Facebook Pixel

রাজা মোবারকশাহ একজন প্রতাপশালী শাসক ছিলেন। তার দরবারে বেশ কয়েকজন বুদ্ধিমান পারিষদবর্গ ছিল। তাদের সহায়তায় তিনি বেশ দক্ষতার সাথে রাজ্য পরিচালনা করেছিলেন। একটা সময় তিনি নতুন ধর্ম প্রবর্তনের চিন্তা করলেন। তার প্রবর্তিত ধর্ম ছিল প্রচলিত বিভিন্ন ধর্মের সমন্বয়ে গঠিত একটি ধর্মমত, যা অল্প কয়েকজন লোক ব্যতীত কেউ গ্রহণ করেননি। ক. বাংলার নাম জান্নাতাবাদ কে রাখেন? খ. গ্রান্ড ট্রাংক রোড সম্পর্কে টীকা লেখ। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ধর্মমতের আলোকের তোমার পাঠ্যবইয়ে পঠিত নতুন ধর্মমতের কার্যক্রমের বর্ণনা দাও। ঘ. 'উক্ত ধর্মমত ঐ সমাজে তেমন প্রভাব রাখতে পারেনি'-পাঠ্যবইয়ের আলোকে উক্তিটির তাৎপর্য বর্ণনা দাও।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ ভারত উপমহাদেশে মুঘল শাসন

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. বাংলার নাম জান্নাতাবাদ রাখেন মুঘল সম্রাট হুমায়ুন। খ. আফগান শাসক শেরশাহের সময়ে নির্মিত একটি ঐতিহাসিক মহাসড়কের নাম হলো গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড। শেরশাহ বহু সুন্দর ও প্রশস্ত রাস্তা নির্মাণ করেছিলেন। তার নির্মিত রাস্তাসমূহের মধ্যে প্রধান ছিলেন 'সড়ক-ই-আযম' বা গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড। এটি ছিল প্রায় ১৫০০ মাইল দীর্ঘ। এই রাস্তাটি পূর্ববঙ্গের সোনারগাঁও থেকে সিন্ধু নদ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। সাধারণ পথিককে সূর্যের উত্তাপ থেকে রক্ষার জন্য রাস্তার দু'ধারে ছায়াপ্রদ ও ফলদ গাছ লাগানো হয়েছিল। এছাড়া দু'ক্রোশ অন্তর মুসাফিরখানা ছিল। গ. উদ্দীপকের গুরু নানকের সাথে মুঘল সম্রাট আকবরের সাদৃশ্য রয়েছে। উদ্দীপকে হিন্দু ধর্মাবলম্বী গুরু নানক হিন্দু ও মুসলমানদের ধর্মের বাইরে গিয়ে এক নতুন ধর্মমত প্রচার করেন। হিন্দুধর্ম ও ইসলাম ধর্মের সংমিশ্রণে একেশ্বরবাদী শিখ ধর্ম অনেকেই গ্রহণ করে এবং গ্রন্থসাহেব নামে তাদের একটি ধর্মগ্রন্থও রয়েছে। উদ্দীপকেও অনুরূপ মুঘল সম্রাট আকবর ধর্মবিদ্বেষ ও পরধর্মের প্রতি অসহিষ্ণুতা দূর করার লক্ষ্যে ১৫৮২ খ্রিষ্টাব্দে দ্বীন-ই-ইলাহি (ঐশী একেশ্বরবাদ) নামক এক ধর্ম প্রবর্তন করেন। সকল ধর্মের নির্যাস নিয়ে এ ধর্ম গঠিত হয়েছিল। এ নতুন ধর্মমতে অতীন্দ্রিয়বাদী দর্শন ও প্রকৃতি পূজার মিশ্রণ ছিল। সকল চিন্তার ভিত্তি ছিল কঠোর যুক্তিবাদ। এ ধর্মে কোনো নবি বা দেব-দেবীর স্থান ছিল না। একে একটি স্বতন্ত্র ধর্ম না বলে ধর্মীয় মতবাদ হিসেবে অভিহিত করাই শ্রেয়। এ মতবাদের অনুসারীদের সম্রাটের নামে তাদের সম্পত্তি, জীবন, সম্মান ও ধর্ম- এ চারটি জিনিস উৎসর্গ করতে হতো। এ ধর্মের বিধান অনুযায়ী সম্রাটকে সিজদা দিতে হতো। পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের গুরু নানকের সাথে মুঘল সম্রাট আকবরের সাদৃশ্য যথার্থ। ঘ. উদ্দীপকে ধর্মমত তথা দীন-ই-ইলাহি সমাজে তেমন প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। মন্তব্যটি যথার্থ। সম্রাট আকবরের ধর্মনীতি মধ্যযুগের ভারতের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। ঘোর সাম্রাজ্যবাদী মুঘল সম্রাট আকবরের রাজনৈতিক দর্শনের অনুষঙ্গী ছিল তার ধর্মচিন্তা। যার ফসল সর্বধর্ম সমন্বয়বাদী ধর্ম দ্বীন-ই-ইলাহি। সম্রাট আকবর প্রবর্তিত 'দ্বীন-ই-ইলাহি' ধর্মমত জনগণের মধ্যে তেমন কোনো প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। আবুল ফজলের মতে, এর সদস্যসংখ্যা ছিল মাত্র ১৮ জন। হিন্দুদের মধ্যে একমাত্র রাজা বীরবল ব্যতীত অন্য কেউই এ ধর্মে দীক্ষিত হননি। এর প্রধান অনুসারী ছিলেন শেখ মোবারক, আবুল ফজল, ফৈজি, আজিজ কোকা প্রমুখ। স্বয়ং সম্রাটও এ ধর্ম গ্রহণে কাউকে বাধ্য করেননি। ফলে তার মৃত্যুর সাথে সাথে দ্বীন-ই-ইলাহির পরিসমাপ্তি ঘটে। এ মতবাদে আজান, নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত প্রদান, দাড়ি রাখা, কুরআন ও হাদিস শেখার অবকাশ ছিল না। ফলে অনেকের ধারণা 'আকবর তার পূর্বপুরুষের এবং প্রথম যৌবনের ধর্মের প্রতি তিক্ত বিরোধিতা, প্রদর্শন করে প্রকৃতপক্ষে ইসলামের অবমাননা করেন।" ডুবেরিক এবং বন্টেলহো নামক পর্যটকদ্বয় বলেন, "তর্ক-বিতর্ক সত্ত্বেও আকবর পূর্বের মতোই মূর (মুসলমান) ছিলেন।” ড. স্মিথ, বদাউনি ও জেসুইটদের মতে, "বস্তুত দ্বীন-ই-ইলাহি কোনো ধর্মীয় অনুশাসন নয়, এটি কেবল রাজনীতিকদের অনুশাসন মাত্র।" তাই সম্রাট আকবরের জীবিতকালে কয়েকজন রাজানুগ্রাহী ব্যক্তি দ্বীন-ই-ইলাহি গ্রহণ করলেও তার মৃত্যুর সাথে সাথে উক্ত ধর্মমতের পরিসমাপ্তি ঘটে। আসলে আল্লাহ মনোনীত ব্যক্তি ছাড়া কারো ধর্মমত প্রচারের সুযোগ নেই। আকবরের ধর্মমত নতুন ধর্ম ছিল না। সকল ধর্মের নির্যাস ছিল। তাই এটি সমাজে তেমন প্রভাব ফেলতে পারে নি।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

