Facebook Pixel

মহান আল্লাহ তায়ালা মানুষকে তাঁরই খলিফা হিসেবে সৃষ্টি। করেছেন। তাদেরকে এ পৃথিবী পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন। শরিয়তের আইন কার্যকরী করার জন্য ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। একটি অপরিহার্য কর্তব্য। মহানবি (সা.) সর্বপ্রথম মদিনায় ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে এর সূত্রপাত করেন। জীবনের এমন কোনো দিক নেই, যা ইসলামি শরিয়তে কোনো নির্দেশ পাওয়া যায় না। একমাত্র। ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই ইসলাম তথা আল্লাহর আইনের বাস্তবায়ন, মানবতার কল্যাণ এবং ইমানি দাবি পূরণ করা সম্ভব। ক. ইসলামি রাষ্ট্রের উপাদান কয়টি? খ. ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থার উৎস সম্পর্কে কী জান? লেখ। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত রাষ্ট্রটির গঠনপ্রণালি সম্পর্কে ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকে যে ধরনের রাষ্ট্রের কথা বলা হয়েছে, সে ধরনের রাষ্ট্রের কী কী বৈশিষ্ট্য থাকে তা উল্লেখ কর।

বিষয়: ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৬ঃ ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থা

উৎস: Others

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. সাধারণত রাষ্ট্রের চারটি উপাদানই ইসলামি রাষ্ট্রের উপাদান- যথা— ১. জঁনসমষ্টি, ২. ভূখণ্ড, ৩. সরকার ও ৪. মহান আল্লাহর সার্বভৌমত্ব। খ. ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থা কোনো মানুষের আবিষ্কার বা যুগের চাহিদামাফিক বক্তব্য নয়। বরং ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল উৎস হচ্ছে পবিত্র কুরআন ও রাসুল (সা.)-এর আদর্শ। রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেহেতু স্থিতিশীল কোনো বিষয় নয় বরং তা যুগ ও সময়ের সাথে চলমান, তাই কুরআন ও হাদিসে কেবল ইসলামি রাজনীতির মূলনীতিসমূহ দেওয়া হয়েছে। বাকি খুঁটিনাটি বিষয় রচনা করার ভার সমসাময়িক যুগের বিশেষজ্ঞদের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। তারা ইসলামি রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে যুগের চাহিদা মোতাবেক কুরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে রচনা করবেন। কাজেই দেখা যায়, ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল উৎস হচ্ছে ৪টি। যথা- ১. কুরআন, ২. সুন্নাহ, ৩. উম্মতের ইজমা ও ৪. কিয়াস। গ. সকল রাষ্ট্রের-ই গঠনপ্রণালি থাকে। উদ্দীপকে উল্লিখিত ইসলামি রাষ্ট্রেরও নির্দিষ্ট গঠনপ্রণালি রয়েছে। ইসলামি রাষ্ট্রে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত একজন আমির বা রাষ্ট্রপ্রধান থাকবেন। রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত করতে হবে এমন সক্ষম পুরুষকে যিনি যোগ্য, সৎ, খোদাভীরু ও খাঁটি মুসলমান। ইসলামি রাষ্ট্রের শাসনতন্ত্র হবে কুরআন ও হাদিসের আলোকে। এ দুটির সমন্বয়ে রাষ্ট্রের প্রতিটি বিধিবিধান প্রণীত ও পরিচালিত হবে। রাষ্ট্রপ্রধানকে রাষ্ট্র পরিচালনায় যাবতীয় কর্মকাণ্ডে পরামর্শ দেওয়ার জন্য একটি মজলিস-উশ-শূরা বা পরামর্শ সভা থাকবে। জনগণের পূর্ণ সমর্থন ও রাষ্ট্রপ্রধানের সম্মতিক্রমে মজলিস-উশ-শুরার সদস্যবৃন্দ নির্বাচিত হবেন। রাষ্ট্রপ্রধান ও মজলিস-উশ-শুরা যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন, তা ইসলামি মূল্যবোধ মোতাবেক ও কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক হতে হবে। এখানে ব্যক্তিগত স্বার্থ বা কৃতিত্ব অর্জনের জন্য ইসলামি বিধান বহির্ভূত কিছু