Facebook Pixel

শাসক হযরত আলী ছিলেন শিল্পীমনের মানুষ। তিনি সাম্রাজ্যে শিল্পকলা ও স্থাপত্য অনবদ্য নিদর্শন রাখেন। ইতিহাসে তিনি একজন শ্রেষ্ঠ নির্মাতা হিসেবে পরিচিত। প্রিয়তমা 'স্ত্রীর ভালোবাসার নিদর্শনস্বরূপ তিনি আজ-জোহরা প্রাসাদ নির্মাণ করেন। শাশ্বত প্রেমের নিদর্শন হিসেবে এটির ভগ্নাবশেষ আজও বিদ্যমান আছে। ক. পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ কত সালে সংঘটিত হয়? খ. আওরঙ্গজেবকে জিন্দাপির বলা হয় কেন? গ. উদ্দীপকে শাসক হযরত আলীর সাথে মুঘল বংশের কোন শাসকের সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়? আলোচনা কর। ঘ. মুঘল বংশের উক্ত শাসক আজ-জোহরা প্রাসাদের অনুরূপ প্রাসাদ নির্মাণ করে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন? বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ ভারত উপমহাদেশে মুঘল শাসন

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ ১৭৬১ সালে সংঘটিত হয়। খ. ইসলামি অনুশাসনের প্রতি নিষ্ঠাবান হওয়ায় মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব জিন্দাপির বলা হয়। সম্রাট আওরঙ্গজেব ছিলেন খাঁটি সুন্নি মুসলমান। ধর্মীয় দৃষ্টান্তে ইসলামের বিধি-বিধান পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মেনে চলেছেন। তিনি পরিশুদ্ধ জীবনযাপন করতেন। রাজ্যশাসনের ব্যাপারে তিনি ইসলাম ধর্ম অনুমোদিত বিধান জারি করেন। আওরঙ্গজেব ইসলামি বিরোধী সকল উৎসব-অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেন। সম্রাট আকবরের আমলে ইসলাম ধর্মের চর্চা অত্যন্ত শিথিল হয়ে পড়েছিলো, আওরঙ্গজেব এসে পুনরুজ্জীবিত করে। তার এ অবদানের জন্য তিনি মুসলমানদের কাছ থেকে জিন্দাপির উপাধি লাভ করেন। গ. উদ্দীপকে শাসক হযরত আলীর সাথে মুঘল বংশের সম্রাট শাহজাহানের সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়। মুঘল সম্রাট শাহজাহানের রাজত্বকাল ভারতবর্ষের সার্বিক ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। সম্রাট শাহজাহান ছিলেন সৌন্দর্য পিপাসু ও শিল্পমনস্ক। তার সময়ে মুঘল স্থাপত্যের চরম উৎকর্ষ সাধিত হয়। স্থাপত্য শিল্পে বিস্ময়কর সাফল্য এনে তিনি বিশ্ব ইতিহাসে আজও 'The prince of builders' বা 'স্থপতির যুবরাজ' ও 'Engineer King' হিসেবে অভিহিত হন। উদ্দীপকে দেখা যায়, শিল্পীমনের শাসক হযরত আলী সাম্রাজ্যে শিল্পকলা ও স্থাপত্যে অনবদ্য নিদর্শন রাখেন।' তিনি প্রিয়তমা স্ত্রীর ভালোবাসার নিদর্শনস্বরূপ আজ-জোহরা প্রাসাদ নির্মাণ করেন। যা মুঘল শাহজাহানের কর্মকান্ডের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। সম্রাট শাহজাহানের অনবদ্য, অমর ও সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হলো যমুনা নদীর তীরে। আগ্রায় নির্মিত তাজমহল। এ তাজমহল সম্রাট তার প্রিয়তমা স্ত্রী মমতাজের প্রেমের নিদর্শনস্বরূপ বানিয়েছিলেন। ১৫৩২ খ্রিস্টাব্দে এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। তাজমহল নির্মাণ করতে ২২ বছর সময় লেগেছে এবং ৩ কোটি রুপি খরচ হয়েছে। সম্রাট শাহজাহানের রাজত্বকালে তার জাঁকজমকপ্রিয়তা ও আড়ম্বরতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ময়ূর সিংহাসন। পারস্য শিল্পাচার্য বেবাদল খান তত্ত্বাবধানে প্রায় ৭ বছর সময়ে প্রায় ১. কোটি রুপি ব্যয়ে এ সিংহাসনটি নির্মিত হয়েছিল। সিংহাসনটির চারটি পায়া স্বর্ণ দ্বারা আচ্ছাদিত এবং এর মাথায় মণিমুক্তাখচিত শামিয়ানা ছিল। সিংহাসনটিতে উঠার জন্য হীরা চুন্নি দ্বারা সুসজ্জিত তিনটি ধাপ ছিল। তার সময়ে আগ্রা, দিল্লি ও লাহোরে অনেক স্থাপত্য নির্মিত হয়। আগ্রায় নির্মিত দিউয়ান-ই-আম, দিউয়ান-ই-খাস, মতি মসজিদ ইত্যাদি নির্মাণ করে। তিনি শাহজাহানাবাদ শহরও নির্মাণ করেন। এছাড়াও শাহজাহান নির্মিত স্থাপত্য গুণের মধ্যে লাহোরে নির্মিত হীরা মহল, মতিমহল, রঙ্গমহল, শীর্ষমহল ও নিজামউদ্দিন আউলিয়ার সমাধিসৌধ-ছিল উল্লেখযোগ্য। ঘ. মুঘল বংশের উক্ত শাসক তথা সম্রাট শাহজাহান আজ-জোহরা প্রাসাদের অনুরূপ তাজমহল নির্মাণ করে ইতিহাস স্মরণীয় হয়ে আছে। মন্তব্যটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত। বিশ্বের ঐতিহ্যমণ্ডিত স্থাপত্যের মধ্যে সম্রাট শাহজাহান নির্মিত তাজমহল সর্বশীর্ষে। এটি আগ্রায় যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত। প্রিয়তমা পত্নী মমতাজ মহলের স্মৃতিকে চির অম্লান করে রাখার জন্য তিনি এটি নির্মাণ করেন। এটি মধ্যযুগের পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্য বলে স্বীকৃতি পেয়েছে। এটি শুধুমাত্র স্থাপত্যের শ্রেষ্ঠত্বের পরিচায়কই নয়, যুগে যুগে দাম্পত্য প্রেমের অবিস্মরণীয় প্রতীকরূপে সমাদৃত হয়ে আসছে। ১৬৩২ সালে এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। টেডার্নিয়ারের মতে, ২০ হাজার কারিগর ২২ বছর পরিশ্রম করে এবং তৎকালীন ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এর নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়। এর স্থপতি ছিলেন ওস্তাদ ঈশা। এর স্থাপত্যিক উপকরণের সবিন্যাস, অলংকারণের সূক্ষ্মতা ও নৈপুণ্য দর্শকদের মুগ্ধ করে। একে 'এক বিন্দু অশ্রু' ও মার্বেলের স্বপ্ন' বলে অভিহিত করা হয়। প্রেমের অমর নিদর্শন হলো তাজমহল। প্রিয়তমা পত্নীর প্রেমের অমর নিদর্শনরূপে বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ এ স্মৃতিসৌধটি সম্পর্কে কবিগুরু বরীন্দ্রনাথ বলেন "এক বিন্দু নয়নের জল কালের কলোপতলে শুভ্র সমুজ্জ্বল এ তাজমহল।" পৃথিবীর ইতিহাসে প্রেমের অবিস্মরণীয় স্বাক্ষর এ তাজমহল। প্রিয়তমা পত্নীর স্মৃতিকে অমর করে রাখার জন্যই সম্রাট শাহজাহান এ বিখ্যাত স্মৃতিসৌধটি নির্মাণ করে জগৎজোড়া খ্যাতি অর্জন করে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

