Facebook Pixel

সম্রাট 'মুসা খান' তার সাহসী উত্থান এবং কৌশলগত মেধার জন্য পরিচিত ছিলেন। তিনি 'সুলতানীয় রাজবংশ' প্রতিষ্ঠা করেন এবং শাসনামলে সামরিক ও প্রশাসনিক দক্ষতায় বিশাল ক্ষমতা অর্জন করেন। মুসা খান তার শাসনকালে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে সংস্কারের কাজ শুরু করেন। তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ, অবদান ছিল ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং সড়ক নির্মাণ। ভূমির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তিনি কৃষক এবং রাজস্ব ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছিলেন, যা তার সাম্রাজ্যকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলে। এছাড়া, মুসা খান সড়ক নেটওয়ার্ক উন্নয়নেরও মনোযোগ দেন, যা সাম্রাজ্যের ভেতরে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সহজতর করে তোলে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যকে উৎসাহিত করে। ক. হুমায়ুন শব্দের অর্থ কী ছিল? খ. পানিপথের ২য় যুদ্ধের ইতিহাস সংক্ষেপে বর্ণনা কর। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত বিজয়ী শাসকের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন শাসকের মিল খুঁজে পাও? তার উত্থানের ইতিহাস বর্ণনা কর। ঘ. তার শাসনকাল ভারতের অন্যান্য শাসকদের জন্য কী ধরনের আদর্শ তৈরি করেছিল?

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ ভারত উপমহাদেশে মুঘল শাসন

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. হুমায়ুন শব্দের অর্থ ভাগ্যবান। খ. পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ সম্রাট আকবরের সময়ের উল্লেখযোগ্য ঘটনা। হিমু উত্তর ভারতে হিন্দু আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য দিল্লি ও আগ্রা অধিকার করে বিক্রমাদিত্য উপাধি ধারণ করে নিজেকে স্বাধীন রাজা বলে ঘোষণা করেন। হিমুকে প্রতিরোধ করার জন্য আকবর ও বৈরাম খান ১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দের ৫ নভেম্বর পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধের মোকাবিলা করেন। যুদ্ধে হিমু নিহত হন এবং আকবর বিজয়ী হলেন। গ. উদ্দীপকের উল্লিখিত বিজয়ী শাসকের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের শেরশাহের মিল খুঁজে পাওয়া যায়। তার উত্থান ছিল খুবই চমকপ্রদ ও রোমাঞ্চকর। শেরশাহের প্রকৃত নাম ছিল ফরিদ। শেরশাহ ছিল উপাধি। এর অর্থ বাঘের রাজা। তার বাবার নাম হাসান এবং পিতামহের (দাদার) নাম ছিল ইব্রাহিম। ধারণা করা হয় ১৪৭২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি পাঞ্জাবে জন্মগ্রহণ করেন। শেরশাহের গোত্রের নাম ছিল শূর। এজন্য শেরশাহ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত রাজবংশকে শূরবংশ বলে অভিহিত করা হয়। বিমাতা ও পিতার অনাদর ও লাঞ্ছনার কারণে ১৪৯৪ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ২২ বছর বয়সে পিতৃগৃহ ত্যাগ করে জৌনপুরে যান। শেরশাহের পিতা হাসান তাকে সাসারাম ও খাওয়াসপুর পরগনার 'দায়িত্বভার অর্পণ করেন। কিন্তু কিছুদিন পর ১৫২২ খ্রিষ্টাব্দে বিহারে গিয়ে বাহার খান লোহানীর অধীনে চাকরি গ্রহণ করেন এবং তার সুনজরে আসেন। এ থেকে তার রাজনৈতিক জীবনের উত্থান শুরু হয়। ১৫৩৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ জুন চৌসায় অনুষ্ঠিত যুদ্ধে হুমায়ূন পরাজিত হন এবং একজন মাঝির সহায়তায় প্রাণে বেঁচে আগ্রায় পৌঁছান। চৌসার যুদ্ধে জয়লাভ করে শেরখান 'শেরশাহ' উপাধি ধারণ করে রাজকীয় মর্যাদায় নিজেকে ভূষিত করেন। তার নিজ নামে খুতবা পাঠ ও মুদ্রাঙ্কনের নির্দেশ জারি করা হয়। ১৫৪০ খ্রিষ্টাব্দের ৭ মে কনৌজের অদূরে বিলগ্রামে উভয়ের মধ্যে তুমুল যুদ্ধ সংঘটিত হয়। যুদ্ধে হুমায়ুনের ভাগ্য ফেরাবার শেষ প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। তিনি শোচনীয় ও চূড়ান্তভাবে পরাজিত হন। শেরশাহ কনৌজ, দিল্লি ও আগ্রা অধিকার করে দিল্লির সিংহাসনে বসেন। এভাবে ভারতে মুঘল শাসনের সাময়িক সমাপ্তি ঘটে এবং ভারতবর্ষের সার্বভৌমত্ব আবারও আফগানদের হাতে চলে যায়। ঘ. তার শাসনকাল তথা শেরশাহের শাসনকাল ভারতের অন্যান্য শাসকদের জন্য জনকল্যাণ ও সুশাসনের আদর্শ স্থাপন করে করেছিল। শেরশাহ একজন প্রজাহিতৈষী শাসক ছিলেন। তিনি মাত্র ৫ বছর শাসন করলেও ইতিহাসে তার শাসনকাল স্মরণীয় হয়ে আছে। শেরশাহ রাজস্ব আদায়ের সুবিধার্থে সাম্রাজ্যের ভূমিকে আবাদি ও অনাবাদি এ দুই শ্রেণিতে বিভক্ত করেন। আবাদি ভূমিকে আবার উত্তম, মধ্যম ও নিম্ন এ তিন শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। এ তিন শ্রেণির ভূমির উৎপাদনের তারতম্য থাকায় তিন ধরনের রাজস্ব ধার্য করা হয়। যাতে কৃষকেরা ফসল দিয়ে অথবা নগদ অর্থ দিয়ে ধার্যকৃত রাজস্ব দিতে পারে। শেরশাহ রাজস্বব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য কবুলিয়ত ও পাট্টা ব্যবস্থার প্রবর্তন করেছিলেন। কৃষকদের মধ্যে ধার্যকৃত আবাদি জমিতে অধিকার স্বীকার করে সরকার কৃষকদের পাট্টা দিত। আবার সরকার কর্তৃক আরোপিত শর্তগুলো মনে চলার জন্য কৃষকেরা সরকারকে কবুলিয়ত দিত। শেরশাহ একজন ন্যায়পরায়ণ শাসকও ছিলেন। তার বিচারালয়ে আইনের চোখে সকলেই সমান ছিল। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। জনহিতকর কার্যাবলির জন্য শেরশাহ বিশেষভাবে স্মরণীয়। তিনি অসংখ্য মসজিদ, মাদরাসা, স্থাপন করেছিলেন। ছাত্রদের শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করেছিলেন। যাতায়াতের সুবিধার জন্য তিনি সোনারগাঁও থেকে সিন্ধু নদ পর্যন্ত গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড নির্মাণ করেন। শরশাহ কেন্দ্রীয় প্রশাসনের উৎস হিসেবে শাসনকার্য পরিচালনা করেন। প্রশাসনকে সুষ্ঠুরূপে বিন্যস্ত করার জন্য এবং তা সম্পূর্ণরূপে স্বীয় নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ৪টি দপ্তর চালু করেন। মন্ত্রী পর্যায়ের একজন উচ্চ রাজকর্মচারী এসব দপ্তর তদারক করতেন। তিনি তার রাজ্যকে ৪৭টি সরকারে বিভক্ত করেন। প্রত্যেকটি সরকারকে আবার কয়েকটি 'পরগনায়' ভাগ করেন। উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, শেরশাহের শাসনব্যবস্থা ও জনহিতকর শাসন ভারতের অন্যান্য শাসকদের আদর্শ তৈরি করে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

