Facebook Pixel

সিকান্দর সাহেব শাসনক্ষমতা লাভের পর তার সাম্রাজ্যের পূর্বাঞ্চলে চরম বিদ্রোহ দেখা দেয়। এ বিদ্রোহ দমনে তিনি কতিপয় জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। প্রথমেই তিনি বিদ্রোহ দমনে উল্লিখিত অঞ্চলের জন্য একটি 'বিশেষ নীতি' প্রবর্তন করেন। অধিক অর্থ বরাদ্দ, সর্বশ্রেষ্ঠ সামরিক বাহিনী মোতায়েন, যুদ্ধাস্ত্র সরবরাহ ও স্বয়ং যুদ্ধে নেতৃত্বে প্রদান প্রভৃতি পদক্ষেপের মাধ্যমে তিনি উক্ত বিদ্রোহ দমনে আংশিক সাফল্য লাভ করেন। ক. কত সালে মুঘল শাসনামলের অবসান ঘটে? খ. শিবাজী কে ছিলেন? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত শাসকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীতির মিল ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত শাসকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীতি মুঘল রাজবংশের পতনের অন্যতম কারণ- ব্যাখ্যা কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ ভারত উপমহাদেশে মুঘল শাসন

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ১৮৫৮ সালে মুঘল শাসনামলের অবসান ঘটে। খ. শিবাজী ছিলেন মারাঠা নেতা ও মারাঠা সাম্রাজের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি শিবাজী ভোসলে বা ছত্রপতি শিবাজী নামেও পরিচিত ছিলেন। তিনি আদিল শাহি সালতানাতের সাথে যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন এবং মুসলদের, বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে হেরে যান। তার প্রতিষ্ঠিত মারাঠা রাজ্যের রাজধানী ছিল রায়গড়। তার পিতার নাম ছিল শাহাজী ও মাতার নাম ছিল জিজাবাই। শিবাজী ১৬৮০ সালে মারা যান। গ. সাম্রাট আওরঙ্গজেব ক্ষমতা গ্রহণ করে দাক্ষিণাত্য বিজয়ের জন্য বিশেষ নীতি গ্রহণ করেন। উদ্দীপকে দেখা যায়, সিকান্দর সাহেব শাসনক্ষমতা লাভের পর তার সাম্রাজ্যের পূর্বাঞ্চলে চরম বিদ্রোহ দেখা দেয়। এ বিদ্রোহ দমনে তিনি কতিপয় জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। প্রথমেই তিনি বিদ্রোহ দমনে উল্লিখিত অঞ্চলের জন্য একটি 'বিশেষ নীতি' প্রবর্তন করেন। অধিক অর্থ বরাদ্দ, সর্বশ্রেষ্ঠ সামরিক বাহিনী মোতায়েন, যুদ্ধাস্ত্র সরবরাহ ও স্বয়ং যুদ্ধে নেতৃত্বে প্রদান প্রভৃতি পদক্ষেপের মাধ্যমে তিনি উক্ত বিদ্রোহ দমনে আংশিক সাফল্য লাভ করেন। যা সম্রাট আওরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। দক্ষিণাত্য নীতি সম্রাট আওরঙ্গজেবের রাজত্বের একটি বিশেষ উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। উত্তর ভারতের রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান করে আওরঙ্গজেব দক্ষিণ ভারতের দিকে নজর দেন। ১৬৮১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে তার জীবনের শেষ পর্যন্ত দাক্ষিণাত্যের মারাঠা দমনের প্রচেষ্টা এবং বিজাপুর ও গোলকুন্ডা অধিকার করেই জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটান। তার সময় ভারতীয় মুঘল সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি এত বেশি হয়েছিল যে, এ বিশাল সাম্রাজ্যকে সুষ্ঠুভাবে শাসন করা সম্ভব ছিল না। আর দাক্ষিণাত্য বিজয়ের মধ্য দিয়ে যে বিস্তৃত সাম্রাজ্য। প্রতিষ্ঠিত হয় তা পরিচালনা ও সর্বত্র সুশাসন প্রতিষ্ঠা একটি বড় সমস্যা হয়ে দেখা দেয়। উপরন্তু এর ফলে কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। অতএব, উদ্দীপকের সাথে আওরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীতির মিল পাওয়া যায়। ঘ. উক্ত সম্রাট তথা আওরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীতি মুঘল বংশের পতনের অন্যতম কারণ। মন্তব্যটি যথার্থ। দাক্ষিণাত্য সম্রাট আওরঙ্গজেবের দেহের ও সাম্রাজ্যের সমাধিভূমি ছিল।' পাশাপাশি মুঘল সম্রাজ্যের পতনের কারণ; ছিল। আওরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য জয় সম্পর্কে স্যার যদুনাথ সরকার বলেন, আপাতদৃষ্টিতে সকল কিছু লাভ করলেও তিনি প্রকৃতপক্ষে সকল কিছুই হারালেন। এ সময় হতেই তার পতনের সূচনা হয়। তার জীবনের মর্মান্তিক এবং অত্যন্ত নৈরাশ্যজনক অধ্যায়ের সূত্রপাত ঘটে। দাক্ষিণাত্য বিজয়ের মাধ্যমে ১৬৯১ খ্রিষ্টাব্দে সম্রাট কাবুল হতে চট্টগ্রাম এবং কাশ্মীর হতে কুমারিকা অন্তরীপ পর্যন্ত বিশাল ও বিস্তীর্ণ ভূখণ্ডের এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী নরপতির মর্যাদা লাভ করেন। এতদসত্ত্বেও আওরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীতি মুঘল সাম্রাজ্যের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। দাক্ষিণাত্য জয়ের ফলে সাম্রাজ্যের ব্যাপক বিস্তৃতির কারণে কেন্দ্রীয় শাসন্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। দাক্ষিণাত্যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ হওয়ার ফলে সাম্রাজ্যের অর্থনীতিতেও সংকট দেখা দেয়। উত্তর ভারতে সম্রাটের দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে সেখানে সম্রাটের প্রভাব হ্রাস পায়। ফলে আফগান, শিখ, জাঠ, মেওয়াটি ও রাজপুতরা চারদিকে মাথা তুলে দাঁড়ায়। এভাবে সম্রাটের জীবীতাবস্থায় মুঘল সাম্রাজ্যের বিপর্যয়ের সূত্রপাত হয় এবং এ অবস্থার বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের মতো ক্ষমতা সম্রাটের ছিল না। দাক্ষিণাত্য নীতির ব্যর্থতার ফলে দুশ্চিন্তায় সম্রাটের মন ও শরীর ভেঙে পড়ে এবং ভগ্নস্বাস্থ্য নিয়ে ১৭০৭ খ্রিষ্টাব্দের ৩ মার্চ আওরঙ্গজেব শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। অতএব, দাক্ষিণাত্য নীতি মুঘল শাসনামলের পতনের অন্যতম কারণ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

