Facebook Pixel

সম্রাট নিজাম উদ্দিন একজন জনপ্রিয় শাসক। নিজে নিষ্ঠাবান মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও তিনি অন্য ধর্মমতের প্রতি সহিষ্ণু ছিলেন । তিনি তার রাজ্যে বসবাসকারী বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীগণের অনুষ্ঠান ভিত্তিক ধর্মীয় আচরণের মতপার্থক্য দূর করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করেন । শাসন পরিচালনায় অন্যান্য ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের সাহায্যে লাভের উদ্দেশ্যে তিনি সকল ধর্মের সারবস্তু নিয়ে একটি নতুন ধর্ম প্রবর্তন করেন । ক. দীন - ই - ইলাহি কে প্রবর্তন করেন ? খ. আইন - ই - আকবরী কী ? ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত শাসকের সাথে তোমার পঠিত কোন মুগল সম্রাটের ধর্মনীতি প্রবর্তনের সাদৃশ্য রয়েছে ? ব্যাখ্যা করো । ঘ. “ আন্তঃধর্মীয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি প্রতিষ্ঠাই উক্ত মুঘল শাসকের সাফল্য ও শ্রেষ্ঠত্ব লাভের অন্যতম কারণ '- বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ ভারত উপমহাদেশে মুঘল শাসন

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. মুঘল সম্রাট আকবর দীন - ই - ইলাহি প্রবর্তন করেন। খ. আইন - ই - আকবরী আবুল ফজলের রচিত একটি ঐতিহাসিক গ্রন্থ। মুঘল সম্রাট আকবরের পৃষ্ঠপোষকতায় আবুল ফজল আইন - ই - আকবরী গ্রন্থটি রচনা করেন। এ গ্রন্থটিতে মুঘল সম্রাট আকবর এবং তার সাম্রাজ্য সম্পর্কে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। আবুল ফজলের রচিত আইন - ই - আকবরীর ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত সম্রাট নিজাম উদ্দিনের সাথে আমার পঠিত মুঘল সম্রাট আকবরের ধর্মনীতি প্রবর্তনের সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। মুঘল সম্রাট আকবর ছিলেন সম্পূর্ণ ধর্মনিরপেক্ষ এবং দূরদর্শী রাজনীতিবিদ। তাই নিজের রাজনৈতিক অবস্থান সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে সব ধর্মের মানুষের মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠাকে তিনি অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। তাই সব ধর্মের প্রতি উদার দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে তিনি ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা দূর করার মাধ্যমে নিজেকে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে ১৫৮২ খ্রিষ্টাব্দে একটি নতুন ধর্মমতের প্রবর্তন করেন। এটি ' দীন - ই - ইলাহি ' নামেও পরিচিত। উদ্দীপকে অনুরূপ প্রতিচ্ছবি লক্ষণীয় । উদ্দীপকে দেখা যায় , সম্রাট নিজাম উদ্দিন নিজে নিষ্ঠাবান মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও তিনি অন্য ধর্মমতের প্রতি সহিষ্ণু ছিলেন। তিনি তার রাজ্যে বসবাসকারী বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীগণের অনুষ্ঠানভিত্তিক ধর্মীয় আচরণের মতপার্থক্য দূর করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করেন। শাসন পরিচালনায় অন্যান্য ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের সাহায্য লাভের উদ্দেশ্যে তিনি সকল ধর্মের সারবস্তু নিয়ে একটি নতুন ধর্মের প্রবর্তন করেন। একইভাবে সম্রাট আকবর নিজে নিষ্ঠাবান মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও অন্য ধর্মমতের প্রতি সহিষ্ণুতা থেকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি সুলহ - ই কুল ( ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ) নীতির দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ভারতের বুকে ‘ দীন - ই - ইলাহি ’ নামক একটি জাতীয় ধর্ম প্রবর্তন করেন। এ মতবাদের অনুসারীবৃন্দকে সম্রাটের নামে তাদের সম্পত্তি , জীবন , সম্মান ও ধর্ম এই চারটি জিনিস উৎসর্গ করতে হতো। এ ধর্মের বিধান অনুযায়ী সম্রাটকে সিজাদাহ করতে হতো। সুতরাং বলা যায় , উদ্দীপকে সম্রাট আকবরের ,‘ দীন - ই - ইলাহি ' ধর্মের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে । ঘ. আন্তঃধর্মীয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠাই উক্ত মুঘল শাসক তথা সম্রাট আকবরের সাফল্য ও শ্রেষ্ঠত্ব লাভের অন্যতম কারণ — উক্তিটি যথার্থ । সম্রাট আকবরের ধর্মীয় নীতি ' দীন - ই - ইলাহি ' ভারতের মুঘল শাসনের ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ। আকবরের এ নীতি ভারতের রাজনৈতিক , আর্থ - সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। এ নীতির ফলে ভারতে হিন্দু মুসলিম দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন তৈরি হয়েছিল । এই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিই সম্রাট আকবরকে মহান শাসকের আসীনে উন্নীত করে । মধ্যযুগের ভারতের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত ও সমালোচিত বিষয় সম্রাট আকবরের ধর্মীয় নীতি । তার এ নীতি বিতর্কিত হলেও নিঃসন্দেহে এটি মুসলিম শাসনের ইতিহাসে এক নবযুগের সূচনা করে। আকবরের এ নীতির কারণে ভারতে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুজাতি মুঘলদের বিরোধিতার নীতি ত্যাগ করে। মুঘল সাম্রাজ্যের রাজ্যবিস্তার ও রাজ্য শাসনের ব্যাপারে এবং সামাজিক , সাংস্কৃতিক , সামরিক , অর্থনৈতিক উন্নতি ও প্রগতির ক্ষেত্রে হিন্দুজাতি ও মুসলমানদের সাথে হাতে হাত রেখে অনস্বীকার্য অবদান রাখে। সব ধর্মের প্রতি আকবরের উদার আচরণের ফলে যে রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয় সেটির সাহায্যেই সম্রাট আকবর মুঘল সাম্রাজ্যের ব্যাপক বিস্তৃত ঘটিয়ে বিশাল সাম্রাজ্য স্থাপিত করতে সক্ষম হন। বিদেশি নয় বরং আকবরকে ' জাতীয় নরপতি ' হিসেবে মেনে নিয়ে ভারতীয়রা মুঘল সাম্রাজ্যের স্থায়িত্ব বিধানেও সর্বদা সচেষ্ট হয়। এই আন্তঃধর্মীয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সূত্র ধরেই সম্রাট আকবর মহামতি আখ্যায় বিভূষিত হয়। উপরের আলোচনায় প্রতীয়মান হয় , আন্তঃধর্মীয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির | মাধ্যমে সম্রাট আকবর সাফল্য ও শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছিল ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

