Facebook Pixel

অল্প বয়সে ছোট একটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন সম্রাট শিহাব। পার্শ্ববর্তী রাজ্যে অভিযান করতে গিয়ে তার রাষ্ট্রটি হাতছাড়া হয়।ভাগ্যাহত এ যুবক পুনরায় শক্তি সঞ্চয় করে উন্নত রণতরী, সমরাস্ত্র ও কামানের দ্বারা প্রতিবেশীর বিশাল সৈন্যবাহিনীকে পরাজিত করেন।অত:পর তিনি উক্ত রাজ্যের ধ্বংসস্তূপের ওপর একটি নতুন সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করেন। ক. মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা কে? খ. পানিপথের প্রথম যুদ্ধের গুরুত্ব সংক্ষেপে ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ভাগ্যাহত শাসক শিহাবের সাথে তোমার পাঠ্যপুস্তকের মুঘল বংশের কোন শাসকের সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়? পর্যালোচনা কর। ঘ. ভারতবর্ষে নতুন সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে উক্ত শাসকের কৃতিত্ব আলোচনা কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ ভারত উপমহাদেশে মুঘল শাসন

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা বাবর। খ. পানিপথের প্রথম যুদ্ধ ভারতবর্ষের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা। এ যুদ্ধের ফলে তিন শতাব্দীর অধিক কাল স্থায়ী লোদী বংশের শাসনের পরিসমাপ্তি ঘটে। ইব্রাহীম লোদীর ব্যক্তিগত দুর্বলতা, অকর্মণ্যতা এবং অপরিণামদর্শিতা এবং তার সেনাবাহিনীর অপটুতা ও আত্মীয়-স্বজনের বিরোধিতার ফলেই সুদক্ষ সেনাপতি, দৃঢ়সংকল্প ও অদম্য স্পৃহার অধিকারী বাবরের হাতে তার শোচনীয় পরাজয় ঘটে। ড. ঈশ্বরীপ্রসাদ বলেন, "পানিপথের যুদ্ধ দিল্লি সাম্রাজ্যকে বাবরের হস্তগত করে। লোদী বংশের ক্ষমতা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায় এবং হিন্দুস্থানের সার্বভৌমত্ব চাগতাই তুর্কিদের নিকট হস্তান্তরিত হয়। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ভাগ্যাহত শাসক শিহাবের সাথে আমার পাঠ্যপুস্তকের মুঘল বংশের সম্রাট বাবরের সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়। ১৪৯৪ খ্রিস্টাব্দে পিতার আকস্মিক মৃত্যুর পর মাত্র ১১ বছর বয়সে বাবর ফারগানার সিংহাসনে উপবিষ্ট হন। সিংহাসন লাভের পর পরই তার দুই পিতৃব্য ও আত্মীয়স্বজন এবং উজবেক নেতা সাইবানি খানের বিরোধিতার মুখে পড়েন। ১৪৯৭ খ্রিষ্টাব্দে বাবর সমরখন্দ দখল করেন। কিন্তু ভাগ্যবিপর্যয়ে পতিত হয়ে তিনি সমরখন্দ হারান। ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দে ফারগানাও হস্তচ্যুত হয়। ১৫০২ খ্রিস্টাব্দে সমরখন্দ অধিকার করেন। পরবর্তীকালে ১৫০৩ খ্রিস্টাব্দে আরচিয়ানের যুদ্ধে সাইবানি খানের কাছে পরাজিত হয়ে ফারগানা ও সমরখন্দ থেকে বিতাড়িত হন। এ সময় কাবুলের অভ্যন্তরীণ অরাজকতার সুযোগে ১৫০৪ খ্রিষ্টাব্দে কাবুল অধিকার করে বাদশাহ উপাধি নিয়ে রাজত্ব করতে থাকেন। তিনি সমরখন্দ দখল করলেও তা আবারও হাতছাড়া হয়ে যায়। এরপর ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি কাবুলেই রাজত্ব করেন। কিন্তু অসাধারণ সাহসী বাবর এতেই সন্তুষ্ট থাকেননি। ১৫২৬ খ্রি. তিনি পানিপথের প্রথম যুদ্ধে সুলতান ইব্রাহিম লোদিকে পরাজিত করে দিল্লির সুলতানি সাম্রাজ্যের ধ্বংসস্তূপের ওপর মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। উদ্দীপকে দেখা যায়, শিহাব অল্প বয়সে ছোট একটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহণ করলেও রাষ্ট্রটি হাতছাড়া হয়। তিনি শক্তি সঞ্চয় করে উন্নত রণতরী, সমরাস্ত্র ও কামানের দ্বারা প্রতিবেশীর বিশাল সৈন্যবাহিনীকে পরাজিত করেন। অতঃপর তিনি উক্ত রাজ্যের ধ্বংসস্তূপের ওপর একটি নতুন সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের শিহাবের সাথে মুঘল শাসনের প্রতিষ্ঠাতা বাবরই অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। ঘ. ভারতবর্ষে নতুন সাম্রাজ্যের 'প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে উক্ত শাসক তথা সম্রাট বাবরের কৃতিত্ব অপরিসীম। সম্রাট বাবর কেবল নির্ভীক সৈনিক, দক্ষ সেনাধ্যক্ষ, সুদক্ষ অস্ত্র পরিচালক, প্রশংসনীয় ঘোড়সওয়ারই ছিলেন না; বরং আলেকজান্ডারের মতো দেশ জয়ের নেশায় বিভোর থাকতেন। পানিপথের প্রথম যুদ্ধ, খানুয়ার যুদ্ধ এবং গৌগরার যুদ্ধে তার সাফল্য তাকে ভারতীয় সমর ইতিহাসে উচ্চাসনে অধিষ্ঠিত করেছে। বাবর মাত্র ১১ বছর বয়স থেকে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হন। বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে তিনি প্রথমে কাবুলে এবং পরে ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। শুধু প্রতিষ্ঠা করেই ক্ষান্ত হননি, তার ভিত্তি সুদৃঢ় করে একে একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্যে পরিণত করেন। বাবরের চার বছরের শাসনামলে যুদ্ধবিগ্রহ কেটে যায়। এ অবস্থায় নবপ্রতিষ্ঠিত মুঘল সাম্রাজ্যের শাসনব্যবস্থায় কোনো প্রকার পরিবর্তন ও সংস্কার সাধন করা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। তথাপি তিনি নিজেকে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা হ্রাস করেন। প্রাদেশিক শাসনকার্য পরিচালনার জন্য প্রত্যেক প্রদেশে একজন ওয়ালী (প্রাদেশিক কর্মকর্তা), একজন দিওয়ান (রাজস্ব কর্মকর্তা), শিকদার (সামরিক কর্মকর্তা) এবং কোতওয়াল (নগরকর্তা) ছিল। তিনি প্রশাসনিক কাজে তুর্কি, আফগান ও হিন্দুদের সমান সুযোগ দিতেন। সমগ্র সাম্রাজ্যে ১৫ মাইল অন্তর তিনি ডাক চৌকির ব্যবস্থা করেন। প্রজারঞ্জক বাবর দিল্লি ও আগ্রায় ২০টি উদ্যান, বহু পাকা নর্দমা, সেতু, অট্টালিকা নির্মাণ করেন। পরিশেষে বলতে পারি, সম্রাট বাবর শাসক হিসেবে ব্যাপক কৃতিত্বের দাবিদার। তিনি ভারতে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন এবং একে শক্তিশালী ভিত্তির উপর স্থাপিত করেন। যা ১৮৫৮ সাল পর্যন্ত টিকে ছিল।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

