ক.
সিপাহি বিপ্লব ১৮৫৭ সালে সংঘটিত হয়
খ.
রবার্ট ক্লাইভ ১৭২৫ খ্রি. জন্মগ্রহণ করেন। ১৯ বছর বয়সে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিতে কেরানি হিসেবে যোগদান করেন। তার প্রথম কর্মস্থল ছিল মাদ্রাজ। কিছুদিন পর তিনি কেরানির চাকরি ছেড়ে দিয়ে কোম্পানির সৈনিক হিসেবে যোগদান করেন। ১৭৫১ খ্রি. তিনি কোম্পানির ক্যাপ্টেন পদে পদোন্নতি পান। তার রণকৌশলে ও নিপুণতায় কর্ণাটকের দ্বিতীয় যুদ্ধে ইংরেজ বাহিনী ফরাসিদের বিপক্ষে জয় লাভ করে। ক্লাইভের রণনৈপুণ্য, সাহস ও বিচক্ষণতায় ইংরেজ কোম্পানি সুনাম ও সুখ্যাতি অর্জন করে এবং ইংরেজ কোম্পানি রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভ করে।
গ.
ছবিটিতে যে মহান ব্যক্তিকে লক্ষ করা যাচ্ছে, তিনি হলেন দুদু মিয়া। দুদু মিয়া এবং তার পিতার রেখে যাওয়া আন্দোলনের নাম ফরায়েজি আন্দোলন।
১৮১৮ সালে হাজি শরীয়তউল্লাহ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ফরায়েজি আন্দোলনের নেতৃত্ব ১৮৪০ সাল পর্যন্ত তারই হাতে ন্যস্ত থাকে। তার মৃত্যুর পর তার সুযোগ্য পুত্র মুহাম্মদ মোহসিন উদ্দিন আহমদ ওরফে দুদু মিয়া এ আন্দোলনের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ১৮৬২ সাল পর্যন্ত নেতৃত্ব প্রদান করেন। এরপর ১৮৬২ হতে ১৮৮৪ সাল পর্যন্ত দুদু মিয়ার পুত্র নয়া মিয়া এ আন্দোলন পরিচালনা করেন। ১৮৮৪ সাল হতে দুদু মিয়ার অপর পুত্র সৈয়দ উদ্দিন আহমদ ফরায়েজি আন্দোলনের নেতৃত্বে অধিষ্ঠিত হন। ব্রিটিশ সরকার সৈয়দ উদ্দিনকে 'খান বাহাদুর' উপাধিতে ভূষিত করেন। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ প্রশ্নে তিনি খাজা সলিমুল্লাহকে সমর্থন করেন। ১৯০৬ সালে তিনি ইহলোক ত্যাগ করলে তার বড় ছেলে রশিদ উদ্দিন আহমদ ওরফে বাদশাহ মিয়া ফরায়েজি সংগঠনকে ধরে রাখেন। ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ হলে এ সংগঠন ব্রিটিশ বিরোধী ভূমিকা গ্রহণ করে।
এরপর বাদশা মিয়া খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর তিনি নারায়ণগঞ্জে ফরায়েজিদের একটি সম্মেলন আহ্বান করেন।এ সম্মেলনে পাকিস্তানকে 'দারুল ইসলাম' হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয় এবং তার অনুসারীদের জুমা ও ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া হয়।
ঘ.
ছবির ব্যক্তটি যে আন্দোলনের সাথে জড়িত ছিলেন তা হচ্ছে ফরায়েজি আন্দোলন।
ব্রিটিশ ভারতে মুসলিম জাগরণে ফরায়েজি আন্দোলনের গুরুত্ব অপরিসীম। ফরায়েজি আন্দোলন দ্রুততার সাথে ঢাকা, ফরিদপুর, বরিশাল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী জেলাসমূহে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ফরায়েজি আন্দোলন মুসলমানদের মনে আলোকবর্তিকা ও আলোর দিশারি হিসবে কাজ করেছিল। হাজি শরীয়তউল্লাহর ফরায়েজি আন্দোলনের ফলে সমাজে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়। মুসলমানগণ অনেক ধর্মীয় কুসংস্কার থেকে বেরিয়ে আসে। মুসলমানগণ ফরজ পালনের ওপর জোর দেয়। কবর পূজা, পীর পূজা, গাজী-কালুর প্রশান্তি গাওয়া, পঞ্চপীর, পীরবদর, খাজা-খিজিরের দোহাই দেওয়া, ভেলা ভাসানো, জারিগান গাওয়া, জন্মের সময় ষষ্ঠি পালন করা, মহররমের মাতম করা প্রভৃতি কুসংস্কার অনেকাংশে কমে যায়। ধর্মীয় ক্ষেত্রে এসব পরিবর্তন ছাড়াও সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও অনেক পরিবর্তন এসেছিল। হিন্দু জমিদাররা মুসলমানদের ওপর বিভিন্ন অত্যাচারী কর আরোপ করত। বিভিন্ন পূজা-পার্বণে মুসলমানদের ওপর কর ধার্য করত। এছাড়া মুসলমানদের দাড়ি রাখার ওপরও কর ধার্য করত। দুদু মুসলমানদের এসব কর দিতে নিষেধ করেন। এছাড়া ইংরেজ নীলকরদের অবৈধ কর দিতেও নিষেধ করেন। এর ফলে ফরায়েজিদের সাথে নীলকর ও জমিদারদের সংঘর্ষ বাধত। কিন্তু অনেক জমিদার ফরায়েজিদের কাছে পরাজিত হয়ে এসব কর উঠিয়ে দেন এবং মুসলমানদের ওপর অত্যাচার বন্ধ করেন। দুদু মিয়া ইংরেজ বিচার ব্যবস্থার পরিবর্তে নিজে একটি বিচারালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং সেখানে তিনি কুরআন ও হাদিসের আলোকে বিচারকার্য সম্পাদন করতেন।
তাই বলা যায়, ফরায়েজি আন্দোলন বাংলার, সামাজিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছিল। মুসলমানরা ধর্মীয় কুসংস্কার থেকে বেরিয়ে এসেছিল এবং জমিদারদের অত্যাচার থেকে রক্ষা পেয়েছিল।