Facebook Pixel

সম্রাট 'মাহমুদ শাহ' তার শাসনকালে ধর্মীয় ভেদাভেদ ও সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ দূর করতে একটি অনন্য ধর্মীয় দর্শন প্রবর্তন করেন। তিনি রাজকীয় শাসনব্যবস্থার ধর্মীয় সহনশীলতা ও সাংস্কৃতিক সমন্বয়ের প্রতি গুরুত্ব দেয়। তার এই দর্শন ছিল মূলত বিভিন্ন ধর্মের মধ্যে শান্তি ও সহযোগিতা স্থাপন এবং জনগণের মধ্যে একতা বজায় রাখা। মাহমুদ শাহ মুঘল রাজত্বের জন্য নতুন একটি ধর্মীয় আদর্শ তৈরি করেন, যেখানে তিনি হিন্দু, মুসলিম, জৈন এবং অন্যান্য ধর্মের প্রতি সমান শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতেন। তার শাসনামলে বিভিন্ন ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তিনি একটি সমন্বিত সমাজ গঠনের চেষ্টা করেন। ক. শেষ মুঘল সম্রাটের নাম কী? খ. গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোডের বর্ণনা দাও। গ. মাহমুদ শাহ-এর ধর্মীয় দর্শন কী ছিল এবং তার শাসনকালে এটি কীভাবে বাস্তবায়িত হয়েছিল? পাঠ্যবইয়ের আলোকে আলোচনা কর। ঘ. “মাহমুদ শাহ” – এর ধর্মীয় দর্শন এবং তার রাজনীতি ভারতের সাম্প্রদায়িক সম্পর্কের উপর কী ধরনের প্রভাব ফেলেছিল?