অল্প বয়সে ছোট একটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন সম্রাট শিহাব। পার্শ্ববর্তী রাজ্যে অভিযান করতে গিয়ে তার রাষ্ট্রটি হাতছাড়া হয়।ভাগ্যাহত এ যুবক পুনরায় শক্তি সঞ্চয় করে উন্নত রণতরী, সমরাস্ত্র ও কামানের দ্বারা প্রতিবেশীর বিশাল সৈন্যবাহিনীকে পরাজিত করেন।অত:পর তিনি উক্ত রাজ্যের ধ্বংসস্তূপের ওপর একটি নতুন সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করেন।

ক.

মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা কে?

খ.

পানিপথের প্রথম যুদ্ধের গুরুত্ব সংক্ষেপে ব্যাখ্যা কর।

গ.

উদ্দীপকে বর্ণিত ভাগ্যাহত শাসক শিহাবের সাথে তোমার পাঠ্যপুস্তকের মুঘল বংশের কোন শাসকের সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়? পর্যালোচনা কর।

ঘ.

ভারতবর্ষে নতুন সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে উক্ত শাসকের কৃতিত্ব আলোচনা কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

ক. পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ কত সালে হয়েছিল? খ. বাবুরনামা সম্পর্কে লেখ। গ. উদ্দীপকের '?' স্থানে কোন শাসকের রাজত্বকাল নির্দে...

ক. তাজমহল কোন নদীর তীরে অবস্থিত? খ. সম্রাট শাহজাহানের শেষ জীবন সুখের ছিল না কেন? গ. উদ্দীপকের চিত্রটি কোন মুঘল সম্রাটের ...

“ ক ” রাজ্যের স্থানীয় শাসনকর্তার আমন্ত্রণ পেয়ে “ প ” রাজ্যের শাসক একটি নতুন সাম্রাজ্যে প্রতিষ্...

‘ ক ’ ইতিহাসে একজন বিখ্যাত শাসক। শাসন ক্ষমতা লাভের পর তিনি বিভিন্ন সংস্কারের প্রতি মনোযোগ দেন। প্রশাসনিক বিক...

‘আইন-ই-আকবরী’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?

কোন সম্রাটকে 'The Prince of Builders' আখ্যা দেয়া হয়েছে?

ভারতের ইতিহাসে কে সর্বপ্রথম কামান-এর ব্যবহার করেন?

অভিজাত সম্প্রদায়ের পরেই কাদের স্থান ছিল?

অম্বরের রাজার নাম কী ছিল?

'আইন-ই-আকবরী' গ্রন্থের রচয়িতা কে?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।