Facebook Pixel

সাদিয়া ও মাধুর্য মুঘল সাম্রাজ্য নিয়ে কথা বলছিল। সাদিয়-মাধুর্যকে জানায় এই সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার প্রথমদিকে সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা 'ক'-এর সাথে অন্য বংশের শাসক 'খ'-এর 'ঢ' নামক স্থানে এক যুদ্ধ হয়। এই যুদ্ধে 'ক' কামান ব্যবহার করেন এবং 'খ' নামক শাসক শোচনীয় পরাজয়বরণ করেন। এবং 'খ' নামক শাসকের বংশের পরিসমাপ্তি ঘটে। মাধুর্য বিষয়টির সাথে একমত পোষণ করে এবং বলে এই যুদ্ধে জয়লাভ করার ফলে ভারতবর্ষে মুঘল রাজত্বের সূচনা হয়। ক. শেরশাহ কীভাবে মারা যায়? খ. দ্বীন-ই-ইলাহি বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকে সাদিয়া কোন যুদ্ধের কথা বলেছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত মাধুর্য্যের মতামতটির যথার্থতা নিরূপন কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ ভারত উপমহাদেশে মুঘল শাসন

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. কালিঞ্জর দুর্গ অবরোধকালে বারুদ বিস্ফোরণে আহত হয়ে ১৫৪৫ সালে শেরশাহ মৃত্যুবরণ করেন। খ. সম্রাট আকবর ১৫৮২ খ্রিষ্টাব্দে তার নতুন ধর্মমত দ্বীন-ই-ইলাহির প্রবর্তন করেন। এ ধর্মমতের কলেমা ছিল 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আকবারু খলিফাতুল্লাহ।' দ্বীন-ই-ইলাহির ধর্মমতে দীক্ষিত হতে হলে একজনকে সম্রাটের নামে জীবন, ধর্ম, সম্মান ও সম্পত্তি উৎসর্গ করতে। হতো এবং সম্রাটকে সেজদা করতে হতো। এছাড়া তার প্রবর্তিত দ্বীন-ই-ইলাহির সেজদা প্রথা, অগ্নিকে পবিত্র মনে করা, প্রাসাদে রাজপুত স্ত্রীদের পূজার অনুমতি প্রদান ইত্যাদি ইসলাম বিরোধী কার্যকলাপ ধর্মের অঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হতো। গ. উদ্দীপকে সাদিয়া পানিপথের প্রথম যুদ্ধের কথা বলেছে। উদ্দীপকে সাদিয়া মাধুর্য্যকে জানায় ভারতে একটি সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা 'ক'-এর সাথে অন্য বংশের 'খ'-এর যুদ্ধ হয় এবং 'ক' যুদ্ধে কামান ব্যবহার করে 'খ' কে পরাজিত করে সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন, যা বাবর কর্তৃক ইব্রাহিম লোদীকে পানিপথের প্রথম যুদ্ধে পরাজিত করে ভারতে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার অনুরূপ। ২১ এপ্রিল ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে বাবর পাঞ্জাব দখল করে দিল্লি জয়ের উদ্দেশ্যে সামরিক অভিযান শুরু করেন। বাবরের সেনাবাহিনীতে মাত্র ১২,০০০ সৈন্য ছিল। তার সাথে ছিল একদল গোলন্দাজ, ওস্তাদ আলী ও মোস্তফার মতো শক্তিশালী সামরিক নেতা এবং পাঞ্জাব হতে আগত ভারতীয় অভিজাত শ্রেণি। বাবরের হিসাবমতে, ইব্রাহিম লোদীর এক লক্ষ সৈন্য এবং ১০০ হাতি ছিল। দিল্লির নিকটবর্তী একটি গ্রামের নাম পানিপথ, বাবর ও দিল্লির রাজকীয় বাহিনী পানিপথে সৈন্য সমাবেশ করে। বাবর সৈন্যদের কয়েকটি শাখায় বিভক্ত করেন। বামপাশে তিনি পরিখা খনন করেন এবং গাছের গুড়ি দিয়ে শত্রু আক্রমণের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। বাবর কামানের ব্যবহার সুনির্দিষ্ট করেন। অপরদিকে, ইব্রাহিম লোদীর মধ্যে যুদ্ধের গতানুগতিক কৌশল দেখা যায়। উভয় বাহিনীর মধ্যে ৭বা ৮ দিন বিক্ষিপ্তভাবে যুদ্ধ চলতে থাকে। অবশেষে উভয় বাহিনীকে চূড়ান্ত যুদ্ধের মুখোমুখি হতে হয়। ইব্রাহিম লোদী ৫,০০০০ থেকে ৬,০০০০ সৈন্য নিয়ে বাবরের বাহিনীর ওপর ঝাপিয়ে পড়েন। কয়েক ঘণ্টা যুদ্ধ স্থায়ী হয়। ইব্রাহিম লোদী যুদ্ধে মারা যান এবং লোদী বংশের শাসনের যবনিকাপাত হয়। অতএব সাদিয়া পানিপথের প্রথম যুদ্ধের কথা বলেছে। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত মাধুর্য্যর মতামত তথা উক্ত যুদ্ধে অর্থাৎ পানিপথের প্রথম যুদ্ধে জয় লাভ করে বাবর ভারতে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। পানিপথের যুদ্ধে বিজয়ী হয়ে বাবর তার বাহিনী নিয়ে দিল্লি ও আগ্রা দখল করেন। ১৫২৬ সালের ২৭ এপ্রিল দিল্লির জামে মসজিদে জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবরের নামে জুমার দিনের খুৎবা পাঠ করা হয়। এভাবে বাবর দিল্লি ও আগ্রা দখল করে দিল্লি সালতানাতের পতন ঘটিয়ে ভারতে মুঘল সম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করেন। এ যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদী শোচনীয়ভাবে পরাজয় বরণ করলে দিল্লি সালতানাতের পতন। ঘটে এবং লোদী বংশের শাসনের অবসান হয়। পাশাপাশি সম্রাট বাবর ভারতবর্ষে মুঘল বংশের শাসনের গোড়াপত্তন করেন। মুঘল সম্রাট বাবর ইব্রাহিম লোদীর চেয়ে সবদিক দিয়ে সেরা ছিলেন তিনি ছিলেন শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা, কৃশলী সেনাপতি ও দূরদর্শী রাজনীতিবিদ তার মেধা, দক্ষতা ও পরিশ্রম তাকে ইতিহাসের সোনালি পাতায় স্থায়ী আসন করে দেয়। ঐতিহাসিক লেনপুল বলেন, তার ভারত বিজয় তাকে ইতিহাসে স্থায়ী আসন দিয়েছে, যা একটি রাজবংশ প্রতিষ্ঠার পথ খুলে দেয়। বাবর প্রতিষ্ঠিত মুঘল বংশ ভারতে ১৮৫৮ সাল পর্যন্ত শাসন পরিচালনা করে। বাবর প্রাদেশিক শাসনকার্য পরিচালনার জন্য প্রত্যেক প্রদেশে ওয়ালি ও একজন দিওয়ান, শিকদার এবং কোতোয়াল নিয়োগ করেন। তিনি যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করেন। তিনি দিল্লি ও আগ্রার ২০টি উদ্যান, বহু পাকা নর্দমা, সেতু, অট্রালিকা নির্মাণ করেন। বাবর একজন সুসাহিত্যিক, নিপুন সমালোচক ও হস্তশিল্প বিশারদ হিসেবে কৃতিত্বের দাবিদার। বাবরনামা তার গদ্য রচনার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন, মধ্যযুগের ইতিহাসে বাবর সর্বাপেক্ষা আকর্ষণীয় ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন নরপতি, দুঃসাহসী যোদ্ধা, শাসক ও পণ্ডিত ব্যক্তি হিসেবে তিনি মধ্যযুগের যেকোনো কৃতি শাসকের সমকক্ষতা দাবি করতে পারেন। অতএব, পানিপথের প্রথম যুদ্ধে বিজয়ী হয়ে বাবর ভারতে ১৫২৬ সালে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। তাই মাধুর্য্যের মতামতটি যথার্থ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

