Facebook Pixel

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে জনাব 'ক' পাকিস্তানি বাহিনীর সাথে হাত মিলিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের হাত থেকে রূপগঞ্জ ঘাঁটি দখল নিতে পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতা করে। 'ক' এর ঘটনা শুনে নিয়াজ সাহেব বলেন, ইংরেজরাও 'ক' এর মতো লোকদের সাহায্য পেয়ে বাংলা দখল করেছিল। যার রেশ ২০০ বছর পর্যন্ত ছিল। <em> সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ, বরিশাল </em> ক. পলাশীর যুদ্ধ কবে সংঘটিত হয়? খ. ভারতবর্ষের ওপর ইংরেজদের লোলুপ দৃষ্টি পড়েছিল কেন? গ. জনাব 'ক'-এর সাথে ইতিহাসে কার চরিত্রের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. নিয়াজ সাহেবের বক্তব্যের আলোকে উক্ত ব্যক্তির সংশ্লিষ্ট ইতিহাস বিখ্যাত যুদ্ধের তাৎপর্য পর্যালোচনা কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৪ঃ বাংলায় কোম্পানি ও ঔপনিবেশিক শাসন

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর যুদ্ধ সংঘটিত হয়। খ. অফুরন্ত ধন-সম্পদ দেখে ভারতবর্ষের ওপর ইংরেজদের লোলুপ দৃষ্টি পড়েছিল। ভারত হচ্ছে রূপকথার সেই স্বর্ণের ডিম পাড়া রাজহাঁসের ন্যায়। এর ধনসম্পদ ছিল অফুরন্ত। ইউরোপের পরিব্রাজক মার্কোপোলো চীন ও ভারতে এসেছিলেন। দেশে ফিরে গিয়ে তিনি একটি বই লিখেন, যেখানে ভারতকে অফুরন্ত ধনসম্পদের ভান্ডার বলে উল্লেখ করেন। এর ফলে ইউরোপের বণিকগণ ভারতে আসে বাশিল্যের জন্য। ভারতের ধনসম্পদ দেখে তাদের চোখ ঝলসে যায়। তাই ভারতে তারা স্থায়ী হওয়ার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে এবং শেষপর্যন্ত ১৭৫৭ সালে তারা সফল হয়। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব 'ক' এর সাথে বাংলার ইতিহাসে মীর জাফরের চরিত্রের মিল রয়েছে। বিশ্বাসঘাতক মীর জাফর ছিলেন বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলার প্রধান সেনাপতি। ইংরেজরা বাংলায় শাসন প্রতিষ্ঠার সুযোগ খুঁজছিল এবং একসময় তা পেয়েও যায়। ১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দে নবাব সিরাজউদ্দৌলা সিংহাসনে আরোহণ করেন। তিনি ছিলেন পূর্ববর্তী নবাব আলীবর্দী খানের ছোট মেয়ে আমেনার সন্তান। কিন্তু সিরাজউদ্দৌলার সিংহাসনে বসাকে তার অন্যান্য আত্মীয়স্বজন বিশেষ করে তার খালা ঘসেটি বেগম মেনে নেননি। তিনি চেয়েছিলেন তার ছেলে শওকত জং নবাব যোক। আর এ কাজ করার জন্য তিনি ইংরেজদের শরণাপন্ন হন। ইংরেজরা একে মোক্ষম সুযোগ মনে করে। যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে পরাজিত করার জন্য তারা ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নেয়। ইংরেজরা নবাব সিরাজউদ্দৌলার প্রধান সেনাপতি মীর জাফরকে তাদের পক্ষে নেওয়ার জন্য প্রলোভন দেখায়। মীর জাফর নিজের স্বার্থের জন্য বাংলার স্বার্থকে বিসর্জন দেয়। তিনি ইংরেজদের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। ১৭৫৭ সালে পলাশীর প্রান্তরে ইংরেজ ও নবাবের বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ বাঁধলে মীর জাফর ও তার অনুগত সৈন্য যুদ্ধ করা থেকে বিরত থাকে। তারপরও নবাবের জয় যখন অবশ্যম্ভাবী তখন মীর জাফর নবাবকে যুদ্ধ বন্ধ করার পরামর্শ দেন। নবাব মীর জাফরের দূরভিসন্ধি বুঝতে না পেরে যুদ্ধ বন্ধের ঘোষণা। দেন। ফলে যুদ্ধ বন্ধ করে নবাবের বাহিনী বিশ্রাম নিচ্ছিল। এমন সময় বিশ্বাসঘাতক মীর জাফরের ইঙ্গিতে ইংরেজ বাহিনী নবাবের সৈন্যদের ওপর আক্রমণ চালায়। ফলে নবাবের অপ্রস্তুত সৈন্যদের পরাজয় ঘটে। নবাব যুদ্ধক্ষেত্রে থেকে পলায়ন করেন। কিন্তু পথিমধ্যে তিনি বন্দী হন এবং তাকে হত্যা করা হয়। এভাবে মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে বাংলার পরাজয় ঘটে এবং ইংরেজরা বাংলা দখল করে। পরিশেষে বলা যায়, মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে ইংরেজরা বাংলা দখল করতে সক্ষম হয়। