে সকলকে আনন্দ দান করা, কারও মনোরঞ্জন করা নয়। সাহিত্যকর্ম মানুষের মনে সাড়া জাগাতে পারলেই সাহিত্য সার্থক হয়। উদ্দীপকে আজাদ রহমান শিশুদের জন্য যেসব সাহিত্যকর্ম রচনা করেন সেগুলো শিশুদের আনন্দ দান করে। ফলশ্রুতিতে তাদের সৃজনীশক্তি বিকশিত হয়। অনুরূপ 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের লেখকের মতে, সাহিত্যের উদ্দেশ্য শিক্ষা দান নয়। বরং সাহিত্যের সঙ্গে তুলনা চলে খেলাধুলার। খেলাধুলার যেমন নিছক আনন্দই প্রধান, সাহিত্যেও তাই। খেলাধুলায় যেমন আনন্দ ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই, সাহিত্যের উদ্দেশ্যও তেমনই একমাত্র আনন্দ দান করা। 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে লেখক উল্লেখ করেন- সাহিত্যের উদ্দেশ্য শিক্ষা দান নয়। কারণ পাঠ্যবিষয় মানুষ পড়ে অনিচ্ছায় ও বাধ্য হয়ে। পক্ষান্তরে সাহিত্যের রস আস্বাদন করে মানুষ স্বেচ্ছায় ও আনন্দে, যেটার উদ্দেশ্য শিক্ষা নয়। কিন্তু আনন্দের সাথে সাহিত্য পাঠ বলে অজান্তেই জ্ঞান অর্জন করা যায়। উদ্দীপকের আজাদ সাহেব সাহিত্যকর্ম রচনার মাধ্যমে আনন্দদানের মাধ্যমে শিশুদের সৃজনী ক্ষমতা বিকশিত করেন। তাই সার্বিক দিক বিচারে বলা যায়, “সাহিত্য খেলাচ্ছলে শিক্ষা দেয়”- উদ্দীপক ও আলোচ্য প্রবন্ধের আলোকে মন্তব্যটি যথার্থ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenনির্বাচনী পরীক্ষা - আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা (2026)

আজাদ রহমান বিজ্ঞানভিত্তিক কল্পকাহিনি লেখেন, যা শিশুদের সৃজনশীলতা বিকাশের অন্যতম মাধ্যম হয়ে ওঠে। নিজের সৃষ্টি অন্যের আনন্দের কারণ হয়ে ওঠার ব্যাপারটা তিনি উপভোগ করেন। কিন্তু কিছু বন্ধুর প্ররোচনায় সাহিত্যের মর্মবাণীকে অগ্রাহ্য করে তিনি বিশেষ একটা শ্রেণির জন্য লেখালেখি শুরু করেন, যা তাকে আনন্দানুভূতি দেয় না, বরং তার অমূল্য সৃজনীশক্তিকে ক্রমাগত নষ্ট করে নেয়।

ক. 'সনেট পঞ্চাশৎ' কী জাতীয় গ্রন্থ?

খ. "সাহিত্য ছেলের হাতের খেলনাও নয়, গুরুর হাতের বেতও নয়।"- ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকের বিশেষ শ্রেণির জন্য লেখা বিষয়টি তোমার পঠিত 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের কোন শ্রেণির লেখকদের নির্দেশ করে? আলোচনা করো।

ঘ. "সাহিত্য খেলাচ্ছলে শিক্ষা দেয়”- উদ্দীপক ও তোমার পঠিত 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের আলোকে উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাসটির মূলে জেলে-জীবনের কথকতাই মুখ্য বিষয়। কিন্তু তিনি জেলে সম্প্রদায়কে তুষ্...

জীবনানন্দ দাশ বাংলার 'রূপসী বাংলা'র কবি নামে খ্যাত। আত্মগত আনন্দ ও ভাবনার নিবিষ্টতায় কবি নির্মাণ করেছেন তাঁর কাব্যভুবন। ...

স্কুল মাঠে একদল শিশু আপন মনে খেলায় ব্যস্ত। মাঠের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন পাড়ার সকলের বেলুমামা। তিনি শিশুদের ডেকে বললেন,...

সাহিত্য হচ্ছে সৃজনশীল মনের তরঙ্গায়িত কথামালার লিখিত গাঁথুনি। মনের উল্লাসে সাহিত্যিকরা সাহিত্য রচনা করে গেছেন। আর সাহিত্য...

জনপ্রিয় লেখক হওয়ার তাগিদে মিরাজ মিয়া দিন-রাত লিখে যান। তিনি তাই লেখেন যা পাত্র পছন্দ করবে। তার ধারণা, নিজের ইচ্ছেমতো লিখ...

নাসির একজন জনপ্রিয় লেখক হতে চান। পাঠকের চাহিদা বুঝে তিনি লেখালেখি চালিয়ে যান। এতে তিনি সাময়িক সফলতাও অর্জন করেন। কিন্তু ...

'কাবুলিওয়ালা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ছোটোগল্প। গল্পটি কেবল কাবুল দেশের কাবুলিওয়ালা রহমতের জীবনকাহিনি নয় বরং এটি একজন প...

জোটে যদি মোটে একটি পয়সা, খাদ্য কিনিও ক্ষুধার লাগি দুটি যদি জোটে অর্ধেক দিয়ে, ফুল কিনো হে অনুরাগী। বাজারে বিকায় ফল তন্ডুল...

ঘটনা-১: নাবিলের লেখাপড়ার পাশাপাশি ক্রিকেট খেলার প্রতি প্রবল আগ্রহ। এই খেলায় সে অতুলনীয় আনন্দ পায়। খেলাধুলা করায় তার মন ও...

বাংলা সাহিত্যে চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক কে?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।