রাজা মোবারকশাহ একজন প্রতাপশালী শাসক ছিলেন। তার দরবারে বেশ কয়েকজন বুদ্ধিমান পারিষদবর্গ ছিল। তাদের সহায়তায় তিনি বেশ দক্ষতার সাথে রাজ্য পরিচালনা করেছিলেন। একটা সময় তিনি নতুন ধর্ম প্রবর্তনের চিন্তা করলেন। তার প্রবর্তিত ধর্ম ছিল প্রচলিত বিভিন্ন ধর্মের সমন্বয়ে গঠিত একটি ধর্মমত, যা অল্প কয়েকজন লোক ব্যতীত কেউ গ্রহণ করেননি।

ক.

বাংলার নাম জান্নাতাবাদ কে রাখেন?

খ.

গ্রান্ড ট্রাংক রোড সম্পর্কে টীকা লেখ।

গ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত ধর্মমতের আলোকের তোমার পাঠ্যবইয়ে পঠিত নতুন ধর্মমতের কার্যক্রমের বর্ণনা দাও।

ঘ.

'উক্ত ধর্মমত ঐ সমাজে তেমন প্রভাব রাখতে পারেনি'-পাঠ্যবইয়ের আলোকে উক্তিটির তাৎপর্য বর্ণনা দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

ক. পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ কত সালে হয়েছিল? খ. বাবুরনামা সম্পর্কে লেখ। গ. উদ্দীপকের '?' স্থানে কোন শাসকের রাজত্বকাল নির্দে...

ক. তাজমহল কোন নদীর তীরে অবস্থিত? খ. সম্রাট শাহজাহানের শেষ জীবন সুখের ছিল না কেন? গ. উদ্দীপকের চিত্রটি কোন মুঘল সম্রাটের ...

“ ক ” রাজ্যের স্থানীয় শাসনকর্তার আমন্ত্রণ পেয়ে “ প ” রাজ্যের শাসক একটি নতুন সাম্রাজ্যে প্রতিষ্...

‘ ক ’ ইতিহাসে একজন বিখ্যাত শাসক। শাসন ক্ষমতা লাভের পর তিনি বিভিন্ন সংস্কারের প্রতি মনোযোগ দেন। প্রশাসনিক বিক...

‘আইন-ই-আকবরী’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?

কোন সম্রাটকে 'The Prince of Builders' আখ্যা দেয়া হয়েছে?

ভারতের ইতিহাসে কে সর্বপ্রথম কামান-এর ব্যবহার করেন?

অভিজাত সম্প্রদায়ের পরেই কাদের স্থান ছিল?

অম্বরের রাজার নাম কী ছিল?

অল্প বয়সে ছোট একটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন সম্রাট শিহাব। পার্শ্ববর্তী রাজ্যে অভিযান করতে গিয়ে তার রাষ্ট্রটি হাতছাড়া...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।