Facebook Pixel

সম্রাট 'ফখরউদ্দিন' তার শাসনকালে 'ইলাহি রাজবংশ'-এর ঐতিহ্যকে সমুন্নত রেখেছিলেন। তবে তার মৃত্যুর পর, তার চার পুত্র- 'রহিম', 'আলাউদ্দিন', 'মুস্তাফা', এবং 'শাহজাহান'- রাজ্য শাসনের জন্য একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেন। এদের মধ্যে, শাহজাহান তার সামরিক কৌশল এবং শক্তির মাধ্যমে ভাইদের পরাজিত করে রাজ্য শাসনে সফল হন। তবে, তার বিজয় সাম্রাজ্যকে একীভূত করলেও পুত্রদের মধ্যে এই দ্বন্দ্ব ইলাহি রাজবংশের পতনের পথ তৈরি করেছিল, যা সাম্রাজ্যের ভেতরকার রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিভেদের সৃষ্টি করেছিল। ক. জিন্দাপির কার উপাধি? খ. মুঘলদের পরিচয় দাও। গ. উদ্দীপকের উল্লিখিত বিজয়ী শাসকের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন শাসকের মিল খুঁজে পাও? তার সফলতার কারণগুলো লিখ। ঘ. তুমি কি মনে কর বিজয়ী পুত্র রাজ্যটি পতনের পিছনে কিছুটা দায়ী ছিল? তোমার মতের স্বপক্ষে যুক্তি দাও।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ ভারত উপমহাদেশে মুঘল শাসন

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. জিন্দাপির সম্রাট আওরঙ্গজেবের উপাধি। খ. 'মোঙ্গ' শব্দ থেকে মোঙ্গল এবং মোঙ্গল থেকে মুঘল নামের উৎপত্তি ঘটেছে। তারা আদি বাসভূয়ি মঙ্গোলিয়া ছেড়ে মধ্য এশিয়ার পশ্চিম অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে মুঘল নামে পরিচিতি লাভ করে। ১৫২৬ খ্রি. মুঘলরা ভারতের সুলতান ইব্রাহিম লোদিকে পরাজিত করে ভারতবর্ষের শাসক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করেন। মূলত এরপর থেকেই মুঘলরা একটি বৃহৎ জাতিগঠনে অবদান রাখতে শুরু করে। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত বিজয়ী শাসকের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের সম্রাট আওরঙ্গজেবের মিল খুঁজে পাই। নানা কারণে ভ্রাতৃযুদ্ধে আওরঙ্গজেব বিজয়ী হন। সম্প্রাট শাহজাহান ১৬৫৭ খ্রিষ্টাব্দের ৬ সেপ্টেম্বর অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিন্তু তার এ অসুস্থতার সংবাদ গুজবে পরিণত হলো যে সম্রাট শাহজাহান মৃত্যুবরণ করেছেন। এর ফলে সম্রাট শাহজাহানের সন্তানদের মধ্যে উত্তরাধিকার দ্বন্দ্ব-শুরু হয়। সিংহাসন নিয়ে ভাইদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়। এতে আওরঙ্গজেব বিজয়ী হন। আওরঙ্গজেবের সফলতার কারণসমূহ- ১. আওরঙ্গজেবের দূরদর্শিতা, সামরিক প্রতিভা ও দলগঠনের ক্ষমতা তার সাফল্যের প্রধান কারণ। তিনি ছিলেন গোঁড়া সুন্নি মুসলমান। এ কারণে সংখ্যাগরিষ্ঠ সুন্নি মুসলমানরা তাকে নানাভাবে সাহায্য করেছিল। ২. শাহজাহানের দুর্বলতা ও নির্বুদ্ধিতা আওরঙ্গজেবের সফলতার অন্যতম কারণ। তিনি তার মিথ্যা মৃত্যুসংবাদের প্রচার বন্ধ করার কোনো চেষ্টাই করেননি। ৩. দারার গোলন্দাজ বাহিনী অপেক্ষা আওরঙ্গজেবের গোলন্দাজ বাহিনী অধিকতর সুদক্ষ ও শক্তিশালী ছিল। ৪. দাবার অধীনে মুঘল বাহিনী ও রাজপুত বাহিনীর মধ্যে, সংহতি ও ঐক্যের অভাব ছিল। যুগ্ম নেতৃত্বাধীনে যুদ্ধ পরিচালনার ফলে শিবিরে বার বার বিপর্যয় দেখা দিয়েছিল। ৫. দারার চেয়ে আওরঙ্গজেব ছিলেন অধিকতর কূটকৌশলী ও দূরদর্শী। তার এ দূরদর্শিতাই উত্তরাধিকার যুদ্ধে সফলতা এনে দেয়। পরিশেষে বলা যায়, আওরঙ্গজেবের জয় ছিল অযোগ্যতা ও অদূরদর্শিতার ওপর যোগ্যতা ও দূরদর্শিতার বিজয়। ঘ. হ্যাঁ, আমি মনে করি বিজয়ী পুত্র তথা আওরঙ্গজেব মুঘল শাসনের জন্য কিছুটা দায়ী ছিল। কেননা তারা দাক্ষিণাত্য নীতি মুঘল বংশের পতনের কারণ হয়েছিল। আওরঙ্গজেবের শাসিত বিশাল সাম্রাজ্য বিশেষ একটি রাজধানী অথবা একজন নৃপতি দ্বারা শাসন করা সম্ভবপর ছিল না। বিদ্রোহ দেখা দিলে প্রশমিত করা হতো মাত্র, সমূলে উৎপাটিত করা সম্ভব হতো না। এর ফলে উত্তর ও মধ্য ভারতে চরম অরাজকতা শুরু হয়। দাক্ষিণাত্যে অবস্থান করে রাজ্যের সর্বত্র শাসনকার্য পরিচালনা করা বৃদ্ধ সম্রাটের পক্ষে দুরূহ হয়ে পড়ে। কেন্দ্রীয় শাসনের শৈথিল্যের জন্য উচ্চাভিলাষী জমিদার ও ভূস্বামিগণ ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে থাকেন। বিশেষভাবে আগ্রা অঞ্চলে পরিস্থিতি চরমে ওঠে। দীর্ঘ পঁচিশ বছর দাক্ষিণাত্যে মারাঠা শক্তি ও বিভিন্ন মুসলিম রাজ্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম পরিচালনা করার ফলে রাজকোষ শূন্য হয়ে পড়ার উপক্রম হয়। অজস্র অর্থ ও লোকবল ক্ষয় হওয়ার ফলে মুঘল সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়ে। অর্থনৈতিক সঙ্কট চরম আকার ধারণ করলে সম্রাটের পক্ষে বিশাল মুঘল সৈন্যবাহিনীকে নিয়মিত বেতন প্রদান করা সম্ভব হয়নি এবং এর ফলে বেতনের দাবিতে তারা বিদ্রোহ ঘোষণা করে। তারা মারাঠা শিবিরে যোগদান করতেও দ্বিধা করেনি। সৈন্যবাহিনীর শৃঙ্খলা ও নৈতিক চরিত্রের অধঃপতনের ফলে স্বভাবতই মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত্তি প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। এর কারণ শম্ভুজীর পুত্র রাজারাম আগ্রা হতে পলায়ন করে মুঘলদের বিরুদ্ধে মারাঠাদের সংঘবদ্ধ করেন। সান্তাজী ও ধনোজী নামক দুজন দুর্ধর্ষ মারাঠা বীর মুঘল সাম্রাজ্যে লুটতরাজে নিয়োজিত ছিল। ১৭০৭ খ্রিষ্টাব্দে আহমদনগরে আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত মারাঠা তৎপরতা অব্যাহত থাকে। মারাঠাদের সামরিক সাফল্য শিখ ও জাঠসহ অপরাপর হিন্দু গোষ্ঠীদের মুঘল বিরোধী, আন্দোলনে প্ররোচিত করে। পরিশেষে বলা যায়, বিজয়ী পুত্র সম্রাট আওরঙ্গজেব মুঘল শাসনের পতনের জন্য কিছুটা দায়ী ছিলেন।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