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত নিয়াজ সাহেবের বক্তব্যের আলোকে পলাশী যুদ্ধের তাৎপর্য পর্যালোচনা করা হলো- ভারতবর্ষের ইতিহাসে পলাশীর যুদ্ধ একটি বেদনাবহুল খন্ডযুদ্ধ হলেও এ যুদ্ধের তাৎপর্য ছিল সুদূরপ্রসারী। রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বের পাশাপাশি বিশেষ করে ইংরেজদের অর্থনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় এ যুদ্ধের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। যেমন- প্রথমত, পলাশী যুদ্ধে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার অকালমৃত্যু হলে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য দীর্ঘদিনের জন্য অন্তমিত হয়। দ্বিতীয়ত, মীর জাফরও যুদ্ধের ফলে নামেমাত্র নবাব হলেন। কিন্তু প্রকৃত ক্ষমতা রয়ে গেল ইংরেজদের হাতেই। তৃতীয়ত, ভারতবর্ষে পলাশীর যুদ্ধের পর ইংরেজদের সার্বভৌমত্ব স্থাপিত না হলেও তারা নতুন নবাবের কাছ থেকে নগদ দেড় কোটি টাকা এবং চব্বিশ পরগনার বিশাল জমিদারি লাভ করে। ফলে ইংরেজদের বাংলার রাজনীতিতে যখন তখন হস্তক্ষেপের পথ সুগম হয়। চতুর্থত, ইংরেজরা এ যুদ্ধের ফলে বাংলায় একচেটিয়া বাণিজ্যিক অধিকার লাভ করে। ফলে এদেশীয় বণিকদের সমাধি রচিত হয। পঞ্চমত, ইংরেজরা এ যুদ্ধের ফলে বাংলাসহ দাক্ষিণাত্যে প্রভাব বিস্তার করে ফরাসি বণিকদের বিতাড়িত করে এবং একচেটিয়াভাবে ভারতবর্ষের সম্পদ আহরণ ও ইংল্যান্ডে প্রেরণের ফলে এদেশের অর্থনৈতিক মেরুদন্ড ভেঙে পড়ে। ষষ্ঠত, এ যুদ্ধের ফলে ইংরেজদের সামরিক শক্তি ও প্রতিপত্তি সম্পর্কে জনগণের মনে উচ্চ ধারণার সৃষ্টি হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে কোম্পানির মর্যাদাও বৃদ্ধি পায়। সপ্তমত, পলাশীর যুদ্ধের পর রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক পরিবর্তনের সাথে সাথে ভারতবর্ষের সামাজিক-সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও পরিবর্তন সাধিত হয়। মূলত ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দের ২৩ জুন তারিখেই ভারতবর্ষের মধ্যযুগ শেষে আধুনিক যুগের সূচনা হয়েছিল। ঐতিহাসিক আর. সি. মজুমদার এ প্রসঙ্গে বলেন, পলাশীর যুদ্ধ বাংলা তথা সমগ্র ভারতবর্ষে ইংরেজদের বিজয়ের পথ প্রশস্ত করে দিয়েছিল। কালক্রমে ১৭৬৪ খ্রিষ্টাব্দের বক্সারের যুদ্ধে তারা নবাব মীর কাশিম ও ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে সিপাহি বিদ্রোহে মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফরকে পরাজিত করে সমগ্র ভারতবর্ষের শাসনভার গ্রহণ করে।"" সর্বোপরি, পলাশীর যুদ্ধের, ফলে ইংরেজ কর্মকর্তারা বিপুল ধনসম্পদের মালিক হয়, যা পরবর্তীতে তাদের ভারতবর্ষব্যাপী বিশাল সাম্রাজ্য স্থাপনে সহায়ক হয়েছিল।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে জনাব 'ক' পাকিস্তানি বাহিনীর সাথে হাত মিলিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের হাত থেকে রূপগঞ্জ ঘাঁটি দখল নিতে পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতা করে। 'ক' এর ঘটনা শুনে নিয়াজ সাহেব বলেন, ইংরেজরাও 'ক' এর মতো লোকদের সাহায্য পেয়ে বাংলা দখল করেছিল। যার রেশ ২০০ বছর পর্যন্ত ছিল।

সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ, বরিশাল

ক.

পলাশীর যুদ্ধ কবে সংঘটিত হয়?

খ.

ভারতবর্ষের ওপর ইংরেজদের লোলুপ দৃষ্টি পড়েছিল কেন?

গ.

জনাব 'ক'-এর সাথে ইতিহাসে কার চরিত্রের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

নিয়াজ সাহেবের বক্তব্যের আলোকে উক্ত ব্যক্তির সংশ্লিষ্ট ইতিহাস বিখ্যাত যুদ্ধের তাৎপর্য পর্যালোচনা কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'The Spirit of Islam' ও 'A Short History of the Saracens' গ্রন্থ দুটি কার লেখা?

The Sprit of Islam' প্রশ্নটি কে লিখেছেন?

ক. হাজি শরীয়তউল্লাহ কোথায় জন্মগ্রহণ করেন? খ. বঙ্গভঙ্গের প্রশাসনিক কারণ ব্যাখ্যা কর। গ. চিত্র 'ক'-এর ছবির ব্যক্তিটি ঐতিহা...

ক. সিপাহি বিপ্লব কত সাথে সংঘটিত হয়? খ. রবার্ট ক্লাইভের পরিচয় দাও। গ. ছবিটিতে যে মহান ব্যক্তিকে লক্ষ করা যাচ্ছে তার এবং ত...

ক. কত সাল হতে বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হয়? খ. ফরায়েজি আন্দোলনের খিলাফত কাঠামোর ব্যাখ্যা দাও। গ. ছবিটি যেই মহান ব্যক্তির তার আন্দ...

ক. সৈয়দ আমীর আলী কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন? খ. খিলাফত আন্দোলন বলতে কী বোঝায়? গ. ছবির ব্যক্তিটি যে বিদ্রোহের সাথে সম্পৃক্ত...

ক. প্রথম বিশ্বযুদ্ধ কত সালে সংঘটিত হয়? খ. ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের ফলে ভারতবর্ষে শাসনতান্ত্রিক সংস্কার সূচিত হয়- ব্যাখ্যা কর...

অতি অল্প বয়সে তিতুমীর কোন পরীক্ষা দ্বারা সুনাম অর্জন করেন?

অ্যালান অক্টাভিয়ান হিউম কোন দেশের নাগরিক ছিলেন?

অ্যালান অক্টাভিয়ান হিউম ছিলেন- i. ভারতীয়দের প্রতি সহানুভূতিশীল ii. ভারতের স্বাধীনতার রূপকার iii. ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস গঠ...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।