Facebook Pixel

রাহাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস বিষয়ে অধ্যয়নরত। সম্প্রতি সে মধ্যযুগীয় ইতিহাসে ভারতীয় উপমহাদেশ নামক একটি বই কিনেছে। বইটি পড়ে সে জানতে পারে মধ্যযুগে ভারতবর্ষে পানিপথের প্রথম যুদ্ধের মাধ্যমে একজন শাসক দিল্লির সিংহাসন অধিকার করে। যিনি পরবর্তীতে ভারতবর্ষে এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। মাত্র ১১ বছর বয়সে সিংহাসনে বসা এই সম্রাটের কৃতিত্ব পড়ে রাহাত অভিভূত হয়। ক. দ্বীন-ই-এলাহি প্রবর্তন করেন কে? খ. গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড সম্পর্কে লেখ। গ. উদ্দীপকের রাহাত ভারতবর্ষের কোন শাসকের কথা জানতে পেরেছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. শাসক হিসেবে তার কৃতিত্ব মূল্যায়ন কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ ভারত উপমহাদেশে মুঘল শাসন

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. দ্বীন-ই-এলাহি প্রবর্তন করেন সম্রাট আকবর। খ. আফগান শাসক শেরশাহের সময়ে নির্মিত একটি ঐতিহাসিক মহাসড়কের নাম হলো গ্রান্ডট্রাঙ্ক রোড। শেরশাহ বহু সুন্দর ও প্রশস্ত রাস্তা নির্মাণ করেছিলেন। তার নির্মিত রাস্তাসমূহের মধ্যে প্রধান ছিলেন 'সড়ক-ই-আযম' বা গ্রান্ডট্রাঙ্ক রোড। এটি ছিল প্রায় ১৫০০ মাইল দীর্ঘ। এই রাস্তাটি পূর্ববঙ্গের সোনারগাঁও থেকে সিন্ধু নদ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। সাধারণ পথিককে সূর্যের উত্তাপ থেকে রক্ষার জন্য রাস্তার দু'ধারে ছায়াপ্রদ ও ফলদ গাছ লাগানো হয়েছিল। এছাড়া দু'ক্রোশ অন্তর মুসাফিরখানা ছিল। গ. উদ্দীপকের রাহাত ভারতবর্ষের মুঘল সম্রাট বাবরের কথা জানতে পেরেছে। উদ্দীপকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাহাত সম্প্রতি মধ্যযুগীয় ইতিহাসে ভারতীয় উপমহাদেশ নামক একটি বই পড়ে সে জানতে পারে মধ্যযুগে ভারতবর্ষে পানিপথের প্রথম যুদ্ধের মাধ্যমে একজন শাসক দিল্লির সিংহাসন অধিকার করে। যিনি পরবর্তীতে ভারতবর্ষে এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। উদ্দীপকের এ ঘটনা সম্রাট বাবরের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। ১৪৯৪ খ্রিষ্টাব্দে পিতার আকস্মিক মৃত্যুর পর মাত্র ১১ বছর বয়সে বাবর ফারগানার সিংহাসনে উপবিষ্ট হন। সিংহাসন' লাভের পর পরই তিনি তার দুই পিতৃব্য ও আত্মীয়স্বজন এবং উজবেক নেতা সাইবানি খানের বিরোধিতার মুখে পড়েন। ১৪৯৭ খ্রিষ্টাব্দে বাবর সমরখন্দ দখল করেন। কিন্তু ভাগ্যবিপর্যয়ে পতিত হয়ে সমরখন্দ হারান। ১৪৯৮ খ্রিষ্টাব্দে ফারগানাও হস্তচ্যুত হয়। ভবঘুরের মতো বাবর স্থান থেকে অন্যস্থান ঘুরে বেড়াতে লাগলেন। অতঃপর ১৫০০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ফারগানা পুনরুদ্ধার করেন। ১৫০২ খ্রিষ্টাব্দে সমরখন্দ অধিকার করেন। পরবর্তীকালে ১৫০৩ খ্রিষ্টাব্দে আরচিয়ানের যুদ্ধে সাইবানি খানের কাছে পরাজিত হয়ে ফারগানা ও সমরখন্দ থেকে বিতাড়িত হন। এ সময় কাবুলের অভ্যন্তরীণ অরাজকতার সুযোগে ১৫০৪ খ্রিষ্টাব্দে কাবুল অধিকার করে বাদশাহ উপাধি নিয়ে রাজত্ব করতে থাকেন। ১৫৯১ খ্রিষ্টাব্দে পারস্যের শাহ ইসমাইল সাফাভীর সহযোগিতায় সমরখন্দ দখল করলেও ১৫১২ খ্রিষ্টাব্দে তা আবারও হাতছাড়া হয়ে যায়। এরপর ১৫২৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত তিনি কাবুলেই রাজত্ব করেন। কিন্তু অসাধারণ সাহসী বাবার এতেই সন্তুষ্ট থাকেননি। ১৫২৬ খ্রি. তিনি পানিপথের প্রথম যুদ্ধে সুলতান ইব্রাহিম লোদিকে পরাজিত করে দিল্লির সুলতানি সাম্রাজ্যের ধ্বংসস্তূপের ওপর মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের রাহাত সম্রাট বাবরের কথা জানতে পেরেছে। ঘ. উদ্দীপকে সম্রাট বাবরের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। তিনি ভারতে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ও শাসক হিসেবে অপরিসীম কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হন। সম্রাট বাবর কেবল নির্ভীক সৈনিক, দক্ষ সেনাধ্যক্ষ, সুদক্ষ অস্ত্র পরিচালক, প্রশংসনীয় ঘোড়সওয়ারই ছিলেন না, বরং আলেকজান্ডারের মতো দেশ জয়ের নেশায় বিভোর থাকতেন। পানিপথের প্রথম যুদ্ধ, খানুয়ার যুদ্ধ এবং গোগরার যুদ্ধে তার সাফল্য তাকে ভারতীয় সমর ইতিহাসে উচ্চাসনে অধিষ্ঠিত করেছে। বাবর মাত্র ১১ বছর বয়স থেকে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হন। বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে তিনি প্রথমে কাবুলে এবং পরে ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। শুধু প্রতিষ্ঠা করেই ক্ষান্ত হয়নি। তার ভিত্তি সুদৃঢ় করে একে একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্যে পরিণত করেন। বাবরের চার বছরের শাসনামলে যুদ্ধবিগ্রহ কেটে যায়। এ অবস্থায় নবপ্রতিষ্ঠিত মুঘল সাম্রাজ্যের শাসনব্যবস্থায় কোনো প্রকার পরিবর্তন ও সংস্কার সাধন করা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। তথাপি তিনি নিজের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা হ্রাস করেন। প্রাদেশিক শাসনকার্য পরিচালনার জন্য প্রত্যেক প্রদেশে একজন ওয়ালি, একজন দিওয়ান, শিকদার এবং কোতওয়াল ছিল। তিনি প্রশাসনিক কাজে তুর্কি, আফগান ও হিন্দুদের সমাজ সুযোগ দিতেন। সমগ্র সাম্রাজ্যে ১৫ মাইল অন্তর তিনি ডাক চৌকির ব্যবস্থা করেন। প্রজারঞ্জক বাবর দিল্লি ও আগ্রায় ২০টি উদ্যান, বহু পাকা নর্দমা, সেতু, অট্টালিকা নির্মাণ করেন। অতএব, সম্রাট বাবর শুধুমাত্র একজন বিজেতা হিসেবেই প্রশংসার দাবিদার নন, বরং একজন দক্ষ প্রশাসনিক হিসেবেও তিনি কৃতিত্বের দাবিদার।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

রাহাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস বিষয়ে অধ্যয়নরত। সম্প্রতি সে মধ্যযুগীয় ইতিহাসে ভারতীয় উপমহাদেশ নামক একটি বই কিনেছে। বইটি পড়ে সে জানতে পারে মধ্যযুগে ভারতবর্ষে পানিপথের প্রথম যুদ্ধের মাধ্যমে একজন শাসক দিল্লির সিংহাসন অধিকার করে। যিনি পরবর্তীতে ভারতবর্ষে এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। মাত্র ১১ বছর বয়সে সিংহাসনে বসা এই সম্রাটের কৃতিত্ব পড়ে রাহাত অভিভূত হয়।

ক.

দ্বীন-ই-এলাহি প্রবর্তন করেন কে?

খ.

গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড সম্পর্কে লেখ।

গ.

উদ্দীপকের রাহাত ভারতবর্ষের কোন শাসকের কথা জানতে পেরেছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

শাসক হিসেবে তার কৃতিত্ব মূল্যায়ন কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

ক. পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ কত সালে হয়েছিল? খ. বাবুরনামা সম্পর্কে লেখ। গ. উদ্দীপকের '?' স্থানে কোন শাসকের রাজত্বকাল নির্দে...

ক. তাজমহল কোন নদীর তীরে অবস্থিত? খ. সম্রাট শাহজাহানের শেষ জীবন সুখের ছিল না কেন? গ. উদ্দীপকের চিত্রটি কোন মুঘল সম্রাটের ...

“ ক ” রাজ্যের স্থানীয় শাসনকর্তার আমন্ত্রণ পেয়ে “ প ” রাজ্যের শাসক একটি নতুন সাম্রাজ্যে প্রতিষ্...

‘ ক ’ ইতিহাসে একজন বিখ্যাত শাসক। শাসন ক্ষমতা লাভের পর তিনি বিভিন্ন সংস্কারের প্রতি মনোযোগ দেন। প্রশাসনিক বিক...

‘আইন-ই-আকবরী’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?

কোন সম্রাটকে 'The Prince of Builders' আখ্যা দেয়া হয়েছে?

ভারতের ইতিহাসে কে সর্বপ্রথম কামান-এর ব্যবহার করেন?

অভিজাত সম্প্রদায়ের পরেই কাদের স্থান ছিল?

অম্বরের রাজার নাম কী ছিল?

অল্প বয়সে ছোট একটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন সম্রাট শিহাব। পার্শ্ববর্তী রাজ্যে অভিযান করতে গিয়ে তার রাষ্ট্রটি হাতছাড়া...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।