সম্রাট 'মুসা খান' তার সাহসী উত্থান এবং কৌশলগত মেধার জন্য পরিচিত ছিলেন। তিনি 'সুলতানীয় রাজবংশ' প্রতিষ্ঠা করেন এবং শাসনামলে সামরিক ও প্রশাসনিক দক্ষতায় বিশাল ক্ষমতা অর্জন করেন। মুসা খান তার শাসনকালে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে সংস্কারের কাজ শুরু করেন। তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ, অবদান ছিল ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং সড়ক নির্মাণ। ভূমির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তিনি কৃষক এবং রাজস্ব ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছিলেন, যা তার সাম্রাজ্যকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলে। এছাড়া, মুসা খান সড়ক নেটওয়ার্ক উন্নয়নেরও মনোযোগ দেন, যা সাম্রাজ্যের ভেতরে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সহজতর করে তোলে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যকে উৎসাহিত করে।

ক.

হুমায়ুন শব্দের অর্থ কী ছিল?

খ.

পানিপথের ২য় যুদ্ধের ইতিহাস সংক্ষেপে বর্ণনা কর।

গ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত বিজয়ী শাসকের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন শাসকের মিল খুঁজে পাও? তার উত্থানের ইতিহাস বর্ণনা কর।

ঘ.

তার শাসনকাল ভারতের অন্যান্য শাসকদের জন্য কী ধরনের আদর্শ তৈরি করেছিল?

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

ক. পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ কত সালে হয়েছিল? খ. বাবুরনামা সম্পর্কে লেখ। গ. উদ্দীপকের '?' স্থানে কোন শাসকের রাজত্বকাল নির্দে...

ক. তাজমহল কোন নদীর তীরে অবস্থিত? খ. সম্রাট শাহজাহানের শেষ জীবন সুখের ছিল না কেন? গ. উদ্দীপকের চিত্রটি কোন মুঘল সম্রাটের ...

“ ক ” রাজ্যের স্থানীয় শাসনকর্তার আমন্ত্রণ পেয়ে “ প ” রাজ্যের শাসক একটি নতুন সাম্রাজ্যে প্রতিষ্...

‘ ক ’ ইতিহাসে একজন বিখ্যাত শাসক। শাসন ক্ষমতা লাভের পর তিনি বিভিন্ন সংস্কারের প্রতি মনোযোগ দেন। প্রশাসনিক বিক...

‘আইন-ই-আকবরী’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?

কোন সম্রাটকে 'The Prince of Builders' আখ্যা দেয়া হয়েছে?

ভারতের ইতিহাসে কে সর্বপ্রথম কামান-এর ব্যবহার করেন?

অভিজাত সম্প্রদায়ের পরেই কাদের স্থান ছিল?

অম্বরের রাজার নাম কী ছিল?

অল্প বয়সে ছোট একটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন সম্রাট শিহাব। পার্শ্ববর্তী রাজ্যে অভিযান করতে গিয়ে তার রাষ্ট্রটি হাতছাড়া...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।