সাদিয়া ও মাধুর্য মুঘল সাম্রাজ্য নিয়ে কথা বলছিল। সাদিয়-মাধুর্যকে জানায় এই সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার প্রথমদিকে সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা 'ক'-এর সাথে অন্য বংশের শাসক 'খ'-এর 'ঢ' নামক স্থানে এক যুদ্ধ হয়। এই যুদ্ধে 'ক' কামান ব্যবহার করেন এবং 'খ' নামক শাসক শোচনীয় পরাজয়বরণ করেন। এবং 'খ' নামক শাসকের বংশের পরিসমাপ্তি ঘটে। মাধুর্য বিষয়টির সাথে একমত পোষণ করে এবং বলে এই যুদ্ধে জয়লাভ করার ফলে ভারতবর্ষে মুঘল রাজত্বের সূচনা হয়।

ক.

শেরশাহ কীভাবে মারা যায়?

খ.

দ্বীন-ই-ইলাহি বলতে কী বোঝায়?

গ.

উদ্দীপকে সাদিয়া কোন যুদ্ধের কথা বলেছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত মাধুর্য্যের মতামতটির যথার্থতা নিরূপন কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

ক. পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ কত সালে হয়েছিল? খ. বাবুরনামা সম্পর্কে লেখ। গ. উদ্দীপকের '?' স্থানে কোন শাসকের রাজত্বকাল নির্দে...

ক. তাজমহল কোন নদীর তীরে অবস্থিত? খ. সম্রাট শাহজাহানের শেষ জীবন সুখের ছিল না কেন? গ. উদ্দীপকের চিত্রটি কোন মুঘল সম্রাটের ...

“ ক ” রাজ্যের স্থানীয় শাসনকর্তার আমন্ত্রণ পেয়ে “ প ” রাজ্যের শাসক একটি নতুন সাম্রাজ্যে প্রতিষ্...

‘ ক ’ ইতিহাসে একজন বিখ্যাত শাসক। শাসন ক্ষমতা লাভের পর তিনি বিভিন্ন সংস্কারের প্রতি মনোযোগ দেন। প্রশাসনিক বিক...

‘আইন-ই-আকবরী’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?

কোন সম্রাটকে 'The Prince of Builders' আখ্যা দেয়া হয়েছে?

ভারতের ইতিহাসে কে সর্বপ্রথম কামান-এর ব্যবহার করেন?

অভিজাত সম্প্রদায়ের পরেই কাদের স্থান ছিল?

অম্বরের রাজার নাম কী ছিল?

অল্প বয়সে ছোট একটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন সম্রাট শিহাব। পার্শ্ববর্তী রাজ্যে অভিযান করতে গিয়ে তার রাষ্ট্রটি হাতছাড়া...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।