Facebook Pixel

বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ। বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে মুসলমানের সংখ্যা বেশি হলেও এদেশে নানা ধর্ম-বর্ণের লোক বসবাস করে আসছে। বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রয়েছে। অনেকের মনে প্রথম প্রশ্ন জেগেছিল অমুসলিম নাগরিকরা কি এদেশে তাদের অধিকার ও মর্যাদা লাভ করবে? সব ধর্মের লোকেরা কী করে একত্রে বসবাস করবে? মূলত সে বিষয়টির দিক-নির্দেশনা রয়েছে মহানবি (সা.)-এর মদিনা সনদে, যা পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম লিখিত সংবিধান। ক. মদিনা সনদ কী? খ. মদিনা সনদের ৫টি ধারা উল্লেখ কর। গ. উদ্দীপকের সাথে মহানবি (সা.)-এর মদিনা সনদের সম্পর্ক ব্যাখ্যা কর। ঘ. "মদিনা সনদ পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম লিখিত সংবিধান।"-পাঠ্যপুস্তকের আলোকে এর তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৬ঃ ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থা

উৎস: Test Exam Question MGMC 2026

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. মদিনায় বসবাসকারী গোত্রগুলোর সাথে হযরত মুহাম্মদ (সা.) যে চুক্তি স্বাক্ষর করেন তাই মদিনা সনদ। খ. মদিনা সনদের পাঁচটি ধারা হলো- ১. মদিনা সনদে চুক্তির অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য সবাই একই জোটভুক্ত গণ্য হবে। ২. মহনবি (সা.) হবেন প্রজাতন্ত্রের প্রধান ও সর্বোচ্চ বিচারালয়ের কর্তা। ৩. সনদে স্বাক্ষরকারী মুসলমান, ইহুদি ও পৌত্তলিক সম্প্রদায়সমূহ. সমানভাবে নাগরিক অধিকার ভোগ করবে। ৪. মুসলমান ও অমুসলমান সম্প্রদায় স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে। ৫. সনদের ধারা ভঙ্গকারীদের ওপর আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হবে। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রনীতি মহানবি (সা.)-এর মদিনা সনদের সাথে তুলনীয়। মদিনাতে যখন হযরত মুহাম্মদ (সা.) গমন করলেন সেখানে ইহুদিদের দশটি গোত্র এবং আওস ও খাযরাজ গোত্রের বসবাস ছিল। গোত্রগত দিক দিয়ে এরা নানা জাতির হলেও তারা একই ভূখণ্ডে বসবাস করত। তাই এদের মধ্যে সৌহার্দ সৃষ্টির লক্ষ্যে হযরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনা সনদ প্রণয়ন করেন। যাতে করে প্রত্যেকটি গোত্রের সমান অধিকারভিত্তিক সহাবস্থান নিশ্চিত হয়। উদ্দীপকে বাংলাদেশের জাতি রাষ্ট্রের চরিত্র তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশের নাগরিকগণ বাংলাদেশ নামক জাতি রাষ্ট্রের সদস্য হলেও এখানে বিভিন্ন নৃতাত্ত্বিক জাতির বসবাস রয়েছে বিধায় বাংলাদেশকে বহুজাতিক রাষ্ট্র বলা হয়েছে, যা তৎকালীন মদিনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। - এ দিকগুলো বিবেচনায় বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রনীতির সাথে মদিনা সনদের বিশেষ মিল রয়েছে। ঘ. পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বপ্রথম লিখিত সংবিধান হলো মদিনা সনদ। মহানবি (সা.) ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মদিনায় গমনের পর দেখেন যে, মদিনায় নানা গোত্র, উপগোত্র, ধর্মমত ও বিশ্বাসের মানুষ রয়েছে। এরা পাঁচ সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল। যথা: ১. মদিনার আদিম পৌত্তলিক সম্প্রদায়, ২. ইহুদি সম্প্রদায়, ৩. খ্রিষ্টান সম্প্রদায়, ৪. নবদীক্ষিত মুসলিম সম্প্রদায় (আনসার) এবং মক্কা থেকে আগত মুসলিম সম্প্রদায় (মুহাজির)। মদিনার এ সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে তখন সম্ভাব ছিল না। তাদের মধ্যে আদর্শের মিল তো ছিলই না, বরং তাদের মধ্যে বিরাজ করছিল দলগত হিংসা-বিদ্বেষ। ফলে মদিনার রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি খুবই জটিল ও শোচনীয় হয়ে পড়ে। এ পটভূমিতে রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনাবাসী সকল নাগরিকের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ প্রতিষ্ঠা এবং মদিনার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার প্রতি মনোযোগ দেন। এ লক্ষ্যে ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মদিনায় বসবাসকারী বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সর্বসম্মত কয়েকটি নীতিমালার ভিত্তিতে একটি ঐতিহাসিক লিখিত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ চুক্তিই ইতিহাসে 'মদিনা সনদ' নামে পরিচিত। এটি পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম লিখিত সংবিধান। 'মদিনা সনদ' সম্পাদিত হওয়ার অনেক পরে ইউরোপে জাতি রাষ্ট্রের জন্ম হয়। ইউরোপে ম্যাগনাকার্টা রচিত হওয়ার পূর্বে মানুষের কাছে সংবিধানের ধারণা পরিচিতি লাভ করেনি। একমাত্র মদিনা সনদ ব্যতীত এ ধরনের কোনো সংবিধানের অস্তিত্ব পূর্বে ছিল না বিধায় মদিনা সনদ পৃথিবীর সর্বপ্রথম লিখিত সংবিধান বলে স্বীকৃতি লাভ' করে। মদিনা সনদের তাৎপর্য অনেক যথা- 'মদিনা সনদ' স্বাক্ষরিত হওয়ায় একদিকে যেমন মদিনাবাসী সকল গোত্রের সকল ধর্মাবলম্বীর মধ্যে ঐক্য ও সংহতি স্থাপিত হয়, অপরদিকে সকল নাগরিকের অধিকারও সুনিশ্চিত হয়। এর মাধ্যমে মদিনা একটি 'নবগঠিত নগররাষ্ট্রের মর্যাদা লাভ করে এবং এ নবগঠিত রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি, সেনাপতি ও প্রধান বিচারপতি নিযুক্ত হন মুহাম্মদ (সা.)।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenনির্বাচনী পরীক্ষা - Muminunnisa Government Mohila College, Mymensingh (2026)

বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ। বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে মুসলমানের সংখ্যা বেশি হলেও এদেশে নানা ধর্ম-বর্ণের লোক বসবাস করে আসছে। বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রয়েছে। অনেকের মনে প্রথম প্রশ্ন জেগেছিল অমুসলিম নাগরিকরা কি এদেশে তাদের অধিকার ও মর্যাদা লাভ করবে? সব ধর্মের লোকেরা কী করে একত্রে বসবাস করবে? মূলত সে বিষয়টির দিক-নির্দেশনা রয়েছে মহানবি (সা.)-এর মদিনা সনদে, যা পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম লিখিত সংবিধান।

ক. মদিনা সনদ কী?

খ. মদিনা সনদের ৫টি ধারা উল্লেখ কর।

গ. উদ্দীপকের সাথে মহানবি (সা.)-এর মদিনা সনদের সম্পর্ক ব্যাখ্যা কর।

ঘ. "মদিনা সনদ পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম লিখিত সংবিধান।"-পাঠ্যপুস্তকের আলোকে এর তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

"A" একটি বহুজাতিক স্বাধীন রাষ্ট্র। জনগণের মধ্যে মুসলমানের সংখ্যা বেশি হলেও এদেশে নানা ধর্মের ও বর্ণের লোক বসবাস করে আসছে...

‘আল্লাহর সার্বভৌমত্ব স্বীকৃত মানবসমাজের বৃহত্তর সংগঠন' শীর্ষক একটি সেমিনারে আলোচনায় ড. ‘প’ এ সংগঠনটির...

আফসানা জাহান নামের এক মহিলা সম্প্রতি এক মুসলিম রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান হন। তার দায়িত্ব নিয়ে তিনি সুন্দরভাবে রাষ্ট্র পরিচ...

'আল্লাহর সার্বভৌমত্ব স্বীকৃত মানবসমাজের বৃহত্তর সংগঠন' শীর্ষক একটি সেমিনারে আলোচনায় ড. মারুফ এ সংগঠনটির প্রধানের দায়িত্ব...

ইসলাম যে মানবকল্যাণের ধর্ম, মদিনা সনদ তার উজ্জ্বল উদাহরণ। এটি মানব ইতিহাসের প্রথম লিখিত সংবিধান হিসেবে সর্বজন স্বীকৃত। ৬...

ইসলাম স্বভাবসম্মত জীবনব্যবস্থা ও মানবতার সার্বিক কল্যাণের নিয়ামক। ইসলাম মানুষকে অধিকার ও কর্তব্য এ দ্বৈতবন্ধনে নিবিড়ভাবে...

ইসলামি খেলাফতের স্বর্ণযুগ ছিল খুলাফায়ে রাশেদিনের যুগ। এ সময়ের খলিফাগণ ছিলেন সর্বগুণে গুণান্বিত। তাঁরা তাঁদের দায়িত্ব সম্...

ইসলামি রাষ্ট্রের নাগরিকগণ যেমন তাদের অধিকার ভোগ করবে, তেমনি রাষ্ট্রের প্রতি তাদের দায়িত্ব-কর্তব্যও সঠিকরূপে পালন করবে। য...

ইসলামি রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতার একমাত্র অধিকারী হলেন স্বয়ং আল্লাহ। ইসলামি রাষ্ট্রে যদি কেউ আল্লাহর আইন ব্যতীত অন্য আই...

ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক গঠিত ও পরিচালিত রাষ্ট্রই ইসলামি রাষ্ট্র। মহানবি (সা.) মদিনায় একটি সনদ প্রণয়নের মাধ্যমে আউস, খাযরাজ,...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।