Facebook Pixel

মধ্যযুগের আরবীয় শাসক আফনান আল নাহিয়ানের রাজত্বকালে তার প্রিয়তমা স্ত্রী সুলতানা ফারিহা রাজত্বের সর্বেসর্বা হয়ে উঠেছিলেন। হেরেম থেকে শুরু করে বিচার বিভাগ পর্যন্ত সর্বক্ষেত্রেই এ শাসক স্ত্রীর প্রতি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলেন। এমনকি রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে তিনি সুলতানা ফারিহার সিদ্ধান্তকেই চূড়ান্ত বলে গ্রহণ করতেন। রাজপ্রাসাদের উচ্চপদস্থ আমির ও কর্মকর্তাদের পদায়ন ও পদচ্যুতি ঘটত সুলতানা ফারিহার অঙ্গুলির ইশারায়। তবে স্বামীর ওপর সর্বক্ষেত্রে একচ্ছত্র অধিকার প্রতিষ্ঠা করলেও শাসন কর্তৃত্ব স্বহস্তে গ্রহণ করার ইচ্ছা তার কোনোদিনই ছিল না। ক. মমতাজের প্রকৃত নাম কী ছিল? খ. সম্রাট শাহজাহানকে "The Prince of Builders" বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর। গ. সুলতানা ফারিহার কর্মকাণ্ডের সাথে কোন মুঘল সম্রাজ্ঞীর কর্মকাণ্ডের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. কর্মকাণ্ডগত সাদৃশ্য থাকলেও তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন ধারায় প্রবাহিত হয়েছে- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ ভারত উপমহাদেশে মুঘল শাসন

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. মমতাজের প্রকৃত নাম ছিল আরজুমান্দ বানু বেগম। খ. সম্রাট শাহজাহানের রাজত্বকাল ছিল মুঘল স্থাপত্য ও শিল্পকলার স্বর্ণযুগ। তার রাজত্বকালে মুঘল শিল্প ও স্থাপত্যের চরম উৎকর্ষ সাধিত হয়। তিনি ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ শিল্পস্রষ্টা। ঐতিহাসিকগণ তাকে 'The Prince of Builders' বা 'Engineer King' বলে আখ্যায়িত করেছেন। তার স্থাপত্য শিল্পের অনবদ্য রূপশ্রীকে ঐতিহাসিক ফারগুসান স্থাপত্য শিল্পে রচিত মাণিক্যধারা বলে বর্ণনা করেছেন। পূর্বপুরুষদের তুলনায় তার স্থাপত্য কৌশল ছিল ভিন্ন। এছাড়া তার নির্মিত স্থাপত্য শিল্পে চাকচিক্য ও সৌন্দর্যের প্রতি বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গ. সুলতানা ফারিহার কর্মকাণ্ডের সাথে মুঘল সম্রাজ্ঞী নূরজাহানের কর্মকাণ্ডের সাদৃশ্য রয়েছে। সম্রাজ্ঞী নূরজাহানের প্রকৃত নাম মেহের-উন-নেসা। তার পিতা মির্জা গিয়াস বেগ ভাগ্যান্বেষণে পারস্য থেকে ভারতে এসে আকবরের দরবারে জায়গা করে নেন। মির্জা গিয়াস বেগ ভারতে আসার পথে কান্দাহারে এক কন্যা সন্তানের পিতা হন। এ কন্যা সন্তানই হলেন নূরজাহান। ১৭ বছর বয়সে পারসিক ভাগ্যান্বেষী যুবক আলীকুলী বেগ ইসতাজুলের সাথে নূরজাহানের বিয়ে হয়। এরপর ১৬১১ খ্রিষ্টাব্দে জাহাঙ্গীরের সাথে নূরজাহানের বিয়ে হয়। সম্রাট জাহাঙ্গীর নূরজাহানের রূপ ও গুণে মুগ্ধ ছিলেন। আর সম্রাটের এ দুর্বলতার পূর্ণ সুযোগ গ্রহণ করেছিলেন নূরজাহান। তিনি সম্রাট জাহাঙ্গীরের ওপর প্রভাব বিস্তার করে রাজকার্যে হস্তক্ষেপ করতেন। সম্রাজ্ঞী নূরজাহান রাজদরবার চলাকালীন সময়ে জাহাঙ্গীরে পাশে বসতেন এবং জাহাঙ্গীরের সিদ্ধান্তের ওপর প্রভাব খাটাতেন। সম্রাট জাহাঙ্গীর মুদ্রার অপর পিঠে, নূরজাহানের প্রতিকৃতি দিয়েছিলেন। এসময়ে রাজাজ্ঞায় নূরজাহানের স্বাক্ষর না থাকলে সেটিকে মূল্যহীন মনে করা হতো। সম্রাজ্ঞী নূরজাহান ছিলেন দূরদর্শী, কূটকৌশলী ও উচ্চাভিলাষী। তিনি তার রূপ ও গুণ দিয়ে জাহাঙ্গীরের ওপর প্রভাব বিস্তার করতেন। অতএব, সুলতানা ফারিহার সাথে সম্রাজ্ঞী নূরজাহানের মিল রয়েছে। ঘ. উদ্দীপকে কর্মকাণ্ডগত সাদৃশ্য থাকলেও তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন ধারায় প্রবাহিত হয়েছে মন্তব্যটি যথার্থ নয়। কেননা দুজন শাসন পরিচালনায় প্রভাব রাখলেও কেউ নিজ হাতে ক্ষমতা গ্রহণ করেন নি। তাই দুজনের কাজ ও উদ্দেশ্য একই ছিল। নূরজাহান যেমন অসামান্য রূপবতী ও বিদূষী মহিলা ছিলেন, তেমনি অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা ও বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। তিনি কবিতা পছন্দ করতেন এবং কবিতা লিখতে পারতেন। তার বুদ্ধিমত্তা ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের নিকট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা মাথা নেওয়াতে বাধ্য হতো। বিপদে তিনি অসীম সাহস ও ধৈর্যধারণ করতে পারতেন। কোনো জটিল রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক সমস্যা তিনি সহজেই সমাধান করে দিতে পারতেন। নূরজাহান মুঘল প্রশাসনে একজন শক্তিশালী সম্রাজ্ঞী হিসেবে আবির্ভূত হন। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ তার আনুকূল্য পাওয়ার জন্য চেষ্টা করতেন। রাষ্ট্র পরিচালনা কাজেও তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে অংশগ্রহণ করতেন। ঐতিহাসিক স্মিথ তাকে Power behind the throne (সিংহাসনের পিছনের শক্তি) বলে অভিহিত করেছেন। নূরজাহানের ক্ষমতার চর্চা দেখে জনসাধারণ তাকেই অধিক সমীহ করতেন। রাজদরবারের রাজনীর্তি তিনি দক্ষতার সাথে মোকাবিলা করতেন। তিনি পিতা গিয়াস বেগ ও ভাই আসফ খানকে উচ্চপদে অধিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ দিয়েছিলেন। নূরজাহান অকাতরে দান করতেন। অনাথ অসহায় নারীদের জন্য তিনি বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন। আশ্রয়হীনদের জন্য তিনি আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দিতেন। তিনি প্রায় ৫০০ অনাথকে বিবাহের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন এবং তাদের বিবাহে উপঢৌকন দিয়েছিলেন। নূরজাহান অত্যন্ত ফ্যাশন সচেতন ছিলেন। তিনি নিজে সিল্ক ও তুলার কাপড়ে বিভিন্ন ধরনের নকশা তৈরি করতেন। তিনি সোনার অলংকারের ব্যাপারে নিজস্ব মডেল উপস্থাপন করতেন। নূরজাহান সম্রাট জাহাঙ্গীরকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। পৃথিবীর সবকিছুর চাইতে তিনি সম্রাটকে অধিক ভালোবাসতেন। সম্রাটও প্রশাসনিক সকল কাজে নূরজাহানকে বিশ্বাস করতেন।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