সম্রাট 'ফখরউদ্দিন' তার শাসনকালে 'ইলাহি রাজবংশ'-এর ঐতিহ্যকে সমুন্নত রেখেছিলেন। তবে তার মৃত্যুর পর, তার চার পুত্র- 'রহিম', 'আলাউদ্দিন', 'মুস্তাফা', এবং 'শাহজাহান'- রাজ্য শাসনের জন্য একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেন। এদের মধ্যে, শাহজাহান তার সামরিক কৌশল এবং শক্তির মাধ্যমে ভাইদের পরাজিত করে রাজ্য শাসনে সফল হন। তবে, তার বিজয় সাম্রাজ্যকে একীভূত করলেও পুত্রদের মধ্যে এই দ্বন্দ্ব ইলাহি রাজবংশের পতনের পথ তৈরি করেছিল, যা সাম্রাজ্যের ভেতরকার রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিভেদের সৃষ্টি করেছিল।

ক.

জিন্দাপির কার উপাধি?

খ.

মুঘলদের পরিচয় দাও।

গ.

উদ্দীপকের উল্লিখিত বিজয়ী শাসকের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন শাসকের মিল খুঁজে পাও? তার সফলতার কারণগুলো লিখ।

ঘ.

তুমি কি মনে কর বিজয়ী পুত্র রাজ্যটি পতনের পিছনে কিছুটা দায়ী ছিল? তোমার মতের স্বপক্ষে যুক্তি দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

ক. পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ কত সালে হয়েছিল? খ. বাবুরনামা সম্পর্কে লেখ। গ. উদ্দীপকের '?' স্থানে কোন শাসকের রাজত্বকাল নির্দে...

ক. তাজমহল কোন নদীর তীরে অবস্থিত? খ. সম্রাট শাহজাহানের শেষ জীবন সুখের ছিল না কেন? গ. উদ্দীপকের চিত্রটি কোন মুঘল সম্রাটের ...

“ ক ” রাজ্যের স্থানীয় শাসনকর্তার আমন্ত্রণ পেয়ে “ প ” রাজ্যের শাসক একটি নতুন সাম্রাজ্যে প্রতিষ্...

‘ ক ’ ইতিহাসে একজন বিখ্যাত শাসক। শাসন ক্ষমতা লাভের পর তিনি বিভিন্ন সংস্কারের প্রতি মনোযোগ দেন। প্রশাসনিক বিক...

‘আইন-ই-আকবরী’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?

কোন সম্রাটকে 'The Prince of Builders' আখ্যা দেয়া হয়েছে?

ভারতের ইতিহাসে কে সর্বপ্রথম কামান-এর ব্যবহার করেন?

অভিজাত সম্প্রদায়ের পরেই কাদের স্থান ছিল?

অম্বরের রাজার নাম কী ছিল?

অল্প বয়সে ছোট একটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন সম্রাট শিহাব। পার্শ্ববর্তী রাজ্যে অভিযান করতে গিয়ে তার রাষ্ট্রটি হাতছাড়া...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।