শাসক হযরত আলী ছিলেন শিল্পীমনের মানুষ। তিনি সাম্রাজ্যে শিল্পকলা ও স্থাপত্য অনবদ্য নিদর্শন রাখেন। ইতিহাসে তিনি একজন শ্রেষ্ঠ নির্মাতা হিসেবে পরিচিত। প্রিয়তমা 'স্ত্রীর ভালোবাসার নিদর্শনস্বরূপ তিনি আজ-জোহরা প্রাসাদ নির্মাণ করেন। শাশ্বত প্রেমের নিদর্শন হিসেবে এটির ভগ্নাবশেষ আজও বিদ্যমান আছে।

ক.

পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ কত সালে সংঘটিত হয়?

খ.

আওরঙ্গজেবকে জিন্দাপির বলা হয় কেন?

গ.

উদ্দীপকে শাসক হযরত আলীর সাথে মুঘল বংশের কোন শাসকের সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়? আলোচনা কর।

ঘ.

মুঘল বংশের উক্ত শাসক আজ-জোহরা প্রাসাদের অনুরূপ প্রাসাদ নির্মাণ করে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন? বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

ক. পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ কত সালে হয়েছিল? খ. বাবুরনামা সম্পর্কে লেখ। গ. উদ্দীপকের '?' স্থানে কোন শাসকের রাজত্বকাল নির্দে...

ক. তাজমহল কোন নদীর তীরে অবস্থিত? খ. সম্রাট শাহজাহানের শেষ জীবন সুখের ছিল না কেন? গ. উদ্দীপকের চিত্রটি কোন মুঘল সম্রাটের ...

“ ক ” রাজ্যের স্থানীয় শাসনকর্তার আমন্ত্রণ পেয়ে “ প ” রাজ্যের শাসক একটি নতুন সাম্রাজ্যে প্রতিষ্...

‘ ক ’ ইতিহাসে একজন বিখ্যাত শাসক। শাসন ক্ষমতা লাভের পর তিনি বিভিন্ন সংস্কারের প্রতি মনোযোগ দেন। প্রশাসনিক বিক...

‘আইন-ই-আকবরী’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?

কোন সম্রাটকে 'The Prince of Builders' আখ্যা দেয়া হয়েছে?

ভারতের ইতিহাসে কে সর্বপ্রথম কামান-এর ব্যবহার করেন?

অভিজাত সম্প্রদায়ের পরেই কাদের স্থান ছিল?

অম্বরের রাজার নাম কী ছিল?

অল্প বয়সে ছোট একটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন সম্রাট শিহাব। পার্শ্ববর্তী রাজ্যে অভিযান করতে গিয়ে তার রাষ্ট্রটি হাতছাড়া...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।