Facebook Pixel

রমিজ উদ্দিন সাহেব একজন বিখাত মুসলিম চিন্তাবিদ ও সমাজ সংস্কারক ছিলেন। পিছিয়ে পড়া মুসলিমদের জন্য তিনি বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তার মধ্যে মাদ্রাসা শিক্ষায় আরবির পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষা প্রচলন, মুসলিম লেখকদের জ্ঞান চর্চার মাধ্যমে তা প্রচারে উৎসাহিত করেন। এছাড়াও তিনি একটি সেবামূলক মিশন প্রতিষ্ঠা করেন। ক. 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' কত বঙ্গাব্দে হয়েছিল? খ. সিপাহি বিদ্রোহের প্রত্যক্ষ কারণ কী? ব্যাখ্যা কর গ. উদ্দীপকের রমিজ উদ্দিন সাহেবের কর্মকাণ্ডের সাথে কোন মুসলিম সংস্কারকের মিল পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা কর। ঘ. রমিজ উদ্দিন সাহেবের প্রতিষ্ঠিত মিশনের সাথে সাদৃশ্য প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিবরণ দাও।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৪ঃ বাংলায় কোম্পানি ও ঔপনিবেশিক শাসন

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' ১১৭৬ বঙ্গাব্দে হয়েছিল। খ. সিপাহি বিদ্রোহের প্রত্যক্ষ কারণ ছিল ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত। হিন্দু সম্প্রদায়ের ধারণা ছিল সমুদ্র পাড়ি দিলে ধর্ম নষ্ট হয়। কিন্তু হিন্দু সিপাহিদের সমুদ্র পাড়ি দিয়ে ভারতের বাইরে যেতে বাধ্য করা হয়। তাছাড়া হিন্দু-মুসলমান উভয় সিপাহিদের 'এনফিল্ড' রাইফেলের প্রচলন করা হয়। এ রাইফেলের টোটা দাঁত দিয়ে কেটে রাইফেলে ঢোকাতে হতো। সৈনিকদের মধ্যে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে এ টোটায় গরু ও শূকরের চর্বি আছে। ফলে সিপাহিরা ধর্ম নাশের কথা ভেবে বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। গ. উদ্দীপকের রমিজ উদ্দিন সাহেবের কর্মকান্ডের সাথে মুসলিম সংস্কারক নওয়াব আব্দুল লতিফের মিল পাওয়া যায়। উদ্দীপকের রমিজ উদ্দিন পিছলে পড়া মুসলমানদের শিক্ষায় চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন, যা নওয়াব আব্দুল লতিফকে নির্দেশ করে। নওয়াব আবদুল লতিফের কর্মজীবন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তার প্রধান অবদান ছিল শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে। ব্রিটিশ শাসকদের পক্ষপাতদুষ্ট নীতির কারণে মুসলিম সমাজজীবনের সর্বক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ে। মুসলিম সমাজ জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিক্ষাদীক্ষায় পিছিয়ে পড়ে অবজ্ঞার পাত্র হিসেবে চিহ্নিত হয়। মুসলিমগণ ইংরেজ শাসন মেনে নিয়ে নিজেদের উন্নয়নে সচেষ্ট হোক, এটিই ছিল তার প্রধান চিন্তা। চাকরি-বাকরিসহ রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের উপযোগী হিসেবে মুসলমানদের গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে তিনি ১৮৬৩ সালে কলকাতায় 'মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি' গড়ে তোলেন। এর অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল আধুনিক শিক্ষা ও আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের সপক্ষে জনমত গড়ে তোলা এবং শিক্ষিত মুসলিম, হিন্দু ও ইংরেজদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলে পারস্পরিক কল্যাণ নিশ্চিত করা। শিক্ষাদীক্ষার মাধ্যমে মুসলমানদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে এবং মুসলমানদের স্বার্থরক্ষার ব্যাপারে ব্রিটিশ সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করাকে অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়। নবাব আবদুল লতিফের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফসল হিসেবে ১৮৭৩ সালে হিন্দু কলেজ প্রেসিডেন্সি কলেজে রূপান্তরিত হয় এবং মুসলিম ছাত্রদের সর্বপ্রথম একাডেমিকভাবে ইংরেজি শিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত হয়। কলকাতার মুসলিম অঞ্চলে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা ও হুগলি কলেজকে সরকারিকরণে তিনি জোর প্রচেষ্টা চালান এবং সফল হন। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফলে কলকাতা মাদ্রাসায় ইঙ্গ-ফারসি বিভাগ খোলা এবং উর্দু ও বাংলা ভাষায় শিক্ষাদানের ব্যবস্থা গৃহীত হয়। তিনি হুগলি মাদ্রাসা সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন রচনা করেন। ঘ. রমিজ উদ্দিন সাহেবের প্রতিষ্ঠিত মিশনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হলো মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি। নওয়াব আবদুল লতিফ শিক্ষা বিস্তারে ব্যাপক ভূমিকা পালন করেন। মুসলিমগণ ইংরেজ শাসন মেনে নিয়ে নিজেদের উন্নয়নে সচেষ্ট হোক। এটাই ছিল নওয়াব আবদুল লতিফের প্রধান উদ্দেশ্য। আধুনিক শিক্ষা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে তিনি একটি প্রবন্ধ প্রতিযোগিতার আহ্বান করেন এবং প্রতিযোগিতা এবং শ্রেষ্ঠ প্রবন্ধের জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেন। সরকারি চাকরিসহ রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা গ্রহণের জন্য মুসলমানদের উপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য তিনি ১৮৬৩ সালে কলকাতায় 'মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি' গড়ে তোলেন। এর অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল আধুনিক শিক্ষা ও আধুনিক জ্ঞানবিজ্ঞানের সপক্ষে জনমত গড়ে তোলা এবং শিক্ষিত মুসলিম, হিন্দু ও ইংরেজদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলে পারস্পরিক কল্যাণ নিশ্চিত করা। বাংলায় জন্ম নেওয়া সংস্কারকসমূহের মধ্যে নওয়াব আবদুল লতিফ একজন অন্যতম সমাজ ও শিক্ষা সংস্কারক। তিনি পিছিয়ে পড়া মুসলমানদের জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের জন্য ইংরেজি শিক্ষার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। ম্যাজিস্ট্রেট থাকাকালে নীলকরদের অত্যাচার থেকে কৃষকদের রক্ষার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। মুসলমানদের জাগরণের জন্য ১৮৬৩ সালে 'মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি' গঠন করেন। এভাবে আবদুল লতিফ মুসলমানদের আত্মোন্নয়নের মূল উদ্দেশ্যে সংস্কার কার্য পরিচালনা করেন।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

