Facebook Pixel

মগধ শাসনামলে 'ক' রাজ্যের পূর্বাঞ্চলের তুলনায় পশ্চিমাঞ্চল উন্নত ছিল। শাসকগোষ্ঠী প্রশাসনিক কার্যক্রমে সুবিধা এবং পূর্বাঞ্চলের জনগণের উন্নয়ন ও কল্যাণের জন্য 'ক' রাজ্যকে পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল নামে দুটি রাজ্যে বিভক্ত করলে জনগণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। জনগণের একটি অংশের প্রবল আন্দোলনের মুখে 'ক' রাজ্যকে পুনরায় একত্রীকরণ করা হয়। ক. ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস কত খ্রি. প্রতিষ্ঠিত হয়? খ. দ্বিজাতি তত্ত্ব সম্পর্কে ধারণা দাও। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার সাথে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলের কোন ঘটনার সাথে মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. 'ক' রাজ্যের বিভক্তিকরণে পূর্বাঞ্চলের উন্নয়ন হয়েছিল- বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৪ঃ বাংলায় কোম্পানি ও ঔপনিবেশিক শাসন

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ১৮৮৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়। খ. দ্বিজাতি তত্ত্বের প্রবক্তা ছিলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। ১৯৪০ সালের ২২ মার্চ লাহোরে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের ২৭তম অধিবেশনে তিনি দ্বিজাতি তত্ত্ব ঘোষণা দেন। নেহেরু রিপোর্টের প্রেক্ষাপটে তিনি এ ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ভারতে হিন্দু-মুসলিম দুটি আলাদা জাতি। উভয়ের ধর্ম, সামাজিক রীতিনীতি এবং ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পূর্ণ পৃথক। তাই মুসলমানদের জন্য স্বতন্ত্র রাষ্ট্র গঠন অপরিহার্য বলে প্রস্তাব দেন। এটিই ইতিহাসে বিখ্যাত দ্বিজাতি তত্ত্ব নামে পরিচিত। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার সাথে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলের ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের মিল রয়েছে। ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ১৯০৫ সালে ইংরেজ গভর্নর লর্ড কার্জন বাংলাকে ভাগ করেন। বঙ্গভঙ্গের পিছনে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বিবিধ কারণ বিদ্যমান ছিল। ভারতীয় উপমহাদেশের মধ্যে বাংলা প্রদেশ ছিল সবচেয়ে বড়। তাই একজন গভর্নরের পক্ষে এত বড় প্রদেশ শাসন করা কষ্টকর ছিল। তাই বাংলাকে ভাগ করে প্রশাসনে দক্ষতা আনার জন্য ইংরেজ সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। বাংলা প্রদেশের মধ্যে পূর্ব বাংলা ছিল অর্থনৈতিকভাবে অনুন্নত। তাই পূর্ব বাংলার মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য ইংরেজ সরকার বাংলাকে ভাগ করে পূর্ববঙ্গের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নের চেষ্টা চালায়। এছাড়া সূচতুর ইংরেজ সরকার তাদের Divide and Rule Policy বাস্তবায়ন করে ব্রিটিশ শাসনকে দীর্ঘস্থায়ী করার উদ্দেশ্যে বাংলাকে ভাগ করে। এসব প্রেক্ষাপটে ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর লর্ড কার্জন বঙ্গভঙ্গের ঘোষণা দেন। আসাম, চট্টগ্রাম, ঢাকা, রাজশাহী বিভাগ নিয়ে 'পূর্ব বাংলা ও আসাম প্রদেশ' গঠন করা হয়। পূর্ব বাংলা ও আসাম প্রদেশের রাজধানী করা হয় ঢাকা। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে বাংলা প্রদেশ গঠন করা হয়। এর রাজধানী করা হয় কলকাতা। উদ্দীপকের শাসকগোষ্ঠী প্রশাসনিক কার্যক্রমে সুবিধা এবং পূর্বাঞ্চলের জনগণের উন্নয়ন ও কল্যাণের জন্য 'ক' রাজ্যকে পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল নামে দুটি রাজ্যে বিভক্ত করলে জনগণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। যা বঙ্গভঙ্গের ঘটনাকে নির্দেশ করে। ঘ. 'ক' রাজ্যের বিভক্তিকরণে পূর্বাঞ্চলের উন্নয়ন হয়েছিল- মন্তব্যটি যথার্থ। বঙ্গভঙ্গ বাংলার ঔপনিবেশিক শাসনামলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।বঙ্গভঙ্গের ফলে বাংলার মানুষ তাদের ভাগ্যোন্নয়নের নতুন সূর্য দেখেছিল যদিও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়। বঙ্গভঙ্গের মাধ্যমে পূর্ব বাংলার মানুষ তাদের ভাগ্যের উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা দেখেছিল। পূর্ব বাংলার অর্থনীতির চাকা যে নতুন গতি পেয়েছিল তা কয়েকটি পত্রিকার প্রতিবেদনে ওঠে আসে। ১৯০৬ সালের ১৬ অক্টোবর বঙ্গভঙ্গের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পূর্ব বাংলা ও আসাম প্রদেশের 'ইরা' পত্রিকায় প্রদেশ প্রতিষ্ঠার ৮টি সুবিধার কথা উল্লেখ করে। এগুলো হচ্ছে- ১. ঢাকা নগরের পুনর্জন্ম ও চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নতি। ২. নদী ও খালগুলোর উন্নতি, রেল লাইনের সম্প্রসারণ এবং চট্টগ্রামের সঙ্গে এর সংযোগ স্থাপন। ৩. নতুন প্রাদেশিক পরিষদ গঠিত হওয়ার ফলে জমিদার ও শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির প্রতিনিধিদের পক্ষে জনসাধারণের অভাব-অভিযোগের প্রতি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করার সুযোগ-সুবিধা। ৪. সুষ্ঠু শাসন ও জনসাধারণের জানমালের অধিকতর নিরাপত্তা। ৫. পূর্ব বাংলার শিক্ষিত লোকদের সংস্পর্শে আসায় অনুন্নত আসামের অধিবাসীদের উন্নয়ন। ৬. পূর্ব বাংলার জন্য দক্ষ পুলিশ বাহিনীর ব্যবস্থা। ৭. প্রদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি। ৮. প্রদেশের প্রধান কর্মকর্তার সাথে জনসাধারণের সান্নিধ্য। এছাড়া বঙ্গভঙ্গের ফলে পূর্ব বাংলায় শিক্ষা-সংস্কৃতি এবং রাজনীতি-অর্থনীতির সকল ক্ষেত্রে উন্নয়ন দেখা দেয়। উপরিউক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, বঙ্গভঙ্গের ফলে 'ক' অঞ্চলের মতো পূর্ব বাংলায় উন্নয়নের জোয়ার আসতে শুরু করেছিল। কিন্তু বর্ণবাদী হিন্দু ও কংগ্রেসের বিরোধিতার কারণে তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