সিকান্দর সাহেব শাসনক্ষমতা লাভের পর তার সাম্রাজ্যের পূর্বাঞ্চলে চরম বিদ্রোহ দেখা দেয়। এ বিদ্রোহ দমনে তিনি কতিপয় জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। প্রথমেই তিনি বিদ্রোহ দমনে উল্লিখিত অঞ্চলের জন্য একটি 'বিশেষ নীতি' প্রবর্তন করেন। অধিক অর্থ বরাদ্দ, সর্বশ্রেষ্ঠ সামরিক বাহিনী মোতায়েন, যুদ্ধাস্ত্র সরবরাহ ও স্বয়ং যুদ্ধে নেতৃত্বে প্রদান প্রভৃতি পদক্ষেপের মাধ্যমে তিনি উক্ত বিদ্রোহ দমনে আংশিক সাফল্য লাভ করেন।

ক.

কত সালে মুঘল শাসনামলের অবসান ঘটে?

খ.

শিবাজী কে ছিলেন?

গ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত শাসকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীতির মিল ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত শাসকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীতি মুঘল রাজবংশের পতনের অন্যতম কারণ- ব্যাখ্যা কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

ক. পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ কত সালে হয়েছিল? খ. বাবুরনামা সম্পর্কে লেখ। গ. উদ্দীপকের '?' স্থানে কোন শাসকের রাজত্বকাল নির্দে...

ক. তাজমহল কোন নদীর তীরে অবস্থিত? খ. সম্রাট শাহজাহানের শেষ জীবন সুখের ছিল না কেন? গ. উদ্দীপকের চিত্রটি কোন মুঘল সম্রাটের ...

“ ক ” রাজ্যের স্থানীয় শাসনকর্তার আমন্ত্রণ পেয়ে “ প ” রাজ্যের শাসক একটি নতুন সাম্রাজ্যে প্রতিষ্...

‘ ক ’ ইতিহাসে একজন বিখ্যাত শাসক। শাসন ক্ষমতা লাভের পর তিনি বিভিন্ন সংস্কারের প্রতি মনোযোগ দেন। প্রশাসনিক বিক...

‘আইন-ই-আকবরী’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?

কোন সম্রাটকে 'The Prince of Builders' আখ্যা দেয়া হয়েছে?

ভারতের ইতিহাসে কে সর্বপ্রথম কামান-এর ব্যবহার করেন?

অভিজাত সম্প্রদায়ের পরেই কাদের স্থান ছিল?

অম্বরের রাজার নাম কী ছিল?

অল্প বয়সে ছোট একটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন সম্রাট শিহাব। পার্শ্ববর্তী রাজ্যে অভিযান করতে গিয়ে তার রাষ্ট্রটি হাতছাড়া...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।