Facebook Pixel

শুর বংশের শাসক তুগ্রিলবেগের জীবন ছিল একাধারে সংগ্রামী, বীরত্বপূর্ণ এবং দুর্ভাগ্যজনক। তিনি একদিকে যেমন সফল বিজেতা ছিলেন, তেমনি অন্যদিকে নিজের সাম্রাজ্য ফিরে পাওয়ার জন্য কঠিন 'সংগ্রামে লিপ্ত ছিলেন। তুগ্রিলবেগের শাসনকাল ছিল অস্থিরতার মধ্যে, যেখানে সাম্রাজ্যের বিস্তার এবং শক্তি বজায় রাখতে নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়েছিল তাকে। তার জীবনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে, শুর সাম্রাজ্য থেকে বিতাড়িত হয়ে শত্রু মাহমুদ শাহের কাছে পরাজিত হওয়া এবং পরে তার ফিরে আসা ও পুনরায় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করা। ক. পানিপথের প্রথম যুদ্ধ সংঘটিত হয় কত খ্রিষ্টাব্দে? খ. 'তুযুক-ই-বাবুরি' গ্রন্থের পরিচয় দাও। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত শাসকের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের শাসকের স্বরাজ্য থেকে বিতাড়ণ এবং তা পুনরুদ্ধারের ইতিহাস বর্ণনা কর। ঘ. উক্ত শুর বংশের শাসকের কৃতিত্ব পাঠ্যবইয়ের আলোকে মূল্যায়ন কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ ভারত উপমহাদেশে মুঘল শাসন