মগধ শাসনামলে 'ক' রাজ্যের পূর্বাঞ্চলের তুলনায় পশ্চিমাঞ্চল উন্নত ছিল। শাসকগোষ্ঠী প্রশাসনিক কার্যক্রমে সুবিধা এবং পূর্বাঞ্চলের জনগণের উন্নয়ন ও কল্যাণের জন্য 'ক' রাজ্যকে পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল নামে দুটি রাজ্যে বিভক্ত করলে জনগণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। জনগণের একটি অংশের প্রবল আন্দোলনের মুখে 'ক' রাজ্যকে পুনরায় একত্রীকরণ করা হয়।

ক.

ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস কত খ্রি. প্রতিষ্ঠিত হয়?

খ.

দ্বিজাতি তত্ত্ব সম্পর্কে ধারণা দাও।

গ.

উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার সাথে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলের কোন ঘটনার সাথে মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

'ক' রাজ্যের বিভক্তিকরণে পূর্বাঞ্চলের উন্নয়ন হয়েছিল- বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'The Spirit of Islam' ও 'A Short History of the Saracens' গ্রন্থ দুটি কার লেখা?

The Sprit of Islam' প্রশ্নটি কে লিখেছেন?

ক. হাজি শরীয়তউল্লাহ কোথায় জন্মগ্রহণ করেন? খ. বঙ্গভঙ্গের প্রশাসনিক কারণ ব্যাখ্যা কর। গ. চিত্র 'ক'-এর ছবির ব্যক্তিটি ঐতিহা...

ক. সিপাহি বিপ্লব কত সাথে সংঘটিত হয়? খ. রবার্ট ক্লাইভের পরিচয় দাও। গ. ছবিটিতে যে মহান ব্যক্তিকে লক্ষ করা যাচ্ছে তার এবং ত...

ক. কত সাল হতে বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হয়? খ. ফরায়েজি আন্দোলনের খিলাফত কাঠামোর ব্যাখ্যা দাও। গ. ছবিটি যেই মহান ব্যক্তির তার আন্দ...

ক. সৈয়দ আমীর আলী কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন? খ. খিলাফত আন্দোলন বলতে কী বোঝায়? গ. ছবির ব্যক্তিটি যে বিদ্রোহের সাথে সম্পৃক্ত...

ক. প্রথম বিশ্বযুদ্ধ কত সালে সংঘটিত হয়? খ. ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের ফলে ভারতবর্ষে শাসনতান্ত্রিক সংস্কার সূচিত হয়- ব্যাখ্যা কর...

অতি অল্প বয়সে তিতুমীর কোন পরীক্ষা দ্বারা সুনাম অর্জন করেন?

অ্যালান অক্টাভিয়ান হিউম কোন দেশের নাগরিক ছিলেন?

অ্যালান অক্টাভিয়ান হিউম ছিলেন- i. ভারতীয়দের প্রতি সহানুভূতিশীল ii. ভারতের স্বাধীনতার রূপকার iii. ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস গঠ...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।