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ ভারত উপমহাদেশে মুঘল শাসন

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. শেষ মুঘল সম্রাটের নাম দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ। খ. আফগান শাসক শেরশাহের সময়ে নির্মিত একটি ঐতিহাসিক মহাসড়ক এর নাম হলো গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড। শেরশাহ বহু সুন্দর ও প্রশস্ত রাস্তা নির্মাণ করেছিলেন। তার নির্মিত রাস্তাসমূহের মধ্যে প্রধান ছিলেন 'সড়ক-ই-আযম' বা গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড। এটি ছিল প্রায় ১৫০০ মাইল দীর্ঘ। এই রাস্তাটি পূর্ববঙ্গের সোনারগাঁও থেকে সিন্ধু নদ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। সাধারণ পথিককে সূর্যের উত্তাপ থেকে রক্ষার জন্য রাস্তার দু'ধারে ছায়াপ্রদ ও ফলদ গাছ লাগানো হয়েছিল। এছাড়া দু'ক্রোশ অন্তর মুসাফিরখানা ছিল। গ. মাহমুদ শাহ-এর ধর্মীয় দর্শন কী ছিল দ্বীন-ই-ইলাহি। তার শাসনামলে এটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয় কিন্তু তার প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। উদ্দীপকের সম্রাট 'মাহমুদ শাহ' তার শাসনকালে ধর্মীয় ভেদাভেদ ও সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ দূর করতে একটি অনন্য ধর্মীয় দর্শন প্রবর্তন করেন। তিনি রাজকীয় শাসনব্যবস্থার ধর্মীয় সহনশীলতা ও সাংস্কৃতিক সমন্বয়ের প্রতি গুরুত্ব দেয়। তদ্রুপ মুঘল সম্রাট আকবরও 'দ্বীন-ই-ইলাহি' নামক নতুন ধর্মমত প্রচলন করে সকলকে এক ধর্মের ছায়ায় আনতে চেয়েছিলেন। মুঘল সম্রাট আকবর পারিপার্শ্বিক প্রভাবে প্রভাবান্বিত হয়ে ১৫৮২ খ্রিষ্টাব্দে 'দ্বীন-ই-ইলাহি' নামক একটি নতুন ধর্মমতের প্রচলন করেন। সম্রাট আকবর সর্বপ্রথম রাষ্ট্রনীতিকে ইসলাম তথা উলেমাদের প্রভাবমুক্ত করে হিন্দু-মুসলমান মিলনের ভিত্তিতে ভারতীয় জাতীয়তা প্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হন। মুঘল সম্রাট আকবর চেয়েছিলেন সকল ধর্ম মিলে একটি ধর্ম প্রতিষ্ঠা করা এবং ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল ভারতবাসীকে একটি ধর্মীয় ছাতার নিচে সমাবেশ করা। জেসুইট ধর্মযাজক রিডেলফো আকুয়ভিভ ও ফাদার মানসারেট, পার্সি অগ্নি উপাসক দস্তুর মেহেরজী রানা, হিন্দু ব্রাহ্মণ পণ্ডিত দেবী ও পুরুষোত্তম, জৈন তির্থংকর হীরা ভিজয় সুরী বিজয় সেন প্রমুখ। এসব আলোচনায় ধর্মে ধর্মে পারস্পরিক বিদ্বেষ, হানাহানি এবং বিপরীত চিন্তা আকবরকে ব্যথিত করে তোলে। তিনি এ থেকে উত্তরণের জন্য সব ধর্মকে একসূত্রে গাঁথার উপায় খুঁজতে থাকে। এ লক্ষ্যে ধর্মক্ষেত্রে উলেমাদের একাধিপত্য খর্ব করার জন্য সম্রাট ১৫৭৯ খ্রিষ্টাব্দের জুন মাসে, একটি ডিক্রি জারি করেন। অতঃপর ১৫৮২ সালে সম্রাট আকবর 'দ্বীন-ই-ইলাহি' করেন। পরিশেষে বলা যায়, সম্রাট মাহমুদ শাহেব ধর্মীয় দর্শনের সাথে মুঘল সম্রাট আকবরের ধর্মমত প্রবর্তনের মিল পাওয়া যায়। ঘ. মাহমুদ শাহের সাদৃশ্যপূর্ণ সম্রাট আকবরের ধর্মনীতি বা ধর্মীয় দর্শন তার রাজনীতি ভারতের সাম্প্রদায়িক সম্পর্কে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। ধর্মীয় দর্শন 'ধর্ম হিসেবে দীন-ই-ইলাহির সফলতা বা ব্যর্থতা তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ মঙ্গলজনক ফলাফল এনেছিল'। মুঘল সম্রাট জালালউদ্দিন মোহাম্মদ আকবর তার ক্ষমতাকে সুসংহত করার জন্যই নতুন ধর্মমতের প্রবর্তন করেন। যদিও আকবরের দ্বীন-ই-ইলাহির প্রবর্তনের নেপথ্যে বংশীয় ও পারিবারিক প্রভাব, গৃহশিক্ষকের প্রভাব, সুফিবাদের প্রভাব, রাজপুত স্ত্রীদের প্রভাব, জৈনধর্মের প্রভাব, যুগ ধর্মের প্রভাব, মাহদি ও রাসনি মতের প্রভাব বিদ্যমান। তবুও একথা বলতে হয় যে, আকবরের দ্বীন-ই-ইলাহির প্রবর্তনের উদ্দেশ্য ছিল প্রধানত রাজনৈতিক, ধর্মীয় নয়। ভারতে মুঘল শক্তির স্থায়িত্ব বিধানের স্বার্থে হিন্দু-মুসলিম নাগরিকদের মধ্যে একটি ঐক্য ও প্রীতির বন্ধন গড়ে তোলার উদ্দেশ্যেই সম্রাট ধর্মীয় ক্ষেত্রে উদার নীতি ও দ্বীন-ই-ইলাহি প্রবর্তন করেছিলেন। তিনি নিজে নিষ্ঠাবান মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও অন্য ধর্মমতের প্রতি সহিষ্ণু ছিলেন। তার রাজ্যে বসবাসকারী বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীগণের অনুষ্ঠান ভিত্তিক ধর্মীয় আচরণের মত পার্থক্য, দূর করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করেন। শাসন পরিচালনায় অন্যান্য ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের সাহায্য লাভের উদ্দেশ্যেই সার্বজীন ধর্মমত দ্বীন-ই-ইলাহির প্রবর্তন করেন। সুতরাং বলতে পারি তার এই আন্তঃধর্মীয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার জন্যই তিনি মুঘল সাম্রাজ্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শাসকের মর্যাদা অর্জনে সক্ষম হয়েছিলেন। পরিশেষে বলা যায়, আকবরের ধর্মীয় দর্শন দ্বীন-ই-ইলাহি ব্যর্থ হলেও রাজনেতিক ক্ষেত্রে এর প্রভাব মঙ্গলজনক ছিল।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