সম্রাট নিজাম উদ্দিন একজন জনপ্রিয় শাসক। নিজে নিষ্ঠাবান মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও তিনি অন্য ধর্মমতের প্রতি সহিষ্ণু ছিলেন । তিনি তার রাজ্যে বসবাসকারী বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীগণের অনুষ্ঠান ভিত্তিক ধর্মীয় আচরণের মতপার্থক্য দূর করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করেন । শাসন পরিচালনায় অন্যান্য ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের সাহায্যে লাভের উদ্দেশ্যে তিনি সকল ধর্মের সারবস্তু নিয়ে একটি নতুন ধর্ম প্রবর্তন করেন ।

ক.

দীন-ই-ইলাহি কে প্রবর্তন করেন ?

খ.

আইন-ই-আকবরী কী ? ব্যাখ্যা করো।

গ.

উদ্দীপকে উল্লেখিত শাসকের সাথে তোমার পঠিত কোন মুগল সম্রাটের ধর্মনীতি প্রবর্তনের সাদৃশ্য রয়েছে ? ব্যাখ্যা করো ।

ঘ.

“আন্তঃধর্মীয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি প্রতিষ্ঠাই উক্ত মুঘল শাসকের সাফল্য ও শ্রেষ্ঠত্ব লাভের অন্যতম কারণ'-বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

ক. পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ কত সালে হয়েছিল? খ. বাবুরনামা সম্পর্কে লেখ। গ. উদ্দীপকের '?' স্থানে কোন শাসকের রাজত্বকাল নির্দে...

ক. তাজমহল কোন নদীর তীরে অবস্থিত? খ. সম্রাট শাহজাহানের শেষ জীবন সুখের ছিল না কেন? গ. উদ্দীপকের চিত্রটি কোন মুঘল সম্রাটের ...

“ ক ” রাজ্যের স্থানীয় শাসনকর্তার আমন্ত্রণ পেয়ে “ প ” রাজ্যের শাসক একটি নতুন সাম্রাজ্যে প্রতিষ্...

‘ ক ’ ইতিহাসে একজন বিখ্যাত শাসক। শাসন ক্ষমতা লাভের পর তিনি বিভিন্ন সংস্কারের প্রতি মনোযোগ দেন। প্রশাসনিক বিক...

‘আইন-ই-আকবরী’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?

কোন সম্রাটকে 'The Prince of Builders' আখ্যা দেয়া হয়েছে?

ভারতের ইতিহাসে কে সর্বপ্রথম কামান-এর ব্যবহার করেন?

অভিজাত সম্প্রদায়ের পরেই কাদের স্থান ছিল?

অম্বরের রাজার নাম কী ছিল?

অল্প বয়সে ছোট একটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন সম্রাট শিহাব। পার্শ্ববর্তী রাজ্যে অভিযান করতে গিয়ে তার রাষ্ট্রটি হাতছাড়া...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।