Facebook Pixel

সম্রাট শাহ জালাল তার বংশের স্থায়িত্ব ও সকল মানুষের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য নতুন একটি ধর্মমতের প্রচলন করেন। সাধারণ মানুষের মধ্যে উক্ত ধর্মমত গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। তার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে উক্ত ধর্মমতের বিলুপ্তি ঘটে। তথাপি তাকে তার বংশের মহান শাসক বলে অভিহিত করা হয়। ক. গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড কে নির্মাণ করেন? খ. মনসবদারি প্রথা সম্পর্কে যা জান লেখ। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত শাসকের সাথে তোমার পাঠ্যপুস্তকের কোন শাসকের মিল খুঁজে পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা কর। ঘ. পাঠ্যবইয়ের আলোকে উক্ত শাসকের নতুন এ ধর্মমতের শর্তাবলি নিরূপণ কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ ভারত উপমহাদেশে মুঘল শাসন

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড শেরশাহ নির্মাণ করেন। খ. আকবরের সামরিক সংস্কারের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল মনসবদার ব্যবস্থা প্রবর্তন। আকবরের সিংহাসনে আরোহণের সময় সমস্ত সাম্রাজ্য কতকগুলো জায়গিরে বিভক্ত ছিল। জায়গিরদারগণ অকর্মণ্য, অদক্ষ এবং অপেশাদার যোদ্ধা রাখতেন। এর ফলে সৈন্যবাহিনীর অবস্থা সংকটজনক অবস্থায় পৌঁছায়। আকবর এ সংকট থেকে উত্তরণের জন্য মনসবদারি প্রথা চালু করেন। এ প্রথার মাধ্যমে তিনি ব্যক্তির পদমর্যাদা ও বেতন নির্ধারণ করেন। রাষ্ট্রের প্রয়োজনে ঐ ব্যক্তি তার পদমর্যাদা অনুযায়ী সামরিক সাহায্য প্রদানে বাধ্য থাকতেন। এ প্রথার ২৭ অথবা ৩৩টি স্তর ছিল। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত শাসকের সাথে আমার পাঠ্যপুস্তকের মুঘল শাসক সম্রাট আকবরের মিল খুঁজে পাওয়া যায়। উদ্দীপকের সম্রাট শাহ জালাল তার বংশের স্থায়িত্ব ও সকল মানুষের মধ্যে ঐক্য স্থাপনের যেমন একটি ধর্মমত প্রচলন করে সকলকে একই, পতাকাতলে আনতে চেয়েছিলেন তদ্রুপ মুঘল সম্রাট আকবরও 'দ্বীন-ই-ইলাহি' নামক নতুন ধর্মমত প্রচলন করে সকলকে এক ধর্মের ছায়ায় আনতে চেয়েছিলেন। মুঘল সম্রাট আকবর পারিপার্শ্বিক প্রভাবে প্রভাবান্বিত হয়ে ১৫৮১ খ্রিষ্টাব্দে 'দ্বীন-ই-ইলাহি' নামক একটি নতুন ধর্মমতের প্রচলন করেন। সম্রাট আকবর সর্বপ্রথম রাষ্ট্রনীতিকে ইসলাম তথা উলেমাদের প্রভাবমুক্ত করে হিন্দু-মুসলমান মিলনের ভিত্তিতে ভারতীয় জাতীয়তা প্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হন। মুঘল সম্রাট আকবর চেয়েছিলেন, সকল ধর্ম মিলে একটি ধর্ম প্রতিষ্ঠা করা এবং ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল ভারতবাসীকে একটি ধর্মীয় ছাতার নিচে সমাবেশ করা। ধর্মে ধর্মে পারস্পরিক বিদ্বেষ, হানাহানি এবং বিপরীত চিন্তা আকবরকে ব্যথিত করে তোলে। তিনি এ থেকে উত্তরণের জন্য সব. ধর্মকে একসূত্রে গাঁথার উপায় খুঁজতে থাকে। এ লক্ষ্যে ধর্মক্ষেত্রে উলেমাদের একাধিপত্য খর্ব করার জন্য সম্রাট ১৫৭৯ খ্রিস্টাব্দের জুন মাসে একটি ডিক্রি জারি করেন। সম্রাট আকবর 'দ্বীন-ই-ইলাহি' প্রবর্তন করলেও তিনি এ ধর্মমত গ্রহণ করতে কাউকে বাধ্য করেননি। ঐতিহাসিক আবুল ফজলের মতে, ধর্মের অনুসারী ছিল মাত্র ১৮ জন। তাই আকবরের মৃত্যুর সাথে সাথে এ ধর্মমত বিলুপ্ত হয়। পরিশেষে বলা যায়, সম্রাট শাহ জালালের সাথে মুঘল সম্রাট আকবরের ধর্মমৃত প্রবর্তনের মিল পাওয়া যায়। ঘ. সম্রাট আকবরের ধর্মনীতি ছিল ধর্মীয় গোঁড়ামি থেকে মুক্ত হয়ে ধর্মনিরপেক্ষ নীতি গ্রহণ ও পরমত সহিষ্ণুতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। সম্রাট আকবর ১৫৮২ খ্রিস্টাব্দে 'দ্বীন-ই-ইলাহি' নামে একটি নতুন ধর্মমত প্রবর্তন করেন। এটি ছিল একটি একেশ্বরবাদী ধর্ম। দ্বীন-ই-ইলাহির কিছু মূলনীতি ছিল। যথা- ১. দ্বীন-ই-ইলাহির কালেমা-ছিল লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ ওয়া আকবার খালিফাতুল্লাহ। অনুসারীদেরকে এ কালেমা পাঠ করতে হতো; ২. দ্বীন-ই-ইলাহির অনুসারীদেরকে পারস্পরিক দেখা-সাক্ষাতে একজনকে 'আল্লাহু আকবর' বলে সম্ভাষণ করতে হতো এবং অন্যজনকে 'জাল্লাজালালাহু' বলে উত্তর দিতে হতো; ৩. আগুনকে পবিত্র বলে সম্মান করা হতো; ৪. এর অনুসারীদের অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হতো; ৫. মাংস খাওয়াসহ যথাসম্ভব আমিষ গ্রহণ করতে বিরত থাকতে হতো। ঐতিহাসিক মোল্লা আবদুল কারের বাদউনী একে 'তৌহিদ-ই-ইলাহি' বা ঐশী একেশ্বরবাদ বলে আখ্যায়িত করছেন। জেসুইট লেখক বারটুলির মতে, সব ধর্মের সার নিয়ে 'দ্বীন-ই-ইলাহি' ধর্মমত গঠিত হয়েছিল। ঈশ্বরী প্রসাদ বলেন, 'দ্বীন-ই-ইলাহি' একটি উদার সর্বেশ্বরবাদী ধর্ম, সকল ধর্মের ভালো ও উৎকৃষ্ট নীতিগুলো এতে সমন্বিত ছিল। আকবরের প্রবর্তিত 'দ্বীন-ই-ইলাহি' ধর্মমতে কোনো নবি বা দেব-দেবীর অস্তিত্ব ছিল না। প্রতি রোববার সম্রাট নির্দিষ্ট আসনে বসে আগ্রহীদের দীক্ষা দিতেন। পরিশেষে বলা যায়, সম্রাট আকবরের ধর্মনীতির শর্তাবলি ছিল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

