Facebook Pixel

ইসলাম যে মানবকল্যাণের ধর্ম, মদিনা সনদ তার উজ্জ্বল উদাহরণ। এটি মানব ইতিহাসের প্রথম লিখিত সংবিধান হিসেবে সর্বজন স্বীকৃত। ৬২২ খ্রিস্টাব্দে মদিনায় বসবাসকারী বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সর্বসম্মত কয়েকটি নীতিমালার ভিত্তিতে যে ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, ইতিহাসে এটিই মদিনা সনদ হিসেবে পরিচিত। দ্বিধাবিভক্ত ও আত্মকলহে লিপ্ত মদিনাবাসীর মধ্যে শান্তি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠার পিছনে এ সনদই সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে। ক. মদিনা সনদের শুরুতে কী লিপিবদ্ধ করা হয়েছে? খ. "মদিনা সনদ বিশ্বের ইতিহাসে প্রথম লিখিত শাসনতন্ত্র" ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত সনদটি প্রণয়ন করার কী কারণ রয়েছে? বর্ণনা কর। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়টি প্রণয়নে কী লাভ হয়েছে তা বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৬ঃ ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থা

উৎস: Others

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. মদিনা সনদের শুরুতে 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। খ. মদিনা সনদ বিশ্বের ইতিহাসে প্রথম লিখিত শাসনতন্ত্র। হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আবির্ভাবের পূর্বে তৎকালীন বিশ্বের কোনো শাসকই জনগণকে কোনো লিখিত ও বিধিবদ্ধ শাসনতন্ত্র প্রদান করেননি। আইনের শাসন সর্বপ্রথম হযরত মুহাম্মদ (সা.) জনগণের কল্যাণার্থে প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকদের সক্রিয় সহযোগিতা ও সদিচ্ছার গুরুত্ব অনুধাবন করেন। তিনি মনে করতেন, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ব্যতীত মদিনাতে ইসলামি রাষ্ট্রগঠন ও এর শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করার পরিকল্পনা ফলপ্রসূ হবে না। তাই তিনি একটি শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করেন, যা বিশ্বের ইতিহাসে প্রথম লিখিত শাসনতন্ত্র। গ. আন্তঃকলহ দূর করে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে একটি শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র গঠনের জন্যই মূলত মদিনা সনদ প্রণয়ন করা হয়েছিল। হযরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর নির্দেশে ৬২২ খ্রিস্টাব্দে মদিনায় হিজরত করেন। মদিনায় এসে দেখেন যে, মদিনার অধিবাসীদের মধ্যে নানা গোত্র, উপগোত্র, ধর্মমত ও বিশ্বাসের মানুষ রয়েছে। এরা পাঁচ সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল। যথা- ১. মদিনার আদিম পৌত্তলিক সম্প্রদায়, ২. ইহুদি সম্প্রদায়, ৩. খ্রিষ্টান সম্প্রদায়, ৪. নবদীক্ষিত মুসলিম সম্প্রদায় এবং ৫. • মক্কা থেকে আগত মুসলিম সম্প্রদায়। মদিনার এ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকদের মধ্যে তখন সম্ভাব ছিল না। তাদের মধ্যে আদর্শের মিল তো ছিলই না; তদুপরি তাদের মধ্যে বিরাজ করছিল দলগত হিংসা-বিদ্বেষ। ফলে মদিনার রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি খুবই জটিল ও শোচনীয় হয়ে পড়ে। মদিনার বিরাজমান পরিবেশ ও পরিস্থিতিতে হযরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনায় একটি ইসলামি সাধারণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার সংকল্প করেন। তাঁর এ সংকল্পের সফল বাস্তবায়নের জন্য তিনি প্রথমেই উপলব্ধি করেন যে, দ্বিধাবিভক্ত ও আত্মকলহে লিপ্ত মদিনাবাসীর মধ্যে ঐক্য ও সম্ভাব স্থাপন করা প্রয়োজন। তিনি আরও উপলব্ধি করেন যে, জতি- ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমান অধিকার ও কর্তব্য নির্ধারণ এবং স্বদেশত্যাগী মুহাজিরিনদের মদিনায় বাসস্থান ও জীবিকা উপার্জনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। হযরত মুহাম্মদ (সা.) বিশ্বাস করতেন যে, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকদের মধ্যে সম্প্রীতি ও ঐক্য না থাকলে দেশের কল্যাণ হয় না। তাঁর মতে, যে দেশে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী লোক বাস করে সে দেশে পরমতসহিষ্ণুতার প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি।'