Facebook Pixel

১৮৫৬ খ্রিষ্টাব্দে প্যারিসের সন্ধি দ্বারা তুর্কি সুলতান আব্দুল আজিজ, তুরস্কে আলোকিত শাসনব্যবস্থা ও সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেন। তুর্কি সাম্রাজ্যের খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বী প্রজারা যাতে সমান মর্যাদা সহকারে বসবাস করতে পারে এবং রাষ্ট্রীয় কাজে সুলতানকে সহযোগিতা করে সেজন্য তিনি এই নীতির প্রবর্তন করেন। প্রাদেশিক সভায় সকল ধর্মের প্রতিনিধিত্ব আইন ব্যবস্থা চালু করেন। এর ফলে অ-তুর্কি প্রজাদের সঙ্গে সরকারের সংযুক্তি গড়ে ওঠার সুযোগ দেখা দেয়। ক. হুমায়ুন শব্দের অর্থ কী? খ. মোগলদের পরিচয় দাও। গ. সুলতান আব্দুল আজিজের পদক্ষেপের সাথে সম্রাট আকবরের কোন নীতির প্রতিফলন লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা কর। ঘ. সম্রাট আকবরের নীতি তার রাষ্ট্র পরিচালনার দূরদর্শিতার প্রতিফলন- মতামত দাও।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ ভারত উপমহাদেশে মুঘল শাসন

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. হুমায়ুন শব্দের অর্থ ভাগ্যবান। খ. 'মোঙ্গ' শব্দ থেকে মোঙ্গল এবং মোঙ্গল থেকে মুঘল নামের উৎপত্তি ঘটেছে। তারা আদি বাসভূমি মঙ্গোলিয়া ছেড়ে মধ্য এশিয়ার পশ্চিম অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে মুঘল নামে পরিচিতি লাভ করে। ১৫২৬ খ্রি. মুঘলরা ভারতের সুলতান ইব্রাহিম লোদিকে পরাজিত করে ভারতবর্ষের শাসক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করেন। মূলত এরপর থেকেই মুঘলরা একটি বৃহৎ জাতিগঠনে অবদান রাখতে শুরু করে। গ. উদ্দীপকে সুলতান আব্দুল আজিজের পদক্ষেপের সাথে সম্রাট আকবরের রাজপুত নীতির প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। উদ্দীপকের সুলতান আজিজ প্যরিস সন্ধির দ্বারা তুর্কি সাম্রাজ্যের খ্রিষ্টান প্রজাদের বিশেষ মর্যাদা দান করেন। তার এ নীতি সম্রাট আকবরের গৃহীত রাজপুত নীতির অনুরূপ। সম্রাট আকবর রাজপুতদের প্রতি এমন সহাবস্থান নীতি গ্রহণ করেছিলেন। সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে মুঘল রাজপুত সম্পর্ক একটি নতুন মাত্রা লাভ করে। দূরদৃষ্টি, রাজনৈতিক প্রভাব ও বাস্তববুদ্ধিসম্পন্ন আকবর যথার্থই অনুধাবন করতে পেরেছিলেন, ভারতব্যাপী তার সাম্রাজ্য বিস্তারের আকাঙ্ক্ষা চরিতার্থ করতে হলে এবং নিজের বিরুদ্ধবাদী উজবেক, পারসিক, আফগান ও অন্যান্য শক্তিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে প্রভুভক্ত ও বিশ্বাসী রাজপুত শক্তিকে আপন করে নিতে হবে। রাজপুতদের সাথে সম্রাট আকবরের এ বন্ধুত্বপূর্ণ ও মিলনাত্মক নীতি ইতিহাসে 'আকবরের রাজপুত নীতি' নামে খ্যাত। এ নীতিতে প্রথম প্রচেষ্টা ছিল সম্পর্ক স্থাপন করে রাজপুতদের মন জয় করা। এ নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আকবর ১৫৬২ খ্রিষ্টাব্দে অম্বরের রাজা বিহারীমলের কন্যা যোধবাঈকে বিবাহ করেন। ১৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি বিকানীর ও জয়সলমীরের কন্যার পাণিও গ্রহণ করেন। ১৫৮৪ খ্রিষ্টাব্দে ভগবান দাসের কন্যার সাথে পুত্র সেলিমের বিবাহ দেন। এরপর রাজপুতদের তথা হিন্দুদেরকে রাজ্যের উচ্চপদে নিয়োগ প্রদান করেন। তিনি ১৫৬৬ সালে তীর্থযাত্রীকর এবং ১৫৬৪ সালে জিজিয়া কর রহিত করেন। এছাড়া বাল্যবিবাহ, শিশুহত্যা, সতীদাহ প্রথা ও বর্ণবৈষম্য নীতি বিলুপ্ত করেন। হিন্দু ও রাজপুতদের স্ব-স্ব ধর্মপালনে পূর্ণ স্বাধীনতা প্রদান করেন এবং তাদের শিক্ষাব্যবস্থার পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করেন। এভাবে আকবর দুর্ধর্ষ রাজপুতদের বশীভূত 'করে সাম্রাজ্যকে নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করেন। অতএব সুলতান আব্দুল আজিজের পদক্ষেপে সম্রাট আকবরের রাজপুত নীতি ফুটে ওঠেছে। ঘ. সম্রাট আকবরের উক্ত নীতি তথা রাজপুতনীতি ছিল রাষ্ট্র পরিচালনার দূরদর্শিতার প্রতিফলন- মন্তব্যটি যথার্থ। আকবরের রাজপুতনীতি ভারতের মুঘল শাসনের ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ। আকবরে রাজপুতনীতি ভারতের রাজনৈতিক, আর্থসামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। এ নীতির ফলে ভারতে হিন্দু-মুসলিম দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতির সম্পর্ক তৈরি হয়। আকবরের উদার নীতির কারণে রাজপুতরা মুঘলদের প্রতি বিরোধিতার নীতি ত্যাগ করে। এমনকি তারা মুঘল শক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তরে পরিণত হয়। ঐতিহাসিক মোরল্যান্ড বলেন, "এই নীতির ফলে রাজপুতদের অধিকাংশ সুনির্দিষ্টভাবে সম্রাটের অনুগত হয়ে পড়েন। যার ফলে তিনি সেবা লাভের অধিকারী হয়েছিলেন।” ভি. এ. স্মিথ বলেন, "আকবরের বিভিন্ন পদক্ষেপ রাজপুতদের সন্তুষ্ট করতে সক্ষম হয় এবং তারা বাবরের কাছে পরাজয়ের আঘাত সহজেই ভুলে যায়। বিদেশে নয় বরং আকবরকে জাতীয় নরপতি, হিসেবে মেনে নিতে রাজপুতরা মুঘল সাম্রাজ্যের স্থায়িত্ব বিধান সহযোগিতা করে।" ঐতিহাসিক উড বলেন, "সম্রাট আকবরই প্রথম বিজেতা, যিনি রাজপুতদের সোনার শিকল দিয়ে বাঁধতে সক্ষম হয়েছিলেন এবং এ বাঁধনই মুসলমান রাজত্বকালে তাদের রাজনৈতিক মর্যাদা এনে দিয়েছিল।” বস্তুত রাজপুত নীতি মধ্যযুগীয় ভারতের ইতিহাসে সম্রাট আকবরকে উদারতার এক মূর্ত প্রতীকে পরিণত করেছিল। পরিশেষে বলা যায়, সম্রাট আকবর রাজপুতনীতির মাধ্যমে ভারতে মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুপ্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