মধ্যযুগের আরবীয় শাসক আফনান আল নাহিয়ানের রাজত্বকালে তার প্রিয়তমা স্ত্রী সুলতানা ফারিহা রাজত্বের সর্বেসর্বা হয়ে উঠেছিলেন। হেরেম থেকে শুরু করে বিচার বিভাগ পর্যন্ত সর্বক্ষেত্রেই এ শাসক স্ত্রীর প্রতি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলেন। এমনকি রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে তিনি সুলতানা ফারিহার সিদ্ধান্তকেই চূড়ান্ত বলে গ্রহণ করতেন। রাজপ্রাসাদের উচ্চপদস্থ আমির ও কর্মকর্তাদের পদায়ন ও পদচ্যুতি ঘটত সুলতানা ফারিহার অঙ্গুলির ইশারায়। তবে স্বামীর ওপর সর্বক্ষেত্রে একচ্ছত্র অধিকার প্রতিষ্ঠা করলেও শাসন কর্তৃত্ব স্বহস্তে গ্রহণ করার ইচ্ছা তার কোনোদিনই ছিল না।

ক.

মমতাজের প্রকৃত নাম কী ছিল?

খ.

সম্রাট শাহজাহানকে "The Prince of Builders" বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।

গ.

সুলতানা ফারিহার কর্মকাণ্ডের সাথে কোন মুঘল সম্রাজ্ঞীর কর্মকাণ্ডের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

কর্মকাণ্ডগত সাদৃশ্য থাকলেও তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন ধারায় প্রবাহিত হয়েছে- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

ক. পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ কত সালে হয়েছিল? খ. বাবুরনামা সম্পর্কে লেখ। গ. উদ্দীপকের '?' স্থানে কোন শাসকের রাজত্বকাল নির্দে...

ক. তাজমহল কোন নদীর তীরে অবস্থিত? খ. সম্রাট শাহজাহানের শেষ জীবন সুখের ছিল না কেন? গ. উদ্দীপকের চিত্রটি কোন মুঘল সম্রাটের ...

“ ক ” রাজ্যের স্থানীয় শাসনকর্তার আমন্ত্রণ পেয়ে “ প ” রাজ্যের শাসক একটি নতুন সাম্রাজ্যে প্রতিষ্...

‘ ক ’ ইতিহাসে একজন বিখ্যাত শাসক। শাসন ক্ষমতা লাভের পর তিনি বিভিন্ন সংস্কারের প্রতি মনোযোগ দেন। প্রশাসনিক বিক...

‘আইন-ই-আকবরী’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?

কোন সম্রাটকে 'The Prince of Builders' আখ্যা দেয়া হয়েছে?

ভারতের ইতিহাসে কে সর্বপ্রথম কামান-এর ব্যবহার করেন?

অভিজাত সম্প্রদায়ের পরেই কাদের স্থান ছিল?

অম্বরের রাজার নাম কী ছিল?

অল্প বয়সে ছোট একটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন সম্রাট শিহাব। পার্শ্ববর্তী রাজ্যে অভিযান করতে গিয়ে তার রাষ্ট্রটি হাতছাড়া...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।