নিজে বাঁচ এবং অপরকে বাঁচতে দাও'- নাগরিক জীবনের এ নীতির গুরুত্ব অনুধাবন করে হযরত মুহাম্মদ (সা.) বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দকে আহ্বান করে এক বৈঠকে বসেন এবং তাদেরকে আন্তঃসাম্প্রদায়িক ঐক্য ও সম্প্রীতির আবশ্যকতা বুঝিয়ে দেন। এরপর তিনি একটি সনদ বা চুক্তিপত্র প্রস্তুত করেন। এ সনদে পরস্পরের দায়িত্ব ও কর্তব্য উল্লেখ করা হয়, সকলেই এ সনদ মেনে নিয়ে স্বাক্ষর করেন। আরবি ভাষায় লিখিত এ সনদে ৪৭টি ধারা ছিল। এ সনদের ফলে মদিনায় আন্তঃকলহ দূর হলো এবং নিজেদের। মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরি হলো। সুতরাং বলা যায়, সকল শ্রেণি, গোত্র, জাতি ও ধর্মের লোকদের ঐক্যের সূত্রে আবদ্ধ করে একটি শান্তিপূর্ণ উম্মাহ গঠন করাই ছিল মদিনা সনদ প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্য। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত মদিনা সনদ সম্পাদনের মাধ্যমে মদিনায় শান্তি প্রতিষ্ঠা লাভ করে এবং এর রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান হন হযরত মুহাম্মদ (সা.)। মদিনা সনদে উল্লিখিত নীতিমালার মাধ্যমে হযরত মুহাম্মদ (সা.) যে রাষ্ট্রব্যবস্থার পত্তন করেছিলেন তার প্রত্যক্ষ প্রভাব তদানীন্তন বিশ্বের সর্বত্র প্রতিফলিত হয়েছিল। হযরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনা সনদের মাধ্যমে মদিনার প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করেছিলেন। তিনি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠারও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। তিনি মুসলিম ও অমুসলিমদের ধর্মে পূর্ণ স্বাধীনতা ও নিশ্চয়তা বিধান করেছিলেন। ধর্মীয় ক্ষেত্রে এ সহিষ্ণুতার নীতি বিশ্বের ইতিহাসে বিরল। মদিনা সনদ মুসলিম ও অমুসলিমদের ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবন্ধ করে তাদের মন থেকে হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে। ফলে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক কলহের অবসান ঘটে।মদিনা সনদ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকদের মধ্যে গোত্রশক্তির ধারণা তিরোহিত করে তাদেরকে এক রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় সমবেত করে। ফলে তাদের মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্য স্থাপিত হয় এবং তারা একটি সুসংহত জাতিতে পরিণত হয়। মদিনা সনদের ঘোষণার পর বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকেরা তারা একত্রে মিলেমিশে বসবাস করার সুযোগ পায়। ফলে যৌথশক্তির ধারণার সৃষ্টি হয় এবং তা বিস্তার লাভ করে। ফলশ্রুতিতে মদিনায় বিশৃঙ্খল রাজনৈতিক পরিস্থিতির অবসান ঘটে এবং সেখানে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের উদ্ভব হয়। মদিনা সনদের এ সাফল্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বৃহত্তর সনদ স্বাক্ষরের সম্ভাবনার পথকে সুগম করে। উদ্দীপকেও বর্ণিত হয়েছে যে, দ্বিধাবিভক্ত ও আত্মকলহে লিপ্ত মদিনাবাসীর মধ্যে শান্তি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠার পেছনে মদিনা সনদের ভূমিকা অত্যন্ত ব্যাপক। পরিশেষে বলা যায়, মদিনা সনদ প্রণয়নের ফলে মদিনাবাসীদের মাঝে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয় এবং মুহাম্মদ (সা.) অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenঅন্যান্য