১৮৫৬ খ্রিষ্টাব্দে প্যারিসের সন্ধি দ্বারা তুর্কি সুলতান আব্দুল আজিজ, তুরস্কে আলোকিত শাসনব্যবস্থা ও সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেন। তুর্কি সাম্রাজ্যের খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বী প্রজারা যাতে সমান মর্যাদা সহকারে বসবাস করতে পারে এবং রাষ্ট্রীয় কাজে সুলতানকে সহযোগিতা করে সেজন্য তিনি এই নীতির প্রবর্তন করেন। প্রাদেশিক সভায় সকল ধর্মের প্রতিনিধিত্ব আইন ব্যবস্থা চালু করেন। এর ফলে অ-তুর্কি প্রজাদের সঙ্গে সরকারের সংযুক্তি গড়ে ওঠার সুযোগ দেখা দেয়।

ক.

হুমায়ুন শব্দের অর্থ কী?

খ.

মোগলদের পরিচয় দাও।

গ.

সুলতান আব্দুল আজিজের পদক্ষেপের সাথে সম্রাট আকবরের কোন নীতির প্রতিফলন লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

সম্রাট আকবরের নীতি তার রাষ্ট্র পরিচালনার দূরদর্শিতার প্রতিফলন- মতামত দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

ক. পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ কত সালে হয়েছিল? খ. বাবুরনামা সম্পর্কে লেখ। গ. উদ্দীপকের '?' স্থানে কোন শাসকের রাজত্বকাল নির্দে...

ক. তাজমহল কোন নদীর তীরে অবস্থিত? খ. সম্রাট শাহজাহানের শেষ জীবন সুখের ছিল না কেন? গ. উদ্দীপকের চিত্রটি কোন মুঘল সম্রাটের ...

“ ক ” রাজ্যের স্থানীয় শাসনকর্তার আমন্ত্রণ পেয়ে “ প ” রাজ্যের শাসক একটি নতুন সাম্রাজ্যে প্রতিষ্...

‘ ক ’ ইতিহাসে একজন বিখ্যাত শাসক। শাসন ক্ষমতা লাভের পর তিনি বিভিন্ন সংস্কারের প্রতি মনোযোগ দেন। প্রশাসনিক বিক...

‘আইন-ই-আকবরী’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?

কোন সম্রাটকে 'The Prince of Builders' আখ্যা দেয়া হয়েছে?

ভারতের ইতিহাসে কে সর্বপ্রথম কামান-এর ব্যবহার করেন?

অভিজাত সম্প্রদায়ের পরেই কাদের স্থান ছিল?

অম্বরের রাজার নাম কী ছিল?

অল্প বয়সে ছোট একটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন সম্রাট শিহাব। পার্শ্ববর্তী রাজ্যে অভিযান করতে গিয়ে তার রাষ্ট্রটি হাতছাড়া...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।