করতে পারবে না। সরকার পরিচালনা, শান্তি- শৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের উন্নতি ও অগ্রগতি সবকিছুতেই ইসলামি শরিয়ত প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ইসলামি রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য। অতএব এটি নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, উদ্দীপকে উল্লিখিত ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থায় কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী, আইন জারি ও প্রতিষ্ঠা করাই । মূল লক্ষ্য। মানুষের গড়া কোনো আইন সেখানে স্থান পাবে না। এরূপ রাষ্ট্রই ইহ ও পরকালীন শান্তি ও মুক্তি দিতে পারে। ঘ. ইসলামি রাষ্ট্র সাধারণ রাষ্ট্রব্যবস্থা থেকে অনেকটা আলাদা বৈশিষ্ট্যের অধিকারী । ইসলামি রাষ্ট্রের বেশকিছু উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে । ইসলামি রাষ্ট্রের বৈশিষ্টসমূহ হলো- ইসলামি রাষ্ট্র একটি ধর্মভিত্তিক আদর্শিক এবং নিয়ন্ত্রিত গণতান্ত্রিক জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র, কেননা যে রাষ্ট্র ইসলামের মূল উৎস কুরআন-সুন্নাহর বিধিবিধান দ্বারা পরিচালিত হয় তাই হলো ইসলামি রাষ্ট্র। ইসলামি রাষ্ট্রের শাসনতন্ত্রের মূলভিত্তি হবে আল্লাহ ও তার রাসুলের আদেশ-নিষেধ সংবলিত বিধান। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে— إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ অর্থাৎ, “নিশ্চয়ই, হুকুম দেওয়ার অধিকারী একমাত্র আল্লাহ।” (সূরা আনআম ; ৫৭) তিনি আরও বলেন, الا لَهُ الْخَلْقُ وَالْأَمْرُ অর্থাৎ, “সাবধান! সৃষ্টি যার আইন তার।” (সূরা আল-আরাফ : ৫৪) ইসলামি রাষ্ট্রের শাসনকার্য পরিচালনা হয় আল্লাহর দেওয়া বিধান অনুযায়ী। ইসলামি রাষ্ট্রের মৌলিক বৈশিষ্ট্য হলো সেখানে মানুষের মনগড়া খেয়াল-খুশি অনুযায়ী আইন প্রণয়নের কোনো সুযোগ নেই। আল্লাহর দেওয়া বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের সকল প্রশাসন পরিচালিত হবে। সাধারণ ও আধুনিক রাষ্ট্রের যে চারটি উপাদান রয়েছে ইসলামি রাষ্ট্রেরও সে চারটি মৌলিক উপাদান আছে; যথা-- জনসমষ্টি, নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, সরকার ও সার্বভৌমত্ব। তবে ইসলামি রাষ্ট্রের এ উপাদানগুলোর সংজ্ঞা আলাদা। যেমন জনসমষ্টি বলতে এমন জনসমষ্টিকে বোঝায় যারা আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলে। নির্দিষ্ট ভূখণ্ড বলতে এমন ভূখণ্ড যেখানে আল্লাহর দেওয়া বিধান কার্যকর হয়। সরকার বলতে এমন সরকার বোঝায়, যে সরকার আল্লাহর বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করে। সার্বভৌমত্ব বলতে বোঝায় সকল প্রকার সার্বভৌমত্বের মালিক একমাত্র আল্লাহ তায়ালা। ইসলামি রাষ্ট্র এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা যা বংশ, ভাষা এবং ভৌগোলিক জাতীয়তার পরিবর্তে শুধু নীতি ও আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত। ইসলামি রাষ্ট্রের প্রশাসন পরিচালিত হবে সততা, বিশ্বস্ততা, পক্ষপাতমুক্ত নিৰ্ভীক ইনসাফ ও সুবিচারের ভিত্তিতে। উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে, একমাত্র ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই ইসলাম তথা আল্লাহর আইনের বাস্তবায়ন, মানবতার কল্যাণ এবং ইমানি দাবি পূরণ করা সম্ভব। আর এগুলো ইসলামি রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং বলা যায়, ইসলামি রাষ্ট্রের উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যসমূহ রয়েছে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenঅন্যান্য