রমিজ উদ্দিন সাহেব একজন বিখাত মুসলিম চিন্তাবিদ ও সমাজ সংস্কারক ছিলেন। পিছিয়ে পড়া মুসলিমদের জন্য তিনি বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তার মধ্যে মাদ্রাসা শিক্ষায় আরবির পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষা প্রচলন, মুসলিম লেখকদের জ্ঞান চর্চার মাধ্যমে তা প্রচারে উৎসাহিত করেন। এছাড়াও তিনি একটি সেবামূলক মিশন প্রতিষ্ঠা করেন।

ক.

'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' কত বঙ্গাব্দে হয়েছিল?

খ.

সিপাহি বিদ্রোহের প্রত্যক্ষ কারণ কী? ব্যাখ্যা কর

গ.

উদ্দীপকের রমিজ উদ্দিন সাহেবের কর্মকাণ্ডের সাথে কোন মুসলিম সংস্কারকের মিল পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

 রমিজ উদ্দিন সাহেবের প্রতিষ্ঠিত মিশনের সাথে সাদৃশ্য প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিবরণ দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'The Spirit of Islam' ও 'A Short History of the Saracens' গ্রন্থ দুটি কার লেখা?

The Sprit of Islam' প্রশ্নটি কে লিখেছেন?

ক. হাজি শরীয়তউল্লাহ কোথায় জন্মগ্রহণ করেন? খ. বঙ্গভঙ্গের প্রশাসনিক কারণ ব্যাখ্যা কর। গ. চিত্র 'ক'-এর ছবির ব্যক্তিটি ঐতিহা...

ক. সিপাহি বিপ্লব কত সাথে সংঘটিত হয়? খ. রবার্ট ক্লাইভের পরিচয় দাও। গ. ছবিটিতে যে মহান ব্যক্তিকে লক্ষ করা যাচ্ছে তার এবং ত...

ক. কত সাল হতে বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হয়? খ. ফরায়েজি আন্দোলনের খিলাফত কাঠামোর ব্যাখ্যা দাও। গ. ছবিটি যেই মহান ব্যক্তির তার আন্দ...

ক. সৈয়দ আমীর আলী কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন? খ. খিলাফত আন্দোলন বলতে কী বোঝায়? গ. ছবির ব্যক্তিটি যে বিদ্রোহের সাথে সম্পৃক্ত...

ক. প্রথম বিশ্বযুদ্ধ কত সালে সংঘটিত হয়? খ. ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের ফলে ভারতবর্ষে শাসনতান্ত্রিক সংস্কার সূচিত হয়- ব্যাখ্যা কর...

অতি অল্প বয়সে তিতুমীর কোন পরীক্ষা দ্বারা সুনাম অর্জন করেন?

অ্যালান অক্টাভিয়ান হিউম কোন দেশের নাগরিক ছিলেন?

অ্যালান অক্টাভিয়ান হিউম ছিলেন- i. ভারতীয়দের প্রতি সহানুভূতিশীল ii. ভারতের স্বাধীনতার রূপকার iii. ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস গঠ...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।