ক.
তাজমহল যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত।
খ.
পুত্রদের মধ্যে যুদ্ধের কারণে শাহজাহানের শেষ জীবন সুখের ছিল না। ১৬৫৭ খ্রিষ্টাব্দে শাহজাহান অসুস্থ হয়ে পড়লে গুজব রটল যে, সম্রাট মৃত্যুবরণ করেছেন। কিন্তু এক সপ্তাহ পরে শাহজাহান ঝরোকায় দর্শন দিলে জনগণ শান্ত হয়। কিন্তু ক্ষমতালিপ্স তার চার পুত্রের মধ্যে সিংহাসনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে শাহজাহান তার জ্যেষ্ঠপুত্র দারাকে উত্তরাধিকারী মনোনীত করেন। দারাশিকো পিতার অসুস্থতার সময় রাজধানীতে শয্যাপাশে ছিলেন এবং তিনি রাজকার্য পরিচালনা করতে থাকেন। কিন্তু দারার রাজোচিত ব্যবহার এবং ক্ষমতাগ্রাসে অপরাপর ভ্রাতাগণ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। অতঃপর শাহজাহান আওরঙ্গজেবের হাতে বন্দি হয়ে শেষ জীবন অতিবাহিত করেন। ফলে তার শেষ জীবন সুখের হয় নি।
গ.
উদ্দীপকের চিত্রটি মুঘল সম্রাট শাহজাহানের স্থাপত্যেকর্মের এক অমর দৃষ্টান্ত।
সম্রাট শাহজাহানের এক উজ্জ্বল, অমর মহান সৃষ্টি হলো তাজমহল। এটি পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের অন্যতম। জনৈক ফরাসি ঈসাখাঁ হচ্ছে বিশ্ববিখ্যাত তাজমহলের স্থপতি। এই স্থাপত্যশিল্প স্ত্রীপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্তরুপে আজও কোটি মানুষের হৃদয় নাড়া দেয়। উদ্দীপকে এই তাজমহলের কথাই উল্লেখ করা হয়েছে।
উদ্দীপকে যে চিত্রটি দেখনো হয়েছে সেটি হলো তাজমহল। যেটি সম্রাট শাহজাহান তার প্রিয়তমা স্ত্রী মমতাজ মহলের নামানুসারে তার সমাধির উপর নির্মাণ করেন। তাজমহল শুধু মুঘল স্থাপত্য নয় বরং এটি স্ত্রী প্রেমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্তরুপেও স্বীকৃত। ১৬৩৩ খ্রিষ্টাব্দে এটি নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০ হাজার লোকের ২২ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল এই তাজমহল। প্রায় তিন কোটি মুদ্রা ব্যয় করে তাজমহল নির্মাণ কাজ শেষ হয়। এর স্থাপত্যিক উপকরণের সুবিন্যাস এবং অলংকরণের সূক্ষ্মতা ও নৈপুণ্য দর্শকদের মুগ্ধ করে। তবে তাজমহল শুধু ইট-পাথরের তৈরি স্থাপত্য নয় বরং এটি স্ত্রীপ্রেমে অনুপ্রাণীত করার এক আমূল নিদর্শন। তাই বলা যায় তাজমহল সম্রাট শাহজাহানের স্ত্রীপ্রেমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
ঘ.
সম্রাট শাহজাহান স্থাপত্য শিল্পের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। নিচে তা বর্ণনা করা হলো:
ভারতবর্ষের ইতিহাসে শাহজাহান একজন শ্রেষ্ঠ নির্মাতা। ঐতিহাসিকেরা তাকে 'স্থাপত্য শিল্পের রাজপুত্র ' বলে অভিহিত করেন। তার সময়ে স্থাপত্যশিল্পের উৎকর্ষতার কারণে তার রাজত্বকালকে ঐতিহাসিকরা মুঘল শাসনের 'স্বর্ণযুগ ' বলে আখ্যায়িত করেছেন।
সম্রাট শাহজাহান সৌন্দর্যপিপাসু ও শিল্পীমনের মানুষ। তিনি স্থাপত্য শিল্পের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধন করেন।তার আমলে নির্মিত সৌধরাজির অনবদ্য রুপশ্রীকে ব্রিটিশ ঐতিহাসিক ফারগুসান "স্থাপত্য শিল্পে রূপায়িত মানিক্যাধার" বলে অভিহিত করেছেন।পূর্বসূরি সম্রাটদের নির্মাণশৈলী থেকে তিনি বেরিয়ে আাসেন। শাহজাহান তার আগের মুঘল সম্রাটদের আমলে স্থাপত্যের নির্মান উপকরণ লাল পাথরের স্থলে বহু মূল্যবান শ্বেত মর্মর পাথর ব্যবহার করেন। তার স্থাপত্যে রং আড়ম্বরের প্রাচুর্য বিশেষভাবে দেখা যায়।
সম্রাট শাহজাহানের শ্রেষ্ঠ স্থাপত্যে হলো ভরতের আগ্রায় অবস্থিত তাজমহল। তার শিল্পানুরাগের আরেকটি অপূর্ব নিদর্শন হলো ময়ূর সিংহাসন। এছাড়াও তিনি দিল্লিতে সুরক্ষিত লাল কেল্লা নির্মাণ করেন। দিল্লির জামে মসজিদ তার অন্যতম এক কীর্তি। সম্রাট শাহজাহানের সময় নির্মিত শিশমহল ও জুইমহল ছিলো বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ সুশোভিত আবাসগৃহ। সুতরাং স্থাপত্য শিল্পে সম্রাট শাহজাহানের অবধান অপরিসীম যা উপরে মূল্যায়ন করা হলো।