ইসলাম যে মানবকল্যাণের ধর্ম, মদিনা সনদ তার উজ্জ্বল উদাহরণ। এটি মানব ইতিহাসের প্রথম লিখিত সংবিধান হিসেবে সর্বজন স্বীকৃত। ৬২২ খ্রিস্টাব্দে মদিনায় বসবাসকারী বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সর্বসম্মত কয়েকটি নীতিমালার ভিত্তিতে যে ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, ইতিহাসে এটিই মদিনা সনদ হিসেবে পরিচিত। দ্বিধাবিভক্ত ও আত্মকলহে লিপ্ত মদিনাবাসীর মধ্যে শান্তি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠার পিছনে এ সনদই সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে।

ক. মদিনা সনদের শুরুতে কী লিপিবদ্ধ করা হয়েছে?

খ. "মদিনা সনদ বিশ্বের ইতিহাসে প্রথম লিখিত শাসনতন্ত্র" ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত সনদটি প্রণয়ন করার কী কারণ রয়েছে? বর্ণনা কর।

ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়টি প্রণয়নে কী লাভ হয়েছে তা বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

"A" একটি বহুজাতিক স্বাধীন রাষ্ট্র। জনগণের মধ্যে মুসলমানের সংখ্যা বেশি হলেও এদেশে নানা ধর্মের ও বর্ণের লোক বসবাস করে আসছে...

‘আল্লাহর সার্বভৌমত্ব স্বীকৃত মানবসমাজের বৃহত্তর সংগঠন' শীর্ষক একটি সেমিনারে আলোচনায় ড. ‘প’ এ সংগঠনটির...

আফসানা জাহান নামের এক মহিলা সম্প্রতি এক মুসলিম রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান হন। তার দায়িত্ব নিয়ে তিনি সুন্দরভাবে রাষ্ট্র পরিচ...

'আল্লাহর সার্বভৌমত্ব স্বীকৃত মানবসমাজের বৃহত্তর সংগঠন' শীর্ষক একটি সেমিনারে আলোচনায় ড. মারুফ এ সংগঠনটির প্রধানের দায়িত্ব...

ইসলাম স্বভাবসম্মত জীবনব্যবস্থা ও মানবতার সার্বিক কল্যাণের নিয়ামক। ইসলাম মানুষকে অধিকার ও কর্তব্য এ দ্বৈতবন্ধনে নিবিড়ভাবে...

ইসলামি খেলাফতের স্বর্ণযুগ ছিল খুলাফায়ে রাশেদিনের যুগ। এ সময়ের খলিফাগণ ছিলেন সর্বগুণে গুণান্বিত। তাঁরা তাঁদের দায়িত্ব সম্...

ইসলামি রাষ্ট্রের নাগরিকগণ যেমন তাদের অধিকার ভোগ করবে, তেমনি রাষ্ট্রের প্রতি তাদের দায়িত্ব-কর্তব্যও সঠিকরূপে পালন করবে। য...

ইসলামি রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতার একমাত্র অধিকারী হলেন স্বয়ং আল্লাহ। ইসলামি রাষ্ট্রে যদি কেউ আল্লাহর আইন ব্যতীত অন্য আই...

ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক গঠিত ও পরিচালিত রাষ্ট্রই ইসলামি রাষ্ট্র। মহানবি (সা.) মদিনায় একটি সনদ প্রণয়নের মাধ্যমে আউস, খাযরাজ,...

একটি সেমিনারে জনাব আব্দুর রহমান সাহেব বলেন, বর্তমান বিশ্বে বিভিন্ন রাষ্ট্রের নাগরিকদের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক অধিক...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।