Facebook Pixel

বাংলাদেশে কৃষিতে নীরব বিপ্লব সাধিত হয়েছে। হাওর, বাঁওড় ও উপকূলীয় এলাকায়ও এখন ধান চাষ হচ্ছে। সার, বীজ ও আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে খাদ্য ঘাটতি অনেক কমেছে। এ ছাড়াও সরকার খাদ্য নিরাপত্তার জন্য খাদ্যশস্য আমদানি, আপদকালীন মজুদ ও কৃষি গবেষণার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। ক. খাদ্য নিরাপত্তা কী? খ. খাদ্য প্রাপ্যতাই কি খাদ্য নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট? ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকের আলোকে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য গৃহীত পদক্ষেপসমূহ আলোচনা করো। ঘ. বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য আরো কী কী পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে?

বিষয়: অর্থনীতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৫ঃ খাদ্য নিরাপত্তা

উৎস: Board Exam Question JB 2017

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. খাদ্য নিরাপত্তা এমন এক অবস্থা নির্দেশ করে যেখানে দেশের সব মানুষ সবসময় বাহ্যিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে তাদের প্রয়োজনমতো খাদ্য সংগ্রহের ক্ষমতা রাখে। খ. খাদ্য নিরাপত্তার তিনটি দিক রয়েছে; যথা- খাদ্যের প্রাপ্যতা, খাদ্য সংগ্রহের ক্ষমতা এবং খাদ্যের সদ্ব্যবহার। খাদ্য নিরাপত্তার এসব দিক এককভাবে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না। খাদ্যের প্রাপ্যতা যথেষ্ট থাকা সত্ত্বেও যদি পরিবারের খাদ্য ক্রয় যোগ্যতা না থাকে বা পরিবারের খাদ্য ক্রয়যোগ্যতা আছে, কিন্তু ভেজালমুক্ত ও পুষ্টিকর খাদ্য সংগ্রহের ক্ষমতা নেই, তাহলেও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য খাদ্যের প্রাপ্যতাই যথেষ্ট নয়। গ. উদ্দীপকে দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য সরকার কর্তৃক বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। নিচে উদ্দীপকের আলোকে আলোচনা করা হলো- ১. কৃষি জমির আওতা সম্প্রসারণ: বাংলাদেশে কৃষি জমির পরিমাণ নিতান্তই সীমিত। তাই খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনের উদ্দেশ্যে খাদ্যোৎপাদন বৃদ্ধির জন্য চাষের জমির আওতা বৃদ্ধির পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সরকার দেশের হাওর-বাঁওড়, পানি নিষ্কাশন ও পানিসেচের ব্যবস্থা এবং সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় জমির লবণাক্ততা দূর করে কৃষি জমির আওতা বৃদ্ধি করেছে। ২. কৃষি উপকরণের লভ্যতা বৃদ্ধি: খাদ্যোৎপাদন লক্ষ্যণীয়ভাবে বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষি উপকরণের ভর্তুকি বৃদ্ধি, কৃষি উপকরণ সহজলভ্যকরণ এবং কৃষিঋণের আওতা বৃদ্ধি ও প্রাপ্তি সহজীকরণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সরকার দেশে ১.৪ কোটি কৃষক পরিবারের মধ্যে উপকরণ সহায়তা কার্ড বিতরণ করেছে। ৩. অভ্যন্তরীণ খাদ্য সংগ্রহ ও আমদানি বৃদ্ধি: খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনের অংশ হিসেবে অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ অভিযান জোরদার ও খাদ্য আমদানির পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনের জন্য এবং আপদকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলার উদ্দেশ্যে সরকার বর্তমানে প্রতিবছর গড়ে ১০ লক্ষ মে. টন খাদ্য মজুদ করে। ৪. কৃষি গবেষণায় গুরুত্ব প্রদান: কৃষকের চাহিদা ও বাজার চাহিদাভিত্তিক কীটপতঙ্গ, রোগবালাই মুক্ত, খরাসহিষ্ণু আবহাওয়া ও পরিবেশ উপযোগী শস্যের জাত ও প্রযক্তির উদ্ভাবন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পরমাণু ও বায়োটেকনোলজি পদ্ধতি ব্যবহার করে লবণাক্ততা সহিষ্ণু এবং স্বল্পসময়ের শস্যের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং মাঠপর্যায়ে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। উদ্দীপকে খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে উপরিউক্ত কর্মসূচিসমূহ গ্রহণ করা হয়েছে। ঘ. উদ্দীপকে বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। এ ব্যাপারে আরো যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায় সেগুলো নিম্নরূপ- ১. বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উৎপাদন: ফসলোৎপাদনের পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য আত্মপোষণমূলক চাষাবাদের পরিবর্তে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষাবাদ করা প্রয়োজন। মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে খাদ্যশস্য ও অন্যান্য খাদ্যের উৎপাদন শুরু করলে দেশে সার্বিকভাবে খাদ্যের যোগান বাড়বে। ২. কৃষি-উৎপাদন কৌশলের পরিবর্তন: খাদ্যের যোগান বিপুলভাবে বৃদ্ধির জন্য কৃষি-উৎপাদন কৌশলের যুগোপযোগী পরিবর্তন আবশ্যক। এক্ষেত্রে শস্যের ক্রমাবর্তন, বহুমুখী শস্যোৎপাদন বিন্যাস ইত্যাদি চাষ পদ্ধতি প্রবর্তন করতে হবে। ৩. সম্পূরক খাদ্যের যোগান বৃদ্ধি: খাদ্যের সার্বিক যোগান বাড়ানোর জন্য ভুট্টা, আলু, ডাল, তেলবীজ, শাক-সবজি, ফলমূল, মাছ, মাংস, দুধ, ডিম ইত্যাদিও অধিক পরিমাণে উৎপাদনের ব্যবস্থা করতে হবে। এগুলোর উৎপাদন বাড়লে জনসাধারণে খাদ্যের মানও উন্নত হবে। ৪. খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন: খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের দ্বারাও খাদ্য-চাহিদার সাথে খাদ্যের যোগানের সামঞ্জস্য বিধান করা যায়। ভাত ও রুটির সাথে বেশি পরিমাণে আলু, সবজি ইত্যাদি গ্রহণ করলে চাল ও গমের চাহিদা কমবে এবং তার যোগান চাহিদার সাথে অনেকটাই সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। ৫. বন্যা নিয়ন্ত্রণ: দেশে খাদ্যের প্রাপ্যতা বাড়াতে হলে এখানে প্রায় প্রতিবছর সংঘটিত বন্যায় বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য বিনষ্ট হওয়া রোধ করতে হবে। দেশে বন্যা নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করলে বন্যায় ফসলহানি কমবে এবং খাদ্যের যোগান অনেকটা স্থিতিশীলও হবে। ৬. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) এর ব্যবহার: দেশে খাদ্যের যোগান বাড়াতে হলে কৃষকদের খাদ্যশস্যসহ বিভিন্ন ধরনের খাদ্য উৎপাদনের উদ্ভাবিত নবতর উৎপাদন পদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত করতে হবে। একই সাথে উৎপাদিত খাদ্য দেশে-বিদেশে যাতে প্রতিযোগিতামূলক দামে বিক্রি করা যায় তারও ব্যবস্থা করতে হবে। এ কাজে তথ্য ও প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার করা যায়। সুতরাং বলা যায়, বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনের জন্য উদ্দীপকে উল্লিখিত পদক্ষেপ ছাড়াও উপরিউল্লিখিত পদক্ষেপগুলোও প্রণিধানযোগ্য।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenJessore Board (2017)

