Facebook Pixel

সম্রাট হাবিব শাহ তার সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে পরাজিত করার পর পুত্রকে অগ্রভাগে পাঠিয়ে 'ক' দলপতিগণকে দমন করার উদ্দেশ্যে যুদ্ধে যাত্রা করেন। পথিমধ্যে অনেক দলপতি তার বশ্যতা স্বীকার করেন। পরবর্তীতে সম্রাট হাবিব এক নদীর তীরে সম্মিলিত বাহিনীকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেন। এটাই ছিল সম্রাট হাবিবের ঘটনাবহুল জীবনের শেষ যুদ্ধ। এই যুদ্ধের মধ্য দিয়ে তিনি অনুকূল অবস্থার মধ্য দিয়ে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন। ক. পানিপথের প্রথম যুদ্ধ কত সালে সংঘটিত হয়? খ. শেরশাহের সামরিক সংস্কার সম্পর্কে লেখ। গ. উদ্দীপকে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতার সাথে কোন যুদ্ধের মিল লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উক্ত যুদ্ধের তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ ভারত উপমহাদেশে মুঘল শাসন

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. পানিপথের প্রথম যুদ্ধ ১৫২৬ সালে সংঘটিত হয়। খ. সামন্তপ্রথার উচ্ছেদ সাধন করে শেরশাহ সৈন্যদের নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি, প্রশাসনিক কার্যাদি, বেতন-ভাতাদি ইত্যাদি নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতেন। সুলতান আলাউদ্দিন খলজির অনুকরণে তিনি যুদ্ধ সংশ্লিষ্ট ঘোড়াকে দাগ (অশ্ব চিহ্নিতকরণ)-এর আওতায় নিয়ে আসেন। সৈন্যদের সাধারণ নাগরিকদের নিকট হতে আলাদা করার লক্ষ্যে তিনি চেরা ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন। সেনাবাহিনীর ওপর পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি সেনাবাহিনীকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দলে ভাগ করেন। একেকটি দলের ফৌজ এবং দলের প্রধানকে ফৌজদার বলা হতো। আনুগত্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে তিনি সেনাদের প্রতি ২ বছর পর পর স্থানান্তরের বা বদলির ব্যবস্থা করেন। গ. উদ্দীপকে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতার সাথে গোগরার যুদ্ধের মিল লক্ষ করা যায়। উদ্দীপকে দেখা যায়, সম্রাট হাবিব শাহ তার সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে পরাজিত করার পর পুত্রকে অগ্রভাগে পাঠিয়ে 'ক' দলপতিগণকে দমন করার উদ্দেশ্যে যুদ্ধে যাত্রা করেন। পথিমধ্যে অনেক দলপতি তার বশ্যতা স্বীকার করেন। পরবর্তীতে সম্রাট হাবিব এক নদীর তীরে সম্মিলিত বাহিনীকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেন। এটাই ছিল সম্রাট হাবিবের ঘটনাবহুল জীবনের শেষ যুদ্ধ। যা গোগরার যুদ্ধকে নির্দেশ করে। কেননা এটি ছিল সম্রাট বাবরের জীবনে শেষ যুদ্ধ। দিল্লির শেষ সুলতান ইব্রাহিম লোদীর ভাই ও জৌনপুরের শাসনকর্তা ছিলেন মাহমুদ লোদী। বাংলার শাসক নুসরত শাহ ছিলেন ইব্রাহিম লোদীর জামাতা এবং বিহারের শাসনকর্তা ছিলেন শেরশাহ। মাহমুদ লোদী খানুয়ার যুদ্ধে বাবরের বিরুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু সেখান হতে তিনি পালিয়ে এসে উত্তর প্রদেশের পূর্বাংশে নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন। বাবর তার পুত্র আসকারীর নেতৃত্বে একটি অগ্রবর্তী বাহিনী মাহমুদ লোদীর বিরুদ্ধে প্রেরণ করেন। তিনি নিজে একটি ছোট বাহিনী নিয়ে অগ্রবর্তী বাহিনীকে অনুসরণ করেন। মুঘল বাহিনী পথিমধ্যে কনৌজ, বারানসি, এলাহাবাদ দখল করে। বাবরের আগমনের সংবাদে আফগান সর্দারদের কেউ কেউ বাবরের বশ্যতা স্বীকার করেন। মাহমুদ লোদী ভাতিজি জামাই বাংলার শাসক নুসরত শাহের শরণাপন্ন হন। মাহমুদ লোদী, বিহারের শেরখান ও বাংলার শাসক নুসরত শাহ সম্মিলিতভাবে বাবরের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। ১৫২৯ খ্রিষ্টাব্দের ৬ মে পাটনার উত্তরে গঙ্গার সঙ্গে গোগরা নদীর মোহনায় উভয় বাহিনী মুখোমুখি হয়। আফগান বাহিনী এ যুদ্ধে পরাজিত হয়। তাদের পরাজিত হওয়ার মাধ্যমে লোদী বংশের শেষ ভরসা মাহমুদ লোদীর শাসনের সম্ভাবনাটুকুও বিনষ্ট হয়। অতএব উদ্দীপকে সম্রাট বাবরের গোগরার যুদ্ধের মিল রয়েছে। ঘ. উক্ত যুদ্ধ তথা গোগরার যুদ্ধের তাৎপর্য অপরিসীম। ১৫২৯ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত গোগরার যুদ্ধে গোলন্দাজ বাহিনী মুঘলদের বিজয়ী হতে সাহায্য করে। আফগান বাহিনী যুদ্ধে পরাজিত হয়। তাদের পরাজিত হওয়ার মাধ্যমে লোদী বংশের শেষ ভরসা মাহমুদ লোদীর শাসনের সম্ভাবনাটুকুও বিনষ্ট হয়। বাংলার শাসক নুসরত শাহ বাবরের সাথে একটি চুক্তি বা সন্ধি সম্পাদন করেন। এতে উভয় রাজ্যের সার্বভৌমত্ব, সীমানা ইত্যাদির প্রতি স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। বাবরের কোনো শত্রুকে নুসরত শাহ আশ্রয় দেবেন না- এই মর্মে বাবরকে প্রতিশ্রুতি দেন। গোগরার যুদ্ধের মাধ্যমে বাবর সকল শক্তির ওপর বিজয়ী হন। পানিপথের প্রথম যুদ্ধ, খানুয়ার যুদ্ধ এবং গোগরার যুদ্ধের পর আর কোনো শক্তি বাবরকে চ্যালেঞ্জ করার মতো অবশিষ্ট থাকল না। সুলতানি সাম্রাজ্য মুঘল সাম্রাজ্যে পরিণত হলো। এ যুদ্ধ ছিল পানিপথের প্রথম যুদ্ধ ও খানুয়ার যুদ্ধের পরিপূরক। এ যুদ্ধে পরাজয়ের ফলে ভারতবর্ষে লোদি-আফগানদের পুনরুত্থানের সম্ভাবনা। সম্পূর্ণরূপে ধূলিস্যাৎ হয়। অন্যদিকে, সমগ্র উত্তরাঞ্চলের ওপর বাবর তথা মুঘলদের আধিপত্য নিশ্চিত হয়। বাবরের রাজ্যসীমা অক্ষু নদী থেকে গোগরা নদী এবং হিমালয় থেকে গোয়ালিয়র পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করে। অতএব, গোগরার যুদ্ধ সম্রাট বাবরকে অনুকূল পরিবেশে ক্ষমতা গ্রহণে সহায়তা করে এবং ভারতে মুঘলদের প্রতিদ্বন্দী শক্তির বিনাশ ঘটায়। তাই ভারতবর্ষের ইতিহাসে গোগরার যুদ্ধের গুরুত্ব অপরিসীম।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

