Facebook Pixel

স্পেনের উমাইয়া খলিফা দ্বিতীয় আব্দুর রহমানের স্ত্রী সুলতানা তারুবা শাসনকার্যে খলিফার নির্লিপ্ততার সুযোগে রাষ্ট্রের সর্বেসর্বা হয়ে উঠেছিলেন । আইন , শাসন ও বিচার বিভাগের সর্বত্রই সুলতানা তারুবার একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল । সরাসরি রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ না করেও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও সামরিক ক্ষেত্রে নিয়োগ ও বদলীসহ যাবতীয় নীতি নির্ধারণে সুলতানা তারুবা একক ক্ষমতা প্রয়োগ করতেন । ক. মুঘল সম্রাজ্ঞী নুরজাহানের প্রকৃত নাম কী ? খ. মনসবদারী প্রথা ব্যাখ্যা করো । গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত সুলতানা তারুবার সাথে কোন মুঘল সম্রাজ্ঞীর কর্মকাণ্ডের সাদৃশ্য রয়েছে ? ব্যাখ্যা করো । ঘ. উল্লিখিত মহীয়সী রমণী অপেক্ষা তোমার পঠিত মুঘল সম্রাজ্ঞী গুণগতভাবে শ্রেষ্ঠ ছিলেন - উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ ভারত উপমহাদেশে মুঘল শাসন

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. মুঘল সম্রাজ্ঞী নূরজাহানের প্রকৃত নাম মেহের - উন - নিসা । খ. ইসলামি অনুশাসনের প্রতি নিষ্ঠাবান , হওয়ায় মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবকে জিন্দাপির বলা হয় । সম্রাট আওরঙ্গজেব ছিলেন খাঁটি সুন্নি মুসলমান। ব্যক্তিগত জীবনে ইসলামের বিধি - বিধান পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মেনে চলেছেন। ধর্মীয় দৃষ্টিতে তিনি পরিশুদ্ধ জীবনযাপন করতেন। রাজ্যশাসনের ব্যাপারে তিনি ইসলাম ধর্ম অনুমোদিত বিধান জারি করেন। আওরঙ্গজেব ইসলামি আচার - আচরণ বিরোধী সব উৎসব - অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেন। সম্রাট আকবরের শাসনামলে ইসলাম ধর্মের চর্চা অত্যন্ত শিথিল হয়ে পড়েছিল , আওরঙ্গজেব তা পুনরুজ্জীবিত করেন। তার এ অবদানের জন্য তিনি সাম্রাজ্যের মুসলমানদের কাছ থেকে “ জিন্দাপির ' উপাধি লাভ করেন । গ. সুলতানা তারুবের কর্মকাণ্ডের সাথে মুঘল সম্রাজ্ঞী নূরজাহানের কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে । মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের স্ত্রী ছিলেন নূরজাহান। ১৬১১ খ্রিষ্টাব্দে সম্রাট জাহাঙ্গীরের সাথে তার বিবাহের পর থেকে প্রায় ১৫ বছর সাম্রাজ্যে প্রবল প্রতিপত্তি ও প্রভাব বিস্তার করেছিলেন । অসামান্য রূপ ও গুণের অধিকারী এ নারীর সম্রাট জাহাঙ্গীরের ওপরও ব্যাপক প্রভাব ছিল। উদ্দীপকে এ ঘটনারই প্রতিফলন ঘটেছে। স্পেনীয় উমাইয়া শাসক দ্বিতীয় আব্দুর রহমানের স্ত্রী সুলতানা তারুব রাজ্যের সর্বেসর্বা হয়ে উঠেছিলেন। রাজ্যের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে তারুবের সিদ্ধান্তকেই চূড়ান্ত বলে গ্রহণ করা হতো। প্রাসাদের আমির - উমরাহদের পদায়ন ও পদচ্যুতি সবই ঘটত সুলতানা তারুবের নির্দেশে। ঠিক একইভাবে মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের স্ত্রী নূরজাহানও রাজদণ্ড নিজের হাতে ধারণ না করলেও তিনি দরবারে সর্বেসর্বা ছিলেন এবং সম্রাট তার হাতের ক্রীড়নকে পরিণত হয়ে পড়েছিলেন। দরবারের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে তিনি নিজের পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতেন। সম্রাটের ওপর অসামান্য প্রভাবের কারণে মন্ত্রী ও সভাসদরা তার নির্দেশ অমান্য করতে পারতেন না । তাই বলা যায় , সুলতানা তারুবের চরিত্রে মুঘল সম্রাজ্ঞী নূরজাহানের গুণাবলিরই প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে । ঘ. উল্লিখিত মহীয়সী রমণী অপেক্ষা আমার পঠিত মুঘল সম্রাজ্ঞী গুণগতভাবে শ্রেষ্ঠ ছিলেন — উক্তিটি যথার্থ । সম্রাট জাহাঙ্গীরের রাজত্বকালে ( ১৬০৫ - ১৬২৭ ) নূরজাহান এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। তিনি অসীম সাহসিকতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞতার মতো গুণাবলি প্রদর্শন করে রাষ্ট্রীয় কাজে অনন্য প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন। উদ্দীপকে উল্লিখিত মহিয়সী রমণী তারুবা রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণে প্রতিভার পরিচয় দিলেও তিনি অসাধারণ গুণের অধিকারী ছিলেন না। অন্যদিকে মুঘল সম্রাজ্ঞী নূরজাহান অসামান্য রূপ ও অসাধারণ গুণের অধিকারী। সর্বগুণে গুনান্বিত নূরজাহানের ছিল তীক্ষ্ণবুদ্ধি , প্রগাঢ় সাধারণ জ্ঞান এবং শিল্প সাহিত্যের প্রতি প্রবল অনুরাগ। অনিন্দ্য ও অনুপম সৌন্দর্য , অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা ও বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী নূরজাহান রাজকার্যে বিচক্ষণ , ফার্সি সাহিত্যে অপরিসীম ব্যুৎপত্তি এবং অসি চালনা , রণকৌশল ও অশ্বারোহণে ছিলেন পারদর্শিনী। ললিতকলায় বিশেষজ্ঞ এবং ফ্যাশনের অগ্রদূত নূরজাহান নিত্য নব নব ঢংয়ের পোশাক পরিচ্ছদ ও অলঙ্কারের প্রবর্তন করে সমসাময়িক কালের অভিজাত সম্প্রদায়ের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ঐতিহাসিক হাশিম কাকী খান বলেন , ' নূরজাহান কর্তৃক প্রবর্তিত ফ্যাশন সমাজে আজও প্রচলিত রয়েছে , নূরজাহান একজন সমাজ সেবকও ছিলেন। মুহাম্মদ হাদী বলেন , ' নূরজাহান ছিলেন সকল বিপদগ্রস্ত বা অসহায়দের আশ্রয়স্থল এবং অনাথ বালিকাদের তিনি নিজ খরচে বিবাহ প্রদান করতেন ' । বাঘ শিকারেও নূরজাহান সিদ্ধহস্ত ছিলেন। একবার জাহাঙ্গীরের সাথে মৃগয়ায় গমন করে তিনি স্বহস্তে একটি ব্যাঘ্র শিকার করেছিলেন। উপরের আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে , নূরজাহান অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী যেমনটি উদ্দীপকে বর্ণিত তারুবার ক্ষেত্রে দেখা যায় না। তাই বলা যায় , তারুবা অপেক্ষা নূরজাহান গুণগতভাবে শ্রেষ্ঠ ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