বাংলাদেশে কৃষিতে নীরব বিপ্লব সাধিত হয়েছে। হাওর, বাঁওড় ও উপকূলীয় এলাকায়ও এখন ধান চাষ হচ্ছে। সার, বীজ ও আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে খাদ্য ঘাটতি অনেক কমেছে। এ ছাড়াও সরকার খাদ্য নিরাপত্তার জন্য খাদ্যশস্য আমদানি, আপদকালীন মজুদ ও কৃষি গবেষণার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

ক.

খাদ্য নিরাপত্তা কী?

খ.

খাদ্য প্রাপ্যতাই কি খাদ্য নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট? ব্যাখ্যা করো।

গ.

উদ্দীপকের আলোকে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য গৃহীত পদক্ষেপসমূহ আলোচনা করো।

ঘ.

বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য আরো কী কী পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে?

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

FAO অর্থ কী?

FAO কোন ধরনের সংস্থা?

OMS-এর পূর্ণরূপ কী?

TCB-এর পূর্ণরূপ কোনটি?

'Y' দেশে ২০১৫ সালে খাদ্যশস্যের পর্যাপ্ত মজুদ ছিল। কিন্তু বেকার সমস্যা ছিল প্রকট। জনগণের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ ছিল না। ফলে স...

A দেশের জনগণ অতি দরিদ্র। খাদ্যসামগ্রীও প্রয়োজনের তুলনায় স্বল্প। A দেশে প্রতিবছর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে প্রচুর ফসলহানি হয়। কি...

BSTI-এর পূর্ণরূপ কী?

ক. খাদ্য নিরাপত্তা কী? খ. খাদ্যের ক্রয় যোগ্যতার ওপর খাদ্য নিরাপত্তা নির্ভরশীল ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকের প্রশ্নচিহ্নিত ব...

ক. ভেজাল খাদ্য কী? খ. খাদ্য সংরক্ষণ করার প্রয়োজন কেন? ব্যাখ্যা কর। গ. ভোক্তার আয়ের সাথে উদ্দীপকের কোন বিষয়টি অধিক সম্পর্...

খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম পূর্বশর্ত কী?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।