Facebook Pixel

‘ ক ’ ইতিহাসে একজন বিখ্যাত শাসক। শাসন ক্ষমতা লাভের পর তিনি বিভিন্ন সংস্কারের প্রতি মনোযোগ দেন। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের জন্য তিনি তার শাসন এলাকাকে প্রদেশ ও জেলায় বিভক্ত করেন। ' ক ' ভূমি জরিপ ও ভূমি বন্দোবস্ত পদ্ধতি চালু করেন। ডাক ব্যবস্থার উন্নয়নে তিনি বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। রাস্তাঘাট , সরাইখানা নির্মাণ করে পথচারী ও ভ্রমণকারীদের বিশেষ সুবিধা করে দেন। ক. হুমায়ুন শব্দের অর্থ কী ? খ. সম্রাট শাহজাহানকে 'The Prince of Builders' বলা হয় কেন ? গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ' ক ' এর সাথে তোমার পঠিত কোন শাসকের ভূমি জরিপের মিল পাওয়া যায় ? ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকের শাসকের কর্মকাণ্ড কি আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রয়োগ করা যায় ? বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ ভারত উপমহাদেশে মুঘল শাসন

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. হুমায়ুন শব্দের অর্থ সৌভাগ্যবান । খ. স্থাপত্যশিল্পের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধন করার কারণে সম্রাট শাহজাহানকে 'The Prince of Builders or King' বলা হয় । সম্রাট শাহজাহান ছিলেন সৌন্দর্যপিপাসু এবং শিল্পীমনের মানুষ । সাম্রাজ্যের প্রাচুর্য থাকায় সম্রাট ললিতকলা বিশেষ করে স্থাপত্যশিল্পের অনবদ্য অবদান রেখেছেন। যা শুধু তার রাজত্বকালকেই নয় প্রকারান্তরে মুঘল যুগকেই উজ্জ্বল করেছে। তার উল্লেখযোগ্য স্থাপত্যগুলো হলো - মতি মসজিদ , শীষ মহল , লালকেল্লা নামক দুর্গ , তাজমহল , দিউয়ান - ই - খাস ইত্যাদি । গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ‘ ক ’ এর সাথে আমার পঠিত আফগান শাসক শের শাহের ভূমি জরিপের মিল পাওয়া যায় । ভারতীয় ভূমি রাজস্ব নীতির উন্নয়ন ও বিকাশে শেরশাহের অবদান অবিস্মরণীয়। তিনি তার শাসনামলে নানা জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণসহ ভূমি জরিপ , রাজস্ব ব্যবস্থাপনা , রাস্তাঘাট , সরাইখানা নির্মাণ করে শেরশাহ ভারতবর্ষে অবিস্মরণীয় হয়ে রয়েছেন । উদ্দীপকে তারই প্রতিচ্ছবি লক্ষণীয় । উদ্দীপকে বর্ণিত শাসক ‘ ক ' শাসন ক্ষমতা লাভের পর বিভিন্ন সংস্কারের প্রতি মনোযোগ দেন। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের জন্য তিনি শাসন এলাকাকে প্রদেশ ও জেলায় বিভক্ত করেন। ভূমি জরিপ ও ভূমি বন্দোবস্ত পদ্ধতি চালু সহ ডাক ব্যবস্থার উন্নয়নে তিনি বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন । রাস্তাঘাট , সরাইখানা নির্মাণ করে পথচারী ও ভ্রমণকারীদের বিশেষ সুবিধা করে দেন। অনুরূপভাবে শেরশাহ শাসনকাজের সুবিধার জন্য প্রশাসনে বিকেন্দ্রীকরণ নীতি গ্রহণ করেন। শেরশাহ তার বিশাল সাম্রাজ্যকে সরকার নামক ৪৭টি প্রশাসনিক ইউনিটে বিভক্ত করেন । ডাক ব্যবস্থার প্রচলন সহ সেনাবাহিনীর চলাচলের সুবিধার জন্য শেরশাহ বেশকিছু দীর্ঘ ও প্রশস্ত রাস্তা নির্মাণ করেন। তার নির্মিত রাস্তাগুলোর মধ্যে প্রধান ছিল ‘ সড়ক - ই - আজম ' বা গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড। শেরশাহ ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থায় সংস্কার সাধন করে উৎপাদিত শস্যের গড়পড়তা তিন ভাগের এক ভাগ রাজস্ব নির্ধারণ করেন। অবশ্য মুলতানসহ কিছু অঞ্চলের রাজস্ব উৎপাদন শক্তির ওপর নির্ভর করে চার ভাগের এক ভাগ আদায় করা হতো। এছাড়া তিনি প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষকদের রাজস্ব মওকুফ এবং কৃষি ঋণের ব্যবস্থা করেন। শেরশাহ জমির ওপর কৃষকের অধিকার স্বীকার করে কৃষককে সরকারের পক্ষ থেকে ‘ পাট্টা ' প্রদান করেন। অন্যদিকে , ভূমিতে কৃষকের দায় ও কর্তব্য বর্ণনা করে কৃষকেরা রাষ্ট্রকে ‘ কবুলিয়ত ' প্রদান করত। তাই বলা যায় , উদ্দীপকের শাসকের সাথে শেরশাহের সাদৃশ্য বিদ্যমান। ঘ. হ্যাঁ , আমি মনে করি , উদ্দীপকের শাসকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ শেরশাহের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আধুনিক রাষ্ট্র প্রযোগ করা সম্ভব । আধুনিক শাসনব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সু - শৃঙ্খল প্রশাসন ব্যবস্থা। যে শাসনব্যবস্থায় একটি রাষ্ট্রের শান্তি শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তার বিধানের প্রতি যত বেশি নজর দেয়া হয় সে শাসনব্যবস্থা তত উন্নত । ফলে আধুনিক শাসনব্যবস্থায় আইনের শাসন সর্বপ্রথম বিবেচিত হয়। কেননা , একটি শাসনব্যবস্থার মূল কেন্দ্রবিন্দু জনগণ। তাই জনগণের সুখ - শান্তি , সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার প্রতি দৃষ্টি রাখা আধুনিক শাসনব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ আধুনিক শাসনব্যবস্থায় আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের ফলে একটি রাষ্ট্রের সর্বত্র ন্যায় - বিচার প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বিদ্রোহ - বিশৃঙ্খলা হবার সম্ভাবনা থাকে না। ফলে রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়। ক্ষমতার এ বিকেন্দ্রীকরণ নীতি শের শাহের শাসনব্যবস্থায়ও লক্ষণীয়। তিনি শাসনব্যবস্থাকে কার্যকরী ও গতিশীল করার লক্ষ্যে এ নীতি গ্রহণ করেছিলেন। তার শাসনব্যবস্থা পরিচালিত হয়েছিল মূলত জনগণের কল্যাণের উদ্দেশ্যে । যেটি আধুনিক শাসনব্যবস্থার একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। শেরশাহের সুষ্ঠু ভূমি জরিপ ব্যবস্থার ফলে কৃষি ও কৃষকের কল্যাণ সাধিত হয়। এছাড়া তার প্রবর্তিত পুলিশ ও গোয়েন্দা ব্যবস্থা আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করে জননিরাপত্তা সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করত। ঈশ্বরী প্রসাদের মতে , ‘ শেরশাহের পুলিশি ব্যবস্থা সনাতনি হলেও ছিল শক্তিশালী ও উন্নত ধরনের। পরিশেষে বলা যায় , শেরশাহের শাসনব্যবস্থা আধুনিক শাসনব্যবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