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. পানিপথের প্রথম যুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৫২৬ খ্রিষ্টাব্দে। খ. ভারতের ইতিহাসের উৎস হিসেবে তুজুক-ই-বাবরির সাহিত্যিক মূল্য অনেক। 'বাবরনামা' হচ্ছে সম্রাট বাবরের আত্মজীবনীমূলক ঐতিহাসিক একটি শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ। তিনি গদ্য সাহিত্যে তুর্কি ভাষায় এটি রচনা করেন। এ গ্রন্থে বাবর তার পূর্বপুরুষদের কথা, তার জন্ম, শৈশব, কৈশোরের কথা উল্লেখ করেছেন। এ গ্রন্থে বাবর তার বোকামি ও ব্যর্থতাগুলো অকপটে তুলে ধরেছেন। এ 'আত্মজীবনীতে ভারতের আবহাওয়া, পরিবেশ, ফলমূল ও মানুষের বৈশিষ্ট্যের কথা বর্ণনা করেছেন। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত শাসকের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের শাসকসম্রাট হুমায়ুনের মিল রয়েছে। তিনি শেরশাহের কাছে পরাজিত হয়ে রাজ্য থেকে বিতাড়িত হন। তবে পরবর্তীতে রাজ্য পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হন। সম্রাট বাবরের পর হুমায়ুন ১৫৩৯ খ্রিষ্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন। তার রাজত্বকাল ছিল মুঘল আফগান দ্বন্দ্বে চূড়ান্ত সময়। আর তাদের এ দ্বন্দ্বে নেতৃত্ব দেন শেরশাহ। এরই প্রেক্ষিতে হুমায়ূন ও শেরশাহের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও যুদ্ধ সংঘটিত হয়। আফগানরা হুমায়ূনের বিরুদ্ধে লক্ষ্ণৌর সন্নিকটে দাদরাতে অস্ত্রধারণ করলে হুমায়ূন ১৫৩২ সালে তাদের পরাজিত করেন। ইতোমধ্যে শেরশাহ চুনার দুর্গ আক্রমণ করলে হুমায়ূন সেখানে অভিযান প্রেরণ করেন এবং শেরশাহ তার আনুগত্য স্বীকার করে। কিন্তু শেরশাহের অন্তরে সুপ্তবাসনা হলো দিল্লির মসনদে আরোহণ করা। তাই হুমায়ূন যখন গুজরাটের বিদ্রোহ দমনে ব্যস্ত তখন ১৫৩৪ খ্রিষ্টাব্দে সুরুজগড়ের যুদ্ধে জয়ী হয়ে সমগ্র বিহার দখল করে নেন। এরপর আর শেরশাহকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। শেরশাহের কৌশলে পদক্ষেপ এবং হুমায়ূনের অবিবেচনাপ্রসূত কর্মকান্ড শেরশাহকে দিল্লির মসনদে অধিষ্ঠিত করে। ১৫৩৯ খ্রিষ্টাব্দে চৌসার যুদ্ধে হুমায়ূনের পরাজয় ও পলায়ন শেরশাহকে এসুযোগ এনে দেয়। মূলত শেরশাহ ভারতবর্ষে আফগান শাসন প্রতিষ্ঠা করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন এবং সফলও হয়েছিলেন। কিন্তু ১৫৪৫ খ্রিষ্টাব্দে কালিঞ্জর দুর্গ অবরোধকালে বারুদের বিস্ফোরণে তার আকস্মাৎ মৃত্যু ঘটলে আফগানদের শাসনের পরিসমাপ্তি ঘটে। ভাগ্যবান হুমায়ূন পুনরায় দিল্লিতে অধিষ্ঠিত হন এবং পরবর্তীতে স্বনামধন্য মুঘল শাসকেরা মুঘল শাসনকে ইতিহাসে স্থায়ী রূপ দেন। পরবর্তীতে তিনি ১৫৫৫ খ্রিষ্টাব্দে সিংহাসন পুনরুদ্ধার করে ১ বছর শাসন করে ১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন। অতএব উদ্দীপকের সম্রাট হুমায়ুনের সরাজ্য থেকে বিতাড়ন ও পুনরায় তা উদ্ধারের কথা বলা হয়েছে। ঘ. উক্ত শুর বংশের শাসক ছিলেন শেরশাহ। পৃথিবীর ইতিহাসে যেসব ব্যক্তি দক্ষতা ও মেধা খাটিয়ে সামান্য অবস্থা থেকে শাসনক্ষমতার স্বর্ণ শিখরে উপনীত হয়েছেন, তাদের মধ্যে শেরশাহ অন্যতম। তিনি ভারতে মুঘল সাম্রাজ্যের শাসনের ছেদ ঘটিয়ে স্বল্পকালীন সময়ের জন্য আফগান শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। ১৫৩৯ খ্রিষ্টাব্দে তিনি চৌসার যুদ্ধে হুমায়ূনকে পরাজিত করে ভারতবর্ষে আফগান শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। শেরশাই সিংহাসনে বসেই রাজ্য বিস্তারে মনোনিবেশ করেন। একে একে তিনি পাঞ্জাব, সিন্ধু, মুলতান প্রভৃতি রাজ্যভুক্ত করেন। শেরশাহ আজমীর থেকে আবু পর্বত পর্যন্ত সমগ্র ভূভাগ নিজ অধিকারে আনেন। কালিঞ্জর দুর্গ ছিল শেরশাহের শেষ অভিযান। এটিও তিনি জয় করেন। রাজস্ব ব্যৱস্থার সংস্কারের জন্য ভারতবর্ষে সর্বাধিক খ্যাতিমান শাসক ছিলেন শেরশাহ। তিনি ভূমি "জরিপের মাধ্যমে ভূমি রাজস্ব নির্ধারণ করেন। কবুলিয়ত ও 'পাট্টা একটি গভীর যোগসূত্র তৈরি হয়। ফলে সরকার কৃষি রাজস্ব থেকে কখনো বঞ্চিত হয়নি। শুল্ক ও মুদ্রানীতিও সম্রাটের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার ছিল। তিনি ভারতবর্ষে তঙ্কা (টাকা) ও রুপাইয়ার প্রচলন করেন। তিনি প্রায় দেড় লাখ অশ্বারোহী ও অর্ধলক্ষ পদাতিক ও গোলন্দাজ বাহিনী নিয়ে একটি শক্তিশালী সামরিক বাহিনী গঠন করেন। শেরশাহ পুলিশ ও গুপ্তচর ব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে সাম্রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও জনগণের বিদ্রোহী মনোভাব বুঝতে সমর্থ হতেন। বিচার ব্যবস্থার সংস্কার করে তিনি সব নাগরিককে আইনের দৃষ্টিতে সমানাধিক প্রদান করেন। জনগণের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য গ্র্যান্ড ট্রাংক রোড নির্মাণ করেন। রাস্তার পাশে অসংখ্য সরাইখানা নির্মাণ করেন। তিনিই প্রথম ভারতবর্ষে ডাক ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠা করেন। উপরিউক্ত বর্ণনার ভিত্তিতে বলা যায়, শেরশাহ মাত্র পাঁচ বছরের শাসনামলে ব্যাপক সংস্কার কার্য সাধন করে ব্যাপক কৃতিত্ত্ব প্রদর্শন করেন।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