সম্রাট হাবিব শাহ তার সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে পরাজিত করার পর পুত্রকে অগ্রভাগে পাঠিয়ে 'ক' দলপতিগণকে দমন করার উদ্দেশ্যে যুদ্ধে যাত্রা করেন। পথিমধ্যে অনেক দলপতি তার বশ্যতা স্বীকার করেন। পরবর্তীতে সম্রাট হাবিব এক নদীর তীরে সম্মিলিত বাহিনীকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেন। এটাই ছিল সম্রাট হাবিবের ঘটনাবহুল জীবনের শেষ যুদ্ধ। এই যুদ্ধের মধ্য দিয়ে তিনি অনুকূল অবস্থার মধ্য দিয়ে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন।

ক.

পানিপথের প্রথম যুদ্ধ কত সালে সংঘটিত হয়?

খ.

শেরশাহের সামরিক সংস্কার সম্পর্কে লেখ।

গ.

উদ্দীপকে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতার সাথে কোন যুদ্ধের মিল লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

উক্ত যুদ্ধের তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

ক. পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ কত সালে হয়েছিল? খ. বাবুরনামা সম্পর্কে লেখ। গ. উদ্দীপকের '?' স্থানে কোন শাসকের রাজত্বকাল নির্দে...

ক. তাজমহল কোন নদীর তীরে অবস্থিত? খ. সম্রাট শাহজাহানের শেষ জীবন সুখের ছিল না কেন? গ. উদ্দীপকের চিত্রটি কোন মুঘল সম্রাটের ...

“ ক ” রাজ্যের স্থানীয় শাসনকর্তার আমন্ত্রণ পেয়ে “ প ” রাজ্যের শাসক একটি নতুন সাম্রাজ্যে প্রতিষ্...

‘ ক ’ ইতিহাসে একজন বিখ্যাত শাসক। শাসন ক্ষমতা লাভের পর তিনি বিভিন্ন সংস্কারের প্রতি মনোযোগ দেন। প্রশাসনিক বিক...

‘আইন-ই-আকবরী’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?

কোন সম্রাটকে 'The Prince of Builders' আখ্যা দেয়া হয়েছে?

ভারতের ইতিহাসে কে সর্বপ্রথম কামান-এর ব্যবহার করেন?

অভিজাত সম্প্রদায়ের পরেই কাদের স্থান ছিল?

অম্বরের রাজার নাম কী ছিল?

অল্প বয়সে ছোট একটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন সম্রাট শিহাব। পার্শ্ববর্তী রাজ্যে অভিযান করতে গিয়ে তার রাষ্ট্রটি হাতছাড়া...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।