Facebook Pixel

হাবিব সাহেব একজন চেয়ারম্যান ছিলেন। তার এলাকায় অধিকাংশ মানুষ ছিলেন ভিন্ন ধর্মাবলম্বী। তিনি বুঝতে পারেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণকে অসন্তুষ্ট রেখে এলাকার উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই তিনি ভিন্ন ধর্মের লোকদের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক, করেন। তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের সুব্যবস্থা করে দেন। তাদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেন। ফলে উক্ত সম্প্রদায়ের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। ক. সম্রাজী নূরজাহানের প্রকৃত নাম কী? খ. সম্রাট জাহাঙ্গীরের নাম সেলিম রাখার কারণ কী?: গ. উদ্দীপকে কোন মুঘল শাসকের কোন নীতি গ্রহণের ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকের মতো উক্ত শাসকের এই নীতি গ্রহণের পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নাকি ব্যক্তিস্বার্থ ছিল? তোমার মতের পক্ষে যুক্তি দাও।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ ভারত উপমহাদেশে মুঘল শাসন

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. নূরজাহানের প্রকৃত নাম ছিল 'মেহের-উন-নেসা'। খ. সম্রাট আকবরের অনেকগুলো সন্তান শিশু অবস্থায় মারা গেলে তিনি চিন্তিত হয়ে পড়েন এবং পরবর্তী উত্তরাধিকারী হিসেবে একটি পুত্র সন্তান লাভের আশায় আজমীরের খাজা মঈনুদ্দিন চিশতির দরবারে গিয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন এবং সেখানে অবস্থানরত মশহুর দরবেশ শেখ সেলিম চিশতির হাতে বায়াতও গ্রহণ করেন। অবশেষে জাহাঙ্গীরের জন্ম হয়। সম্রাট আকবর বিশ্বাস করেন যে, গুরু সেলিম চিশতির দোয়ার বরকতেই তিনি এ সন্তান লাভ করেছেন। এজন্য সম্রাট আদর করে তার ছেলেন নাম দরবেশের নামের সাথে মিল রেখে সেলিম রাখেন। গ. উদ্দীপকে মুঘল সম্রাট আকবরের রাজপুত নীতি গ্রহণের ইঙ্গিত করা হয়েছে। সম্রাট আকবর ভারতবর্ষে হিন্দু জাগরণের নেতৃত্বদানকারী রণদক্ষ ও নির্ভীক রাজপুতদের সহযোগিতা ও সহানুভূতি লাভের জন্য তাদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ১৫৬২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি অম্বরের রাজা বিহারীমলের কন্যা যোধাবাঈকে বিবাহ করেন। ১৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি জয়পুরের ভগবান দাসের কন্যার সাথে পুত্র সেলিমের বিবাহ দেন। এভাবে সম্রাট আকবর ভারতবর্ষে হিন্দুদের সর্বাপেক্ষা সাহসী, শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত বীরদের সর্বাত্মক সাহায্য, সহযোগিতা, বন্ধুত্ব ও সম্প্রীতি লাভে সক্ষম হন। আবুল ফজলের 'আইন-ই-আকবরী' হতে পাওয়া যায় আকবর রাজপুতদের প্রশাসনিক ও সামরিক বিভাগের উচ্চপদগুলোতে নিযুক্ত করে তাদের সহানুভূতি ও সহযোগিতা লাভ করেন। অপরদিকে, বিজিত রাজ্যগুলোর রাজপুতদের হস্তে শাসন ভার ছেড়ে দিয়ে তাদের সহযোগিতা লাভ করেন। প্রদত্ত উদ্দীপকটি পাঠ করলে আমরা দেখতে পাই, হাবিব সাহেব একজন চেয়ারম্যান ছিলেন। তার এলাকায় অধিকাংশ মানুষ ছিলেন ভিন্ন ধর্মাবলম্বী। তিনি বুঝতে পারেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণকে অসন্তুষ্ট রেখে এলাকার উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই তিনি ভিন্ন ধর্মের লোকদের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক করেন। তাদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেন। ফলে উক্ত সম্প্রদায়ের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। যা সম্রাট আকবরের রাজপুত্রদের প্রতি গৃহীত নীতি অর্থাৎ বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন ও মহাবস্থান নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অতএব উদ্দীপকে আকবরের রাজপুত্র নীতি গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। ঘ. উক্ত সম্রাট তথা সম্রাট আকবরের রাজপুতনীতির উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক। সম্রাট আকবর রাজনৈতিকভাবে সমর্থন আদায়ের জন্য রাজপুত্রদের প্রতি বৈবাহিক ও সহানুভূতিশীল নীতি গ্রহণ করেন। Muslim Rule in India গ্রন্থে ডি. ডি মহাজন বলেন, "Thus by a policy of conciliation, Akbar was able to win overe the affection of the Rajputs and thereby solidify the foundation of the Mughat Empire in the country." এর ফলে রাজ্য বিস্তার ও রাজ্য শাসনের ব্যাপারে এবং এদেশে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক উন্নতি ও প্রগতির ক্ষেত্রে হিন্দু তথা রাজপুতদের অবদান অনস্বীকার্য। প্রকৃতপক্ষে আকবরের সাম্রাজ্য ছিল একাধারে মুঘল শৌর্য-বীর্য ও কূটনীতির এবং অপরপক্ষে, রাজপুতদের বীরত্ব ও কর্মদক্ষতার মিলিত ফল। মোরল্যান্ড বলেন, "এ নীতির ফলে রাজপুতনার অধিকাংশ রাজপুত সুনির্দিষ্টভাবে সম্রাটের অনুগত হয়ে পড়ে, যার ফলে তিনি ভারতে সর্বশ্রেষ্ঠ ৫০,০০০ অশ্বারোহী বাহিনীর সেবা লাভের অধিকারী হয়েছিলেন।” লেনপুল বলেন, "সুদক্ষ হিন্দুদের নিযুক্ত করার ফলে আকবরের শাসনব্যবস্থায় যথেষ্ট উন্নতি পরিলক্ষিত হয়েছিল।” প্রকৃতপক্ষে রাজপুতদের প্রতি উদার আচরণের দ্বারাই সম্রাট আকবর প্রজাদের সর্বজনীন আতিথ্য পেয়েছিলেন এবং এর ফলে মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত্তিমূল সুদৃঢ় ও শতাধিক বছর স্থায়ী হয়েছিল। সম্রাট আকবর কখনই সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কিংবা ধর্মনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে রাজপুতনায় হস্তক্ষেপ করেনি। প্রকৃতপক্ষে সম্রাট আকবর সমস্ত রাজপুতদের নিজরাজ্যের অংশীদার করে নেওয়ায়, সমগ্র হিন্দু সম্প্রদায় মুঘল সাম্রাজ্যের অনুগত হয়ে পড়েছিল। অতএব, সম্রাট আকবরের রাজপুত্র নীতি ব্যক্তিস্বার্থে নয় এটি ছিল রাজনৈতিক স্বার্থে গৃহীত পদক্ষেপ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