সম্রাট 'মাহমুদ শাহ' তার শাসনকালে ধর্মীয় ভেদাভেদ ও সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ দূর করতে একটি অনন্য ধর্মীয় দর্শন প্রবর্তন করেন। তিনি রাজকীয় শাসনব্যবস্থার ধর্মীয় সহনশীলতা ও সাংস্কৃতিক সমন্বয়ের প্রতি গুরুত্ব দেয়। তার এই দর্শন ছিল মূলত বিভিন্ন ধর্মের মধ্যে শান্তি ও সহযোগিতা স্থাপন এবং জনগণের মধ্যে একতা বজায় রাখা। মাহমুদ শাহ মুঘল রাজত্বের জন্য নতুন একটি ধর্মীয় আদর্শ তৈরি করেন, যেখানে তিনি হিন্দু, মুসলিম, জৈন এবং অন্যান্য ধর্মের প্রতি সমান শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতেন। তার শাসনামলে বিভিন্ন ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তিনি একটি সমন্বিত সমাজ গঠনের চেষ্টা করেন।

ক.

শেষ মুঘল সম্রাটের নাম কী?

খ.

গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোডের বর্ণনা দাও।

গ.

মাহমুদ শাহ-এর ধর্মীয় দর্শন কী ছিল এবং তার শাসনকালে এটি কীভাবে বাস্তবায়িত হয়েছিল? পাঠ্যবইয়ের আলোকে আলোচনা কর।

ঘ.

“মাহমুদ শাহ” – এর ধর্মীয় দর্শন এবং তার রাজনীতি ভারতের সাম্প্রদায়িক সম্পর্কের উপর কী ধরনের প্রভাব ফেলেছিল?

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

ক. পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ কত সালে হয়েছিল? খ. বাবুরনামা সম্পর্কে লেখ। গ. উদ্দীপকের '?' স্থানে কোন শাসকের রাজত্বকাল নির্দে...

ক. তাজমহল কোন নদীর তীরে অবস্থিত? খ. সম্রাট শাহজাহানের শেষ জীবন সুখের ছিল না কেন? গ. উদ্দীপকের চিত্রটি কোন মুঘল সম্রাটের ...

“ ক ” রাজ্যের স্থানীয় শাসনকর্তার আমন্ত্রণ পেয়ে “ প ” রাজ্যের শাসক একটি নতুন সাম্রাজ্যে প্রতিষ্...

‘ ক ’ ইতিহাসে একজন বিখ্যাত শাসক। শাসন ক্ষমতা লাভের পর তিনি বিভিন্ন সংস্কারের প্রতি মনোযোগ দেন। প্রশাসনিক বিক...

‘আইন-ই-আকবরী’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?

কোন সম্রাটকে 'The Prince of Builders' আখ্যা দেয়া হয়েছে?

ভারতের ইতিহাসে কে সর্বপ্রথম কামান-এর ব্যবহার করেন?

অভিজাত সম্প্রদায়ের পরেই কাদের স্থান ছিল?

অম্বরের রাজার নাম কী ছিল?

অল্প বয়সে ছোট একটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন সম্রাট শিহাব। পার্শ্ববর্তী রাজ্যে অভিযান করতে গিয়ে তার রাষ্ট্রটি হাতছাড়া...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।