Facebook Pixel

শিহাবউদ্দিন পিতার মৃত্যুর পর মাত্র ১৪ বছর বয়সেই বিজাপুরের শাসনকর্তা হলেও আত্মীয়দের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে নিজ রাজ্য হারিয়ে দাবারবোর্ডের সৈন্য সামন্তহীন রাজার ন্যায় এক ঘর থেকে অন্য ঘরে ঘুরতে থাকেন। একপর্যায়ে পুনরায় সৈন্য সংগ্রহ করে পার্শ্ববর্তী রাজ্যের দুর্বলতার সুযোগে আক্রমণ করে বিজয় অর্জন করেন। পরবর্তীতে তার উন্নত রণনীতি ও সামরিক দক্ষতার ফলে যুদ্ধে জয়লাভের মধ্য দিয়ে একটি বিশাল সাম্রাজ্যের ভিত্তি রচনা করেন। ক. লোদি বংশের সর্বশেষ শাসকের নাম কী? খ. 'কুবলিয়ত ও পাট্টা' বলতে কী বুঝ? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত শাসকের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন শাসকের মিল রয়েছে? তার জীবনের প্রাথমিক সমস্যাবলি আলোচনা কর। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত শাসকের সাথে তোমার পাঠ্য শাসকের কৃতিত্ব মূল্যায়ন কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ ভারত উপমহাদেশে মুঘল শাসন

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. লোদি বংশের সর্বশেষ শাসকের নাম ইব্রাহিম লোদি।. খ. শেরশাহ প্রজাদের সাথে সরকারের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক স্থাপনের উদ্দেশ্যে জমিদারি প্রথা লোপ এবং রায়তওয়ারি প্রথা প্রবর্তন করেন। ভূমি ব্যবস্থাপনায় 'কবুলিয়ত' ও 'পাট্টা' প্রথা প্রচলন তার অনবদ্য উদ্ভাবন। পাট্টা ছিল জমির স্বত্ব দলিল। জমির ওপর কৃষকের অধিকার ও স্বত্ব স্বীকার করে সরকারের পক্ষ হতে পাট্টা দেওয়া হতো। অন্যদিকে প্রদেয় করসহ ভূমিতে তার দায় ও কর্তব্য বর্ণনা করে কৃষক রাষ্ট্রকে কবুলিয়ত নামক দলিল সম্পাদন করে দিতেন। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত শাসকের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের সম্রাট বাবরের মিল রয়েছে। তিনি ক্ষমতা গ্রহণ করেই নানা সমস্যার সম্মুখীন হন। ১৪৯৪ খ্রিষ্টাব্দে পিতার মৃত্যুর পর সিংহাসনে আরোহণ করেই বাবর দুই পিতৃব্য ও আত্মীয়স্বজন এবং উজবেক নেতা সাইবানি খানের বিরোধিতার সম্মুখীন হন। বাবর ১৪৯৭ খ্রিষ্টাব্দে মধ্য এশিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধের সুযোগে সমরখন্দ অধিকার করেন। কিন্তু ভাগ্য বিপর্যয়ে তিনি সমরখন্দ হারান। ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দে পিতৃরাজ্য ফারগানাও তার হস্তচ্যুত হয়। সমরখন্দ ও ফারগানা হারিয়ে বাবর অসহায় ও ভাগ্য বিপর্যয়ে পতিত হয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘুরে বেড়াতে থাকেন। ঐতিহাসিক আবুল কাশিম ফিরিশতা বলেন, 'He was moving from square to square like a king on chess board.' ফারগনা উদ্ধারের ব্যর্থ চেষ্টা না করে বাবর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গোলযোগের সুযোগ নিয়ে ১৫০৪ খ্রিষ্টাব্দে রাজা আরঘুনকে পরাজিত করে কাবুল অধিকার করেন। অল্পদিনের মধ্যেই সমগ্র আফগানিস্তানে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে বাবর 'বাদশাহ' উপাধি গ্রহণ করেন। সাইবানি খানের মৃত্যুর সুযোগে বাবর পারস্য সম্রাট শাহ ইসমাইলের সাথে মৈত্রী স্থাপন করেন এবং তার সহায়তায় ১৫১১ খ্রিষ্টাব্দে সমরখন্দ অধিকার করেন। ১৫১২ খ্রিষ্টাব্দে সাইবানি খানের পুত্রের নেতৃত্বে উজবেকদের কাছে গাজদাওয়ানের যুদ্ধে বাবর পরাজিত হলে তিনি কাবুলে ফিরে যেতে বাধ্য হন। তিনি এ সুবর্ণ সুযোগ গ্রহণ করেন এবং ১৫২৬ খ্রিষ্টাব্দের ২১ এপ্রিল পানিপথের মহাপ্রান্তরে ইব্রাহীম লোদীর মুখোমুখি হন এবং জয়লাভ করেন। এভাবে দিল্লির সাম্রাজ্য বাবরের অধীনে আসে যা কালক্রমে বিশাল সাম্রাজ্যে পরিণত হয়। অতএব সম্রাট বাবরের প্রাথমিক সমস্যা ছিল তার আত্মীয়-স্বজন ও সাইবানি খানের তীব্র বিরোধিতা। ঘ. উদ্দীপকে সম্রাট বাবরের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। তিনি সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ও শাসক হিসেবে অপরিসীম কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হন। সম্রাট বাবর কেবল নির্ভীক সৈনিক, দক্ষ সেনাধ্যক্ষ, সুদক্ষ অস্ত্র পরিচালক, প্রশংসনীয় ঘোড়সওয়ারই ছিলেন' না, বরং আলেকজান্ডারের মতো দেশ জয়ের নেশায় বিভোর থাকতেন। পানিপথের প্রথম যুদ্ধ, খানুয়ার যুদ্ধ এবং গোগরার যুদ্ধে তার সাফল্য তাকে ভারতীয় সমর ইতিহাসে উচ্চাসনে অধিষ্ঠিত করেছে। বাবর মাত্র ১১ বছর বয়স থেকে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হন। বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে তিনি প্রথমে কাবুলে এবং পরে ১৫২৬ খ্রিষ্টাব্দে ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। শুধু প্রতিষ্ঠা করেই ক্ষান্ত হয়নি। তার ভিত্তি সুদৃঢ় করে একে একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্যে পরিণত করেন। বাবরের চার বছরের শাসনামলে যুদ্ধবিগ্রহ কেটে যায়। এ অবস্থায় নবপ্রতিষ্ঠিত মুঘল সাম্রাজ্যের শাসনব্যবস্থায় কোনো প্রকার পরিবর্তন ও সংস্কার সাধন করা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। তথাপি তিনি নিজের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা হ্রাস করেন। প্রাদেশিক শাসনকার্য পরিচালনার জন্য প্রত্যেক প্রদেশে, একজন ওয়ালি, একজন দিওয়ান, শিকদার এবং কোতওয়াল ছিল। তিনি প্রশাসনিক কাজে তুর্কি, আফগান ও হিন্দুদের সমাজ সুযোগ দিতেন। সমগ্র সাম্রাজ্যে ১৫ মাইল অন্তর তিনি ডাক চৌকির ব্যবস্থা করেন। প্রজারঞ্জক বাবর দিল্লি ও আগ্রায় ২০টি উদ্যান, বহু পাকা নর্দমা, সেতু, অট্টালিকা নির্মাণ করেন। পরিশেষে বলতে পারি, সম্রাট বাবর শুধুমাত্র একজন বিজেতা হিসেবেই প্রশংসার দাবিদার নন, বরং একজন দক্ষ প্রশাসনিক হিসেবেও তিনি কৃতিত্বের দাবিদার। তাই সার্বিকভাবে বাবরের শাসনকাল কৃতিত্বপূর্ণ একথা নিঃসন্দেহেই বলা যায়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

