ক.
পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ ১৫৫৬ সালে হয়েছিল।
খ.
'বাবরনামা' হচ্ছে সম্রাট বাবরের আত্মজীবনীমূলক ঐতিহাসিক একটি শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ। তিনি গদ্য সাহিত্যে তুর্কি ভাষায় এটি রচনা করেন। এ গ্রন্থে বাবর তার পূর্ব পুরুষদের কথা, তার জন্ম, শৈশব, কৈশোরের কথা উল্লেখ করেছেন। এ গ্রন্থে বাবর তার বোকামি ও বার্থতাগুলো অকপটে তুলে ধরেছেন। এ আত্মজীবনীতে ভারতের আবহাওয়া, পরিবেশ, ফলমূল ও মানুষের বৈশিষ্ট্যের কথা বর্ণনা করেছেন।
গ.
উদ্দীপকের '?' স্থানে সম্রাট শাহজাহানের রাজত্বকাল নির্দেশ করে।
উদ্দীপকের তাজমহল, ময়ূর সিংহাসন ও পুত্রদের মধ্যে গৃহযুদ্ধ ইত্যাদি তথ্যাবলি সম্রাট শাহজাহানের রাজত্বকালের প্রতি নির্দেশ করে। সম্রাট শাহজাহান ১৬৫৭ খ্রিষ্টাব্দের ৬ সেপ্টেম্বর অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিন্তু তার এ অসুস্থতার সংবাদ গুজবে পরিণত হয় যে সম্রাট শাহজাহান মৃত্যুবরণ করেছেন। এর ফলে সম্রাট শাহজাহানের সন্তানদের মধ্যে উত্তরাধিকার দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এ সময় সুজা ছিলেন বাংলার সুবাদার, আওরঙ্গজেব দাক্ষিণাত্যের সুবাদার, মুরাদ গুজরাটের সুবাদার। এ সময় দারাশিকোহ আগ্রায় সম্রাটের শয্যাপাশে ছিলেন। সুজা বাংলায় মুরাদ গুজরাটে নিজেকে সম্রাট ঘোষণা করে রাজধানীর দিকে অগ্রসর হন। দারাশিকোহ পুত্র সুলায়মান ও রাজা জয়সিংহের নেতৃত্বে একটি বিশাল বাহিনী প্রেরণ করেন। বারানসী ৮ কিলোমিটার দূরে বাহাদুর গড়ে সুজার বাহিনী ও দারাশিকোহর বাহিনীর মধ্যে তুমুল যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে সুজা পরাজিত হয়ে বাংলার দিকে পালিয়ে যান। এদিকে মুরাদ ও আওরঙ্গজেব সম্মিলিত বাহিনী উজ্জয়িনীর দিকে অগ্রসর হয়ে ধর্মাটের গ্রামে তাঁবু স্থাপন করেন। এ সম্মিলিত বাহিনী মোকাবিলা করার জন্য দারাশিকোহ একটি বিশাল বাহিনী প্রেরণ করেন। কিন্তু যুদ্ধে দারাশিকোর বাহিনী পরাজিত হয়। এর ফলে দারাশিকো পুনরায় বিশাল বাহিনী গঠন করে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেন। ১৬৫৮ খ্রিষ্টাব্দে সামুগড়ের যুদ্ধে দারাশিকোহ পরাজিত হন। বিজয়ী আওরঙ্গজেব মুরাদকে বাদ দিয়ে ১৬৫৮ খ্রিস্টাব্দের জুলাই মাসে সিংহাসনে আরোহণ করেন। তাছাড়া তাজমহল, ময়ূর সিংহাসন নির্মাণ করে স্থাপত্যপ্রেমের অনন্য নিদর্শন স্থাপন করেন।
অতএব উদ্দীপকের '?' চিহ্নিত স্থানটি সম্রাট শাহজাহানের রাজত্বকে নির্দেশ করে।
ঘ.
সম্রাট শাহজাহান স্থাপত্য প্রীতির অনুপম নিদর্শন স্থাপন করেন। মুঘল সাম্রাজ্যের সম্রাট হওয়ার পর সম্রাট শাহজাহান সাম্রাজ্য বিস্তারের সাথে সাথে ভারতে স্থাপত্যকীর্তির ব্যাপক উন্নতি সাধন করেন। তার স্থাপত্যকীর্তির জন্য তিনি ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে রয়েছেন। তার শাসনামলে স্থাপত্যকীর্তির ক্ষেত্রে তিনি যে উৎকর্ষ সাধন করেন তা তাকে ভারত উপমহাদেশের শাসকদের মধ্যে অদ্বিতীয় স্থানের অধিকারী করে দিয়েছে। স্থাপত্যকীর্তির মধ্যে তার সর্বশেষ কীর্তি হলো প্রিয়তমা পত্নী মমতাজ মহলের সমাধির ওপর নির্মিত 'তাজমহল' ও স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসার প্রদর্শনস্বরূপ তিনি এ মহলটি নির্মাণ করেন। তিনি আগ্রা হতে দিল্লিতে রাজধানী স্থানান্তর করে। সেখানে একটি শহর তৈরিকালে অনেক রাজপ্রসাদ নির্মাণ করেন। তিনি দিল্লি, আগ্রা, লাহোর, 'কাবুল, কাশ্মিরসহ বিভিন্ন স্থানে অনেক সুন্দর প্রাসাদ ও মসজিদ নির্মাণ করেন। বাদশাহী মসজিদ তার মধ্যে অন্যতম। এছাড়া লাহোরের শালিমার উদ্যান তার স্থাপত্যকীর্তির নিদর্শন বহন করে। তাছাড়াও তার নির্মিত দেওয়ান-ই-আম, দেওয়ান-ই-খাস, লালকেল্লা, রঙমহল, মতি মসজিদ, দিল্লির নিজামউদ্দিন আউলিয়ার শ্বেতপ্রস্তর নির্মিত স্মৃতিসৌধ, আজমীরের আনাসাগরের মর্মর পাটাতন এবং পাঁচটি চন্দ্রাতাপ নির্মাণ অন্যতম। এভাবে সম্রাট শাহজাহান বিভিন্ন প্রসাদ, মসজিদ, স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করে স্থাপত্যকীর্তিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।