হাবিব সাহেব একজন চেয়ারম্যান ছিলেন। তার এলাকায় অধিকাংশ মানুষ ছিলেন ভিন্ন ধর্মাবলম্বী। তিনি বুঝতে পারেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণকে অসন্তুষ্ট রেখে এলাকার উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই তিনি ভিন্ন ধর্মের লোকদের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক, করেন। তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের সুব্যবস্থা করে দেন। তাদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেন। ফলে উক্ত সম্প্রদায়ের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে।

ক.

সম্রাজী নূরজাহানের প্রকৃত নাম কী?

খ.

সম্রাট জাহাঙ্গীরের নাম সেলিম রাখার কারণ কী?:

গ.

উদ্দীপকে কোন মুঘল শাসকের কোন নীতি গ্রহণের ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

উদ্দীপকের মতো উক্ত শাসকের এই নীতি গ্রহণের পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নাকি ব্যক্তিস্বার্থ ছিল? তোমার মতের পক্ষে যুক্তি দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

ক. পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ কত সালে হয়েছিল? খ. বাবুরনামা সম্পর্কে লেখ। গ. উদ্দীপকের '?' স্থানে কোন শাসকের রাজত্বকাল নির্দে...

ক. তাজমহল কোন নদীর তীরে অবস্থিত? খ. সম্রাট শাহজাহানের শেষ জীবন সুখের ছিল না কেন? গ. উদ্দীপকের চিত্রটি কোন মুঘল সম্রাটের ...

“ ক ” রাজ্যের স্থানীয় শাসনকর্তার আমন্ত্রণ পেয়ে “ প ” রাজ্যের শাসক একটি নতুন সাম্রাজ্যে প্রতিষ্...

‘ ক ’ ইতিহাসে একজন বিখ্যাত শাসক। শাসন ক্ষমতা লাভের পর তিনি বিভিন্ন সংস্কারের প্রতি মনোযোগ দেন। প্রশাসনিক বিক...

‘আইন-ই-আকবরী’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?

কোন সম্রাটকে 'The Prince of Builders' আখ্যা দেয়া হয়েছে?

ভারতের ইতিহাসে কে সর্বপ্রথম কামান-এর ব্যবহার করেন?

অভিজাত সম্প্রদায়ের পরেই কাদের স্থান ছিল?

অম্বরের রাজার নাম কী ছিল?

অল্প বয়সে ছোট একটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন সম্রাট শিহাব। পার্শ্ববর্তী রাজ্যে অভিযান করতে গিয়ে তার রাষ্ট্রটি হাতছাড়া...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।