ক.
সৈয়দ আমীর আলী হুগলি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
খ.
খিলাফত' শব্দটি খলিফা হতে এসেছে। এর অর্থ উত্তরাধিকারী, প্রতিনিধি ইত্যাদি। তুরস্কের খলিফার মর্যাদা ও তুরস্কের অখন্ডতা রক্ষার জন্য ভারতীয় মুসলিম জাতি খিলাফত আন্দোলন গড়ে তোলে। ইসলামের প্রথম চার খলিফার যুগ শেষ হলেও খিলাফত থেকে যায়। ৬৬১-৭৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত উমাইয়া এবং ৭৫০-১২৫৮ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত আব্বাসিগণ খিলাফত আন্দোলন পরিচালনা করেন। ১৯১৪ সালে বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে তুরস্ক নিজ স্বার্থে জার্মানির পক্ষ হয়ে মিত্রশক্তি ব্রিটিশ ফ্রান্সের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। এর ফলে ভারতীয় মুসলমানগণ চরম বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়ে। কারণ তারা ধর্মীয় কারণে খলিফার প্রতি অনুগত, আবার রাজনৈতিক কারণে ব্রিটিশ সরকারের প্রতি অনুগত থাকতে বাধ্য। তাই ভারতীয় মুসলমানগণ খলিফার মর্যাদা রক্ষা ও তুরস্কের অখন্ডতা রক্ষার জন্য খিলাফত আন্দোলন গড়ে তোলেন।
গ.
ছবির ব্যক্তিটি হলেন ভারতবর্ষের শেষ মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর।
বাহাদুর শাহ ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। ২৯ মার্চ ১৮৫৭ সালে কলকাতার সন্নিকটস্থ ব্যারাকপুর সেনাবিনাসে মঙ্গলপান্ডে নামক এক সিপাহী প্রকাশ্যে ইংরেজদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। এ বিদ্রোহ দ্রুত পিরোজপুর, মুজাফফরনগর, পাঞ্জাব, নৌসেরা, হতমর্দান, অযোধ্যা, মথুরা, লক্ষ্ণৌ, মোরাদাবাদ, আজমগড়, কানপুর, এলাহাবাদ, ফৈজাবাদ, ফতেপুর, ফতেহগড়, বাংলা, বিহার প্রভৃতি স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। বিদ্রোহী সিপাহীগণ মুঘল বংশের দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে মুঘল সম্রাট বলে ঘোষণা করে এবং তাকে 'একতার প্রতীক' হিসেবে গ্রহণ করেন। স্থানে স্থানে কিছু জনসাধারণ, সম্পত্তিচ্যুত তালুকদার, নির্যাতিত কৃষক এ বিদ্রোহে যোগদান করে। কানপুরের নানা সাহেব, তাতিয়া তোপি, আজিমউল্লাহ, জগদীশপুরের রাজপুত দলপতি কুনওয়ার সিং, ফৈজাবাদের মৌলভী আহমদ উল্লাহ, ঝাঁসির রানি অক্ষ্মীবাঈ এ বিদ্রোহে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ এ বিদ্রোহে ব্যাপক অবদান রাখেন।
ইংরেজরা চরম নৃশংসতার মধ্যদিয়ে এ বিদ্রোহ দমন করে।
ঘ.
ছবির ব্যক্তিটি হলেন ভারতবর্ষের শেষ মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর।
তিনি ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের ফলেই ভারতের কোম্পানি শাসনের অবসান ঘটে। ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের ফলে ভারতের শাসন ব্যবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। কোম্পানির ব্যবসায়িক মনোবৃত্তি ভারতের জনসাধারণের স্বার্থের পরিপন্থী বিবেচনা করে ১৯৫৮ সালের ২ আগস্ট এক ঘোষণা দ্বারা ইংল্যান্ডের কন্ট্রোলের পরিবর্তে ব্রিটিশ ক্যাবিনেট মন্ত্রীদের মধ্য থেকে একজনকে ভারত সচিবের পদে নিযুক্ত করা হয়। সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, তিনি ১৫ জন সদস্য নিয়ে গঠিত একটি কাউন্সিলের সাহায্যে ভারত সাম্রাজ্যের শাসনকার্য পরিচালনা করবেন। ভারতের গভর্নর জেনারেল 'ভাইসরয়' বা রাজপ্রতিনিধি নামে পরিচিত হন। ১৮৫৭ সালের বিপ্লোবোত্তরকালে ব্রিটিশদের প্রতি হিংসাপরায়ণ মনোভাবের দরুন মুসলিম জাতির জানমাল, মান-সম্মান ও খ্যাতি প্রতিপত্ত সবই হয় বিপর্যন্ত ও প্রায় বিধ্বস্ত। মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহের নিকট হতে বিদ্রোহের সব কাগজপত্র ও হুকুমনামা নিয়ে নেওয়া হয়। এ বিপ্লবের পর ভারতীয়দের যোগ্যতানুযায়ী উচ্চ পদে নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়। এ ঘোষণা অনুযায়ী ১৮৬১ সালে ভারতীয় সিভিল সার্ভিস (ICS) আইন পাস করা হয় এবং ভারতীয় সামরিক বিভাগকে ঢেলে সাজানো হয়। ১৮৭৬ সালের রাজকীয় অধিকার আইনে ইংল্যান্ডের মহারানি ভিক্টোরিয়াকে 'ভারত সম্রাজ্ঞী' আখ্যা দেওয়া হয়।
এর মাধ্যমে একটি যুগের সমাপ্তি ঘটে এবং একটি নতুন যুগের আবির্ভাব হয়। সুতরাং আমরা বলতে পারি যে, ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের ফলেই ভারতে কোম্পানি শাসনের অবসান ঘটে।