সম্রাট শাহ জালাল তার বংশের স্থায়িত্ব ও সকল মানুষের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য নতুন একটি ধর্মমতের প্রচলন করেন। সাধারণ মানুষের মধ্যে উক্ত ধর্মমত গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। তার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে উক্ত ধর্মমতের বিলুপ্তি ঘটে। তথাপি তাকে তার বংশের মহান শাসক বলে অভিহিত করা হয়।

ক.

গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড কে নির্মাণ করেন?

খ.

মনসবদারি প্রথা সম্পর্কে যা জান লেখ।

গ.

উদ্দীপকে বর্ণিত শাসকের সাথে তোমার পাঠ্যপুস্তকের কোন শাসকের মিল খুঁজে পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

পাঠ্যবইয়ের আলোকে উক্ত শাসকের নতুন এ ধর্মমতের শর্তাবলি নিরূপণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

ক. পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ কত সালে হয়েছিল? খ. বাবুরনামা সম্পর্কে লেখ। গ. উদ্দীপকের '?' স্থানে কোন শাসকের রাজত্বকাল নির্দে...

ক. তাজমহল কোন নদীর তীরে অবস্থিত? খ. সম্রাট শাহজাহানের শেষ জীবন সুখের ছিল না কেন? গ. উদ্দীপকের চিত্রটি কোন মুঘল সম্রাটের ...

“ ক ” রাজ্যের স্থানীয় শাসনকর্তার আমন্ত্রণ পেয়ে “ প ” রাজ্যের শাসক একটি নতুন সাম্রাজ্যে প্রতিষ্...

‘ ক ’ ইতিহাসে একজন বিখ্যাত শাসক। শাসন ক্ষমতা লাভের পর তিনি বিভিন্ন সংস্কারের প্রতি মনোযোগ দেন। প্রশাসনিক বিক...

‘আইন-ই-আকবরী’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?

কোন সম্রাটকে 'The Prince of Builders' আখ্যা দেয়া হয়েছে?

ভারতের ইতিহাসে কে সর্বপ্রথম কামান-এর ব্যবহার করেন?

অভিজাত সম্প্রদায়ের পরেই কাদের স্থান ছিল?

অম্বরের রাজার নাম কী ছিল?

অল্প বয়সে ছোট একটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন সম্রাট শিহাব। পার্শ্ববর্তী রাজ্যে অভিযান করতে গিয়ে তার রাষ্ট্রটি হাতছাড়া...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।