ক.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ১৯১৪ সালে সংঘটিত হয়।
খ.
১৮৫৭ সালের সিপাহি বিপ্লবের পর ভারতীয়দের যোগ্যতা অনুযায়ী উচ্চপদে নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়। এ ঘোষণা অনুযায়ী ১৮৬১ সালে ভারতীয় সিভিল সার্ভিস (ICS) আইন পাস করা হয়। দেশীয় রাজন্যবর্গের সাথে স্বাক্ষরিত চুক্তি, দত্তক পুত্র গ্রহণের স্বীকৃতি, ধর্মরক্ষা এবং কুখ্যাত স্বত্ববিলোপ নীতি চিরতরে রহিত করা হয়। ১৮৩৩ সালের সনদ আইনের পরিবর্তন করে বিকেন্দ্রীকরণ নীতি গ্রহণ করা হয়। ১৮৬১ সালের ভারতীয় কাউন্সিল আইন দ্বারা বোম্বাই ও মাদ্রাজ কাউন্সিলকে আইন প্রণয়নের ভার দেওয়া হয়। সুতরাং আমরা বলতে পারি যে, ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের ফলে ভারতবর্ষে শাসনতান্ত্রিক সংস্কার সূচিত হয়।
গ.
ছবির ব্যক্তিটি হলেন সৈয়দ আমির আলী। সৈয়দ আমির আলী ছিলেন একজন শিক্ষিত, ভদ্র, নামকরা আইনজীবী।
১৮৪৯ সালের ৬ এপ্রিল জাস্টিস স্যার সৈয়দ আমীর আলী হুগলি জেলার চুচূড়ায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম শিয়া পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা সৈয়দ সাদত আলী ছিলেন অযোদ্ধার নবাবের অধীনে উচ্চপদের রাজকর্মচারী। ১৮৬৯ সালে তিনি হুগলি কলেজ হতে ইতিহাসে এম. এ. ডিগ্রি লাভ করেন। ১৮৭৩ সালে বিলেতের Inner temple থেকে তিনি ব্যারিস্টারি পাস করেন। ১৮৭৪ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো নির্বাচিত হন। ১৮৭৫ সালে তিনি প্রেসিডেন্সি কলেজের আইনের অধ্যাপক হন। কয়েক বছর অধ্যাপনার পর তাকে ১৮৭৭ সালে কলকাতার প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেটের পদ দেওয়া হয়। ১৮৮১ সালে তিনি সরকারি চাকরি ত্যাগ করে আইন ব্যবসায় ফিরে আসেন। সরকার তাকে প্রাদেশিক আইনসভার সদস্য মনোনীত করেন। ১৮৮৩ সাল পর্যন্ত তিনি যোগ্যতার সাথে সে দায়িত্ব পালন করেন। ১৮৮৩ সালে ভাইসরয় লর্ড রিপন তাকে Imperial Legislative Council-এর সদস্য পদে মনোনয়ন দান করেন। তিনি ১৮৯০ সালে কলকাতার হাইকোর্টের বিচারপতি নির্বাচিত হন। পরে তিনি প্রধান বিচারপতির পদ অলংকৃত করেন। ১৯০৪ সালে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। ১৯০৯ সালে তিনি ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ আদালত Privy Council-এর সদস্যপদ লাভ করেন।
এ পদে তিনি ছিলেন প্রথম ভারতীয়। তিনি ইসলাম ও আইনবিষয়ক বহু মূল্যবান গ্রন্থ রচনা করতেন। তার রচিত কয়েকটি গ্রন্থ হলো দ্য স্পিরিট অব ইসলাম, হিস্ট্রি অব স্যারাসিনস, এথিকস অব ইসলাম, মোহামেডান ল' ইত্যাদি।
ঘ.
ছবির ব্যক্তি হলেন স্যার সৈয়দ আমীর আলী। ভারতীয় জনগণের কল্যাণে তার অবদান অবিস্মরণীয়। ভারতবাসী তার আত্মত্যাগের কথা কখনও ভুলবে না।
ব্রিটিশ সরকারের পক্ষপাতদুষ্ট নীতির কারণে মুসলিম জাতি শিক্ষাদীক্ষায় পিছিয়ে পড়ে। সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক দিক থেকে মুসলমানগণ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দীনহীনভাবে কালাতিপাত করতে থাকে। ব্রিটিশ সরকারের কাছে মুসলমানদের দুরবস্থা তুলে ধরার মতো প্রতিনিধিত্বমূলক কোনো যোগ্য প্রতিষ্ঠান ছিল না। মুসলিম জাতির স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো দেখভাল করার জন্য মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি প্রতিষ্ঠার পনের বছর পরে ১২ মে ১৮৭৮ সালে। কলকাতার ন্যাশনাল মোহামেডান এসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠিত হয়। পাটনার নবাব আমীর আলী খান বাহাদুর সভাপতি, সৈয়দ আমীর হোসেন সহসভাপতি এবং সৈয়দ আমীর আলী সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৮৮০-৮১ সালে কয়েকটি শাখা খোলা হলে এর নামের আগে 'সেন্ট্রাল' শব্দ যুক্ত হয়। তিনি মুসলমানদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে আলাদা সুযোগ সুবিধা দাবি করেন। অত্যধিক দারিদ্রের কারণে মুসলমানদের পক্ষে ব্যয়বহুল ইংরেজি শিক্ষা অর্জন সম্ভব ছিল না। এজন্য তিনি একাধারে মাদ্রাসাগুলোতে ইংরেজি শিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা, মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলে বিদ্যালয় স্থাপন, মুসলিম শিক্ষক ও 'ইনসপেক্টর নিয়োগের দাবি করেন। হাজি মুহাম্মদ মোহসিন ফান্ডের ও অন্যান্য ওয়াকফ, সম্পত্তির টাকা শুধু মুসলিম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ছাত্রদের জন্য ব্যয় করার অভিমত প্রকাশ করেন।
তার বিভিন্ন উদ্যোগ এবং হান্টার কমিশনের সুপারিশে ১৮৮৫ সালের ১৫ জুলাই লর্ড ডাফরিনের এক শিক্ষা প্রস্তাবে মুসলমানদের শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এমনিভাবে মুসলমানদের উন্নতি ও স্বার্থরক্ষার জন্য তার নিরলস প্রচেষ্টা ও অবদানের কারণে ভারতবাসী কখনও তাকে ভুলবে না।