স্পেনের উমাইয়া খলিফা দ্বিতীয় আব্দুর রহমানের স্ত্রী সুলতানা তারুবা শাসনকার্যে খলিফার নির্লিপ্ততার সুযোগে রাষ্ট্রের সর্বেসর্বা হয়ে উঠেছিলেন। আইন, শাসন ও বিচার বিভাগের সর্বত্রই সুলতানা তারুবার একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল । সরাসরি রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ না করেও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও সামরিক ক্ষেত্রে নিয়োগ ও বদলীসহ যাবতীয় নীতি নির্ধারণে সুলতানা তারুবা একক ক্ষমতা প্রয়োগ করতেন ।

ক.

মুঘল সম্রাজ্ঞী নুরজাহানের প্রকৃত নাম কী ?

খ.

মনসবদারী প্রথা ব্যাখ্যা করো ।

গ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত সুলতানা তারুবার সাথে কোন মুঘল সম্রাজ্ঞীর কর্মকাণ্ডের সাদৃশ্য রয়েছে ? ব্যাখ্যা করো ।

ঘ.

উল্লিখিত মহীয়সী রমণী অপেক্ষা তোমার পঠিত মুঘল সম্রাজ্ঞী গুণগতভাবে শ্রেষ্ঠ ছিলেন- উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

ক. পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ কত সালে হয়েছিল? খ. বাবুরনামা সম্পর্কে লেখ। গ. উদ্দীপকের '?' স্থানে কোন শাসকের রাজত্বকাল নির্দে...

ক. তাজমহল কোন নদীর তীরে অবস্থিত? খ. সম্রাট শাহজাহানের শেষ জীবন সুখের ছিল না কেন? গ. উদ্দীপকের চিত্রটি কোন মুঘল সম্রাটের ...

“ ক ” রাজ্যের স্থানীয় শাসনকর্তার আমন্ত্রণ পেয়ে “ প ” রাজ্যের শাসক একটি নতুন সাম্রাজ্যে প্রতিষ্...

‘ ক ’ ইতিহাসে একজন বিখ্যাত শাসক। শাসন ক্ষমতা লাভের পর তিনি বিভিন্ন সংস্কারের প্রতি মনোযোগ দেন। প্রশাসনিক বিক...

‘আইন-ই-আকবরী’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?

কোন সম্রাটকে 'The Prince of Builders' আখ্যা দেয়া হয়েছে?

ভারতের ইতিহাসে কে সর্বপ্রথম কামান-এর ব্যবহার করেন?

অভিজাত সম্প্রদায়ের পরেই কাদের স্থান ছিল?

অম্বরের রাজার নাম কী ছিল?

অল্প বয়সে ছোট একটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন সম্রাট শিহাব। পার্শ্ববর্তী রাজ্যে অভিযান করতে গিয়ে তার রাষ্ট্রটি হাতছাড়া...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।