শুর বংশের শাসক তুগ্রিলবেগের জীবন ছিল একাধারে সংগ্রামী, বীরত্বপূর্ণ এবং দুর্ভাগ্যজনক। তিনি একদিকে যেমন সফল বিজেতা ছিলেন, তেমনি অন্যদিকে নিজের সাম্রাজ্য ফিরে পাওয়ার জন্য কঠিন 'সংগ্রামে লিপ্ত ছিলেন। তুগ্রিলবেগের শাসনকাল ছিল অস্থিরতার মধ্যে, যেখানে সাম্রাজ্যের বিস্তার এবং শক্তি বজায় রাখতে নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়েছিল তাকে। তার জীবনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে, শুর সাম্রাজ্য থেকে বিতাড়িত হয়ে শত্রু মাহমুদ শাহের কাছে পরাজিত হওয়া এবং পরে তার ফিরে আসা ও পুনরায় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করা।

ক.

পানিপথের প্রথম যুদ্ধ সংঘটিত হয় কত খ্রিষ্টাব্দে?

খ.

'তুযুক-ই-বাবুরি' গ্রন্থের পরিচয় দাও।

গ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত শাসকের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের শাসকের স্বরাজ্য থেকে বিতাড়ণ এবং তা পুনরুদ্ধারের ইতিহাস বর্ণনা কর।

ঘ.

উক্ত শুর বংশের শাসকের কৃতিত্ব পাঠ্যবইয়ের আলোকে মূল্যায়ন কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

ক. পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ কত সালে হয়েছিল? খ. বাবুরনামা সম্পর্কে লেখ। গ. উদ্দীপকের '?' স্থানে কোন শাসকের রাজত্বকাল নির্দে...

ক. তাজমহল কোন নদীর তীরে অবস্থিত? খ. সম্রাট শাহজাহানের শেষ জীবন সুখের ছিল না কেন? গ. উদ্দীপকের চিত্রটি কোন মুঘল সম্রাটের ...

“ ক ” রাজ্যের স্থানীয় শাসনকর্তার আমন্ত্রণ পেয়ে “ প ” রাজ্যের শাসক একটি নতুন সাম্রাজ্যে প্রতিষ্...

‘ ক ’ ইতিহাসে একজন বিখ্যাত শাসক। শাসন ক্ষমতা লাভের পর তিনি বিভিন্ন সংস্কারের প্রতি মনোযোগ দেন। প্রশাসনিক বিক...

‘আইন-ই-আকবরী’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?

কোন সম্রাটকে 'The Prince of Builders' আখ্যা দেয়া হয়েছে?

ভারতের ইতিহাসে কে সর্বপ্রথম কামান-এর ব্যবহার করেন?

অভিজাত সম্প্রদায়ের পরেই কাদের স্থান ছিল?

অম্বরের রাজার নাম কী ছিল?

অল্প বয়সে ছোট একটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন সম্রাট শিহাব। পার্শ্ববর্তী রাজ্যে অভিযান করতে গিয়ে তার রাষ্ট্রটি হাতছাড়া...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।