মহান আল্লাহ তায়ালা মানুষকে তাঁরই খলিফা হিসেবে সৃষ্টি। করেছেন। তাদেরকে এ পৃথিবী পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন। শরিয়তের আইন কার্যকরী করার জন্য ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। একটি অপরিহার্য কর্তব্য। মহানবি (সা.) সর্বপ্রথম মদিনায় ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে এর সূত্রপাত করেন। জীবনের এমন কোনো দিক নেই, যা ইসলামি শরিয়তে কোনো নির্দেশ পাওয়া যায় না। একমাত্র। ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই ইসলাম তথা আল্লাহর আইনের বাস্তবায়ন, মানবতার কল্যাণ এবং ইমানি দাবি পূরণ করা সম্ভব।

ক. ইসলামি রাষ্ট্রের উপাদান কয়টি?

খ. ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থার উৎস সম্পর্কে কী জান? লেখ।

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত রাষ্ট্রটির গঠনপ্রণালি সম্পর্কে ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকে যে ধরনের রাষ্ট্রের কথা বলা হয়েছে, সে ধরনের রাষ্ট্রের কী কী বৈশিষ্ট্য থাকে তা উল্লেখ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

"A" একটি বহুজাতিক স্বাধীন রাষ্ট্র। জনগণের মধ্যে মুসলমানের সংখ্যা বেশি হলেও এদেশে নানা ধর্মের ও বর্ণের লোক বসবাস করে আসছে...

‘আল্লাহর সার্বভৌমত্ব স্বীকৃত মানবসমাজের বৃহত্তর সংগঠন' শীর্ষক একটি সেমিনারে আলোচনায় ড. ‘প’ এ সংগঠনটির...

আফসানা জাহান নামের এক মহিলা সম্প্রতি এক মুসলিম রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান হন। তার দায়িত্ব নিয়ে তিনি সুন্দরভাবে রাষ্ট্র পরিচ...

'আল্লাহর সার্বভৌমত্ব স্বীকৃত মানবসমাজের বৃহত্তর সংগঠন' শীর্ষক একটি সেমিনারে আলোচনায় ড. মারুফ এ সংগঠনটির প্রধানের দায়িত্ব...

ইসলাম যে মানবকল্যাণের ধর্ম, মদিনা সনদ তার উজ্জ্বল উদাহরণ। এটি মানব ইতিহাসের প্রথম লিখিত সংবিধান হিসেবে সর্বজন স্বীকৃত। ৬...

ইসলাম স্বভাবসম্মত জীবনব্যবস্থা ও মানবতার সার্বিক কল্যাণের নিয়ামক। ইসলাম মানুষকে অধিকার ও কর্তব্য এ দ্বৈতবন্ধনে নিবিড়ভাবে...

ইসলামি খেলাফতের স্বর্ণযুগ ছিল খুলাফায়ে রাশেদিনের যুগ। এ সময়ের খলিফাগণ ছিলেন সর্বগুণে গুণান্বিত। তাঁরা তাঁদের দায়িত্ব সম্...

ইসলামি রাষ্ট্রের নাগরিকগণ যেমন তাদের অধিকার ভোগ করবে, তেমনি রাষ্ট্রের প্রতি তাদের দায়িত্ব-কর্তব্যও সঠিকরূপে পালন করবে। য...

ইসলামি রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতার একমাত্র অধিকারী হলেন স্বয়ং আল্লাহ। ইসলামি রাষ্ট্রে যদি কেউ আল্লাহর আইন ব্যতীত অন্য আই...

ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক গঠিত ও পরিচালিত রাষ্ট্রই ইসলামি রাষ্ট্র। মহানবি (সা.) মদিনায় একটি সনদ প্রণয়নের মাধ্যমে আউস, খাযরাজ,...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।