‘ক’ ইতিহাসে একজন বিখ্যাত শাসক। শাসন ক্ষমতা লাভের পর তিনি বিভিন্ন সংস্কারের প্রতি মনোযোগ দেন। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের জন্য তিনি তার শাসন এলাকাকে প্রদেশ ও জেলায় বিভক্ত করেন। 'ক' ভূমি জরিপ ও ভূমি বন্দোবস্ত পদ্ধতি চালু করেন। ডাক ব্যবস্থার উন্নয়নে তিনি বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। রাস্তাঘাট, সরাইখানা নির্মাণ করে পথচারী ও ভ্রমণকারীদের বিশেষ সুবিধা করে দেন।

ক.

হুমায়ুন শব্দের অর্থ কী ?

খ.

সম্রাট শাহজাহানকে 'The Prince of Builders' বলা হয় কেন ?

গ.

উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' এর সাথে তোমার পঠিত কোন শাসকের ভূমি জরিপের মিল পাওয়া যায় ? ব্যাখ্যা করো।

ঘ.

উদ্দীপকের শাসকের কর্মকাণ্ড কি আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রয়োগ করা যায় ? বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

ক. পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ কত সালে হয়েছিল? খ. বাবুরনামা সম্পর্কে লেখ। গ. উদ্দীপকের '?' স্থানে কোন শাসকের রাজত্বকাল নির্দে...

ক. তাজমহল কোন নদীর তীরে অবস্থিত? খ. সম্রাট শাহজাহানের শেষ জীবন সুখের ছিল না কেন? গ. উদ্দীপকের চিত্রটি কোন মুঘল সম্রাটের ...

“ ক ” রাজ্যের স্থানীয় শাসনকর্তার আমন্ত্রণ পেয়ে “ প ” রাজ্যের শাসক একটি নতুন সাম্রাজ্যে প্রতিষ্...

‘আইন-ই-আকবরী’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?

কোন সম্রাটকে 'The Prince of Builders' আখ্যা দেয়া হয়েছে?

ভারতের ইতিহাসে কে সর্বপ্রথম কামান-এর ব্যবহার করেন?

অভিজাত সম্প্রদায়ের পরেই কাদের স্থান ছিল?

অম্বরের রাজার নাম কী ছিল?

অল্প বয়সে ছোট একটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন সম্রাট শিহাব। পার্শ্ববর্তী রাজ্যে অভিযান করতে গিয়ে তার রাষ্ট্রটি হাতছাড়া...

'আইন-ই-আকবরী' গ্রন্থের রচয়িতা কে?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।