শিহাবউদ্দিন পিতার মৃত্যুর পর মাত্র ১৪ বছর বয়সেই বিজাপুরের শাসনকর্তা হলেও আত্মীয়দের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে নিজ রাজ্য হারিয়ে দাবারবোর্ডের সৈন্য সামন্তহীন রাজার ন্যায় এক ঘর থেকে অন্য ঘরে ঘুরতে থাকেন। একপর্যায়ে পুনরায় সৈন্য সংগ্রহ করে পার্শ্ববর্তী রাজ্যের দুর্বলতার সুযোগে আক্রমণ করে বিজয় অর্জন করেন। পরবর্তীতে তার উন্নত রণনীতি ও সামরিক দক্ষতার ফলে যুদ্ধে জয়লাভের মধ্য দিয়ে একটি বিশাল সাম্রাজ্যের ভিত্তি রচনা করেন।

ক.

লোদি বংশের সর্বশেষ শাসকের নাম কী?

খ.

'কুবলিয়ত ও পাট্টা' বলতে কী বুঝ?

গ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত শাসকের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন শাসকের মিল রয়েছে? তার জীবনের প্রাথমিক সমস্যাবলি আলোচনা কর।

ঘ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত শাসকের সাথে তোমার পাঠ্য শাসকের কৃতিত্ব মূল্যায়ন কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

ক. পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ কত সালে হয়েছিল? খ. বাবুরনামা সম্পর্কে লেখ। গ. উদ্দীপকের '?' স্থানে কোন শাসকের রাজত্বকাল নির্দে...

ক. তাজমহল কোন নদীর তীরে অবস্থিত? খ. সম্রাট শাহজাহানের শেষ জীবন সুখের ছিল না কেন? গ. উদ্দীপকের চিত্রটি কোন মুঘল সম্রাটের ...

“ ক ” রাজ্যের স্থানীয় শাসনকর্তার আমন্ত্রণ পেয়ে “ প ” রাজ্যের শাসক একটি নতুন সাম্রাজ্যে প্রতিষ্...

‘ ক ’ ইতিহাসে একজন বিখ্যাত শাসক। শাসন ক্ষমতা লাভের পর তিনি বিভিন্ন সংস্কারের প্রতি মনোযোগ দেন। প্রশাসনিক বিক...

‘আইন-ই-আকবরী’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?

কোন সম্রাটকে 'The Prince of Builders' আখ্যা দেয়া হয়েছে?

ভারতের ইতিহাসে কে সর্বপ্রথম কামান-এর ব্যবহার করেন?

অভিজাত সম্প্রদায়ের পরেই কাদের স্থান ছিল?

অম্বরের রাজার নাম কী ছিল?

অল্প বয়সে ছোট একটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন সম্রাট শিহাব। পার্শ্ববর্তী রাজ্যে অভিযান করতে গিয়ে তার রাষ্ট্রটি হাতছাড়া...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।